Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি|| ২রা এপ্রিল, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি|| ২রা এপ্রিল, ২০২৬ ঈসায়ী

    রাজস্ব আয়ে বিশাল ঘাটতি, সাড়ে আট মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৯৮ হাজার কোটি টাকা



    রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকখাত থেকে নেওয়া সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    সংশ্লিষ্টদের বরাতে দৈনিক আমার দেশ জানায়, রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বাজেটের মাধ্যমে সরকারের ব্যয়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাতে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে সরকারের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হওয়ায় ব্যাংকখাত থেকে ঋণ নিয়ে সরকার চাহিদা পূরণ করছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই–ফেব্রুয়ারি) শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে সংস্থাটি। প্রতি বছরের মতোই শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না এনবিআর।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাস ১৯ দিনে সরকার ব্যাংক থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫৫ শতাংশ বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা।

    অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ছয় হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে এ খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র ছাড়া এ সময় সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিট এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী সাংবাদিকদের জানান, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেই সরকারের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। তবে বাস্তবে রাজস্ব আদায় সে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম হয়েছে এবং আগামী দিনে তা পূরণের সম্ভাবনাও কম।

    তিনি আরও জানান, রাজস্ব আয়ের বাইরে বাজেটের ব্যয় মেটাতে দেশি-বিদেশি উৎস থেকেও ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত রাজস্ব আয় না হওয়ায় সরকারের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে, যদিও অর্থবছর শেষ হতে এখনো তিন মাসের বেশি বাকি। এতে স্পষ্ট, ঋণ গ্রহণ নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    মোস্তফা কে মুজেরী জানান, বর্তমানে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, কিন্তু এ ধারা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। কারণ রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়লে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া—এসবের প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।

    তিনি বলেন, এ অবস্থায় ভর্তুকি দিয়ে সাময়িক স্বস্তি দেওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে এর পরিমাণ আরও বাড়বে, যা বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই একসময় সরকারকে মূল্য সমন্বয় (অ্যাডজাস্টমেন্ট) করতেই হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আয় বাড়ানো, সঠিক নীতিমালা গ্রহণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা কমানো যায়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের মোট ঋণের পুঞ্জীভূত স্থিতি ছিল চার লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ১৯ মার্চ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার ৬২১ কোটি টাকায়। ফলে অর্থবছরের প্রথম আট মাস ১৯ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৮১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ৮৮ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।

    অন্যদিকে গত অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ১৯ মার্চ পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। ফলে এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৬০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছিল।

    সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকখাত থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৪৯ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা।

    গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৯৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে নিট ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, যা গত চার অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি ওই অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা কম ছিল।


    তথ্যসূত্র:
    ১। সাড়ে আট মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৯৮ হাজার কোটি টাকা
    https://tinyurl.com/dwxdn3vd
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ইস্যুতে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ায় ইলিয়াস আলীকে গুম করে র‍্যাব: মামুন খালেদ




    বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    দৈনিক আমার দেশ এক প্রতিবেদনে জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে শেখ মামুন খালেদ জানায়, টিপাইমুখ বাঁধসহ ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ইস্যুতে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ায় ইলিয়াস আলীকে টার্গেট করা হয়। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই তাকে গুম করা হয়েছে বলে সে উল্লেখ করেছে।

    সে আরও জানায়, তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাতেই পুরো ঘটনাটি বাস্তবায়িত হয় এবং এতে র‍্যাবের একটি দল অংশ নেয়। ঘটনার আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল বলেও সে জানায়।

    উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিজ গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। সে সময় শেখ মামুন খালেদ ডিজিএফআইয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল।

    বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে রয়েছে শেখ মামুন খালেদ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সে অতীতের বিভিন্ন আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনাবলি নিয়েও তথ্য দিচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে সে স্বীকার করে, গুমের ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের (মেজর পর্যায়ের) অন্তত দুজন কর্মকর্তা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল বলেও জানায় সে।

    অন্যদিকে, তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন প্রধান হিসেবে তার নির্দেশনাতেই পুরো অভিযান পরিচালিত হয় এবং এতে ডিজিএফআই ও র‍্যাবের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম অংশ নেয়।

    এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের ঘটনাসহ আরও কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য দিয়েছে বলেও জানা গেছে।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

    এদিকে, এক-এগারো সরকারের সময়কার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আফজাল নাছেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


    তথ্যসূত্র:
    ১। ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় মুখ খুললেন মামুন খালেদ
    https://tinyurl.com/yjjxkkd9
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      ইভিএম প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি, গচ্চা ৩৮২৫ কোটি টাকা



