Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ০২ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি || ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ০২ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি || ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

    কুষ্টিয়ায় বালুমহালে দখল নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলাগুলি, এলাকায় আতঙ্ক




    কুষ্টিয়া জেলার রামকৃষ্ণপুর মৌজার অন্তর্গত যুগিয়া বালুমহালে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের বরাতে এই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধসহ দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে একজন আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

    দৈনিক ইত্তেফাক এক প্রতিবেদনে জানায়, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. কবির হোসেন মাতুব্বর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এর আগে দিবাগত ভোররাতে এ গুলির ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগিয়া বালু মহালটির টেন্ডার আহ্বান করা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ‘বসির এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালু উত্তোলনের বরাদ্দ পায়। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি গ্রুপ শুরু থেকেই বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরেই সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী গ্রুপটি মঙ্গলার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বালু মহালে এসে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

    এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ ও অপর একজনের হাতের অংশবিশেষ কেটে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশও একজনের হাত কর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও আহতদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার এড়াতে আহতরা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছে।

    অন্যদিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি শটগানের অব্যবহৃত দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রফতার করেতে পারেনি পুলিশ।


    তথ্যসূত্র:
    ১। কুষ্টিয়ায় বালুমহালে এলোপাতাড়ি গুলি, এলাকায় আতঙ্ক
    https://tinyurl.com/rrzwxzym
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে আত্মনির্ভরতার পথে ইমারাতে ইসলামিয়া




    ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে স্বাস্থ্য খাতে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে দেশীয় ঔষধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের একটি প্রতিষ্ঠান স্নোফার্মা কারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মৌলভী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ।

    তিনি জানান, বর্তমানে স্নোফার্মা কারখানায় মোট ১৯৯ ধরনের ঔষধ উৎপাদন করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    মৌলভী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ আরও বলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কারখানা শীঘ্রই দেশের মোট ওষুধের চাহিদার প্রায় চল্লিশ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে। এর ফলে আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে এবং দেশীয় শিল্প আরও শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করবে।

    এর আগে কাবুলের ঔষধ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান থেকে ঔষধ আমদানি বন্ধ হওয়ার পরও দেশীয় উৎপাদন এবং ভারতীয় ওষুধের সরবরাহের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কার্যকরভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এসব অগ্রগতি ইমারাতে ইসলামিয়ার অধীনে স্বাস্থ্য খাতে আত্মনির্ভরশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


    তথ্যসূত্র:
    1. Production Rises at Snowpharma Pharmaceutical Facility
    https://tinyurl.com/mvcdfhb6
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরে প্রবেশ করতে হলে প্রশাসনকে অনুমতি নিতে হবে: সন্ত্রাসী ইয়াছিন



      চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের ডিএডি (উপ-পরিচালক) আব্দুল মোতালেব হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াসিন এবার প্রকাশ্যে এসেছে। প্রকাশ্যে এসেই সে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পাল্টা হুমকি দিয়েছে৷ এমনকি ওই এলাকায় ঢুকতে হলে তাকে আসামিদের তালিকা সরবরাহ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় ইয়াছিন। একইসাথে তার অনুমতি না নিয়ে ইতিপূর্বে জঙ্গল ছলিমপুরে প্রবেশ করায় র‍্যাব সদস্যদের বিচারের দাবিও জানায় সে৷ এছাড়াও র‍্যাব সদস্য হত্যায় সীতাকুণ্ডে বিএনপি থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া লায়ন আসলাম চৌধুরীকেও দায়ের করে ইয়াছিন৷

      দৈনিক আমার দেশ এক প্রতিবেদনে জানায়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল ছলিমপুরে তার ঢেরায় আয়োজিত কথিত সংবাদ সম্মেলনে এসব হুমকি দেয় ইয়াছিন।

      জানা যায়, বুধবার বিকালে ইয়াছিন আলীনগরে তার পুরাতন কার্যালয়ে কথিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে৷ এতে মূলধারার কোনো সাংবাদিক অংশ না নিলেও কয়েকটি অনলাইন নিউজের সাংবাদিকরা অংশ নেন৷

