Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ১৬ যিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি || ০৫ মে, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ১৬ যিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি || ০৫ মে, ২০২৬ ঈসায়ী

    কথিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে অধিকৃত ভূখণ্ডে কাশ্মীরিদের বাড়িঘর ও স্থাপনা নির্মূল



    অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে কথিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে একাধিক বাড়িঘর ধ্বংস করেছে দখলদার ভারতীয় প্রশাসন।

    ৫ মে কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক স্থাপনায় ধ্বংস অভিযান পরিচালনা করেছে দখলদার কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে কেবল জম্মু অঞ্চলের রিং রোড করিডোর বরাবর ১৫ এরও অধিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে উক্ত কর্তৃপক্ষ। এছাড়া শ্রীনগরের পালপোরা নূরবাগ এলাকায় একটি আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলেছে দখলদার ভারতীয় পুলিশ। অপরদিকে সোপোর জেলায় পৃথক অভিযানে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, এই সকল অভিযানের উদ্দেশ্য হলো কাশ্মীরিদের টার্গেট করে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে দুর্বল করা। এই পদক্ষেপে স্থানীয় বেশ কয়েকটি পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, দখলদার প্রশাসনের এই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কোনও স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নেই। তাসত্ত্বেও তারা কাশ্মীরিদের ওপর এরূপ শাস্তিমূলক উদ্যোগ আরও বৃদ্ধি করেছে। উক্ত পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা মাদক বিরোধী অভিযানের অজুহাত দাঁড় করিয়েছে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, মাদকবিরোধী ও ধ্বংস অভিযান অধিকৃত অঞ্চলের সাধারণের মুসলিমদের উপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব তৈরির একটি কৌশল। আইন ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, যা সাধারণ কাশ্মীরিদের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


    তথ্যসূত্র:
    1. https://tinyurl.com/4ya5n5b3
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    মুসলিমরা কট্টরবাদী, আমি শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্যই কাজ করব: শুভেন্দু অধীকারী




    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর আসন থেকে বিজয়ের পর পরই হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুসলিমদের কট্টরবাদী বলে মন্তব্য করে বলেছে শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্যই সে কাজ করবে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গণমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় সে এই মন্তব্য করে।

    এ সময় শুভেন্দু অধিকারী বলেছে, ‘এবার আমি প্রায় দশ হাজার ভোটে জিতেছি। নন্দীগ্রামের হিন্দুরা আমাকে আবার জিতিয়েছে। সেখানকার সমস্ত মুসলিম ভোট টিএমসি-র (তৃণমূল কংগ্রেসে) দিকে গেছে, এই লোকেরা কট্টরবাদী। আমি নন্দীগ্রামের হিন্দুদের জন্যই কাজ করব।’

    এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দলটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও পরিবারকেন্দ্রিক, দলটির কোনো আদর্শ নেই।’


    তথ্যসূত্র:
    1. Hindu People Made Me Win, Muslims Are ‘Kattarwadi’; I Will Work for Hindus
    https://tinyurl.com/59xjfze6
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      শাপলা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন দলের বিবৃতি



      ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে নিরীহ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ওপর সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা।

      শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মরণে গতকাল সোমবার (৪ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। এছাড়া, শাপলা চত্বরের ঘটনা স্মরণে গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলেও একই দাবি জানানো হয়।

      শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে সারা দেশে দোয়া ও আলোচনা সভা আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমানের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার নিশ্চিতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি জানায় তারা।

      দলটির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল রাজধানীর পল্টন, কামরাঙ্গীরচর ও বারিধারা জোন ছাড়াও বিভিন্ন শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।

      আজ মঙ্গলবারও (৫ মে) একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে বলে সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানিয়েছেন।

      এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোনো স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।

      গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, এই হত্যাকাণ্ড আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। শাপলার শহীদ এবং আহতদের জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরুক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্মরণ করতে হবে।