      ​দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনাকাটাকে ঘিরে কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার পৃথক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে প্রকল্পটির নেপথ্যে শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভারতে পলাতক মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ‘টাইগার আইটি’র সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ থাকার পরও এ লুটপাটের বিষয়ে কার্যকর অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন দুটিতে এ লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদন দুটি শিগগির সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে।

      গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে দৈনিক আমার দেশ জানায়, ইভিএম প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে অনিয়মের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্প অনুমোদন, মূল্য নির্ধারণ, ক্রয় প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপেই প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ছিল। গোষ্ঠীটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে তারিক সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদা ১৫০টি আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনার কথা বারবার প্রচার করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয়টি আসনে এ মেশিনের ব্যবহার হয়। তবে পরবর্তী সময়ে কিছু উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছিল।

      বলা হয়েছে, প্রতিটি ইভিএম কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকা। সেই হিসাবে দেড় লাখ মেশিনের মোট দাম দাঁড়ায় তিন হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। অথচ সিএজি দপ্তরের অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কেনাকাটায় বাজারদরের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি মূল্য ধরা হয়েছে। প্রকৃত বাজারদর অনুযায়ী এসব ইভিএমের দাম হওয়ার কথা ছিল ৩৪৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ শুধু কেনাকাটাতেই তিন হাজার ১৭২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে কোনো কার্যকর মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা করা হয়নি। কেবল কাগুজে তথ্যের ওপর নির্ভর করে দ্রুত প্রকল্প পাস করানো হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে একটি সীমিত গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়।

      সরকারি অডিট দপ্তরের প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, শুধু ২০২১-২২ অর্থবছরেই ইভিএম কেনাসহ কয়েকটি খাতে এক হাজার ১৯৫ কোটি টাকার ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের চূড়ান্ত অডিট রিপোর্টে এসব অনিয়ম সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে প্রকল্প পরিচালকের কাছে এর ব্যাখ্যাও তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিকে লুটপাটের সুযোগ করে দিতেই কোনো ধরনের বাস্তবসম্মত সমীক্ষা ছাড়া তাড়াহুড়ো করে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ পুরো প্রক্রিয়ার মূল কারিগর ছিল শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও শেখ রেহানার দেবর তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

      শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এতে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের যুক্তি দেখানো হলেও ব্যয় বেড়ে যায় বহুগুণ। প্রশিক্ষণ, পরিবহন, সচেতনতা কার্যক্রম ও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কারণে ইভিএম ব্যবহারের খরচ কাগুজে ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অস্বচ্ছ যোগসাজশ ছিল। এ মহাদুর্নীতির নেপথ্যে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছাড়াও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের তৎকালীন মহাপরিচালক সাইদুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানুজ্জামান মুহাম্মদ সালেহ উদ্দিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং তৎকালীন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জড়িত ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া সালেহ উদ্দিন ও তারিক সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ‘টাইগার আইটি’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচন কমিশনের পুরো তথ্যভান্ডারই এ টাইগার আইটির নিয়ন্ত্রণে ছিল বলেও শোনা যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারিক সিদ্দিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং হেলালুদ্দীন বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছে।

      সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এ বিশাল বাজেটের প্রকল্পে ইভিএম সংরক্ষণ, পরিবহন ও মেরামতের জন্য কোনো অর্থই বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা এখন ইসির জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেড় লাখ ইভিএমের মধ্যে সচল আছে মাত্র ৪০ হাজারের মতো। শেখ হাসিনার সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনের সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন এসব নষ্ট ইভিএম মেরামতের উদ্যোগ নিলে বিএমটিএফ এক হাজার ২৬০ কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি প্রস্তাব দেয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানালে মেশিনগুলো আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

      এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও একই সুপারিশ করেছে। ফলে তিন হাজার ৮২৫ কোটি টাকার এ পুরো ইভিএম প্রকল্প এখন সম্পূর্ণ গচ্চা যাওয়ার পথে। অডিট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অস্বাভাবিক দামে মেশিন কেনা, টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে চুক্তি, আর্থিক বিধিবিধানের চরম লঙ্ঘনসহ নানা ফন্দিফিকির করে জনগণের বিপুল পরিমাণ করের টাকা লুট করা হয়েছে। এমনকি ইভিএমের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ইসির বাজারদর নির্ধারণ কমিটি বড় ধরনের কারসাজির আশ্রয় নেয়। ভারত, ব্রাজিল ও মেরিল্যান্ডে কেনা মেশিনের তথ্য শুধু ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করেই মনগড়া দাম বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

