বুরকিনা ফাসোর ৪ ফ্রন্টে জেএনআইএম মুজাহিদদের ১১টি পৃথক অভিযান: ৬টি সামরিক ঘাঁটি বিজয়

আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) মুজাহিদিনরা, সম্প্রতি বুরকিনা ফাসোর ৪টি রাজ্যে অন্তত ১১টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছেন। মুজাহিদদের পরিচালিত এই অভিযানগুলোর ৩টিতেই জান্তা বাহিনীর অন্তত ১৫ সদস্য নিহত এবং আরও কয়েক ডজন জান্তা সদস্য আহত হয়েছে।
আঞ্চলিক সংবাদ প্রচার চ্যানেল আয-যাল্লাকার রিপোর্ট অনুযায়ী, জেএনআইএম মুজাহিদিনরা গত ২৩শে মে থেকে ২৫শে মে পর্যন্ত বুরকিনা ফাসোর উয়াহিগুয়া, দেদুগু, কিয়া এবং লোরুম রাজ্যে ১১টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছেন। এসময় মুজাহিদিনরা বুরকিনান জান্তা বাহিনীকে হটিয়ে ৬টি সামরিক ঘাঁটি ও চৌকির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।
এই অভিযানগুলোর ৬টি উয়াহিগুয়া রাজ্যের তৌগিত, দগৌরি এবং স্ফিঙ্গা এলাকায় অবস্থিত জান্তা বাহিনীর সামরিক ঘাঁটি ও চৌকিগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই অভিযানগুলোর কয়েকটিতেই বুরকিনান জান্তা বাহিনীর অন্তত ১৩ সদস্য নিহত হয়েছে। সেই সাথে মুজাহিদিনরা ৫টি সামরিক অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছেন। এসকল অভিযান শেষে মুজাহিদিনরা বেশ কিছু মেশিনগান, বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য সামগ্রী গনিমত হিসাবে জব্দ করেছেন।
এই দিনগুলোতে মুজাহিদিনরা দেদুগু রাজ্যের দোরা এবং বাসান এলাকায় জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ২টি অভিযান পরিচালনা করেন। এই হামলাগুলো জান্রশাসনের একটি পুলিশ স্টেশন এবং একটি সেনা টহল দলকে টার্গেট করে চালানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে জান্তা বাহিনীতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সেই সাথে একটি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও মুজাহিদিনরা ১টি সামরিক যান, ২টি মেশিনগান, ১টি পিকা অস্ত্র এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল গনিমত হিসাবে অর্জন করেছেন।
এমনিভাবে বুরকিনা ফাসোর লোরুম রাজ্যের তিতাও শহরের উপকণ্ঠে এবং তিবো ও সৌলি শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় ২টি হামলা চালিয়েছেন মুজাহিদিনরা। বুরকিনান জান্তা বাহিনীর ২টি সেনা টহল দলকে টার্গেট করে জেএনআইএম মুজাহিদিনরা অতর্কিত আক্রমণ ২টি চালিয়েছিলেন। এতে ২ এরও অধিক সংখ্যক জান্তা সদস্য নিহত হয় এবং আরও বহু সংখ্যক জান্তা সদস্য আহত হয়। অভিযান শেষে মুজাহিদিনরা বেশ কিছু মেশিনগান ও মোটরসাইকেল গনিমত হিসাবে অর্জন করেন।
এদিকে বুরকিনা ফাসোর কিয়া রাজ্যে আরও একটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন মুজাহিদিনরা। অভিযানটি জান্তা অনুগত মিলিশিয়াদের একটি সামরিক চৌকি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে মিলিশিয়া বাহিনীকে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অন্য মিলিশিয়া সদস্যরা সামরিক অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে গেলে মুজাহিদিনরা চৌকির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন। সেই সাথে ঘটনাস্থল থেকে মুজাহিদিনরা কয়েকটি মেশিনগান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম গনিমত হিসাবে অর্জন করেছেন।
তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/2waw7rpr
– https://tinyurl.com/mtx4f837
– https://tinyurl.com/wxu7j8mr
– https://tinyurl.com/5h46uchk