Announcement

Collapse
No announcement yet.

জেএনআইএম এবং এফএলএ-এর হাতে ড্রোন প্রযুক্তি: মালি’তে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেওয়া অস্ত্র

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • জেএনআইএম এবং এফএলএ-এর হাতে ড্রোন প্রযুক্তি: মালি’তে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেওয়া অস্ত্র

    জেএনআইএম এবং এফএলএ-এর হাতে ড্রোন প্রযুক্তি: মালি’তে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেওয়া অস্ত্র



    মালির উত্তরাঞ্চলীয় কিদালের প্রাদেশিক রাজধানী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আনেফিস শহর। গত ৪ জুলাই শহরটি রাশিয়ান বাহিনী এবং মালির জান্তা বাহিনী থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সমন্বিত সামরিক অপারেশন চালাতে শুরু করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ বাহিনী এফএলএ। প্রতিরোধ যোদ্ধারা তীব্র লড়াইয়ের মাধ্যমে শহরের সমস্ত সামরিক ও বেসামরিক অবস্থান শত্রু মুক্ত করতে সক্ষম হলেও, মালির জান্তা এবং রাশিয়ান বাহিনী শহরটি কেন্দ্রীয় সামরিক ঘাঁটির চারপাশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সর্বোচ্চ শক্তি খরচ করছে।

    আনেফিস ঘাঁটির চারপাশে চলমান যুদ্ধটি এখন আর শুধুমাত্র আজাওয়াদ ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) এবং জামাআত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) কর্তৃক রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পস বাহিনী ও মালির সেনাবাহিনীর (জান্তা) বিরুদ্ধে অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টা নয়। এটি উত্তর মালিতে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের এক বাস্তব চিত্র হয়ে উঠেছে। কারণ জেএনআইএম এবং এফএলএ-এর ব্যবহৃত ড্রোনগুলো মালি ও রাশিয়ান বিমান বাহিনীর সুবিধা কমিয়ে আনতে সফল হয়েছে, যারা গত দুই বছর ধরে এই যুদ্ধগুলোতে বিমান সহায়তার মাধ্যমে সবচেয়ে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে আসছিল।

    বামাকোর জান্তা বাহিনী যখনই কোনো এলাকা হারাতো, তখন পুনরায় উক্ত এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য বিমান হামলার উপর নির্ভর করতো। কিন্তু এখন জেএনআইএম এবং এফএলএ-এর ড্রোনগুলো তা অনেকটাই প্রতিহত করছেন; কেননা উভয় প্রতিরোধ বাহিনীই ড্রোনগুলোর মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে, গোলন্দাজ বাহিনীর গোলাবর্ষণের গতিপথ নির্ধারণ করে দিচ্ছে, কনভয়গুলো অনুসরণ করছে। এছাড়াও ড্রোনের সাহায্যে গোলাবর্ষণ এবং অভিযানের বাস্তব চিত্র নথিভুক্ত করছে, এমনকি সরকারি সৈন্যদের গতিবিধির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারির মতো জটিল ভূমিকা পালন করছে।

    ২০২৫ সালে জেএনআইএম-এর অভিযানে সীমিত আকারে ড্রোনের ব্যবহার দেখা যায়, আর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কৌশলটি জেএনআইএম-এর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। ফলে জেএনআইএম মুজাহিদরা এখন সামরিক ঘাঁটি, রাস্তা এবং রসদবাহী কনভয় পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন ব্যবহার করছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুজাহিদদের প্রকাশিত কয়েক ডজন ভিডিওতে, আক্রমণের আগে বা আক্রমণের সময় আনেফিস ঘাঁটিসহ মালির সেনা শিবির এবং তাদের গতিবিধির ওপর বিস্তারিত নজরদারি দেখানো হয়েছে। এই পরিবর্তনটি ড্রোনকে একটি সহায়ক সরঞ্জাম থেকে যুদ্ধ পরিচালনার একটি মূল উপাদানে রূপান্তরিত করেছে।

