Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ২৫ শে মুহাররম, ১৪৪৮ হিজরি|| ১১ই জুলাই, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ২৫ শে মুহাররম, ১৪৪৮ হিজরি|| ১১ই জুলাই, ২০২৬ ঈসায়ী

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ড্রোন হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল



    যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরেও উত্তর গাজার একটি হাসপাতাল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় হাসপাতালের কর্মীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে গাজার স্বাস্থ্যখাতের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

    ১০ জুলাই, শুক্রবার উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় অবস্থিত কামাল আদওয়ান হাসপাতালের ওপর এ হামলা চালানো হয়। চিকিৎসা সূত্র জানায়, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তিনজন এবং হাসপাতালের আশপাশে অবস্থানরত আরও তিনজন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী আহত হন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, হাসপাতালটি তথাকথিত ‘সবুজ অঞ্চল’-এর মধ্যে অবস্থিত থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হয়।

    ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ধারাবাহিকতার অংশ। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের হামলা হাসপাতালগুলোর স্বাভাবিক ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং চিকিৎসাকর্মীদের দায়িত্ব পালনকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়ে পড়েছে। হাজারো ফিলিস্তিনির জরুরি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও দখলদার ইসরায়েলের আরোপিত চলাচল নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের অধিকাংশই গাজা ত্যাগ করতে পারছেন না, ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।


    ‎তথ্যসূত্র
    1. Hospital workers wounded in Israeli drone attack on Gaza’s Kamal Adwan
    https://tinyurl.com/yc5z9j2p
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

  • #2
    চট্টগ্রামের রাউজানে টানা বর্ষণে জ্বলছে না চুলা, বিশুদ্ধ পানিরও অভাব



    চট্টগ্রামের রাউজানে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়ক, বসতঘর, দোকানপাট এবং বিভিন্ন স্থাপনা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বেড়েছে হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানি। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে খাল ভেঙে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। পানিবন্দি রয়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাউজান পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড, চিকদাইর, ডাবুয়া, কদলপুর, পাহাড়তলী ও উরকিরচর ইউনিয়নে। এদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। এছাড়া চৌমুহনী কাঁচাবাজারও পানির নিচে তলিয়ে যায়।

    জানা যায়, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক, কদলপুর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়ক ডুবে গেছে। বসতঘরে পানি ঢুকেছে। কোথাও খাটের ওপরে, আবার কোথাও কোমর থেকে বেশি পরিমাণ পানি। সড়ক ভেঙে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের বীজতলা।

    রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাবুয়া খাল ভেঙে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জ্বলছে না চুলার আগুন, অনেক কষ্টে রাত কাটাচ্ছি।’

    রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘খাল ভাঙার তথ্য পেয়েছি, বাঁধ দেওয়ার জন্য ঠিকদারকে বলেছি। পৌরসভার বিষয়টি পৌর প্রশাসক পর্যবেক্ষণ করছেন। পানির নিচে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস না করে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখনো বৃষ্টি হচ্ছে, অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।’


    তথ্যসূত্র:
    ১। রাউজানে টানা বর্ষণে জ্বলছে না চুলা, বিশুদ্ধ পানিরও অভাব
    https://tinyurl.com/ycyxtbe7
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

    Comment


    • #3
      নরসিংদীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ককটেল বিস্ফোরণ ও ডাকাতের হামলায় আহত ৩



      নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের পদ্মারকান্দা দীঘিরপাড় এলাকায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে এলাকার অন্তত তিনটি বাড়িতে একযোগে হানা দেয় ডাকাতেরা। পরে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। যাওয়ার সময় ডাকাত দলের হামলায় তিনজন জখম হয়েছে।

      ভুক্তভোগী মিনহাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রাত প্রায় ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পাঁচ-সাতজনের একটি ডাকাত দল প্রথমে তার বাড়ির গেট টপকে ভেতরে ঢুকে। এরপর তারা ভেতরের গেটের তালা ভেঙে বাকি সহযোগীদের ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করে। মুহূর্তের মধ্যে দুটি দরজা ভেঙে ডাকাতেরা সরাসরি তার বেডরুমে ঢুকে পড়ে। এ সময় বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে।

      ঘটনার সময় মিনহাজুল ইসলামের স্ত্রী-সন্তান নানার বাড়িতে থাকায় তিনি ঘরে একাই ছিলেন। আকস্মিক এই হামলায় ভয় পেয়ে তিনি চিৎকার দিলে ডাকাতেরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করে। অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে।

