Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ৯ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি|| ২৯ মার্চ, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ৯ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি|| ২৯ মার্চ, ২০২৬ ঈসায়ী

    দেশের ব্যাংকে কোটিপতিদের টাকা রাখার প্রবণতা কমছে, বিদেশি ব্যাংকে বাড়ছে



    দেশের ব্যাংকগুলোয় অতিধনীদের আমানত রাখার প্রবণতা ধারাবাহিকভাবে কমছে। এক বছর আগের তুলনায় গত ডিসেম্বর শেষে ২৫ কোটি টাকার বেশি আমানত জমা থাকা ব্যাংক হিসাব ও স্থিতি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে ২৫ কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব সংখ্যা ছিল ১৮৫টি। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এ ধরনের হিসাব সংখ্যা ১২০-এ নেমে আসে। হিসাব সংখ্যার চেয়েও অতিধনীদের আমানতের স্থিতি বেশি কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অতিধনীদের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা আমানতের স্থিতি ছিল ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এক বছর পর ২০২৫-এর ডিসেম্বরে এসে এ স্থিতি না বেড়ে উল্টো ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকায় নেমে গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অতিধনীরা ব্যাংক খাত এড়িয়ে চলার নীতি অনুসরণ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    দৈনিক বণিক বার্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাতে জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোয় কোটিপতি বা ১ কোটি টাকার বেশি জমা রেখেছেন এমন ব্যক্তিশ্রেণীর ব্যাংক হিসাব ছিল ৩৮ হাজার ৪৩৬টি। এগুলোয় জমা ছিল ৮৮ হাজার ২০০ কোটি টাকার আমানত, যা কোটি টাকার বেশি ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থের মাত্র ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর ২৫ কোটি বা তার চেয়ে বেশি টাকা জমা আছে এমন ব্যক্তিশ্রেণীর ব্যাংক হিসাব ছিল মাত্র ১২০টি। অতিধনী হিসেবে পরিচিত এ ব্যাংক হিসাবগুলোয় ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা জমা ছিল।

    ব্যাংকাররা বলছে, দেশের অর্থনীতির আকার ও ধনিক শ্রেণীর সংখ্যার বিপরীতে ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা খুবই কম। আর অতিধনীদের বড় অংশ ব্যাংকে টাকা রাখছেন না। আমানত হিসাবে টাকা না রেখে তারা জমি বা বাড়ি ক্রয়ের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করেন। আবার ধনিক শ্রেণীর একটি অংশ উপার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে দিচ্ছেন। পাচারকৃত অর্থে বিলাসী জীবনযাপনের পাশাপাশি বিদেশে বাড়ি-গাড়ি কিনছেন। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্সসহ হয়রানির ভয়েও অতিধনীরা ব্যাংক এড়িয়ে চলছেন। কেউ কেউ টাকা রাখলেও সেটি অনেক অ্যাকাউন্টে ছোট ছোট ভাগ করে রাখেন। দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ব্যাংক খাতের সংকটও ধনিক শ্রেণীকে ব্যাংকবিমুখ করছে বলে মনে করছেন তারা।

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে জানায়, ‘বাংলাদেশ এখন ৪৭৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ। এখানে ধনী-গরিবের সম্পদের বৈষম্যও প্রকট। কিন্তু আমরা ব্যাংক হিসাবের যে তথ্য দেখছি, তাতে সেটির বহিঃপ্রকাশ নেই। এত বেশি জনসংখ্যার একটি দেশের অর্থনীতিতে ব্যক্তিশ্রেণীর মাত্র ১২০টি ব্যাংক হিসাবে ২৫ কোটি টাকার বেশি থাকবে—এটি অবিশ্বাস্য। তার মানে, অতিধনীরা ব্যাংকে টাকা রাখছেন না। কিংবা একই ব্যাংক হিসাবে তারা বেশি টাকা রাখতে ভয় পাচ্ছেন।’

    সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আরও জানায়, ‘সম্পদশালীদের অনেকের আয় বৈধ হলেও সেটি আয়কর রিটার্নে দেখানো হয় না। আর আয়ের উৎস অবৈধ হলে তারাও ব্যাংক এড়িয়ে চলেন। নগদ টাকা না রেখে সম্পদশালীরা বাড়ি বা জমি কেনেন, স্বর্ণ বা ডলার কিনেও নিজেদের কাছে জমা রাখেন। কেউ কেউ বিদেশে পাচার করেন। এ কারণে দেশের ব্যাংকে ব্যক্তিশ্রেণীর অ্যাকাউন্টে টাকা এত কম। তবে এমন সম্পদশালী ব্যক্তিও আছেন, যারা এনবিআর কিংবা দুদকের নজর এড়াতে বহু অ্যাকাউন্টে ছোট ছোট অংকে টাকা রাখেন।’