      এ সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন প্রশাসনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি করে জানায়, প্রশাসন কাকে গ্রেপ্তার করতে সোমবার জঙ্গল ছলিমপুরে আসে সেটি স্পষ্ট করেনি। তারা কোনো আসামির নাম বলেনি৷ তবে আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি আমার এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় প্রশাসনকে দায় নিতে হবে।

      এ সময় সে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার জন্য তার প্রতিপক্ষ রোকন উদ্দিন মেম্বার করে দায়ী করে জানায়, রোকন উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। তার মূল শক্তি আসলাম চৌধুরী। তার শক্তিতেই সে এসব করছে। এসময় ইয়াছিন আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে ব্যাপক বিষোদগার করে জানায়, তার ১৭০০ কোটি টাকা ঋণ। তার গায়ের শার্টসহ ৪৫০ কোটি টাকা তার সম্পদের মূল্য। বাকি সাড়ে বারোশো কোটি টাকা কোথায় গেলো? সে রোকন উদ্দিনকে চেনেন না বললেও রোকন উদ্দিন তার মনোনয়ন ফরম হাতে নিয়ে ফেসবুকে ছবি দেয় কিভাবে৷

      আসলাম চৌধুরীর ক্ষিপ্ত থাকার কথা স্বীকার করে ইয়াছিন আরও জানায়, ‘আসলাম চৌধুরী চাইলে জঙ্গল ছলিমপুরের সংঘর্ষ, মারামারি বহু আগে থামাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি করেননি।’

      চট্টগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক মুমিনুল হককে নিয়েও বিষোদগার করে ইয়াছিন৷ এসময় সে জানায়, প্রশাসন তাদের কোনো আসামি জঙ্গল ছলিমপুরে থাকলে আমাকে জানাতে হবে। তারা নারী-পুরুষ কাউকে হয়রানি করতে পারে না যেমনি ডিসি মুমিন করেছে। আমরা সেটি হতে দেব না৷ এসময় ইয়াছিন জানায়, আমাকে কেউ জঙ্গল ছলিমপুর থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না৷ এগুলো আমার বাড়ি-ঘর।

      আলীনগর ও জঙ্গল ছলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন দম্ভের সুরে আরও জানায়, চট্টগ্রামের সাবেক ডিসি মুমিন আমাকে উচ্ছেদ করতে চেয়ে আজ সে নিজেই উচ্ছেদ হয়ে গেছে৷ সে কোথায় যাবে নিজেও কূল পাচ্ছে না৷ অথচ আমি আমার জায়গায় ঠিকই আছি। আমি কোথাও যাইনি৷ তাই প্রশাসনকে বলব, জঙ্গল ছলিমপুরে কারো ফাঁদে পা দিয়ে অহেতুক কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করতে চাইলে প্রশাসনকে বিপদে পড়তে হবে।

      তথ্যসূত্র:
      ১। প্রশাসনকে সন্ত্রাসী ইয়াছিনের হুমকি
      https://tinyurl.com/278afacj
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        গাজায় বর্বর ইসরায়েলি হামলায় ৩ সাংবাদিকসহ ১১ ফিলিস্তিনি শহীদ




        গাজায় বর্বর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। শহীদদের মধ্যে দুইজন শিশু ও তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। ২১ জানুয়ারি, বুধবারের এই হামলায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

        স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ জানান, বুধবার যে গাড়িতে হামলা চালানো হয়, সেখানে নিহত তিন আলোকচিত্রী মিশরের গাজা ত্রাণ কার্যক্রম তদারককারী ‘ইজিপশিয়ান কমিটি ফর গাজা রিলিফ’–এর হয়ে কাজ করছিলেন।

        নিহত সাংবাদিকরা হলেন আনাস ঘুনাইম, আবদুল রউফ শাআথ ও মোহাম্মদ কেশতা। সহকর্মী ও চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, তারা গাজার মধ্যাঞ্চলের নেতজারিম করিডরের কাছে একটি নতুন বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরের চিত্র ধারণ করছিলেন। এ সময় তাদের গাড়িটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ওই হামলায় আরও একজন নিহত হন।

        মধ্য গাজায় আরেকটি হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, পূর্ব দেইর আল-বালাহে ইসরায়েলি হামলায় এক বাবা, তার ছেলে এবং পরিবারের আরেক সদস্য নিহত হয়েছেন।

