Announcement

Collapse
No announcement yet.

জিহাদে দানের নিয়তে খতম তারাবীহর হাদিয়া গ্রহণ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • জিহাদে দানের নিয়তে খতম তারাবীহর হাদিয়া গ্রহণ

    জিহাদে দানের নিয়তে খতম তারাবীহর বিনিময় গ্রহণের ব্যাপারে অনেক ভাই জানতে চেয়েছিলেন, ইলম ও জিহাদ ভাই সংক্ষেপে সুন্দর উত্তরও দিয়েছেন, আমি এখানে কিছু বিষয় উল্লেখ করতে চাচ্ছি, যা দ্বারা মাসয়ালাটি আরো স্পষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ,
    এক. হারাম সম্পদ দান করার নিয়তেও গ্রহণ করা বৈধ নয়; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
    من جمع مالا حراما، ثم تصدق به، لم يكن له فيه أجر، وكان إصره عليه. أخرجه ابن حبان في صحيحه: (3216) وقال الشيخ شعيب: إسناده حسن ... وأخرجه الحاكم ... وصححه، ووافقه الذهبي.
    যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ উপার্জন করে তা সদকা করলো, সে কোন সওয়াব পাবে না; বরং এর গুনাহ তার উপরই বর্তাবে। -সহীহ ইবনে হিব্বান, ৩২১৬ শায়েখ শুয়াইব আরনাউত বলেন, হাদিসটির সনদ হাসান পর্যায়ের, হাকেম রহিমাহুল্লাহু হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তা সমর্থণ করেছেন।

    দুই. যেহেতু জিহাদ ও মুজাহিদদের বিপক্ষে উলামায়ে সূয়ের প্রপাগান্ডার সয়লাব চলছে, তাই আমাদের এমন সবকিছু হতে বিরত থাকতে হবে যাকে পুজি করে ওরা আমাদের বিপক্ষে প্রপাগান্ডা করতে পারে। প্রপাগান্ডা হতে বাঁচার জন্য জায়েয কাজ হতে বিরত থাকার নযীরও শরিয়তে রয়েছে, মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ বিন উবাইকে উমর রাযিআল্লাহু আনহু হত্যা করতে চাইলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন,
    «دعه، لا يتحدث الناس أن محمدا يقتل أصحابه»
    ওকে ছেড়ে দাও, মানুষ যেন বলতে না পারে যে, মুহাম্মদ তার সাথীদের হত্যা করে। সহিহ বুখারী, ৪৯০৫ সহিহ মুসলিম, ২৫৮৪
    আমাদের আচরণবিধিতে বলা হয়েছে,
    জামা’আত প্রত্যেক ঐসব পন্থায় অর্থ-সম্পদ নেওয়া থেকে বিরত রাখে যার কারণে জিহাদ ও মুজাহিদদের বদনাম হয়।

    তিন. জিহাদের জন্য হারাম বা সংশয়যুক্ত সম্পদ উপার্জন করার কোন নযির শরিয়তে নেই, বরং শরিয়ত জিহাদের জন্য দান করার উদ্দেশ্যে উপার্জনের যে পদ্ধতি আমাদের শিখিয়েছে তা হলো,


    لما أمرنا بالصدقة كنا نتحامل، فجاء أبو عقيل بنصف صاع، وجاء إنسان بأكثر منه، فقال المنافقون: إن الله لغني عن صدقة هذا، وما فعل هذا الآخر إلا رئاء، فنزلت: {الذين يلمزون المطوعين من المؤمنين في الصدقات، والذين لا يجدون إلا جهدهم}. صحيح البخاري: (4668) صحيح مسلم: (1018)

    ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা যখন আমাদেরকে সদকার আদেশ করেন, তখন আমরা কুলিগিরি করে সদকা করতাম, একদিন আবু আকীল আধা সা’ পরিমান খেজুর নিয়ে আসেন, অপর ব্যক্তি অনেক সদকা নিয়ে আসে, তখন মুনাফিকরা বলে, আল্লাহ তায়ালার আবু আকীলের (সামান্য) সদকার প্রয়োজন নেই, আর এ তো লোক দেখানোর জন্য (অনেক) সদকা করেছে, তখন এই আয়াত নাযিল হয়, মুমিনদের মধ্যে হতে যারা (বেশি পরিমাণে) নফল সদকা করে, এবং যারা নিজেদের সাধ্যানুযায়ী সামান্য দান করে, (মুনাফিকরা তাদের সমালোচনা করে, তাদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সাথে ঠাট্টা করেন, এবং তাদের জন্য রয়েছে, কঠোর শাস্তি)। -সহিহ বুখারী, ৪৬৬৮ সহিহ মুসলিম, ১০১৮

    সুতরাং আমরা জিহাদের জন্য দান করতে চাইলে আমাদের কর্তব্য হলো কোন হালাল পেশার মাধ্যমে সম্পদ উপার্জন করে তা দান করা। যদি এতে দানের পরিমাণ কম হয় তবে তাই ভালো। কেননা বিজয় তো শুধু আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত, ১২৭) আর জিহাদের জন্য আমাদের জানমাল ব্যয় হচ্ছে আসবাব, যা আল্লাহ তায়ালার কুদরতের আবরণমাত্র, যেহেতু আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে আসবাব ছাড়া কিছু দেন না, তাই আমাদের আসবাবগ্রহণ করতে হবে, যদি আমরা শরিয়ত অনুমোদিত গন্ডির মধ্য থেকে আমাদের সাধ্যের সবটুকু ঢেলে জিহাদের জন্য প্রস্তুতিগ্রহণ করি তাহলে বাকী সবকিছুর ব্যবস্থা আল্লাহই করে দিবেন।

    আর মনে রাখতে হবে ইসলামে মর্যাদার ভিত্তি একমাত্র তাকওয়া। তাই ইসলাম কোন হালাল পেশাকে অবজ্ঞা করে না এবং পেশাকে মর্যাদার মাপকাঠিও বানায় না। দাউদ আলাইহিস সালাম বর্ম তৈরী করে জীবীকা নির্বাহ করতেন। (সূরা আম্বিয়া, ৮০, সূরা সাবা, ১০-১১; সহিহ বুখারী, ২০৭২) যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ছিলেন কাঠমিস্ত্রী। (সহিহ মুসলিম, ২৩৭৯) মুসা আলাইহিস সালাম দশবছর ছাগল চড়িয়েছেন, (সূরা কাসাস, আয়াত, ২৭) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ছাগল চরিয়েছেন, বরং রাসূলের পূর্বে যত নবী এসেছেন, সবাই ছাগল চড়িয়েছেন। সহিহ বুখারী, ২২৬২