    দেশে কোটি টাকার বেশি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণীর কত—সেটি নিয়ে বহুদিন ধরে বিভ্রান্তি চলে আসছে। প্রতি ত্রৈমাসিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জমাকৃত আমানতের আকারের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। তবে সে তথ্যে এতদিন ব্যক্তিশ্রেণীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য পৃথক ছিল না। বরং ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের হিসাবও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ কারণে কোটি টাকার বেশি ব্যাংক হিসাব বৃদ্ধিকে দেশে কোটিপতি বাড়ছে বলে প্রচার করা হতো। বিষয়টি নিয়ে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ‘কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানের বেশি’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করে বণিক বার্তা।

    এ প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো ব্যক্তিশ্রেণীর ব্যাংক হিসাবের পৃথক তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর চলতি মার্চে ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ নামের প্রকাশনাটির ২০২৫ সালের ডিসেম্বর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার বেশি আমানত জমা থাকা ব্যাংক হিসাবের মোট সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪। এর মধ্যে ব্যক্তির হিসাব ছিল মাত্র ৩৮ হাজার ৪৩৬টি। অর্থাৎ কোটি টাকার বেশি এমন ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ ব্যক্তির। বাকি প্রায় ৭২ শতাংশই কারেন্ট অ্যাকাউন্ট বা প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব। যদিও দেশে মোট ব্যাংক হিসাবের ৯৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ ব্যক্তিশ্রেণীর। এসব ব্যক্তি হিসাবে মোট আমানতের ৫৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমা রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাব সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫। এসব হিসাবে মোট ২১ লাখ ৫৩৩ কোটি টাকার আমানত জমা ছিল। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ ২২ হাজার ১০০টি। এ হিসাবগুলোতে ৯ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকার আমানত জমা ছিল। ব্যক্তিশ্রেণীর ১৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৫ ব্যাংক হিসাবে ১১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আমানত জমা রয়েছে। সঞ্চয়ী হিসাবের পাশাপাশি সব ধরনের মেয়াদি আমানত ও সঞ্চয় প্রকল্প এসব হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া ব্যক্তিশ্রেণীর আমানতকারীদের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোতে ১ কোটি টাকার বেশি জমা আছে এমন হিসাব সংখ্যা ছিল ৩৮ হাজার ৪৩৬। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার আমানত থাকা হিসাব সংখ্যা ছিল মাত্র ১০৭। এ হিসাবগুলোতে জমা থাকা আমানতের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এ ধরনের ১৪১টি ব্যাংক হিসাবে ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা জমা ছিল। একই সময়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি এমন ব্যাংক হিসাব ছিল ৪৪টি, যাতে জমা ছিল ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার আমানত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এ ধরনের হিসাব সংখ্যা মাত্র ১৩-এ নেমে আসে। আর হিসাবগুলোতে আমানতের স্থিতি নেমে যায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকায়।

    দেশের ব্যাংকগুলোতে যখন অতিধনীদের আমানত কমে যাচ্ছে, ঠিক তখন বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) প্রকাশিত বার্ষিক ব্যাংকিং পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংক হিসাবে স্বীকৃত ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের জমাকৃত আমানত বেড়েছে। ২০২৪ সাল শেষে গোপন অর্থের প্রধান গন্তব্য সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৬ সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালে এ ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের ১ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল। যদিও তার আগে ২০২২ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার সুইস ফ্রাঁ এবং ২০২১ সালে ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার ও ২০২০ সালে ৫৬ কোটি ২৯ লাখ ৩৩ হাজার সুইস ফ্রাঁ।

    তথ্যসূত্র:
    ১। ব্যাংকে কোটিপতিদের টাকা রাখার প্রবণতা কমছে ধারাবাহিকভাবে
    https://tinyurl.com/5bjxm45c
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    ভারতের বেঙ্গালুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাসরুমে এক মুসলিম ছাত্রকে ১৩ বার ‘সন্ত্রাসী’ অপবাদ দিয়ে হেনস্থা




