গাজাজুড়ে দখলদার ইসরায়েলের বর্বর হামলায় শহীদ ৭, ওষুধের গুদাম ধ্বংস

১ আগস্ট, শনিবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণাগারে বিমান হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে সন্ত্রাসী ইসরায়েলী বাহিনী।
গাজার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শহীদ হন। দেইর আল-বালাহে পৃথক হামলায় একজন এবং খান ইউনিসের উত্তরের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে হামলায় আরও একজন শহীদ হন। এছাড়া গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের আল-রেইস এলাকায় একটি বাড়ির ছাদে ড্রোন হামলায় দুইজন এবং আল-থালাতিনি সড়কে বিমান হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন।
অন্যদিকে দেইর আল-বালাহে আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ওষুধের গুদামে রাতভর চালানো ইসরায়েলি হামলায় চারটি সংরক্ষণাগারের মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং বাকি দুটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় স্যালাইন, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ডায়ালাইসিস ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার আগে ইসরায়েলি বাহিনী এলাকা খালি করার নির্দেশ দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে বোমাবর্ষণ করা হয়। বিস্ফোরণে হাসপাতালের আশপাশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ আখ্যায়িত করে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ বলেন, ওষুধের গুদাম ধ্বংস এবং চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিয়ে ইসরায়েল কার্যত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেই যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের চলমান গণহত্যামূলক যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনের বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন; আহত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। বর্বর ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও বেসামরিক অবকাঠামোর অধিকাংশই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তথ্যসূত্র
1. Israeli strikes kill seven across Gaza, destroy medical supply warehouse
– https://tinyurl.com/4eywrzc4




Comment