Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ২৩ যিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি || ১২ মে, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ২৩ যিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি || ১২ মে, ২০২৬ ঈসায়ী

    ভারতের মহারাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ঘৃণা উস্কে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী বিধায়ক


    ৩ মে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আকোলা শহরে “হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি” আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উস্কে দেয় একজন প্রাক্তন হিন্দুত্ববাদী বিধায়ক। সে মুসলমানদের প্রতি অবমাননার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মোল্লা, খতনাকারী ও জিহাদি বলে তাচ্ছিল্য করেছে। এছাড়া সে ‘শূকরছানা’ বলে কুৎসিত ভাষায় মুসলিমদের গালমন্দ করেছে।

    মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি উস্কে দিয়ে সে আরও বলেছে, ভারতের গোল টুপি পরা লোকের ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’ এর নামে সম্পূর্ণ ভারতকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে।

    ‘লাভ জিহাদ’ ও ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উস্কানি দিয়েছে, একই সাথে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর সমাধি অপসারণেরও দাবি তুলেছে। ‘ভূমি জিহাদ’ সম্পর্কে অপপ্রচার এবং মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও গাজওয়া-ই-হিন্দ সম্পর্কে সে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।


    তথ্যসূত্র:
    1. https://tinyurl.com/5dhccwzh
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিমদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারীতে হেফাজতের বিক্ষোভ: সরকারকে আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানোর আহ্বান



    হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারদেরকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে পাতানো নির্বাচন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের ওপর সহিংস কর্মকাণ্ডকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, দ্রুত সময়ে এই অমানবিক নির্যাতন বন্ধ না করলে ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা পাবে না।

    গত সোমবার (১১ মে) বিকেলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম নিধন ও বর্বরোচিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজত আমির এইসব কথা বলেন।

    হেফাজত ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও মাওলানা কামরুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় এ সময় তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব সহিংস কর্মকাণ্ডে উগ্রপন্থী বিজেপি সমর্থকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

    ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উস্কানিমূলক বক্তব্যই মুসলিমদের হামলার প্রধান কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জেতার পর ওই বিজেপি নেতা বলছেন- তাকে নাকি মুসলমানরা ভোট দেয়নি। যা মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দেয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক।’

    তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, ভারতের মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতনের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আগামী জুমাবার চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করছি ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।

    এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা মো. ঈসা, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, উপজেলার যুগ্ম সম্পাদক, মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা জমির উদ্দিন, মোরশেদ আলম, মাওলানা হাফেজ মহিউদ্দিন, আবু তাহের রাজিব, জনাব রাশেদ আলম, উপজেলার প্রচার সম্পাদক, মাওলানা মাসউদ আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা হাফেজ আমিনুল ইসলাম, মাওলানা ওবাইদুর রহমান ও মাওলানা জাকারিয়া (হাফিযাহুমুল্লাহ) প্রমুখ।


    তথ্যসূত্র:
    ১। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিমদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হেফাজতের বিক্ষোভ
    https://tinyurl.com/5dpwf2cr
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম ধস: এক মাসে খুন ২৮৮ জন, নারী ও শিশু নির্যাতন ২ হাজারের বেশি



      সাম্প্রতিক বাংলাদেশে খুনোখুনি ও অপরাধ প্রবণতার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক মাসে দেশজুড়ে অন্তত ২৮৮টি হত্যাকাণ্ড, ২ হাজার ১১টি নারী-শিশু নির্যাতন, ১৫২টি ডাকাতি, ৯৪টি অপহরণ এবং ১০৭৩টি চুরি ঘটনা ঘটেছে।

      দৈনিক মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত এক মাসেই (এপ্রিলে) ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় হত্যাকাণ্ড হয়েছে ৪টি। খুলনা মেট্রোপলিটনে ২টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ২টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৩টি, রংপুর মেট্রোপলিটনে ১টি, গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মেট্রোপলিটন ছাড়াও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