    ভারতে বেঙ্গালুরু পিইএস বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষবশত এক মুসলিম ছাত্রকে ‘টেরোরিস্ট’ তথা সন্ত্রাসী অপবাদ দিয়ে হেনস্থা করেছে এক হিন্দুত্ববাদী অধ্যাপক। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার ক্লাসচলাকালে সংঘটিত এই ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    মুসলিম ছাত্রটির নাম আফফান। সূত্রমতে জানা যায়, ছাত্রটি কারও সাথে সাক্ষাত করতে অল্প সময়ের জন্য ক্লাস ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি চায়, এসময় অভিযুক্ত অধ্যাপক মুরালিধর দেশপান্ডে মুসলিম ছাত্রটির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

    অধ্যাপক রাগান্বিত স্বরে তাকে অপমান করতে শুরু করে। ভিডিওতে শিক্ষককে বলতে দেখা গেছে, “শর্ম নেহি আতি, তুমকো” “তোদের কি লজ্জা করে না?” এসময় তাকে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছাত্রটিকে উদ্দেশ্য করে ১৩ বার ‘টেরোরিস্ট’ বা সন্ত্রাসী অপবাদ দিতে শোনা গেছে। উক্ত ক্লাসরুমে তখন প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

    অপর এক শিক্ষার্থী এই দৃশ্যটি ধারণ করে, ভিডিও ক্লিপটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

    ভিডিও:


    https://archive.org/details/muslim-s...eing-terrorist

    সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে ঘিরে এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে। যেমন সে বলেছে, ‘ইরান যুদ্ধের জন্য তোদের মতো মুসলিমরা দায়ী’, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প আসবে ও তোদেরকে আটক করে নিয়ে যাবে’, ‘তোরা অপদার্থ, তোদের অবস্থান হবে নরকে’।

    এই ঘটনাকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি ধর্মীয় বৈষম্য ও শিক্ষা পরিবেশে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানোর অপপ্রয়াস হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে অনেকেই।

    তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ক্লাসরুমে ভুক্তভোগী আফফানের পক্ষে কথা বলা কয়েকজন ছাত্রকেও ‘ক্লাসচলাকালীন কথা বলা’র অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে উল্লেখ করেছে।

    তবে শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজের রেকর্ড মুছে ফেলা হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। যা উক্ত ঘটনায় মূল প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনযোগ্য হতে পারতো। এমতাবস্থায়, কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সমালোচকবৃন্দ।


    তথ্যসূত্র:
    1. https://tinyurl.com/2kt4huu3
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      ১২ ব্যাংককে ৬৮ হাজার কোটি টাকা ৩ মাসের জন্য ধার দিয়ে এক বছরেও ফেরত পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক



      ক্ষমতাচ্যুত সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে লুট করা হয়েছিল ডজন খানেকের বেশি ব্যাংক। এসব লুটপাটে জড়িত ছিল এস আলমসহ কয়েকটি গ্রুপ। লুটপাটের কারণে ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে গ্রাহকের আমানতের অর্থও তারা ফেরত দিতে পারছে না।

      এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ আমল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যন্ত টাকা ছাপিয়ে ১২টি ব্যাংককে ৬৮ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ধার দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলের সর্বশেষ গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় দেওয়া হয় ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সময় দেওয়া হয় ৫১ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ তিন মাসের জন্য দেওয়া হয়েছিল। তবে বছর পার হয়ে গেলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানায় দৈনিক আমার দেশ।

      ধার পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।

      এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে প্রথম পাঁচটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংক তাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হয়। এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। দুই যুগ ধরে প্রিমিয়ার ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল এইচ বি এম ইকবালের পরিবার।

      খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকগুলো লুটপাটের কারণে সংকটে পড়েছে—এটি সত্য। তবে যেভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। এভাবে টাকা ছাপিয়ে দিয়ে কতদিন ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ব্যাংক একীভূত করা হলেও অগ্রগতি খুবই কম।

      সংকটের নেপথ্যে

      আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ব্যাংক খাতের ক্ষত। তবে ২০২২ সালের শেষদিকে এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির খবর গণমাধ্যমে আসতে শুরু করে। তখন ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকরা অর্থ তুলে নিতে শুরু করে। এতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলো বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ হিসেবে সিআরআর ও সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতেও ব্যর্থ হয়। এরপরও ব্যাংকগুলোকে নানা অবৈধ সুবিধা দিয়ে টিকিয়ে রাখে তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

      কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের একটি চলতি হিসাব থাকে। এ হিসাব থেকে ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ হিসেবে সিআরআর ও সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতে হয়। আবার আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া পুনঃঅর্থায়নসহ যাবতীয় লেনদেনও হয় এ হিসাব থেকে। সাধারণভাবে সিআরআর ও এসএলআরে ঘাটতি হলেও চলতি হিসাবে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। তবে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ ছিল সারা দেশে এমন ব্যাংকগুলোতে ঋণযোগ্য তহবিল শেষ হওয়ার পরও সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ বেআইনিভাবে লেনদেনের সুযোগ দেয়। ২০২২ সালের শেষদিকে শরিয়াহ্‌ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের চলতি হিসাব ঋণাত্মক করে লেনদেনের নতুন এ উপায় বের করা হয়। এভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা বাধায় লেনদেন চালিয়ে গিয়েছিল ব্যাংকগুলো।

      তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নিয়ে বেআইনি সব সুবিধা বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে আগের মতো টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণাও দেয়। তবে এই সিদ্ধান্তে বেশিদিন অটল থাকতে পারেনি তিনি। কারণ, চলতি হিসাবে ঘাটতি এবং টাকা ছাপিয়ে ধার দেওয়া বন্ধ করায় গ্রাহককে টাকা দিতে হিমশিম খায় ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর শাখায় শাখায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হলে আবারও নতুন করে টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

      কোন ব্যাংকের কত ধার

      টাকা ছাপিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ধার দিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে। ব্যাংকটির ধারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এছাড়া এক্সিম ব্যাংককে ১২ হাজার ১০ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ১০ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংককে পাঁচ হাজার ৪২০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়। এর বাইরে এবি ব্যাংককে চার হাজার ২৭০ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে তিন হাজার তিন কোটি টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে ৬২৪ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে ২৫২ কোটি টাকা, পদ্মা ব্যাংককে ২৫২ কোটি টাকা এবং বেসিক ব্যাংককে ১৯৫ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়।

      যেভাবে দেওয়া হলো এই অর্থ

      বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ১৬ (৪) (ডি) এবং ১৭ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী, ৯০ দিন মেয়াদে সাড়ে ১১ শতাংশ সুদে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং পরিভাষায় একে ‘ওভারনাইট-ওডি’ সুবিধা বলা হয়। এই ধারের বিপরীতে ব্যাংকটি সমমূল্যের ‘ডিমান্ড প্রমিসরি নোট’ জমা দেয়। শর্ত অনুযায়ী, কোনো কারণে ব্যাংকগুলো অবসায়িত বা দেউলিয়া হলে সম্পদ বিক্রি করে সবার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

      এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী আমার দেশকে জানায়, ব্যাংকগুলো বর্তমানে এতটাই দুর্বল, নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি নেই । তবে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাও জরুরি, কারণ তা না হলে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এ সহায়তা দিচ্ছে।

      বর্তমান সহায়তাকে ইনফেকশনে মলম লাগানোর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ইনফেকশন সিরিয়াস হলে যেমন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, তেমনি ব্যাংকগুলোরও মূল সমস্যা সমাধান করা দরকার। টাকা ছাপিয়ে দেওয়া একটি সাময়িক উপশম মাত্র, যা মূল সমস্যা দূর করে না। খেলাপি ঋণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির মতো মূল সমস্যাগুলো দূর করার পদক্ষেপ না নিলে ব্যাংকগুলো কখনোই সবল হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা দিতেই থাকবে এবং তা খরচ হতে থাকবে, কিন্তু এর দ্বারা কোনো স্থায়ী ফল আসবে না। সমাধান হিসেবে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অনাদায়ী ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

      তিনি আরও জানান, যারা ব্যাংক লুটপাটের জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাদের সম্পদ থেকে লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার করতে হবে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করতে হবে। এভাবে টাকা ছাপিয়ে সাহায্য করা চলতে থাকলে তা মূল্যস্ফীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দায়ীদের শাস্তির আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না এবং সমস্যারও সমাধান হবে না।

      বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য

      বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে জানায়, এভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া আর ঠিক হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক প্রকার বাধ্য হয়ে এসব সহায়তা দিচ্ছে। কারণ আমানতকারীরা অর্থ ফেরত না পেলে ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। এতে করে সংকট আরো গভীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নিয়েছে। এখনো ব্যাংকগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বোঝা যাবে ব্যাংকগুলো নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে।