      এরপর ডাকাতের দল আলমারি ও ওয়ার্ডরোব তছনছ করে ঘরে থাকা প্রায় দু-তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয়। শুধু তাই নয়, ডাকাতেরা মিনহাজের হাত-পা বাঁধার চেষ্টা ও জবাই করার হুমকি দেয়।

      লুটপাট শেষে ডাকাতেরা মিনহাজুলকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করলে তিনি কোনো প্রকার চিৎকার বা চেঁচামেচি না করার কথা জানান। যাওয়ার সময় ডাকাত সর্দার তাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘যদি চ্যাঁচামেচি করিস, তাহলে কাল এসে তোকে জবাই করে যাব।’

      এলাকা ছাড়ার সময় ডাকাের দল তাদের উপস্থিতি ও আতঙ্ক ছড়াতে তিন-চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে বা সামনে পড়ে গেলে তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা পালিয়ে যায়।

      এ ঘটনার পর থেকে পুরো কাঁঠালিয়া ও পদ্মারকান্দা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসী রাতে নিরাপত্তা জোরদার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।


      তথ্যসূত্র:
      ১। মাধবদীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলায় আহত ৩
      https://tinyurl.com/265ezyen
      নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

      Comment


      • #4
        রাজশাহীর চারঘাটে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করল প্রতিবেশি দেব চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু যুবক



        ​রাজশাহীর চারঘাটে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের এক শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে প্রতিবেশি এক হিন্দু যুবক। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে চারঘাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম দেব চন্দ্র দাস, সে একই এলাকার জয় চন্দ্র দাসের ছেলে। ঘটনার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

        স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মুসলিম শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে শিশুটির মা শিশুটিকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেশী দেবের বাড়ির বারান্দায় শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় কাঁদতে দেখে কারণ জানতে চাইলে শিশুটি তার মাকে জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে দেব তাকে খাবারের কথা বলে ঘরের ভেতর ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

        ঘটনার পরপরই স্বজন ও প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

        এই নৃশংস ঘটনার পর বুধবার বিকেলেই ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে চারঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর (৯ জুলাই) সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ম্যাজিক লণ্ঠন স্কুল এলাকা থেকে আসামি দেব চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

        জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।


        তথ্যসূত্র:
        ১। রাজশাহীতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ: ৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করলো র‌্যাব
        https://tinyurl.com/59f7tw3e
        নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

        Comment


        • #5
          কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ৬ দিনে ৯৫টি ভূমিধসের ঘটনা, নিহত ১৫, গৃহহীন ৪ হাজারের অধিক



          ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে লাখো রোহিঙ্গা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ৯৫টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ রোহিঙ্গা। ভূমিধসে ৪ হাজার ৩০৭ রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়েছেন। নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ১১৯ জন। এসংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে।

          গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উখিয়ার ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-১১ ব্লকে ভূমিসহ দেয়াল ধসে একটি মাদরাসার পাঁচ ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাদ্রাসাটির আরও আট শিক্ষার্থী। দুই দিন আগে উখিয়ার জামতলী, কুতুপালং ও বালুখালী আশ্রয়শিবিরে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ অন্তত আট রোহিঙ্গা মুসলিমদের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিধসে হতাহতের ঘটনা বাড়তে থাকায় আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হতাহত ব্যক্তিদের ঘরে ঘরে হাহাকার চলছে।

          বুধবার মাদরাসার দেয়ালধসের ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে নিহতদের একজন আশ্রয়শিবিরটির বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩)। ওই দিনই রাশিদার লাশ আশ্রয়শিবিরের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর পর থেকে তার মা-বাবার কান্না থামছে না। হাসিম উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ওই দিন ভোর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তিনি ঘরে অবস্থান করছিলেন। সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো মেয়েকে মাদরাসায় দিয়ে আসেন। বিকেলে খবর আসে, দেয়াল ধসে তাঁর মেয়ে মারা গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসিম উল্লাহ বলেন, পবিত্র কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করার জন্য এক বছর আগে মেয়েকে মাদরাসাটিতে ভর্তি করান। আর তিন মাস পর হিফজ শেষ হতো মেয়ের। এর আগেই মেয়েটির মৃত্যু হলো।