    চার. যদিও প্রয়োজনের কারণে এখন ইমামতি, কুরআন শিক্ষা ও অন্যান্য দ্বীনী কাজের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয হওয়ার ফতোয়া দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারপরও দ্বীনী কাজ যথাসম্ভব বিনিময় ছাড়া করা এবং জীবীকার জন্য মানুষের হাদিয়ার মুখাপেক্ষী না হয়ে অন্য কোন হালাল পেশা অবলম্বন করাই উত্তম। এতে দ্বীনী কাজের সওয়াব পুরোপুরিভাবে পাওয়া যায়। এমনকি জিহাদে গণীমত পেলেও জিহাদের সওয়াব দুই-তৃতীয়াংশ কমে যায়।
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
    «ما أكل أحد طعاما قط، خيرا من أن يأكل من عمل يده، وإن نبي الله داود عليه السلام، كان يأكل من عمل يده». صحيح البخاري: (2072)

    কোন ব্যক্তি নিজের হাতের কামাইয়ের চেয়ে উত্তম খাদ্যগ্রহণ করেনি। আল্লাহর নবী দাউদও নিজের হাতের উপার্জন দ্বারাই জীবিকা নির্বাহ করতেন। -সহিহ বুখারী, ২০৭২

    عن عبد الله بن عمرو، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ما من غازية تغزو في سبيل الله فيصيبون الغنيمة، إلا تعجلوا ثلثي أجرهم من الآخرة، ويبقى لهم الثلث، وإن لم يصيبوا غنيمة، تم لهم أجرهم». صحيح مسلم: (1906)

    আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে বাহিনী আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে গণীমত পেল তারা তাদের সওয়াবের দুই তৃতীয়াংশ দুনিয়াতেই নিয়ে নিল, আর তাদের জন্য আখেরাতে শুধু একতৃতীয়াংশই বাকী থাকবে। আর যারা গণীমত পাবে না তারা আখেরাতে পূর্ণ প্রতিদান পাবে। সহিহ মুসলিম, ১৯০৬

    পাচ. খতম তারাবী খালেস একটি ইবাদত, যা নামায-রোযার মতো ইবাদতে মাকসূদার অন্তর্ভুক্ত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় বা বেতন দেওয়া-নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐক্যমতের ভিত্তিতে নাজায়েয। এতে না কোনো মাযহাবের মতপার্থক্য আছে, না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে।
    ইমামতির বেতন ঠিক করা এবং তা আদায় করা যদিও পরবর্তী ফকীহগণের দৃষ্টিতে জায়েয। কিন্তু খতম তারাবীর বিনিময়টা ইমামতির জন্য হয় না। বরং তা মূলত কুরআন খতমের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর তেলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা সকল ফকীহের নিকট হারাম এবং হাদিসেও তিলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

    عن عبد الرحمن بن شبل الأنصاري، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "اقرؤوا القرآن، ولا تغلوا فيه، ولا تجفوا عنه، ولا تأكلوا به، ولا تستكثروا به" قال الحافظ في الفتح (9/101) : وإسناده قوي.

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুরআন পাঠ করো। তাতে সীমালঙ্ঘন করো না, তা থেকে দূরে থেকো না, তা দ্বারা ভক্ষণ করো না এবং তার মাধ্যমে প্রাচুর্য কামনা করো না। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫৫২৯ হাফেয ইবনে হাযার হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। -ফাতহুল বারী, ৯/১০১ দারুল ফিকর।

    عن أبي إسحاق ، عن عبد الله بن معقل : أنه صلى بالناس في شهر رمضان، فلما كان يوم الفطر بعث إليه عبيد الله بن زياد بحلة وبخمسمئة درهم فردها وقال : أخبرنا لا نأخذ على القرآن أجرا. رواه ابن أبي شيبة: 7821

    আবু ইসহাক সাবীয়ী রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মা‘কিল রাহ. রমযান মাসে তারাবীহর নামায পড়ালেন। ঈদুল ফিতরের দিন উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ তাকে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দিরহাম হাদিয়া দিলে তিনি তা এই বলে ফিরিয়ে দিলেন যে, আমরা কুরআন তিলাওয়াতের কোনো বিনিময় গ্রহণ করি না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৭৮২১

    حدثنا محمد بن بشر ، قال : حدثنا عبد الله بن الوليد ، قال : أخبرني عمر بن أيوب ، قال : أخبرني أبو إياس معاوية بن قرة، قال : كنت نازلا على عمرو بن النعمان بن مقرن ، فلما حضر رمضان جاءه رجل بألفي درهم من قبل مصعب بن الزبير ، فقال : إن الأمير يقرئك السلام ويقول : إنا لم ندع قارئا شريفا إلا قد وصل إليه منا معروف فاستعن بهذين على نفقة شهرك هذا ، فقال عمرو : اقرأ على الأمير السلام وقل والله ما قرأنا القرآن نريد به الدنيا ورده عليه. رواه ابن أبي شيبة: 7820

    মুয়াবিয়া বিন কুররাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আমর বিন নোমান বিন মুকরিন রহিমাহুল্লাহুর নিকট অবস্থান করছিলাম, রমযানে (কুফা-বসরার গভর্ণর) মুসয়াব বিন যোবায়েরের পক্ষ থেকে একব্যক্তি তার নিকট দুই হাজার দিরহাম হাদিয়া নিয়ে এসে বললো, আমির আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং বলছেন, সকল সম্মানিত কারীকেই আমরা হাদিয়া দিয়েছি, আপনিও এই টাকা দিয়ে আপনার এই মাসের প্রয়োজন পূরো করুন। তখন আমর সেই টাকা এ কথা বলে ফিরিয়ে দিলেন যে, আমরা দুনিয়া উপার্জনের জন্য কুরআন পড়িনি। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, ৭৮২০

    ছয়, যদিও বর্তমানে কোন কোন আলেম খতম তারাবীহর বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ বলছেন, তবে অধিকাংশ মুহাক্কিক আলেম যেহেতু তা নাজায়েয বলছেন, তাই এটি কমপক্ষে মুশতাবিহ বা সংশয়যুক্ত বিষয়ের আওতায় অবশ্যই পড়বে, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
    فمن اتقى المشبهات استبرأ لدينه وعرضه، ومن وقع في الشبهات: كراع يرعى حول الحمى، يوشك أن يواقعه صحيح البخاري: (52) صحيح مسلم: (1599)
    যে ব্যক্তি (এমন) সংশয়পূর্ণ বিষয় বেঁচে থাকবে সে তার দ্বীন ও সম্মান নিয়ে বাঁচলো। আর যে এমন সংশয়পূর্ণ বিষয়ে নিপতিত হলো সে অচিরেই হারামে নিপতিত হবে।
    -সহিহ বুখারী, ৫২ সহিহ মুসলিম, ১৫৯৯

    সুতরাং এ সবকিছুর দিকে লক্ষ্য করে সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, জিহাদের জন্য দান করার নিয়তে খতম তারাবীহর বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হবে না। বরং হাফেয সাহেবগণ যদি জিহাদের জন্য দান করতে চান তাহলে রমযানে তারাবীহর পাশাপাশি তারা কোন হালাল পেশা অবলম্বন করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।
    الجهاد محك الإيمان

    জিহাদ ইমানের কষ্টিপাথর

  • #2
    তারাবীহর টাকা হারাম হওয়ার ইল্লত কি ? আর বয়ান করে টাকা নেয়া জায়েজ কেন ? মাহফিল না থাকলে কি ইসলাম থাকবেনা ?
    Last edited by abu kasim; 05-21-2019, 12:09 AM.

