Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ২৬ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি || ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ২৬ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি || ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

    চাঁদপুরে হিন্দু ব্যক্তির নেতৃত্বে মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা



    চাঁদপুরের কচুয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে শাকির (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার দোয়াটি গ্রামের বড় ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বিকাশ চন্দ্র সরকারের মাছের প্রজেক্টে এ ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ইতোমধ্যে মামলার দুই আসামি বিকাশ চন্দ্র সরকার ও তার কর্মচারী সোহরাব মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত শাকির স্থানীয় পালাখাল ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিল।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শাকির তার গ্রাম দোয়াটি হাজি বাড়ির দক্ষিণ পাশে প্রজেক্টে মাছ চাষ করত। মাছ চাষাবাদ করতে গিয়ে দোয়াটি গ্রামের কামার বাড়ির বিকাশ চন্দ্র সরকারসহ আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল।

    ঘটনার দিন কথা আছে বলে রাত পৌনে ৯টার দিকে দোয়াটি বড় ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বিকাশের মুরগির প্রজেক্টের পশ্চিম পাড়ে মাছ পাহারা ঘরে শাকিরকে ডেকে নেয় বিকাশ ও তার কর্মচারী সোহরাব। সেখানে শাকিরকে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তার মাথায়, দুই হাতে, দুই পা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত শাকিরের মা সাহেরা বেগম ও তার মেয়ে তামান্না আক্তার জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির একটি প্রোগ্রামের কথা বলে ঘর থেকে বের হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারে বিকাশ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন তাকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কচুয়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

    কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে শনিবার বিকালে কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।


    তথ্যসূত্র:
    ১। চাঁদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
    https://tinyurl.com/dkm2mv2b
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    ভোলার চরফ্যাশনে ঘরের মালামাল লুট করে তিন সন্তানের জননীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ



    ভোলার চরফ্যাশনে ঘরে ঢুকে ২ ভরি স্বর্ণ ও ৪ লাখ টাকা লুটের পর ৩ সন্তানের এক জননীর শয়নকক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৩ যুবকের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে গৃহবধূর সন্তানদের চিৎকারে ওই যুবকেরা পালিয়ে যায়। তখন শিশু-সন্তানরা তাদের মাকে ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে।

    গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ওই গৃহবধূ চরফ্যাশন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    গণমাধ্যমকে ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার দিন মঙ্গলবার ওই গৃহবধূ তার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে জমি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা তুলে বাড়ি ফেরেন। বুধবার সকালে ওই টাকা জমি মালিককে দেওয়ার কথা ছিল। তিনি একাই তিন শিশু সন্তান নিয়ে বাস করতেন, কারণ তার স্বামী চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ছিলেন।

    রাতে খাবার শেষে সন্তানদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। ভুলবশত ঘরের সিঁড়ির চিলেকোঠার গেইট খোলা ছিল। গভীর রাতে ঘরে হাটার শব্দ শুনে তিনি সজাগ হন। এ সময় নুর করিম ও তার সঙ্গীরা হামলা চালিয়ে তার হাত ও মুখ বেঁধে রাখে এবং ৪ লাখ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ অলংকারসহ ঘরের সকল মালামাল লুট করে। শিশু সন্তানদের অস্ত্রের মুখে অন্য একটি কক্ষে আটকানো হয় এবং গৃহবধূকে শয়নকক্ষে অবরুদ্ধ রাখা হয়। সেখানেই গৃহবধূকে নুর করিম, হানিফ ও নাজমুল ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামি করে চরফ্যাশন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    তথ্যসূত্র:
    ১। চরফ্যাশনে ৩ সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ
    https://tinyurl.com/bdhmcye7
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      মনগড়া মামলায় অধিকৃত কাশ্মীরের দুই বাসিন্দার ১৫ বছরের কারাদণ্ড



      ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-এর বিশেষ আদালত একটি ‘মনগড়া’ মামলায় অধিকৃত কাশ্মীরের দুই ব্যক্তিকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে।

      গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন হলেন জাহুর আহমেদ পীর ও নাজীর আহমেদ পীর। তারা কুপওয়ারা জেলার হান্ডওয়ারা এলাকার বাসিন্দা। তাদেরকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০১৮ সালের মার্চে এনআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

      দখলদার আদালত তাদেরকে কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর ১৮ ও ১৯ ধারায় ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেয়। একই আইনের ৩৯ ধারায় অতিরিক্ত নয় বছরের সাজা দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হবে, ফলে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ১৫ বছরই থাকবে। এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে।

      এনআইএর অভিযোগ, তারা ‘মুজাহিদিন’দের আশ্রয়, খাবার ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছেন। কাশ্মীরিদের দমনের লক্ষ্যে প্রায়ই এমন অভিযোগ তুলে দখলদার প্রশাসন।

      উল্লেখ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ভারত ও অধিকৃত কাশ্মীরজুড়ে চার হাজারের বেশি কাশ্মীরি এখনও কারাবন্দি রয়েছেন।


      তথ্যসূত্র:
      ১। NIA court sentences two Kashmiris to 15 years in fabricated case
      https://tinyurl.com/bddm8ayc
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        ফেনীতে জামায়াত কর্মীকে দাড়ি ধরে লাঠিপেটা ও স্ত্রীকে হেনস্তা করলো বিএনপি নেতা



        ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় নির্বাচনি বিরোধের জেরে এক জামায়াত কর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির দাড়ি ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয় ও তার স্ত্রীকে হেনস্তা করা হয়। আহত নুরুল আবছার স্থানীয় ইব্রাহীম মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা। অভিযুক্ত বেলাল হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা ও যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

        গণমাধ্যম সূত্রে জান গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

        ভুক্তভোগী নুরুল আবছার জানায়, দুপুরে নামাজ শেষে ঘরে প্রবেশ করার পরপরই বেলাল হোসেন তার ঘরে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। ‘আমাকে দাড়ি ধরে টেনে ফেলে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়’।

        তার স্ত্রী জানান, স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। তিনি জানান, নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও তার স্বামীকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

        দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত নুরুল আবছারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।


        তথ্যসূত্র:
        ১। ফেনীতে জামায়াত কর্মীকে দাড়ি ধরে লাঠিপেটা, স্ত্রীকে হেনস্তার দাবি
        https://tinyurl.com/2cjpjj3y
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          টাঙ্গাইলে জামায়াতের অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিলো বিএনপি



          টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মেঘারপটলে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে জামায়েত ইসলামীর অফিস আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে অফিসটিতে ভাঙচুর করা হয়েছিল বলে জানায় জামায়েত নেতাকর্মীরা।

          দৈনিক আমার দেশের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের মেঘারপটল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

          জানা যায়, ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি কাজলের নির্দেশে তার ছেলে নাসির ও সহযোগী সাখাওয়াত, রাসেল শিকদার, ইয়াসিন, শাহিন ও আজমান আলীসহ একদল লোক অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জামায়েত কর্মী ও ভোটারদের দের দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।


          তথ্যসূত্র:
          ১। ভূঞাপুরে জামায়াতের অফিসে ভাঙচুরের পর আগুন
          https://tinyurl.com/5heazyu8
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment


          • #6
            নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ



            আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হিরাঝিল আবাসিক এলাকার পাম্প হাউজের দক্ষিণ পাশে একটি পরিত্যক্ত মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

            স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি জায়গাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষের সমর্থকেরা।

            আহত তরুণ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি. এম. সোহেল জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনের একটি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রবির নির্দেশে তার ছেলে ও লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। পুলিশ মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

            অভিযোগকারী মো. আবুল কালাম আজাদ রাসেল (৪৫) থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করে, প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তার বন্ধু ইদ্রিস হাসান ঘটনাস্থলে কয়েকজনের চাঁদা দাবির ভিডিও ধারণ করলে তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। ইদ্রিসকে রক্ষা করতে গেলে রাসেল ও জি. এম. সোহেল হামলার শিকার হয়। এতে তিনজনই আহত হয়।