          ভূমিসহ দেয়ালধসের একই ঘটনায় নিহত অপর চারজনের মধ্যে দুজন আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২)। তাদের হিফজও দুই মাস পর শেষ হওয়ার কথা। আবদুস শুকুর বলেন, দুই মেয়ের মৃত্যুতে তাঁর ঘরে এখন হাহাকার চলছে। দুই মাস পর দুই মেয়ের হিফজ শেষ হওয়ার কথা। মেয়েদের কোরআন পাঠে সকালে তাঁর ঘুম ভাঙত। এখন নির্ঘুম রাত কাটছে।

          ভূমিধসের ঘটনায় মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আশ্রয়শিবিরের আরেক বাসিন্দা মো. ইলিয়াছ। তিনি বলেন, মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন তাঁরা। এখানেও বর্ষায় পাহাড়ধস, শীতকালে অগ্নিকাণ্ড আর অন্য সময়ে সন্ত্রাসীদের গুলির আতঙ্কে থাকতে হয়।

          এদিকে, টেকনাফের উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির রয়েছে সাতটি। ভারী বৃষ্টিতে এসব আশ্রয়শিবিরের ৩০টির বেশি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে টেকনাফে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উপজেলার আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বসবাস।

          টেকনাফের ২৫ ও ২৭ নম্বর আশ্রয়শিবিরের ইনচার্জ খানজাদা শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ইতিমধ্যে পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকা ১০০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মসজিদ, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাসায় অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

          জাদিমোরা আশ্রয়শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বদরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের ঘটনা বাড়তে থাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


          তথ্যসূত্র:
          ১। কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে ৬ দিনে ৯৫টি ভূমিধসের ঘটনা, গৃহহীন ৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর
          https://tinyurl.com/57dn7esh
          নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

          Comment


          • #6
            দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা, ভূমিধ্বস ও নদীভাঙন, ত্রাণের জন্য হাহাকার



            টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কোথাও কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙে অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার্ত মানুষ নদীর বাঁধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।

            দৈনিক আমার দেশ এক প্রতিবেদনে জানায়, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার্ত মানুষ নদীর বাঁধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামের পাশের নদীর বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে দক্ষিণ চরহামুয়া, উত্তর চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, সুঘর, আদ্যপাশা, নোয়াবাদ, সুলতানশী, হাতিরথান, কটিয়াদি, বনগাঁও, দক্ষিণ বনগাঁওসহ ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

            যার ফলে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও গবাদি পশু নিয়ে নদীর বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন মানুষ। তাদের চোখের সামনে বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

            এদিকে, টানা বর্ষণ আর ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে ১২ উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

            পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩০ মিটার, যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে।

            ছাতক পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ মিটারে, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

            অন্যদিকে, গত কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, খুনিয়াপালং, রাজারকুল, ঈদগড় ও ফতেখাঁরকুলসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার সাধারণ মানুষ। তবে বন্যা পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। এতে দুর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

            সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঁকখালী নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোয়। গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা এলাকার জয়নাল আবেদীন জানান, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে পাড়ের মানুষ গভীর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটা বেশি যে, গত বছরসহ বিগত কয়েকটি বর্ষা মৌসুমে শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা বা শুকনো খাবার দেওয়া হয়নি।

            ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ধসে প্রধান সড়কগুলোয় পড়ছে। পাহাড়ের মাটি ধসে সড়কে চলে আসায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন সংকটের মুখোমুখি হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

            রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করলেও সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা চোখে পড়েনি। বানভাসি মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।’

            এদিকে, টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নে প্রবল স্রোতে ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিদ্যুতের খুঁটি হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে তীব্র স্রোতে ভাঙনের কবলে পড়েছে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি।

            ভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খোকন চন্দ্র রায় জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও ভারি বৃষ্টির পানির চাপে তার কৃষিজমি ভাঙতে শুরু করেছে। তার প্রায় ছয় বিঘা ফসলি জমি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

            স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই ইউনিয়নের পানি একই ড্রেন দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের মতো ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

            হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানির সঙ্গে ভারি বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে উপজেলার অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চুলা ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। ক্ষতির মুখে পড়েছে আমনের বীজতলা ও মাছের ঘের। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


            তথ্যসূত্র:
            ১। টানা বর্ষণে বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও নদীভাঙন, ত্রাণের জন্য হাহাকার
            https://tinyurl.com/bpsspzuw
            নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org

            Comment

            Working...
            X