    Comment


    • #3
      আল্লাহ আপনাকে হেফাজতে রাখুন,আমিন।
      ’’হয়তো শরিয়াহ, নয়তো শাহাদাহ,,

      Comment


      • #4
        আল্লাহ ভাইদের মেহনত কবুল করুণ আমিন।
        فمن یکفر بالطاغوت ویٶمن بالله فقد استمسک بالعروت الوثقی'
        کم من فاة قلیلة غلبت فاة کثیرة باذن الله

        Comment


        • #5
          ছদাকা করার জন্য হারাম মাল উপার্জন হারাম কিন্তু কোন ভাবে হারাম / সন্দেহযুক্ত মাল হাতে এসে গেলে সেটির বিধান হলো ছাদকার ছাওয়াবের নিয়্যত ছাড়া ছদকা করে দেয়া। আর জিহাদের ক্ষাত যেহেতো উম্মতের সবচেয়ে তীব্র জরুরতের ক্ষাত এই জিন্য আয়েম্মায়ে কিরাম এই ক্ষাতে ব্যয় করার কথা বলেছেন।

          Comment


          • #6
            জাযাকাল্লাহু খাইরান।
            আল্রাহ আপনার ইলমে বারাকাহ দান করুন, আমীন।

            মুহদারাম ভাই, একটা বিষয় ক্লিয়ার করে বললে ভালোহতো যে, কোরআন খতম করা হচ্ছে এটাই কি ইল্রত হারাম হওয়ার? নাকি অন্য কোন ইল্রাহ আছে? তাহলে কি সুরা তারাবি পড়িয়ে টাকা নেয়া যাবে? যদি সুরা তারাবি পড়িয়ে টাকা নেওয়া জায়েয হয় তাহলে কেন? আর জায়েয না হলে কেন জায়েয না? সুরা তারাবি পড়ালে মুসল্লিরা যে টাকা দেয় তার একটা উদ্দেশ্য হলো, হুজুরে একমাস কষ্ট করেছে তাই কিছু হাদিয়া দেয়? তাহলেও কি টাকা নেওয়া জায়েয হবে না হবে না? এবং যদি খতমা তারাবি এর ক্ষেত্রে এমন উদ্দেশ্য হয় তাহলে কী হবে?
            মুহতারাম প্রিয় ভাই মাসআলাটা ভালোভাবে জানতে চাচ্ছি শুধু ।
            আল্রাহ তায়ালা আমাদেরকে সকল হারাম কাজ থেকে হেফাজত করুন, আমীন।
            আনসারকে ভালোবাসা ঈমানের অংশ।
            নিজে আনসার হব, অন্যকে আনসার বানানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

            Comment


            • #7
              মাসাআল্লাহ, খুব ইলমী আলোচনা। বারাকাল্লাহু ফি ইলমিকা ওয়া আমালিকা.............!আমীন
              মুহতারাম ভাইয়েরা, তারাবীহর হাদিয়া জায়েজ নাকি নাজায়েজ? এ ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের সদরে মুহতামীম ও শাইখুল হাদীস আল্লামা সাঈদ আহমাদ পালনপুরী হাফিযাহুল্লাহর বয়ানটি নিচের লিংক থেকে শুনতে পারেন, ইনশা আল্লাহ।

              জাযাকুমুল্লাহ
              যে সমস্ত ভাইয়েরা উর্দু বুঝেন না, তাদের জন্য বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো-
              তারাবীহ'র হাদীয়া জায়েয-নাজায়েয নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের #মুফতী_সাঈদ_আহমদ_পালনপুরী হাফি. এর ফাতওয়া৷
              ==============================
              (আমি মনে করি সকলেরেই আলোচনাটা জানা দরকার, বাড়াবাড়ি, ছাড়াছাড়ি মুক্ত আলোচনা৷)
              গতবছর, তারাবীহ'র হাদিয়া সংক্রান্ত হযরতের করা একটি উর্দূ ভাষায় বয়ান সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে৷
              এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের দেশে মারাত্মক অস্পষ্টতা রয়েছে৷
              তাই, সবার উপকারার্থে শব্দে শব্দে হুবহু অনুবাদ করলামঃ

              প্রশ্নঃ- #হাফেজ_সাহেবানদেরকে_খতমে_তারাবীহ'র_পর_হাদিয়া_দেওয ়া_জায়েয?
              উত্তরঃ- জায়েয৷
              কে নিষেধ করেছে? আর হাদীয়া না দিতে কে বলেছে? এই মাসআলা তারাই জানতে চায় যারা হাদীয়া দিতে চায়না৷
              কিন্তু, কথা হলো এই হাদিয়া কারা দিবে? যারা নামায পড়বে তারা ব্যক্তিগতভাবে দিবে৷ তোমাদের যার যা মন চাই তাই দাও, কিছু হাদিয়া দাও বা উপহার স্বরূপ দাও সব জায়েয৷

              কিন্তু আফসোসের কথা হলো কেউ দেয় না৷
              আর এই মাসআলা তারাই জিজ্ঞাসা করে যারা কখনো হাদিয়া দেয়না এবং দিতেও চায়না৷ শুধু মাসআলা জিজ্ঞাসা করে৷

              তবে আসল কথা হলোঃ তোমরা হাফেজ সাহেবানদেরকে হাদিয়া দাও, এটা আমাদের যিম্মাদারী, তারা আমাদের খিদমত করে, আমাদেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, আমরাও যেন তাদের খেদমত করি৷

              কিন্তু এই বিষয়টা একক ভাবে হাফেজ ইমাম সাহেব আর নামাযীর মধ্যখানে থাকতে হবে, তাহলেই জায়েয৷

              আর দ্বিতীয় কথা হলোঃ হাফেজদের জন্য মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে চাঁদা করা, হাফেজদেরকে তারাবীর আগে বেতন নির্ধারণ করে চুক্তি করে নিয়ে আসা, এটা জায়েয নেই৷

              যে সমস্ত এলাকায় হাফেজদেরকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বা মসজিদের ফান্ড থেকে হাদিয়া দেওয়ার রেওয়াজ আছে, এটাও জায়েয নেই৷

              আমাদের ফিক্বহের কিতাবে একটি মূলনীতি আছেঃ
              المعروف كالمشروط
              অর্থাৎ, প্রচলিত প্রসিদ্ধ বিষয় শর্তের মতই।
              তাই, তারাবীহ'র জন্য বেতন নির্ধারণ করে চুক্তি করা জায়েয নেই৷
              কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায তার বিপরিত এর জন্য বেতন নির্ধারণ করে ইমাম রাখা জায়েয৷
              কারণ, তা না হলে মসজিদ ও নামাযের নেযামে মারাত্মক বেঘাত ঘটবে৷

              হুজুর যে মসজিদে বসে কথা গুলো বলছিলেন, সেই মসজিদের ইমামের নাম নিয়ে বললেনঃ
              যদি মাওলানা মুসা সাহেব না থাকেন তাহলে যহুরের নামায কে পড়াবে?
              কিন্তু তারাবীহ'র জন্য হাফেজ না থাকলেও যে কেউ "আলামতারা কাইফা ফাআলা" সূরা দিয়েই তারাবীহ পড়িয়ে দিতে পারবে৷