            অন্যদিকে অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির বক্তব্য ভিন্ন। সে জানায়, রওশন চেয়ারম্যানের ছেলে আবুল কালাম আজাদ রাসেলসহ ৪/৫ জন লোক এসে আমাকে চাঁদাবাজ উল্লেখ করে অপমান করে। এ সময় আমার ছেলে প্রতিবাদ করলে আমি তাদের সরিয়ে দেই। পরে তারা আরো লোকজন নিয়ে এসে মারামারিতে জড়ায়।


            তথ্যসূত্র:
            ১। সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
            https://tinyurl.com/amhkkw2z
            নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

            Comment


            • #7
              বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল উত্তর প্রদেশের সম্ভলে অবস্থিত দারুল উলুম মাদ্রাসা ও সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িঘর


              ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভারতের উত্তর প্রদেশে সম্ভল জেলার নারোলি শহরে অবস্থিত দারুল উলুম মাদ্রাসা ও পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। এতে স্থানীয় মুসলিমদের মাঝে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

              ‎মাদ্রাসাটি ২৮৫ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত। এর আগে মাদ্রাসাসহ আশেপাশের ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘর স্বেচ্ছায় ত্যাগ করতে স্থানীয় মুসলমানদের নোটিশ দেয়া হয়েছিল, তবে নোটিশ জারির পেছনে সুস্পষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয় নি।

              ‎মাদ্রাসা নির্মূলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী। মাদ্রাসাটি দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। একজন অভিভাবক বলেন, এই মাদ্রাসা আমাদের গরীব সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দিত। আমরা দরিদ্র, ব্যয়বহুল স্কুলে খরচ বহনের সক্ষমতা আমাদের নেই। এখন আমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় পড়াশোনা করবে?

              ‎শাবানা বেগম নামে ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। হঠাৎ নোটিশ দেওয়া হয় যে, আমাদের বাড়িটি নাকি অবৈধ। এখন আমরা কোথায় যাব?

              ‎প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নারোলি পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান বিটন মালিক। তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে কোনও আগাম নোটিশ পাইনি। মাদ্রাসা একটি ধর্মীয় স্থান, ইসলাম শিক্ষার কেন্দ্র। এটি ভাঙ্গার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল।

              ‎ভুক্তভোগী মুসলিম বাসিন্দাগণ জানান, এই ধ্বংসযজ্ঞ আচরণের ফলে আমাদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা উভয়ই শেষ হয়ে গেছে। একই ধরনের পদক্ষেপ আরও অনেক বাড়িঘরের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

              ‎এলাকার নারীরা দূর থেকে তাকিয়ে এই করুণ দৃশ্য দেখছিলেন, কেউ কেউ কান্নায় পড়েছিলেন। তাদের ভাষায়, মাদ্রাসাটি আমাদের ইবাদত ও দ্বীনি ইলম হাসিলের জায়গা ছিল। এটি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছিল।

              ‎আইনজীবী সমীর খান এই প্রসঙ্গে বলেন, যদি নোটিশ জারি করা হয়, তবে তাদের অবশ্যই এই নোটিশের কারণ স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। এর দর্শানো কারণের জবাব প্রদানের জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দিতে হবে।

              ‎স্থানীয় আলেম মাওলানা ফারুক আহমেদ বলেন, মাদ্রাসা শুধু একটি ভবন নয়। এটি ঈমান ও ইলমের কেন্দ্র। জমি সংক্রান্ত আইনি কোনও সমস্যা থাকলে তা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা যেত। আমরা মুসলিম সম্প্রদায় ন্যায়বিচার, ন্যায্যতা ও শান্তি চায়।

              ‎উল্লেখ্য যে, ভারতের উত্তর প্রদেশজুড়ে মসজিদ, মাদ্রাসা ও মুসলিমদের ঘরবাড়ি অবৈধ ঘোষণা করে বুলডোজার অভিযান ক্রমেই বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষতি এড়াতে সরকারী পদক্ষেপের পূর্বেই বাসিন্দারা নিজেরাই স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলছেন।


              ‎তথ্যসূত্র:
              ‎1. https://tinyurl.com/3y6ar9ca
              নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

              Comment

              Working...
              X