অধিকৃত জম্মু অঞ্চলে গুজ্জর-বাকেরওয়াল মুসলিম উপজাতিদের বাড়িঘর বুলডোজারে ধ্বংস করে দিলো দখলদার ভারত

অধিকৃত জম্মু অঞ্চলের সিধরা এলাকায় গুজ্জর ও বাকেরওয়াল সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর বুলডোজারে ভেঙে দিয়েছে দখলদার ভারত প্রশাসন। ২০ মে কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের প্রতিবেদনে সংবাদটি তুলে ধরা হয়।
প্রশাসনের দাবি, বনভূমিতে অবৈধ বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগে এই স্থানগুলো ক্লিয়ার করতে একযোগে কাজ করছে বন বিভাগ, বন সংরক্ষণ বাহিনী, রাজস্ব বিভাগ এবং পুলিশের টিম। তাদের মতে, অভিযানে প্রায় ২০ থেকে ৪০টি কাঠামো সরানো হয়, ফলে ৬০ কানালা জমি উদ্ধার হয়।
উল্লেখ্য যে, গুজ্জর ও বাকেরওয়াল প্রধানত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উপজাতি। তাদের প্রধান পেশা গবাদি পশু পালন।
কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ ও বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা দখলদার ভারত প্রশাসনের এই পদক্ষেপে তীব্র নিন্দা ব্যক্ত করেছে। তারা এটিকে অযৌক্তিক ও অমানবিক বলে অভিহিত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই নির্মূল অভিযান মৌসুমি অভিবাসন ও গবাদি পশু নির্ভর প্রান্তিক উপজাতি সম্প্রদায় দু’টির মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
আলতাফ আহমেদ নামে কাশ্মীরের এক সংসদ সদস্য তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এরূপ হামলা অগ্রহণযোগ্য ও টার্গেট করে পরিচালনা করা হচ্ছে। বারবার উচ্ছেদ ও ধ্বংস অভিযানের কারণে জম্মু ও কাশ্মীরের উপজাতি সম্প্রদায় ইতোমধ্যে আতঙ্কের মধ্যে বাস করছে।
সিধরা এলাকার সাম্প্রতিক এই উচ্ছেদ অভিযান যাযাবর জনগোষ্ঠীকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত করেছে। বছরের পর বছর ধরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উক্ত এলাকায় বসবাস করে আসছে। জীবিকা নির্বাহের জন্য সম্পূর্ণরূপে তারা চারণভূমির ওপর নির্ভর করে থাকে। এই ধ্বংস অভিযানে উপজাতি জনগোষ্ঠীর অধিকার ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি বিবেচনা করেনি প্রশাসন।
কাশ্মীরের একজন বিধায়ক মুহম্মদ ইউসুফ তারিগামি বলেছে, গুজ্জর ও বাকেরওয়াল পরিবার আগে থেকেই দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে বসবাস করছিল। সাম্প্রতিক ধ্বংস অভিযান তাদের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ভিডিও: https://x.com/i/status/2056986560482971843
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/48amzhst



Comment