              মোট কথাঃ শুধু নামাযে কুরআন শুনার জন্য বেতন নির্ধারণ করে হাফেজ ঠিক করা এটা কোনো শরয়ী বা দ্বীনী প্রয়োজন নয়৷ তাই, এর বিনিময় গ্রহণ করাও জায়েয হবে না৷
              যে রকমভাবে হাফেজের জন্য বেতন নির্ধারন করে তারাবীহ পড়ানো জায়েয নেই তেমনীভাবে তারাবীহ শেষে চাঁদা করে হাফেজদেরকে কিছু দেওয়াও জায়েয নেই৷ এটাও বেতনের মতই৷
              এবং المعروف كالمشروط অর্থাৎঃ প্রচলিত প্রসিদ্ধ বিষয় শর্তের মতই। এর আওতাভূক্ত৷

              মুদ্দাকথাঃ কমিটি চাঁদা করে দেওয়া বা মসজিদ ফান্ড থেকে দেওয়া এই সূরত গুলো থেকে কোনো সুরতেই জায়েয নেই৷

              তবে মুক্তাদীরা ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া অবশ্যই জায়েয, কিন্তু আফসোসের ব্যাপার হলোঃ সবাই শুধু মাসআলা জানতে চাই, কিন্তু কেউ দেয় না৷

              এই মসজিদেই আমি গতবছর এই মাসআলা বলেছিঃ
              পরে যখন রমজান শেষ হলোঃ তখন হাফেজদেরকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলামঃ আরে তোমাদেরকে কি কেউ কিছু হাদিয়া বা উপহার দিয়েছে?
              তো এক হাফেজ বললঃ একজনে একটা কুরআন শরীফ হাদিয়া দিয়েছে৷
              আশ্চর্য ব্যাপার! কুরআন শরীফ তো বেচারার মুখস্তই আছে, তোমার কুরআন শরীফ দিয়ে হাফেজ সাহেব কি করবে?
              এই ঘটনাটি এই মসজিদরেই, তিন হাফেজের মধ্যে থেকে শুধু একজনকে এক ব্যক্তি একটা কুরআন শরীফ কিনে দিয়েছে এ ছাড়া কেউ একটা তেনাও (ন্যাকড়াও) দেই নাই৷

              আশ্চর্য জনক কথা! তোমরা শুধু জায়েয-নাজায়েযের মাসআলা জিজ্ঞাসা করে মুখে ফেনা তুলে ফেলাও কিন্তু কেউ আমল করো না৷

              ভাইয়েরা একটু চিন্তা করোঃ
              হাফেজ সাহেবরা পুরো মাস আমাদের খেদমত করে আমাদের উপর দয়া করে, আমাদের উপরও লাযেম তথা আবশ্যক হলোঃ আমাদেরও যার যতটুকু সামর্থ্য আছে সেই অনুযায়ী তাঁদেরকেও খেদমত করা৷

              কিন্তু এটা হতে হবে গোপনীয়তা রক্ষা করে৷ মসজিদ কমিটি বা মসজিদ ম্যানেজমেন্টের সাথে এর যেন কোন সম্পর্ক না থাকে৷

              বরং চুপে চুপে হাফেজ সাহেবানদের হাতে ধরিয়ে দিবা৷
              প্রত্যেকেরই উচিৎ, হাফেজ সাহেবদের হাতে হাতে চুপিসারে হাদিয়া দেওয়া৷

              আর আমি কিন্তু এই রমজানের পর তোমরা হাফেজ সাহেবানদেরকে কে কি দিয়েছো? তাদের কাছে জিজ্ঞসা করবো৷

              আল্লাহ আমাদেরকে উপরের কথা গুলো বুঝে আমল করার তাওফীক দান করুন৷ আমীন
              ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

              Comment


              • #8
                [SIZE=4]
                Originally posted by abu kasim View Post
                তারাবীহর টাকা হারাম হওয়ার ইল্লত কি ? আর বয়ান করে টাকা নেয়া জায়েজ কেন ? মাহফিল না থাকলে কি ইসলাম থাকবেনা ?
                আখি, মূল মাসয়ালা হলো, তাবেয়ী আবু কিলাবা, হাকাম, ইমাম শাফেয়ী, আবু ছাওর ও ইবনুল মুনজিরের মাযহাব অনুযায়ী কুরআন শিক্ষা, আযান দেওয়া ইত্যাদি কিছু কিছু ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয আছে। মালেকী মাযহাব অনুযায়ী তা মাকরুহ। ইমাম শাবীর মতে শর্ত করলে জায়েয নেই, শর্ত না করলে জায়েয। আর হানাফী ও হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী জায়েযই নেই। এ মতের স্বপক্ষে একাধিক সহিহ হাদিস আছে,

                عن عثمان بن أبي العاص، قال: «إن آخر ما عهد إلي النبي صلى الله عليه وسلم أن أتخذ مؤذنا لا يأخذ على أذانه أجرا». رواه الترمذي: (209) وأبو داود: (531) والنسائي: (672) وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح، وصححه أيضا الحاكم ووافقه الذهبي، والشيخ أحمد محمد شاكر وشعيب الأرنؤوط والألباني (راجع: سنن الترمذي بتحقيق الشيخ أحمد شاكر: 1/410 وسنن أبي داود بتحقيق الشيخ شعيب: 1/398 وصحيح سنن أبي داود: 3/28)

                ১. উসমান বিন আবীল আস বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সর্বশেষ যে আদেশ করেন, তা ছিল, আমি এমন একজন মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিব যে আযানের বিনিময় গ্রহণ করবে না। সুনানে তিরমিযি, ২০৯; সুনানে নাসায়ী, ৬৭২; সুনানে আবী দাউদ, ৫৩১; ইমাম তিরমিযি, হাকেম, যাহাবী, শায়েখ আহমদ শাকের, শুয়াইব আরনাউত, আলবানী সবাই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। দেখুন, সুনানে তিরমিযি, তাহকীক আহমদ শাকের, ১/৪১০ সুনানে আবী দাউদ, তাহকীক শুয়াইব আরনাউত, ১/৩৯৮ সহিহু সুনানি আবী দাউদ, ৩/২৮

                عن عبادة بن الصامت، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يشغل، فإذا قدم رجل مهاجر على رسول الله صلى الله عليه وسلم، دفعه إلى رجل منا يعلمه القرآن، فدفع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا، وكان معي في البيت أعشيه عشاء أهل البيت، فكنت أقرئه القرآن، فانصرف انصرافة إلى أهله، فرأى إن عليه حقا، فأهدى إلي قوسا لم أر أجود منها عودا ولا أحسن منها عطفا، فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: ما ترى يا رسول الله فيها؟ قال: "جمرة بين كتفيك تقلدتها أو تعلقتها". رواه أبو داود في سننه: (3417) أحمد في مسنده: (22766)، وقال محققه الشيخ شعيب (9/17 ط. مؤسسة الرسالة): إسناده صحيح، وصححه الحاكم، ووافقه الذهبي. وقال الشيخ أيضا في هامش تحقيقه لسنن أبي داود: (5/291 ط. دار الرسالة العالمية) : وفي الباب عن أبي الدرداء عند البيهقي 6/ 126. وقال ابن التركماني: إسناده جيد.