      তথ্যসূত্র:
      ১। ১২ ব্যাংককে ৬৮ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়ে ফেরত পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক
      https://tinyurl.com/sy68pner
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        ভূমধ্যসাগরে খাবারের অভাবে মারা গেছেন ১৮ বাংলাদেশি




        লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় তীব্র খাবার ও পানি সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী, যাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই যাত্রায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, তাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। নিখোঁজ ও অসুস্থদের উদ্ধারের পর গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

        গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গত ৬ মার্চ তিনি একইভাবে গ্রিসে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি ওই ক্যাম্পে রয়েছেন যেখানে ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের বরাতে তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মারা যান। পরে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

        স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন হলেন—নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

        জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, দালালের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। লিবিয়া পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর গ্রিসে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা মৃত্যুর খবর পান।

        উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বর্তমানে ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


        তথ্যসূত্র:
        ১। খাবারের অভাবেই মারা গেছেন সুনামগঞ্জের ১০ জন, লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরে
        https://tinyurl.com/yzb4jus9
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          দক্ষিণ লেবাননে ৩ সাংবাদিক হত্যা করল সন্ত্রাসী ইসরায়েল



          ২৮ মার্চ, শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিন লেবানিজ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের জেজ্জিন সড়কে সাংবাদিক চিহ্নিত গাড়িতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল। বর্বর এ হামলায় ঘটনাস্থলেই ঐ তিন সাংবাদিক নিহত হন।

          নিহতরা হলেন আল-মায়াদিনের সাংবাদিক ফাতিমা ফতুনি ও তার সহকর্মী ও ভাই মোহাম্মদ, এবং আল-মানারের সাংবাদিক আলি শুয়াইব। আল-মায়াদিনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বহনকারী গাড়িটিতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহত সংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় স্পষ্ট ‘প্রেস’ চিহ্নযুক্ত একটি গাড়িতে অবস্থান করছিলেন, তবুও গাড়িটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার পর ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে প্যারামেডিকদেরও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।

          আল-মায়াদিন ও আল-মানার উভয়ই তাদের সাংবাদিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ১২৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশকেই হত্যা করেছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহেই আল-মায়াদিন নেটওয়ার্ক তাদের ছয়জন সাংবাদিক হারিয়েছে।

          তথ্যসূত্র
          1. Three journalists killed in Israeli strike on marked press car in Lebanon
          https://tinyurl.com/3tnzrvhu
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment


          • #6
            বর্বর ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের পাঁচ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত


            লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে বর্বর ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক মেসেজ স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

            সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “২৮ মার্চ, শনিবার জাওতার আল-গারবিয়া শহরে মানবিক কর্তব্য পালনকালে বর্বর ইসরায়েলি হামলায় তারা নিহত হয়েছেন।”
            সংস্থাটি নিহতদের নাম প্রকাশ করেছে। নিহতরা হলেন, আদেল আতেফ কাদ্দুহ, হুসাইন আলি দারউইশ, হাসান মুসা নূর, আলি হাসান জাহা ও ইব্রাহিম জাহের আবু জাইদ।

            গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এই অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে আরও গভীরে অগ্রসর হচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে পাল্টা লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর হামলায় নয় ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছে। অপরদিকে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী সহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।


            তথ্যসূত্র
            1.At least five Lebanese paramedics killed in Israeli strikes
            https://tinyurl.com/bdfhyp3m
            নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

            Comment


            • #7
              দক্ষিণ লেবাননে আরও এক দখলদার সেনা নিহত



              দক্ষিণ লেবাননে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে এক দখলদার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২৯ মার্চ, রবিবার প্রকাশিত এক সামরিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

              সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সার্জেন্ট মোশে ইৎজখাক হাকোহেন ক্যাটজ নামের ২২ বছর বয়সী ওই সেনা দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ চলাকালে নিহত হয়। সে প্যারাট্রুপার ব্রিগেডের ৮৯০তম ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিল। এই একই ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছে।

              ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের স্থল অভিযান সম্প্রসারণ করছে। গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা শুরু করার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত এই সংঘাতে মোট পাঁচজন দখলদার সেনা নিহত হয়েছে।


              তথ্যসূত্র
              1. Israel military says another soldier killed in south Lebanon
              https://tinyurl.com/2fwshexp
              নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

              Comment

              Working...
              X