Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ০৭ রমযান, ১৪৪৭ হিজরি || ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ০৭ রমযান, ১৪৪৭ হিজরি || ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

    আন্দোলনে যারা ছিল, তারাই হাট-ঘাট খাবে: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা



    ‘যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে তাড়িয়েছে, তারাই সকল হাট-ঘাট খাবে। সে যে দলেরই হোক। তার অধিকার আছে খাওয়ার। আপনি খাবেন না। কারণ, আপনি কোনো জায়গায় যাননি। কেউ যদি টাকার গরমে বাজার ডেকেও (ইজারা) আনেন, ওই বাজারে ঢুকলে পিঠের চামড়া তুলে দেওয়া হবে।’

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রিপন হোসেন এমন বক্তব্য দিয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার যদুবয়রা-পান্টি সড়কের চৌরঙ্গী বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে সে এ বক্তব্য দেয়। তার বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রিপন হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘রাজপথে আমরা এই হাসিনা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরানোর জন্য সংসারের সমস্ত কাজ ফেলে রেখে ও জীবনকে বিসর্জন দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আজকে যে ছেলেগুলো এখানে উপস্থিত হয়েছে, তারাই অনেক দিন, অনেক রাত না খেয়ে পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছে। তখন কিন্তু এই ব্যবসায়ীরা কেউ ২০টি টাকা দেন নাই। আর আপনারা সকল সুবিধা ভোগ করার জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। লজ্জা করার দরকার আপনাদের। আজকে এই আসনে মেহেদী আহমেদ রুমীকে (ধানের শীষের প্রার্থী) আপনারাই ফেল করায়ছিলেন।’

    রিপন হোসেন আরও বলেছে, ‘এই বাজারখেকো যেসব দালাল আছেন, আপনারা খুব সহজেই এই ছেলেদের অধিকারের জায়গা দখল করবেন না। আর যদি করেন, এই ক্ষুধার্ত ছেলেরা আজ যদি বাজার-ঘাট না খেতে পারে তাহলে সরকারে লিজ দেবে। এই ছাত্ররা বাপের কাছ থেকে ভিক্ষা করে নিয়ে এসে হলেও বাজার লিজ নেবে। কিন্তু যখন আপনি ১০ টাকার জিনিস ৩০ টাকা দিয়ে কিনবেন, সেই সামর্থ্য এদের নেই (ছাত্র), এরা খেতেও পারবে না। কিন্তু এই অধিকার আপনাদের কে দেছে? আপনারা যদি দেশের জন্য কাজ করতেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতেন, রাজপথে যেতেন, বুঝতাম আপনারা পাবেন। আপনাদের বাদ দিয়ে এই ছেলেরা খেতে চায়নি। আপনাদের সঙ্গে করে রেখে খুব অল্প ইজারা দিয়ে এরা আপাতত জীবনটা বাঁচাবে।’

    উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে রিপনকে বলতে শোনা যায়, ‘সরকার, প্রশাসনকে উপেক্ষা করে যেহেতু তোমরা দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছ, সেহেতু ওই সকল দালালকে প্রতিহত করে অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’


    তথ্যসূত্র:
    ১। আন্দোলনে যারা ছিল, তারাই হাট-ঘাট খাবে: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
    https://tinyurl.com/btwc8kzm
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    পরিবহন থেকে ঢাকায় প্রতিদিন ২ কোটি টাকার চাঁদা, দেশে সক্রিয় ৯৩২ সংগঠন



    শ্রম মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সড়ক পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের সংখ্যা ৯৩২। এসব সংগঠনের আয়ের প্রধান উৎস পরিবহন থেকে তোলা চাঁদার টাকা।

    দৈনিক বণিক বার্তা এক প্রতিবেদনে জানায়, মালিক-শ্রমিক সংগঠন ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অনেক সদস্য, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গবেষণা ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    দেশের পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো সারা দেশে কী পরিমাণ টাকা আদায় করে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, রাজধানী ঢাকায় এ খাতে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়, যার বড় অংশই তোলা হয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে যত ধরনের বাণিজ্যিক পরিবহন রয়েছে, সবগুলোকেই চলতে হয় চাঁদা দিয়ে। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবহনভেদে দৈনিক চাঁদা আদায়ের হার ১০ টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক সংগঠনগুলো ৩০ টাকা ও মালিক সংগঠনগুলো ৪০ টাকা হারে চাঁদা তোলার কথা দৈনিক বণিক বার্তাকে জানিয়েছে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ চাঁদাও তোলা বন্ধ রাখার দাবি করেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।

    আদায়কৃত চাঁদার টাকা পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সংগঠন পরিচালনা ও নেতাদের সম্মানীর পেছনে ব্যয় হয় বলে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। তবে আদায় করা চাঁদার তুলনায় এ ব্যয়কে নগণ্য হিসেবে উল্লেখ করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আদায়কৃত চাঁদার বেশির ভাগ ব্যয়েরই দৃশ্যমান কোনো খাত নেই। এ টাকা মূলত মালিক-শ্রমিক নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে এবং এ খাতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদেরও সে টাকার ভাগ দেয়।

    দেশের সড়ক পরিবহন শ্রমিক খাতের প্রায় সব সংগঠন পরিচালিত হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আওতায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শাজাহান খান এ সংগঠনে দীর্ঘদিন একক কর্তৃত্ব ধরে রাখে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বিএনপিপন্থী শ্রমিক নেতারা।

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়। এ চাঁদার একটি অংশ আদায় করে মালিক-শ্রমিকরা।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে দেশের সড়ক পরিবহন খাতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও জাতীয় পার্টির নেতা মশিউর রহমান রাঙ্গা। আওয়ামী লীগের পতনের পর পরিবহন খাতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শিমুল বিশ্বাস বণিক বার্তাকে জানায়, ‘আমি প্রায় চার দশক ধরে পরিবহন নিয়ে কাজ করছি। এ খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অবৈধ চাঁদাবাজি। এ চাঁদাবাজি মালিক-শ্রমিকরা করেন না; এ চাঁদা তোলে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।’

    সে আরও জানায়, ‘বাংলাদেশ ছোট্ট দেশ, বিরাট জনসংখ্যা। এখানে পরিবহনের বিশৃঙ্খলা আমাদের সবাইকে কষ্ট দেয়। এটা জাতীয় সমস্যা, আমাদের সবাইকে মিলে যার সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরকে আরো জনবান্ধব করতে হবে। এখানে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা, জনদুর্ভোগ যেন না থাকে সেজন্য কাজ করতে হবে। আর চাঁদাবাজির বিষয়টা তো আমরা ৫ আগস্টের (২০২৪) পর অফিশিয়ালি বন্ধ রেখেছি। এখন যেগুলো হয়, সেটা আমার নলেজের (জানার) বাইরে। আমি এগুলোর ঘোর বিরোধী।’


    তথ্যসূত্র:
    ১। পরিবহন থেকে চাঁদা তোলে মালিক-শ্রমিকদের ৯৩২ সংগঠন
    https://tinyurl.com/562e3y4s
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment

    Working...
    X