                ২. উবাদা বিন সামেত রাযিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতেন, তাই কোন মুহাজির তার কাছে আসলে তিনি তাকে কোন সাহাবীর হাওয়ালা করে দিতেন, একবার রাসূল এক মুহাজিরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন, সে আমার বাড়িতে থাকতো, আমি তাকে সন্ধ্যায় আমার পরিবারকে যা খাওয়াতাম তাকে সেই খাবারই খাওয়াতাম এবং তাকে কুরআন শিক্ষা দিতাম। একবার সে বাড়িতে ফিরে গেল, তখন তার মনে হলো, তার উপর আমার হক আছে, তাই সে আমাকে খুব উৎকৃষ্ট মানের একটি তীর হাদিয়া দিল, আমি রাসূলকে বিষয়টি জানালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তুমি এটা তোমার কাধে চড়াও তাহলে তা তোমার দুই কাধের মধ্যে আগুনের অঙ্গার হয়ে থাকবে। সুনানে আবু দাউদ, ৩৪১৭; মুসনাদে আহমদ, ২২৭৬৬; শায়েখ শুয়াইব আরনাউত বলেন, এই হাদিসটির সনদ সহিহ, হাকেম রহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন এবং হাফেয যাহাবী তা সমর্থণ করেছেন। ইমাম বাইহাকী আবুদ্দারদা রাযিআল্লাহু আনহু থেকে একই বিষয়ের আরেকটি হাদিস বর্ণণা করেছেন এবং হাফেয আলাউদ্দীন মারদিনী সেই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। (দেখুন, সুনানে আবু দাউদ, তাহকীক শায়েখ শুয়াইব, ৫/২৯১; মুসনাদে আহমদ, তাহকীক শায়েখ শুয়াইব, ৯/১৭)

                অবশ্য প্রথম মতের স্বপক্ষেও হাদিস থেকে দলিল রয়েছে। তাই এটি মূলত একটি ইজতেহাদী মাসয়ালা, আর আমাদের মত সাধারণদের জন্য (যাদের উভয় পক্ষের দলিলাদি গবেষণা করে শক্তিশালী মত কোনটি তা যাচাই করার যোগ্যতা বা সময়-সুযোগ নেই) মুজতাহিদ ফীহ মাসয়ালায় নিজ নিজ ইমামের অনুসরণ করাই কর্তব্য। তবে আমাদের মাযহাবের পরবর্তী ফুকাহায়ে কেরাম জরুরতের কারণে কিছু কিছু বিষয়ে অন্য মাযহাব গ্রহণ করেছেন। যেমন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক এবং ওয়ায়েজের জন্য বিনিময় নেওয়া তারা জায়েয বলেছেন। কিন্তু ওয়াজ-মাহফিল ও তারাবীহ এক নয়, কেননা ওয়াজ-মাহফিলের উদ্দেশ্য হলো, সর্বসাধারণের কাছে দ্বীন পৌঁছানো, যা ফরযে কেফায়া আর তারাবীহতে খতম করা সুন্নত। আল্লামা শামী বলেন,
                (قوله ويفتى اليوم بصحتها لتعليم القرآن إلخ) قال في الهداية: وبعض مشايخنا - رحمهم الله تعالى - استحسنوا الاستئجار على تعليم القرآن اليوم لظهور التواني في الأمور الدينية، ففي الامتناع تضييع حفظ القرآن وعليه الفتوى اهـ، وقد اقتصر على استثناء تعليم القرآن أيضا في متن الكنز ومتن مواهب الرحمن وكثير من الكتب، وزاد في مختصر الوقاية ومتن الإصلاح تعليم الفقه، وزاد في متن المجمع الإمامة، ومثله في متن الملتقى ودرر البحار.
                وزاد بعضهم الأذان والإقامة والوعظ، وذكر المصنف معظمها، ولكن الذي في أكثر الكتب الاقتصار على ما في الهداية، فهذا مجموع ما أفتى به المتأخرون من مشايخنا وهم البلخيون على خلاف في بعضه مخالفين ما ذهب إليه الإمام وصاحباه، وقد اتفقت كلمتهم جميعا في الشروح والفتاوى على التعليل بالضرورة وهي خشية ضياع القرآن كما في الهداية، وقد نقلت لك ما في مشاهير متون المذهب الموضوعة للفتوى فلا حاجة إلى نقل ما في الشروح والفتاوى، وقد اتفقت كلمتهم جميعا على التصريح بأصل المذهب من عدم الجواز، ثم استثنوا بعده ما علمته، فهذا دليل قاطع وبرهان ساطع على أن المفتى به ليس هو جواز الاستئجار على كل طاعة بل على ما ذكروه فقط مما فيه ضرورة ظاهرة

                খোলাসা হলো, মূল মাযহাব অনুযায়ী কোন ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করাই জায়েয নেই, এরপর ফুকাহায়ে কেরাম দ্বীনী প্রয়োজনে কিছু কিছু বিষয়, যেমন, ফরয নামাযের ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআন শিক্ষক, ওয়ায়েজ এদের জন্য বিনিময় নেওয়া বৈধ বলেছেন। সুতরাং বৈধতা এ জিনিষগুলোর উপরই সীমাবদ্ধ থাকবে। সব ইবাদতের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। (অন্যথায় তো নামায, রোযা, হজ, জিহাদ, ইতেকাফ, সব ইবাদতের বিনিময় নেওয়াই জায়েয বলতে হবে) -ফতোয়ায়ে শামী, ৬/৫৬ দারুল ফিকর

                সুতরাং সূরা তারাবীহর বিনিময় নেওয়াও বৈধ হবে না। বরং ইমামের দ্বায়িত্ব হলো তিনি কোন বিনিময় ছাড়াই সূরা তারাবীহ পড়াবেন, যদি তিনি এতে রাজী না হন, তাহলে মুসল্লীরা জামাত ছাড়াই তারাবীহ পড়বে, কেননা তারাবীহ জামাতে পড়া সুন্নত, ফরয-ওয়াজিব নয়।

                তবে ওয়াজের নামে আমাদের সমাজে অনেক বক্তারা জাল হাদিস ও বানোয়াট কেচ্ছা-কাহিনী বয়ান করে থেকে, এরা তো শাস্তির যোগ্য, এদের হাদিয়া বৈধ হওয়ার বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট আপত্তি আছে। তেমনিভাবে প্রায় সব বক্তাই বর্তমানে মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়াদী অর্থাৎ ইমান, তাওহীদ, জিহাদ, হাকিমিয়্যাহ, ওয়ালা-বারা এবিষয়গুলো গোপন করছে কিংবা এগুলোতে তাহরিফ করছে, সুতরাং এদের হাদিয়াও আমাদের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ, বরং আমাদের মতে এরা অবৈধভাবে মানুষের সম্পদভোগ করছে যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
                يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِنَ الأحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ
                হে ইমানদারগণ, অনেক উলামা-মাশায়েখ, অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভোগ করছে এবং মানুষকে আল্লাহর পথ হতে বাধা দিচ্ছে। সুরা তাওবা, আয়াত ৩৪