      আজ বিভিন্ন দলের কর্মসূচি

      শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মরণে আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘শাপলা ও শাহবাগ : মুসলিম রাজনৈতিকতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের দ্বৈরথ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আজ বিকাল তিনটায় এ সভায় বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেবেন।

      এদিকে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী তথ্যচিত্র ও দলিলভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস। আজ বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে।

      এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুশীল ফোরাম, তোপখানায় ডিসিসি হলে ছাত্র জমিয়ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করবে। বিকেলে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে খেলাফত আন্দোলন। একই স্থানে মানববন্ধন করবে ইসলামী ছাত্রশিবির।

      শাপলার শহীদগাঁথা অনুষ্ঠান শুক্রবার

      শাপলা চত্বরের ঘটনা স্মরণে আগামী শুক্রবার (৮ মে) ‘শাপলার শহীদগাঁথা— ৫ মে-এর গণহত্যা : স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে শাপলা স্মৃতি সংসদ।

      জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এই কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।


      তথ্যসূত্র:
      ১। শাপলা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি
      https://tinyurl.com/yfyheyyd
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        শাপলায় শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো নিভৃতে কাঁদছে



        ২০১৩ সালের ৫ মে। ঘড়ির কাঁটায় তখন দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিট। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নিভিয়ে দেওয়া হয় চারপাশের সব আলো। এরপর শুরু হয় ইতিহাসের অন্যতম এক অন্ধকার অধ্যায়। ‘অপারেশন সিকিউর শাপলা’ নামের তিন বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে সেদিন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই রাতের নৃশংসতা আর রক্তের দাগ মুছে ফেলার সব রকম চেষ্টা চালিয়েছিল তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু মুছে ফেলা যায়নি স্বজন হারানো পরিবারগুলোর দীর্ঘশ্বাস। এক সময়ের প্রাণোচ্ছল মানুষগুলো আজ কবরে, আর তাদের পরিবারগুলো বেঁচে আছে মৃতবৎ হয়ে। দৈনিক আমার দেশের সাংবাদিকরা কথা বলেছেন এমন ছয়টি শহীদ পরিবারের সঙ্গে, যাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এসব হৃদয়বিদারক চিত্র।

        শহীদ আবু হানিফের বাড়ি চর এলাকায়। তিনি ছিলেন পরিবারের বড় অবলম্বন। তাকে হারানোর পর অভাব আর অন্ধকার যেন আঁকড়ে ধরেছে তার পরিবারটিকে। হানিফের বৃদ্ধ পিতা এখন বালি উত্তোলনের ট্রলারগুলোতে শ্রমিকের কাজ করেন। যে বয়সে তার বিশ্রামে থাকার কথা, সেই বয়সে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে তাকে হাড়ভাঙা খাটুনি করতে হচ্ছে। হানিফের মা বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ ও মারাত্মক অসুস্থ। অর্থের অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসাও হচ্ছে না তার। হানিফের ভাইয়েরাও কেউ সচ্ছল নন। পৈতৃক ভিটায় একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই তাদের। একটি পুরোনো কাচারি ঘর ছিল, সেটিও এখন ভাঙাচোরা। চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্য দিয়ে কাটছে তাদের প্রতিটি দিন।

        একই চিত্র শহীদ শাহ আলমের পরিবারে। তার পরিবারে এখন শুধু আছেন তার বৃদ্ধা মা ও এক বোন। শাহ আলমের মায়ের বয়স ৮৫ বছরের বেশি। তার দেখাশোনা করার মতো কোনো পুরুষ স্বজন নেই। বোন বিবাহিত হলেও তার সাধ্য সীমিত। তবুও সাধ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে তিনি মাকে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন। বসতবাড়ির অবস্থা এতটাই জীর্ণ যে, বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