      ইভিএম মেশিনের ওয়ারেন্টি নিয়েও চরম প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প পাসের সময় পরিকল্পনা কমিশনকে প্রতিটি ইভিএমের জন্য ১০ বছরের ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও, সিএজি অডিট করে দেখেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টি দিয়েছে। ফলে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ইভিএম মেরামতযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো ধরনের সেবা বা সুবিধা পাওয়া যায়নি বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

      বর্তমানে দেড় লাখ ইভিএমের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী আছে মাত্র ৪০ হাজার। অবশিষ্ট মেশিনগুলোর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার একেবারেই ধ্বংসপ্রাপ্ত বা অকেজো এবং ৮৬ হাজার মেরামতযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। বিপুল খরচের এ প্রকল্পে মূল্যবান এসব মেশিন যথাযথভাবে সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি।


      তথ্যসূত্র:
      ১। ইভিএম প্রকল্পে গচ্চা ৩৮২৫ কোটি টাকা
      https://tinyurl.com/5dw73xvp
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        নীলফামারীতে অসহায় গৃহবধূর বাড়ি উচ্ছেদ করে দখল নিলো বিএনপি নেতা



        নীলফামারীর সৈয়দপুরে শবনম বেগম নামে এক অসহায় গৃহবধূকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তার বাড়ি দখলে নিয়েছে হোসেন গুড্ডু নামে এক স্থানীয় বিএনপি নেতা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা।

        দৈনিক আমার দেশ সূত্রে জানা যায়, শবনম বেগম প্রায় ২২ বছর ধরে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সামনে সাহেবপাড়া ক্যান্টিন এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বাড়ি রেলওয়ের সরকারি জায়গায় অবস্থিত বলে দাবি করে তাকে এবং পাশের আরেকটি পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

        মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে হোসেন গুড্ডু, শাহাবুল ইসলাম, আজাদ ও নাদিম রেজাসহ কয়েকজনকে নিয়ে শবনম বেগমের বাসায় গিয়ে তাকে বের হয়ে যেতে বলে। এতে তিনি আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দিয়ে বাড়িটি দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এ সময় ঘরে থাকা নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

        শবনম বেগম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে ভাড়া থাকি। আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমার থাকার কোনো জায়গা নেই।’

        নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি প্রকাশ্যেই ঘটেছে। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

        জায়গাটি রেলওয়ের সরকারি হলেও অভিযুক্ত বিএনপি নেতার দাবি, বাড়ির মালিক জায়গাটি বিক্রি করেছে। সে অনুযায়ী ভাড়াটিয়াকে সরানো হয়েছে।


        তথ্যসূত্র:
        ১। অসহায় গৃহবধূর বাড়ি উচ্ছেদ করে দখল, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
        https://tinyurl.com/y5ndjfft
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত চরম বিতর্কিত গানের শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার



          অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের সময় মুসলিমদের প্রতিবাদের মুখে বাতিল হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতর্কিত গানের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ফের সামনে আনছে বর্তমান নব-নির্বাচিত বিএনপি সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধুমাত্র প্রাথমিকে গানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে চেয়েছিল। বর্তমান সরকার আরও একধাপ এগিয়ে মাধ্যমিক স্কুলেও গানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে চাচ্ছে।

          গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছে, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সংগীত শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ৩১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানায়।

          সংস্কৃতিমন্ত্রী জানায়, গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতিতে এই উদ্যোগ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন করা হবে। এ পদ্ধতিতে সংগীত প্রশিক্ষকেরা একটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে গান শিখাবে।

          বিএনপি সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলার স্কুলপর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে নিতাই রায় চোধুরী জানায়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয় প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানে উপজেলাভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সংগীত শিক্ষা নিশ্চিত করবে। সে আরও জানায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একইভাবে সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

          অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জবাব দেয়, তখন সব প্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষক পাওয়া যেত না এবং তারা মূলত জেলাপর্যায়ের স্কুলগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিলে। সে মন্তব্য করে যে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের কাছে তাদের সরাসরি দায়বদ্ধতা ছিল না। ওই সময়ে কিছু ভালো সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যা আমাদের মতে এড়িয়ে যাওয়া যেত।


          তথ্যসূত্র:
          ১। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সংগীত শিক্ষা চালু করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
          https://tinyurl.com/jmeezkua
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment

          Working...
          X