                আয়াতের তাফসীরে শায়েখ সাদী
                বলেন,
                هذا تحذير من الله تعالى لعباده المؤمنين عن كثير من الأحبار والرهبان، أي: العلماء والعباد الذين يأكلون أموال الناس بالباطل، أي: بغير حق، ويصدون عن سبيل الله، فإنهم إذا كانت لهم رواتب من أموال الناس، أو بذل الناس لهم من أموالهم فإنه لأجل علمهم وعبادتهم، ولأجل هداهم وهدايتهم، وهؤلاء يأخذونها [ص:336] ويصدون الناس عن سبيل الله، فيكون أخذهم لها على هذا الوجه سحتا وظلما، فإن الناس ما بذلوا لهم من أموالهم إلا ليدلوهم إلى الطريق المستقيم.

                আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তার মুমিন বান্দাদের অনেক আলেম ও মাশায়েখ থেকে সতর্ক করছেন, যারা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভোগ করছে, কেননা মানুষ তাদেরকে নিজেদের সম্পদ এজন্যই দিচ্ছে যে, তারা মানুষকে সঠিক পথ দেখাবে, কিন্তু এরা মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে তাদের পথভ্রষ্ট করছে, তাহলে মানুষের সম্পদ গ্রহণ তাদের জন্য কিভাবে বৈধ হবে। -তাফসীরে সা’দী, পৃ: ৩৩৭

                তেমনিভাবে বক্তাদের জন্য চুক্তি করে নেওয়া, প্রয়োজন না থাকলেও নেওয়া, কিংবা স্বাভাবিকভাবে জীবনধারণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি না নেওয়া উচিত। কেননা যারা জায়েয বলেছেন তাদের অনেকেই চুক্তি করে নেওয়া অবৈধ বলেছেন, আর যেহেতু জায়েয হওয়ার ইল্লত হলো জরুরত, সম্পদ উপার্জন করে ধনী হওয়া নয়, তাই জরুরত পরিমাণ নেওয়াই উচিত। জরুরত না থাকলে নেওয়া উচিত হবে না, এতে নিজের আমলও খালেস হবে এবং জনগণের মধ্যেও এই বক্তার ওয়াজে তাছীর বেশি হবে। এজন্যই তো নবী রাসূলগণ সবসময় ঘোষণা দিতেন, وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ আমি তোমাদের কাছে দাওয়াতের কোন বিনিময় চাই না। আমার প্রতিদান তো শুধুমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট। এ ধরণের অসংখ্য আয়াতের আলোকে মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহিমাহুল্লাহ বলেন, মানুষ আপনার কাছ থেকে তখনই দ্বীনগ্রহণ করতে আগ্রহী হবে যখন আপনি তাদের সম্পদের প্রতি অনীহা ও অমুখাপেক্ষীতা প্রকাশ করতে পারবেন। পক্ষান্তরে যদি তারা আপনার মাঝে তাদের সম্পদের প্রতি আগ্রহ দেখে তাহলে তারা আপনার থেকে দ্বীন গ্রহণ করবে না।

                এখন প্রশ্ন হলো আমাদের করণীয় কি, আমরা কি দ্বীনি কাজ (চাই তা জিহাদের কাজ হোক বা ইমামতি বা অন্য কোন দ্বীন কাজ) করার বিনিময়ে ওযীফা/বেতন নিব কি না? তো এর উত্তর হলো, সম্ভব হলে হাদিস অনুযায়ী আমল করার জন্য ওযীফা নেওয়া থেকে বিরত থাকবো, জীবিকার জন্য প্রয়োজনে অন্য কোন হালাল পেশা অবলম্বন করবো, তবে যদি অন্য কোন পেশা অবলম্বন করতে গেলে জিহাদের কাজ ও অন্যান্য দ্বীনি কাজে ব্যাঘাত ঘটার আশংকা থাকে তাহলে ফুকাহায়ে কেরামের বাতলে দেওয়া পন্থা অনুযায়ী অন্য মাযহাবের উপর আমল করে, জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজন পরিমাণ ওযীফা গ্রহণ করবো। তবে এক্ষেত্রেও আমাদের নিয়ত দ্বীনের কাজই হওয়া উচিত, সম্পদ উপার্জন নয়, তাই ওযীফা কম দেওয়া হলে বা ঠিকমতো না দেওয়া হলে কাজে অবহেলা করা যাবে না, অন্যথায় এটাই দলিল হবে যে, আমাদের নিয়ত সম্পদ উপার্জন, দ্বীনের খেদমত নয়।

                ইসলামী হুকুমত কায়েম হলে যারা মুসলমানদের কোন কাজে নিয়োজিত যেমন, যোদ্ধা, কাজী, ইমাম, মুয়াজ্জিন, দ্বীনী শিক্ষক এরা সবাই বাইতুল মাল হতে ভাতা পাবে, বরং আলেমদের এক মতানুযায়ী প্রত্যেক মুসলমানই বাইতুল মাল হতে ভাতা পাবে। (মওসুয়াহ ফিকহিয়্যাহ, ৮/২৫১-২৫২) আর ভাতা বন্টন করা হবে প্রত্যেকের দ্বীনি মর্তবা অনুযায়ী, এমনকি ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, একজন মুফতী বছরে ২০০ দিনার (পচাত্তর ভরি স্বর্ণ, প্রতি ভরি ৪৮০০০ ✕ ৭৫ = ৩৬০০০০০ ছত্রিশ লক্ষ টাকা) ভাতা পাবে। (ফতোয়ায়ে শামী ৪/২১৯; দারুল ফিকর। অবশ্য ইমামুল মুসলিমীন মুনাসিব মনে করলে ভাতা কম বেশি করতে পারবেন কিতাবুল খারাজ, ইমাম আবু ইউসুফ, পৃ: ২০৪) তো তখন আর কেউ দ্বীনী কাজের বিনিময় গ্রহণ করতে বাধ্য হবে না। তবে আল্লাহ তায়ালা যেহেতু জানতেন সব সময় সহিহ খেলাফত থাকবে না তাই তিনি দ্বীনী কাজের বিনিময় গ্রহণ করার মাসয়ালায় আলেমদের মতভেদ সৃষ্টি করেছেন, যেন দ্বীনী প্রয়োজনে অন্য মাযহাব গ্রহণ করা যায়। আল্লাহ আমাদের সহিহ বুঝ দান করুন।
                الجهاد محك الإيمان