        শহীদ নিজামুল হকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের ওপর নেমে আসে সামাজিক ও পারিবারিক লাঞ্ছনা। নিজামুলের মৃত্যুর পর স্বজনরাই তার স্ত্রী ও সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দেয়। তারা এখন আশ্রয় নিয়েছেন নিজামুলের শ্বশুরবাড়িতে। আয়ের কোনো উৎস না থাকায় পরিবারটি এখন ঋণের সাগরে নিমজ্জিত। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে যে অনুদান পাওয়া গিয়েছিল, তার প্রায় ৯০ শতাংশই চলে গেছে পুরোনো ঋণ পরিশোধে।

        শহীদ ফারহান রাজার গল্পটি আরো কষ্টের। ৫ মে রাতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানেও ছিল চরম অবহেলা। পড়ে ছিলেন বিনাচিকিৎসায়। অনেক চেষ্টার পর তার চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়, দুটি অপারেশনও করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পরপারে পাড়ি জমান। নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, ফারহানের লাশ হাতে পেতে তার পরিবারকে সেই সময়ে তিন লক্ষাধিক টাকা খরচ করতে হয়েছিল। বর্তমানে পরিবারটি চরম অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছে।

        শহীদ মোয়াজ্জেমুল হক নান্নুর পরিবারটিও আজ অভিভাবকহীন। তার তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। বড় মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ায় তিনিও এখন বাবার বাড়িতেই আশ্রিত। ছোট ছেলেটি এখনও পড়াশোনা করছে, আর বড় ছেলের আয়ের পরিমাণ খুবই সামান্য। পুরো পরিবারটি এখন একজন দক্ষ অভিভাবকের অভাবে দিশাহারা।

        অন্যদিকে, শহীদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার পারিবারিক বন্ধন ঢিলে হয়ে গেছে। সালাউদ্দিনের স্ত্রী শাশুড়ির (শহীদের মা) সঙ্গে থাকেন না। সালাউদ্দিনের এক ভাই থাকলেও তার কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান নেই। ফলে অসুস্থ শরীর আর একাকিত্ব নিয়ে এই শহীদের মা আজ কেবল চোখের জল ফেলছেন।

        সেই রাতের গণহত্যার বিবরণ দিয়ে মুফতী রাশেদুল ইসলাম সিরাজী আমার দেশকে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে আমি সিরাজগঞ্জের হাজী আহমাদ জান জামিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিলাম। ১৩-১৪ বছর বয়সের কিশোর আমি দাঁড়িয়েছিলাম শাপলা চত্বরে। সেই বিভীষিকাময় রাতে জালিমের বুলেট আমার ডান পা কেড়ে নিল। শৈশবের স্বাভাবিক চপলতা থমকে গেল এক নিমেষেই। তিনি জানান, আমার শরীরের একটি অংশ শাপলা চত্বরের মাটিতে মিশে আছে।

        অস্বীকারের রাজনীতি : ‘মৃত সেজে থাকার নাটক’

        শাপলা চত্বরের সেই নৃশংসতা নিয়ে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা বক্তব্যগুলো ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর ও বিতর্কিত। ৫ মের অভিযানের পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছিল, সেখানে কোনো নিহতের ঘটনাই ঘটেনি। ্সে বলেছিল, ‘সেখানে কেউ মারা যায়নি। পুলিশ যখন অভিযান শুরু করে, তখন আন্দোলনকারীরা গায়ে লাল রঙ মেখে মৃত সেজে শুয়ে থাকার নাটক করেছিল। পুলিশ কাছে আসতেই তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়।’ সরকারের অন্য মন্ত্রীরাও দাবি করেছিলেন, হেফাজত কর্মীরা নিজেরাই কোরআন শরিফে আগুন দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল এবং রাষ্ট্র কেবল শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করেছে।

        আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বারবার দাবি করেছিল, ‘অপারেশন সিকিউর শাপলা’ ছিল একটি রক্তপাতহীন ও সুশৃঙ্খল অভিযান। তারা দাবি করেন, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে কেবল আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে, কোনো তাজা গুলি চালানো হয়নি। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ যখন ৬১ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে, তখন পুলিশ সেই তথ্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ে অভিযান চালায় এবং এর কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ‘অস্বীকারের সংস্কৃতি’ বজায় ছিল।