        দক্ষিণ গাজায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

        এ ছাড়া খান ইউনিসের কাছে পৃথক এক হামলায় ৩২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। গাজার উত্তরে আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

        গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল।


        তথ্যসূত্র:
        1. Three journalists among 11 Palestinians killed in Israel’s attacks on Gaza
        https://tinyurl.com/yc3amr5d
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশের ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ গিলে খাচ্ছে ভারত



          দেশীয় বস্ত্র খাতের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। ভারত থেকে আসা সস্তা সুতা ও নিম্নমানের কাপড়ের আগ্রাসী আমদানি এই সংকটকে আরো গভীর করে তুলেছে। হাসিনার আমলে বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে ভারতীয় সীমান্তের ওপারে অন্তত অর্ধ শতাধিক ওয়্যারহাউস স্থাপন করা হয় সুতা রপ্তানির জন্য। বর্তমান সরকার স্থলপথে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করলে, প্রাইস ডাম্পিংয়ের আশ্রয় নেয় ভারত। ফলে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে সুতা ও কাপড় রপ্তানি করছে। খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, ভারতীয় সস্তা সুতা দেশের পোশাক খাতকে সাময়িকভাবে স্বস্তি এনে দিলেও দেশীয় বস্ত্রকলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের রপ্তানি খাতে।

          গত ২১ জানুয়ারি দৈনিক আমার দেশ এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) জানিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে দেশে হঠাৎ করে সুতা ও কাপড় আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ভারতীয় কটন টেক্সটাইল কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী ওই বছর বাংলাদেশে ৪২৯ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের সুতা রপ্তানি করে ভারত। তবে ২০২৩ সালে তা প্রায় ১.১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালে ভারত থেকে সুতা আমদানি হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এর সঙ্গে তুলা, সিন্থেটিক বা কৃত্রিম ফাইবার, এমএমএফ বা ফাইবারের কাঁচামাল মিলিয়ে মোট সুতা খাতের আমদানির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। বিটিএমএ জানিয়েছে, দেশে মোট সুতার ৯৫ শতাংশ এখন ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে।

          প্রাইস ডাম্পিং হচ্ছে ভারতীয় সুতার

          স্থানীয় বস্ত্রকলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বর্তমানে ভারতীয় সুতা বাংলাদেশের বাজারে আগ্রাসী মূল্যে বা ‘ডাম্পিং প্রাইসে’ প্রবেশ করছে। বর্তমান সরকার স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট। তবে প্রাইস ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে সমুদ্রপথে নিম্নমানের সুতা আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে।

          বিটিএমএ সূত্র মতে, ভারতীয় সুতা এখন প্রতি কেজি ২ দশমিক ১৯ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় মিলগুলোর উৎপাদন খরচই ২ দশমিক ৩৯ ডলার।

          দেশের বৃহৎ বস্ত্র উৎপাদক প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জুবায়ের-এর শীর্ষ কর্মকর্তা সিফাত হোসেন ফাহিম আমার দেশকে জানিয়েছেন, ভারতীয় সুতা রপ্তানিকারকরা ২০২২ সাল থেকে একচেটিয়া বাংলাদেশের বাজারকে টার্গেট নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্তত অর্ধ শতাধিক ওয়্যারহাউস স্থাপন করেছেন। রিমিশন অব ডিউটিজ অ্যান্ড ট্যাক্সেস অন এক্সপোর্টেড প্রোডাক্টস’-এর আওতায় প্রতি কেজি সুতা রপ্তানিতে তারা ভর্তুকি পাচ্ছেন ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

          তিনি জানান, বাংলাদেশের সুতার বাজারকে টার্গেট করে ভারত সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সীমান্তের চারটি স্থলবন্দরের কাছে গুদাম স্থাপন করায় তাদের ‘লিডটাইম’ বা পণ্য রপ্তানির সময় কমে গেছে। সেই সঙ্গে দেশীয় বস্ত্রকলগুলোর দামের তুলনায় সস্তা হওয়ায় পোশাক শিল্প মালিকরা স্থানীয় বস্ত্রকলের সুতা কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি ভয়াবহ হুমকির মুখে ফেলেছে দেশীয় বস্ত্রকলগুলোকে।

          বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানিয়েছেন, দেশের বস্ত্রকলগুলোর সুতা উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিটিএমএর সদস্য ৫২৭ সুতাকল, ৯৯৪ কাপড় ও ৩৪২ ডাইং-প্রিন্টিং কারখানা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই খাতে বর্তমানে মোট বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তিনি জানান, গত প্রায় তিন বছরে বস্ত্রখাতে একটি নতুন বিনিয়োগও আসেনি, উল্টো ৩০টির বেশি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান।

          একাধিক বস্ত্রকলের মালিক বলেছেন, স্থলবন্দরে যথাযথ তদারকির অভাবে ঘোষণার চেয়ে বেশি সুতা দেশে প্রবেশ করত। এমনকি ৩০ কাউন্টের সুতার চালানের ভেতরে ৮০ কাউন্টের সুতা ঢুকিয়ে আনা হতো (সুতার সূক্ষ্মতা ও স্থূলতা কাউন্টের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়)। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা এসব সুতা অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করত। এর ফলে দেশীয় সুতাকলগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে।

          নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ হওয়ায় ভারত থেকে সুতা আনতে সময় বাড়ছে, ফলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে। তার মতে, স্থলপথে সুতা আমদানি বন্ধ হলেও ভারতীয় সুতার দাম বাংলাদেশের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ সেন্ট কম, আর দেশি সুতা ব্যবহারে নগদ সহায়তা কমায় এই ব্যবধান আরো বেড়েছে। তিনি জানান, ভারত থেকে ২ ডলার ১২ সেন্টে যে সুতা পাওয়া যায়, বাংলাদেশে সেটির দাম ২ ডলার ৬৫ সেন্ট। তবে বিকেএমইএ সভাপতি মনে করেন, দেশীয় বস্ত্রকলগুলোকে প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে নিজস্ব কৌশলে।

          সূত্রগুলো জানায়, ভারতের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত সুতা খুবই নিম্নমানের। স্থানীয় সুতা এবং চীন, তুরস্ক ও উজবেকিস্তানের মতো দেশ থেকে আমদানিকৃত সুতার তুলনায় ভারতীয় সুতা দামে সস্তা। মানহীন ভারতীয় এসব সুতায় উৎপাদিত কাপড় ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রায়ই পুরো চালান রিজেক্ট হচ্ছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে।

          দাতা সংস্থাগুলোর পরামর্শে হাসিনার আমলে বন্ধ হয় ‘সেইফগার্ড’

          বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে জানায়, বিগত হাসিনা সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশীয় বস্ত্র খাতের জন্য দেওয়া সব ধরনের ভর্তুকি, যাকে শিল্পে সেইফগার্ড সুবিধা বলা হয়, তা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে—এই যুক্তিতে মূলত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পরামর্শেই এ সিদ্ধান্ত হয়। শিল্প মালিকদের পাশ কাটিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদও করা হয় সে সময়। সরকারকে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশে এ সুবিধা বন্ধ করা হলেও ভারতে তা বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী আমলে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের দাবি আমলে নেওয়া হয়নি।

          তিনি জানান, ভারতীয় সুতার মান নিয়ে আমাদের প্রশ্ন নেই, কিন্তু তারা যেভাবে ভর্তুকি মূল্যে বাংলাদেশের বাজার দখল করে নিয়েছে, তা আমাদের জন্য যথেষ্ট হুমকির বিষয়। এখন ক্ষেত্রবিশেষে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ভর্তুকি পাচ্ছেন বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা। কিন্তু এই সামান্য সুবিধার জন্য কেউ সময় নষ্ট করেন না। তিনি মনে করেন, দেশীয় বস্ত্র খাতের স্বার্থে ব্যাংক ঋণের হার কমানো ও দ্রুত নীতি সহায়তা ঘোষণা করা উচিত।

          তথ্যসূত্র:
          ১। বস্ত্রশিল্পের ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ গিলে খাচ্ছে ভারত
          https://tinyurl.com/3779ptuk
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment

          Working...
          X