                জিহাদ ইমানের কষ্টিপাথর

                Comment


                • #9
                  Originally posted by murabit View Post
                  ছদাকা করার জন্য হারাম মাল উপার্জন হারাম কিন্তু কোন ভাবে হারাম / সন্দেহযুক্ত মাল হাতে এসে গেলে সেটির বিধান হলো ছাদকার ছাওয়াবের নিয়্যত ছাড়া ছদকা করে দেয়া। আর জিহাদের ক্ষাত যেহেতো উম্মতের সবচেয়ে তীব্র জরুরতের ক্ষাত এই জিন্য আয়েম্মায়ে কিরাম এই ক্ষাতে ব্যয় করার কথা বলেছেন।
                  জি ভাই, আমার দাবী হলো জিহাদে দান করার নিয়তে হারাম সম্পদ উপার্জন করা, হাদিয়ারুপে গ্রহণ করা যাবে না। দেখুন, উপরে উবাদা বিন সামেতের যে হাদিসটি পেশ করা হয়েছে তা মুসনাদে আহমদের বর্ণণা, আর সুনানে আবু দাউদের বর্ণণায় আছে, উবাদা বিন সামেত রাসূলকে বলেছিলেন, رجل أهدى إلي قوسا ممن كنت أعلمه الكتاب والقرآن، وليست بمال وأرمي عنها في سبيل الله অর্থাৎ আমি হাদিয়া পাওয়া ধনুকটি দ্বারা জিহাদ করবো, কিন্তু তারপরও রাসূল তাকে তা গ্রহণ করার অনুমতি দেননি।

                  তবে যদি কারো নিকট হারাম সম্পদ এসে যায় এবং তা মালিকের নিকট পৌঁছানো সম্ভব না হয় তাহলে তা জিহাদে দান করা বা জিহাদে দান করার জন্য তার থেকে উসূল করতে কোন সমস্যা নেই, বরং এমন সম্পদ জিহাদের জন্য দেওয়াই সবচেয়ে উত্তম। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহু বলেন,
                  ومن كان كثير الذنوب فأعظم دوائه الجهاد، فإن الله عز وجل يغفر ذنوبه كما أخبر الله في كتابه بقوله سبحانه وتعالى: {يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ}. ومن أراد التخلص من الحرام والتوبة ولا يمكن رده إلى أصحابه فلينفقه في سبيل الله عن أصحابه، فإن ذلك طريق حسنة إلى خلاصه مع ما يحصل له من أجر الجهاد
                  .

                  যে ব্যক্তির গুনাহ বেশি তার সবচেয়ে বড় প্রতিকার হলো জিহাদ, কেননা আল্লাহ তায়ালাা মুজাহিদদের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। আর যে হারাম সম্পদ থেকে তাওবা করতে চায় এবং তা মালিকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব না হয় সে তা জিহাদে ব্যয় করে দিবে, এতে সে হারাম সম্পদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পাশাপাশি জিহাদের সওয়াবও লাভ করবে। -মাজমুউল ফাতাওয়া।
                  الجهاد محك الإيمان

                  জিহাদ ইমানের কষ্টিপাথর

                  Comment


                  • #10
                    আদনানমারুফ ভাই, “এ ধরণের অসংখ্য আয়াতের আলোকে মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহিমাহুল্লাহ বলেন, মানুষ আপনার কাছ থেকে তখনই দ্বীনগ্রহণ করতে আগ্রহী হবে যখন আপনি তাদের সম্পদের প্রতি অনীহা ও অমুখাপেক্ষীতা প্রকাশ করতে পারবেন। পক্ষান্তরে যদি তারা আপনার মাঝে তাদের সম্পদের প্রতি আগ্রহ দেখে তাহলে তারা আপনার থেকে দ্বীন গ্রহণ করবে না।”
                    এই তথ্যের হাওয়ালাটা দিলে উপকুত হতাম। ইনশা আল্লাহ
                    আমার কাছে কথাটা খু-উ-ব ভালো লেগেছে। আলহামদুলিল্লাহ
                    জাযাকাল্লাহ
                    ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

                    Comment


                    • #11
                      Originally posted by shamin View Post
                      এ ধরণের অসংখ্য আয়াতের আলোকে মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘মানুষ আপনার কাছ থেকে তখনই দ্বীনগ্রহণ করতে আগ্রহী হবে যখন আপনি তাদের সম্পদের প্রতি অনীহা ও অমুখাপেক্ষীতা প্রকাশ করতে পারবেন। পক্ষান্তরে যদি তারা আপনার মাঝে তাদের সম্পদের প্রতি আগ্রহ দেখে তাহলে তারা আপনার থেকে দ্বীন গ্রহণ করবে না।’
                      এই তথ্যের হাওয়ালাটা দিলে উপকৃত হতাম।
                      আবুল হাসান আলী নদবী তার কিতাব হিকমাতুদ দাওয়া ও সিফাতুদ দুয়াত কিতাবের ২৯-৩০ পৃ: বলেন,

                      وقد جبل الناس على حُبِّ من زهد فيما عندهم والبغض لمن يُنافسهم فيما يحرصون عليه، هذه هي الطبيعة البشرية منذ آلاف السنين، ولا تزال، فأنتم إذا أردتم أن تُؤَثِّروا في نفوس من تُوَجِّهون إليهم الدعوة فأوضحوا لهم أولا واطمئنوهم أنكم لستم طُلّاب ملك ومال، وطلاب رئاسة وجاه، وطلاب مناصب و وظائف، وإنما أنتم تفعلون ذلك شفقة عليهم، ورِقَّة بهم، وعطفا عليهم، وخوفا من أن يصيبهم مكروه.


                      তবে আবুল হাসান আলী নদবী বর্তমান শাসকদের সংশোধন করা সম্ভব মনে করতেন, তিনি মনে করতেন শায়েখ আহমদ সারহিন্দী যেভাবে জাহাঙ্গীরের ও তার উত্তরাধীদের সংশোধন করেছিলেন এখনও সেভাবেই বর্তমান শাসকদের সংশোধন করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের মতে তখনকার শাসকদের অবস্থা ও তংকালীন বিশ্বপরিস্থিতি আর বর্তমান শাসকদের অবস্থা ও নিউ ওয়ার্ড অর্ডারের এই যুগের বিশ্বপরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আসলে বর্তমান শাসক ও এলিট শ্রেণী যে ইরতেদাদের শিকার তা আবুল হাসান আলী নদবী তার কিতাব রিদ্দাতুন ওলা আবা বাকরিন রাহা কিতাবে তুলে ধরেছেন, কিন্তু আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহু যে পন্থায় রিদ্দার মোকাবেলা করেছিলেন (অর্থাৎ সশস্ত্র যুদ্ধ) তাকে তিনি সেই কিতাবেই প্রত্যাখান করেছেন এবং এর পরিবর্তে দাওয়াতের পন্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। আবুল হাসান আলী নদভী থেকেই বর্তমান আকাবির আল্লামা তাকী উসমানী, মাওলানা আব্দুল মালিক ও অন্যান্যরা এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। আবুল হাসান আলী নাদাভী আরব শাসকদের ক্ষেত্রে এবং তাকী উসমানী সাহেব পাকিস্তানের শাসক বিশেষকরে নওয়াজ শরীফের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ায় সংশোধনের ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থতার অভিজ্ঞতার পরও তারা এর উপর জমে আছেন। আসলে হাদিস ও সিরাতে সাহাবা বাদ দিয়ে অন্য কোন পন্থাগ্রহণ করলে এভাবেই তীহ ময়দানে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা লেখার ইচ্ছা আছে, আপাতত এতটুকুতেই শেষ করলাম।
                      الجهاد محك الإيمان