        সঠিক মৃত্যু সংখ্যা আজও অজানা

        তদন্তের অভাবে সঠিক মৃত্যু সংখ্যা আজও অজানা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অন্তত ৫৮ জন এবং অধিকার ৬১ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। তবে বেওয়ারিশ লাশ দাফনকারী সংস্থা ‘আনজুমান-এ-মফিদুল ইসলাম’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৩ সালের মে মাসে দাফনকৃত লাশের সংখ্যা অন্যান্য মাসের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ছিল।

        পরিসংখ্যান বলছে, ওই রাতে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার রাউন্ড তাজা গুলি এবং বিপুল পরিমাণ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়েছিল।

        মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারহীনতার ১৩ বছর

        ভুক্তভোগীরা জানান, ৫ মে রাতে মতিঝিল এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়ে এক ধরনের মিডিয়া ব্ল্যাকআউট তৈরি করা হয়। ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা ছিল আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী একটি ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মাটিতে পড়ে থাকা নিরস্ত্র মানুষদের পিটিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা মানুষের মাথা থেকেও রক্ত ঝরছে।

        হাসিনার আমলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে বিচার চাইতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে তথ্য গোপন করা হয় এবং যারা সত্য বলার চেষ্টা করেছিলেন—তাদের ওপর চালানো হয়েছিল নির্মম নিপীড়ন।


        তথ্যসূত্র:
        ১। কাটেনি শোক, নিভৃতে কাঁদছে শহীদ পরিবার
        https://tinyurl.com/54hnmhxz
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          ভারতের উত্তরাখণ্ডে এক মুসলিমের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গায় বাড়ি নির্মাণে হিন্দুত্ববাদী কাউন্সিলরের বাধা



          ​ভারতে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে স্থানীয় এক মুসলিম বাসিন্দার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্লটে বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে হিন্দুত্ববাদী ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ভুক্তভোগী মুসলিম বাসিন্দার নাম অসীম আনসারি। তিনি ২০২০ সালে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে প্রায় ১৫০ বর্গগজের একটি নিবন্ধিত প্লট কিনেছিলেন।

          সম্প্রতি তিনি নিজের বৈধ জায়গায় বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু মুসলিম হওয়ার কারণে উক্ত ওয়ার্ডের হিন্দুত্ববাদী কাউন্সিলর শচীন মুঞ্জল ও তার সহযোগী বিজয় অরোরা এই বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করতে বাধা দেয়।

          ভুক্তভোগী মুসলিম ব্যক্তি স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে জানান, গত ৩ মে সকালে মুঞ্জল, অরোরা এবং তাদের ৫-১০ জন সহযোগী তার নিজ মালিকানাধীন প্লটে বাড়ি নির্মাণ কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়। উগ্র হিন্দুত্ববাদী এই কাউন্সিলর সতর্ক করে জানায়, আমরা কোনও মুসলিমকে এখানে বাড়ি নির্মাণ করতে দেব না। কোনও মুসলমান এই গলিতে বা এলাকায় বসবাস করতে পারবে না।

          ঘটনার মুহূর্তে উগ্রবাদীরা ভুক্তভোগীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেছে, হত্যা ও নির্যাতনের হুমকি দিয়েছে। অত্যন্ত কম মূল্যে প্লটটি হিন্দুদের নিকট বিক্রয় করতে তারা চাপ সৃষ্টি করে।

          ভুক্তভোগী মুসলিম ভাইটি যুক্তি দেখান, প্রায় ১৫০ মুসলিম পরিবার এই কলোনিতে ইতোমধ্যে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, বছরের পর বছর ধরে তারা এই কলোনিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।

          অপরদিকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর দাবি করে যে, পুলিশের নিকট অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তার সাথে কিছুই করতে পারবে না।


          তথ্যসূত্র:
          1. https://tinyurl.com/fwca572t
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment

          Working...
          X