      এ ছাড়া ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১৭টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি, সিলেট রেঞ্জে ২৪টি, খুলনা রেঞ্জে ২৪টি, বরিশাল রেঞ্জে ১৫টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৩৬টি, রংপুর রেঞ্জে ১৭টি ও রেলওয়ে রেঞ্জের আওতায় ৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যাও কম না।

      এপ্রিলে সারা দেশে অন্তত ২ হাজার ১১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তন্মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাতেই ১৬৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫১টি, খুলনা মেট্রোপলিটনে ৫টি, রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৩টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ১৮টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৫টি, রংপুর মেট্রোপলিটনে ৭টি, গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ৩৪টি, ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৩৭৫টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১০৮টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৮৫টি, সিলেট রেঞ্জে ৭৮টি, খুলনা রেঞ্জে ১৬৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ২০০টি, রাজশাহী রেঞ্জে ২৫২টি, রংপুর রেঞ্জে ২৩৭টি ও রেলওয়ে রেঞ্জের আওতায় অন্তত ২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

      অন্যদিকে দেশে এক মাসে ১৫২টি ডাকাতি, ৯৪টি অপহরণ, ১০৭৩টি চুরি, ১৩৯টি অস্ত্র, ৭ হাজার ২৯১টি অন্যান্য অপরাধসহ মোট ১৭ হাজার ১৮০টি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।


      তথ্যসূত্র:
      ১। এপ্রিলেই ২৮৮ খুন
      https://tinyurl.com/4by8wvk5
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        লেবাননে সন্ত্রাসী ইসরায়েলি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত




        লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসী ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গত সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে নাবাতিয়ের জিবদিন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে এ হামলা চালানো হয়। নিহত দুজনই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

        নিহতরা হলেন শফিকুল ইসলাম ও মো. নাহিদুল ইসলাম। শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের ভালুকা চাঁদপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আফসার আলী। অন্যদিকে নাহিদুল ইসলামের বাড়ি আশাশুনির কাদাকাটি এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুল কাদের।

        সংবাদমাধ্যম ‘লরিয়েন্ট টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবাতিয়ের ওই এলাকায় একটি বাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় সন্ত্রাসী ইসরায়েল। সে সময় সেখানে কাজ করছিলেন শফিকুল ও নাহিদুল। হামলায় ওই ভবনে থাকা তিনজনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে দুজনই বাংলাদেশি ও একজন সিরিয়ার নাগরিক।

        নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ বর্তমানে নাবাতিয়ের নাবিহ বেররি সরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।


        তথ্যসূত্র:
        1. Israel still targeting Nabatieh: Several killed in Zibdin, including migrant workers distributing bread
        https://tinyurl.com/eevst6cj
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          শ্রম আইনে অসংজ্ঞায়িত ও ইসলামবিরোধী জেন্ডার পরিভাষা বাতিলে আলেম-উলামাসহ ৩৩০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি



          শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের শিক্ষক, ছাত্র, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার ৩৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক ‘শ্রম আইনে অসংজ্ঞায়িত ও ইসলামবিরুদ্ধ জেন্ডার পরিভাষা নারীর নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করবে’ শিরোনামে বিবৃতি প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

          দৈনিক আমার দেশ সূত্রে জানা যায়, মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাতের পাঠানো এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের সচেতন, দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধনিষ্ঠ নাগরিকগণ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ দিকে জারিকৃত ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ এমনভাবে সংশোধন করা হয়েছে, যেখানে কোনো প্রকার স্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান ছাড়াই ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’ বা ‘লিঙ্গ পরিচয়’ এবং ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’—এই এলজিবিটিবান্ধব পরিভাষাগুলো সংযোজন করা হয়েছে।

          বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জেন্ডার পরিচয়’ বা ‘লিঙ্গ পরিচয়’ এমন একটি ধারণা, যেখানে নারী-পুরুষের বাইরে আরো বিভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যেমন ‘ট্রান্সজেন্ডার’। অন্যদিকে পোশাক, সাজসজ্জা বা আচরণের মাধ্যমে নিজের জেন্ডার পরিচয় প্রকাশ করাকে ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’ বলা হয়। শ্রম আইন হওয়া উচিত শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার একটি বাস্তবভিত্তিক ও প্রাযুক্তিক আইন। সেখানে এমন বিতর্কিত ধারণা যুক্ত করা বাঞ্ছনীয় নয় যা আইনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে মতাদর্শিক বিতর্কের মধ্যে নিয়ে যায় এবং সমাজে বিভাজন ও মূল্যবোধগত সংঘাত সৃষ্টি করে।

          বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইন একটি স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন দলিল হওয়া উচিত। কিন্তু সংশোধিত এই আইনের কোথাও ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’ বা ‘লিঙ্গ পরিচয়’, ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’, ‘বৈষম্যমূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ কিংবা ‘জেন্ডারভিত্তিক অন্যান্য আচরণ’—এসব পরিভাষার কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। বরং এগুলোকে এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। এর মাধ্যমে দেশের প্রচলিত ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক কাঠামো ও সামাজিক নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন ধারণা বা আচরণ—বিশেষত ট্রান্সজেন্ডারবাদ ও সমকামিতা—পরোক্ষভাবে বৈধতা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

          বিবৃতিতে বলা হয়, এই সংশোধিত শ্রম আইনের কারণে একজন জন্মগত পুরুষ নিজেকে নারী দাবি করে কর্মক্ষেত্রে নারীর পোশাক ও সাজসজ্জা গ্রহণ করতে পারবে, নারীদের টয়লেট ব্যবহার করতে পারবে কিংবা নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতে পারবে। এ ধরনের আচরণে বাধা দিলে বা আপত্তি জানালে সেটিকে ‘জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আইনগত জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এই সংশোধনী নারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

          ৩৩০ জন নাগরিকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে আইন প্রণয়ন করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতা ও অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে। উল্লেখ্য সারাবিশ্বের উলামায়ে কেরাম ‘ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ’-কে কুফরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একইভাবে ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’র নামে নারীকে পুরুষের এবং পুরুষকে নারীর বেশভূষা ও সাজসজ্জা গ্রহণের অনুমোদন ইসলামে নিষিদ্ধ, গর্হিত ও অভিশাপের কাজ হিসেবে বিবেচিত।

          দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই—এই অতি সংবেদনশীল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে ‘লিঙ্গ’ ও ‘জেন্ডার’ পরিভাষার সুস্পষ্ট ও আইনগত সংজ্ঞা নির্ধারণ করুন এবং অবিলম্বে ‘শ্রম আইন, ২০০৬’ থেকে বিতর্কিত ও অসংজ্ঞায়িত পরিভাষাগুলো অপসারণ বা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করুন।

          বিবৃতি প্রদানকারীদের নামের তালিকা মূল্যবোধ ডট কম (mullobodh.com) সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। বিবৃতি প্রদানকারী শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে ১৯ জন অধ্যাপক, ১৫ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ১৯ জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন।

          বিবৃতি প্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন— বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মোখতার আহমাদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ধানমন্ডির মসজিদ-উত-তাকওয়া সোসাইটির খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, পল্লবীর মাসজিদুল জুমা কমপ্লেক্সের খতিব আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামিমা তাসনীম, মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও আইইবির অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শামসুন্নাহার মিতুল ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তাহিরা ফারজানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব, ঢাকা নিউমার্কেটের বায়তুল মামুর মসজিদের খতিব মাওলানা হাসান জামিল, জামেয়া মাহমুদিয়া যাত্রাবাড়ির শিক্ষক মুফতি রেজাউল কারীম আবরারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকরা।

          তথ্যসূত্র:
          ১। শ্রম আইনের জেন্ডার পরিভাষা নিয়ে ৩৩০ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ
          https://tinyurl.com/34nbhhv9
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment

          Working...
          X