                      জিহাদ ইমানের কষ্টিপাথর

                      Comment


                      • #12
                        সত্যি, ভাইদের ইলমী পদচারণা মুগ্ধ হবার মতো।

                        Comment


                        • #13
                          Originally posted by Abo Khaled View Post
                          জাযাকাল্লাহু খাইরান।
                          আল্রাহ আপনার ইলমে বারাকাহ দান করুন, আমীন।

                          মুহতারাম ভাই, একটা বিষয় ক্লিয়ার করে বললে ভালো হতো যে, কোরআন খতম করা হচ্ছে এটাই কি ইল্রত হারাম হওয়ার? নাকি অন্য কোন ইল্রাহ আছে? তাহলে কি সুরা তারাবি পড়িয়ে টাকা নেয়া যাবে? যদি সুরা তারাবি পড়িয়ে টাকা নেওয়া জায়েয হয় তাহলে কেন? আর জায়েয না হলে কেন জায়েয না? সুরা তারাবি পড়ালে মুসল্লিরা যে টাকা দেয় তার একটা উদ্দেশ্য হলো, হুজুরে একমাস কষ্ট করেছে তাই কিছু হাদিয়া দেয়? তাহলেও কি টাকা নেওয়া জায়েয হবে না হবে না? এবং যদি খতম তারাবি এর ক্ষেত্রে এমন উদ্দেশ্য হয় তাহলে কী হবে?
                          মুহতারাম প্রিয় ভাই মাসআলাটা ভালোভাবে জানতে চাচ্ছি শুধু ।
                          আল্রাহ তায়ালা আমাদেরকে সকল হারাম কাজ থেকে হেফাজত করুন, আমীন।
                          আখি, মূল ইল্লত হলো, ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করা আমাদের মাযহাব অনুযায়ী নাজায়েজ, যদিও তা ‘হুজুর একমাস কষ্ট করার তাই কিছু হাদিয়া দেওয়ার নিয়তেই হোক’ এই নিয়তেই হোক। দেখুন, উপরে উবাদা বিন সামেত রাযি. এর যে হাদিস বর্ণণা করা হয়েছে, সেখানে এসেছে,
                          فكنت أقرئه القرآن، فانصرف انصرافة إلى أهله، فرأى إن عليه حقا، فأهدى إلي قوسا

                          আমি তাকে কুরআন শিক্ষা দিতাম, একবার সে বাড়িতে ফিরে গেল, তখন তার মনে হলো, তার উপর আমার হক আছে, তাই সে আমাকে খুব উৎকৃষ্ট মানের একটি তীর হাদিয়া দিল। -মুসনাদে আহমদ, ২২৭৬৬

                          তো সেই সাহাবীও উবাদা বিন সামেত তাকে কষ্ট করে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার কারণে নিজের উপর তার হক রয়েছে বলে মনে করেছিল এবং তাকে হাদিয়া দিয়েছিল, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা নিতে বারণ করেছেন।

                          আমাদের মাযহাবের পরবর্তী ফুকাহায়ে কেরাম দ্বীন রক্ষার খাতিরে ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআন শিক্ষক, ওয়ায়েজ এদের বেতনকে বৈধ বলেছেন, কেননা সারাবছর একাজগুলো করার জন্য বেতনবিহীন লোক পাওয়া মুশকিল। এজন্য বৈধতা শুধু এদের উপরই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর যেহেতু তারাবীহর জামাত -খতম তারাবীহ হোক বা সূরা তারাবীহ - না হলে দ্বীনের তেমন ক্ষতি হবে না, বেশি থেকে বেশি এতটুকু হবে যে, জামাত না হওয়ার কারণে কিছু মানুষ অলসতা করে একাকী নামায পড়বে না বা পুরো পড়বে না, তো সুন্নত/মুস্তাহাব নামায না পড়লে বা কম পড়লে দ্বীন ধ্বংস হয়ে যাবে বলা যায় না। তাছাড়া বিনিময় না দেওয়া হলেই যে তারাবীহ বন্ধ হয়ে যাবে এটাও ঠিক নয়। বরং অনেক হাফেয নিজের আগ্রহে এবং পরিবারের চাপে ইয়াদ ঠিক রাখার জন্য তারাবীহ পড়াতে আগ্রহী হন, তাদের বিনিময় না দিলেও তারা পড়াবেন। আর সূরা তারাবীহ তো ইমামই পড়াতে পারেন। এর জন্য আলাদা লোক রাখারও প্রয়োজন নেই, আর ইমাম সাহেবকে যেহেতু ঈদ বোনাস স্বাভাবিকভাবেই দেওয়া হয় তাই তাকে আলাদা করে সূরা তারাবীহর বিনিময় দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। তাই তারাবীহর নামায পড়িয়ে -খতম তারাবীহ বা সুরা তারাবীহ - বিনিময় নেওয়া বৈধ নয়। কেননা তারাবীহ পড়ানোও একটি ইবাদত, আর ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ নয়। সুরা তারাবীহর বিনিময় নেওয়ার বিষয়ে মারকাজুদ্দাওয়ার ফতোয়া https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/911/ এই লিংক থেকে দেখতে পারেন।
                          الجهاد محك الإيمان

                          জিহাদ ইমানের কষ্টিপাথর

                          Comment


                          • #14
                            Originally posted by আদনানমারুফ View Post
                            ইসলামী হুকুমত কায়েম হলে যুদ্ধ করতে সক্ষম প্রত্যেক বালেগ পুরুষ বাইতুল মাল হতে ভাতা পাবে, আর ভাতা বন্টন করা হবে প্রত্যেকের দ্বীনি মর্তবা অনুযায়ী, এমনকি ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, একজন মুফতী বছরে ২০০ দিনার (পচাত্তর ভরি স্বর্ণ, প্রতি ভরি ৪৮০০০ ✕ ৭৫ = ৩৬০০০০ ছত্রিশ লক্ষ টাকা) ভাতা পাবে। (ফতোয়ায়ে শামী ৪/২১৯; দারুল ফিকর।[/SIZE][/COLOR]

                            [/SIZE]
                            মুহতারাম ভাই! ছত্রিশ লক্ষ টাকা বাংলায় ঠিক আছে। কিন্তু অংকে লিখার মধ্যে একটি শূন্য কম হয়েছে। এডিট করলে ভাল হবে ভাই।
                            বিবেক দিয়ে কোরআনকে নয়,
                            কোরআন দিয়ে বিবেক চালাতে চাই।

                            Comment


                            • #15
                              জিহাদের মাস,সাদাকার মাস,ইমারতে বেশি করে দান করি।
                              ولو ارادوا الخروج لاعدواله عدةولکن کره الله انبعاثهم فثبطهم وقیل اقعدوا مع القعدین.

                              Comment

                              Working...
                              X