    জেএনআইএম-এর অস্ত্র ও ড্রোনের উৎস

    জেএনআইএম-এর এমন সক্ষমতার বিষয়ে মালির জান্তা প্রশাসন বারবার কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইউক্রেনের সমর্থনের অভিযোগ করে আসছে, যা কিয়েভ অস্বীকার করেছে। কিন্তু ময়দানের বাস্তব চিত্রগুলো জেএনআইএম-এর এসকল ড্রোনের উৎসের কথা বারবার স্পষ্ট করে দিচ্ছে, কেননা জেএনআইএম মুজাহিদরা জান্তার সামরিক ব্যারাকে বছরের পর বছর ধরে হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক যানবাহন গণিমত হিসেবে জব্দ করে মজুদ গড়ে তুলেছেন। এসবের মধ্যে তুরস্ক ও রাশিয়া কর্তৃক জান্তাকে সহায়তা করার লক্ষ্যে পাঠানো ড্রোনগুলোও রয়েছে, যার কোনোটি মুজাহিদরা গনিমত হিসাবে পেয়েছেন, কোনোটি ভূপাতিত করার পর সংস্কার করা হয়েছে, অথবা এগুলোর অনুকরণে নতুন মডেলের ড্রোন প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মুক্তিপণের অর্থের মাধ্যমে সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় চোরাচালানকারী নেটওয়ার্ক এবং বাজার থেকেও বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে জেএনআইএম মুজাহিদরা।

    অধিকন্তু, মালির সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাপক দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে। এফএলএ-এর রাজনীতিবিদরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির কর্মকর্তা ও সৈন্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার বিষয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলেছেন। এটি এই সত্যকেই প্রতিফলিত করে যে, সরকারের অস্ত্রাগারের একটি অংশ বামাকোর প্রতিপক্ষের হাতে গিয়ে পড়েছে।

    আকাশে একাধিপত্যের অবসান…

    মালির সেনাবাহিনী রাশিয়ার বিমান বা মস্কো থেকে কেনা বিমান দ্বারা পরিচালিত ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে তাদের স্থলভাগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিত। তবে, ড্রোনের ব্যাপক বিস্তার সংঘাতের প্রকৃতি বদলে দিয়েছে। সামরিক কনভয়গুলো চলাচলের মুহূর্ত থেকেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং ঘাঁটিগুলো সার্বক্ষণিক জেএনআইএম-এর নজরদারির আওতায় চলে আসে। ফলে শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকি ছাড়া অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো বা সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার মতো অভিযানগুলো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আনেফিসের যুদ্ধগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টাগুলো একের পর এক ভারী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

    জান্তা শিবিরের অভ্যন্তরে সংকট…

    প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিনষ্টের পাশাপাশি, সরকারি বাহিনী এখন ক্রমবর্ধমান মানবসম্পদ (সেনা) সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। যদিও রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পস সদস্যরা মালির সৈন্যদের চেয়ে বেশি বেতন, সরঞ্জাম এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং মাঠ পর্যায়ের সাক্ষ্য থেকে দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাসের ধারণা বাড়ার কথা জানা যায়, যার মধ্যে রাশিয়ান ভাড়াটে সেনা সদস্যদের দ্বারা মালির সৈন্যদের উপর বারবার হামলার অভিযোগও রয়েছে।

    এই অভিযোগগুলোর সর্বশেষটিতে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, অবরুদ্ধ আনেফিস শিবির ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তিনজন মালিয়ান অফিসার নিহত হয়েছে। এই হত্যার ঘটনাটি রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পস সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত বলে মনে করা হচ্ছে—যদিও এই দাবিটি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট এবং জামাআত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন কর্তৃক প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে বিভিন্ন যুদ্ধের সময় মালির সৈন্যদের দলবদ্ধভাবে আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায়। তবে, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে, এটি সকল ইউনিটের সাধারণ আচরণেরই প্রতিফলন, যদিও এই ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি সরকারি বাহিনীর মনোবলের উপর ক্রমবর্ধমান চাপেরই প্রতিফলন ঘটায়।

    মাঠপর্যায়ের সূচকগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, ড্রোনগুলো বামাকো এবং মস্কোর শুধু আকাশের একচেটিয়া আধিপত্যকেই ধ্বংস করেনি, বরং এটি তাদের জন্য নিয়মতান্ত্রিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কেননা ড্রোনগুলো জেএনআইএম-কে অবিরাম নজরদারি, স্বল্প খরচে হামলা এবং সরবরাহ লাইন ব্যাহত করার ও অভিযান চালানোর আগেই শত্রুর গতিবিধি শনাক্ত করার সক্ষমতা দিয়েছে। এই পরিবর্তনটি ধীরে ধীরে সেই সামরিক সুবিধাকে হ্রাস করছে, যার উপর জান্তা এবং আফ্রিকান কর্পস নির্ভর করে আসছিল। আর জেএনআইএম-এর এই ড্রোন সক্ষমতা যেকোনো স্থল বা আকাশ অভিযানকে জান্তা ও রাশিয়ার জন্য আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে ও দ্রুত বিজয় অর্জনের সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে।
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org
Working...
X