Results 1 to 3 of 3
  1. #1
    Junior Member fatihul hind's Avatar
    Join Date
    Feb 2018
    Posts
    16
    جزاك الله خيرا
    12
    39 Times جزاك الله خيرا in 12 Posts

    আশ্চর্য মেঘাচ্ছন্ন আনন্দ



    দুঃখেভরা ঈদ :কিছু আবেগের গল্প
    এক.

    হাতঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সময় দেখল আয়ান । সকাল সাড়ে পাঁচটা । ফজরের নামাজ পড়ে মাত্র বাহিরে বের হয়েছে । মনটা কেন খারাপ বুঝতেই পারছে না । এলাকার রাস্তা দিয়ে হাঁটছে আনমনে । প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনেই একটা করে গরু বাঁধা । কিছুক্ষণ পরেই এগুলোর কুরবানি দেওয়া হবে । হঠাৎ মোবাইলের রিংটোনে ধাতস্থ হল সে । পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে কলার নেইমটা দেখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল মোবাইলের দিকে । এখন কারো সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করছে না । তারপরেও রিসিভ করল ।
    - কীরে দোস্ত, কোথায় তুই ?? ভুলে গেছিস নাকি ?
    - না । ভুলব কেন ?
    - সবাই চলে এসেছে । তুইই এখনো আসিসনি ।
    - আচ্ছা আসছি ।
    কথাটা বলে বাম দিকের মোড় ঘুরে পাঁচতলা সাদা বিল্ডিংটার দিকে যেতে শুরু করল আয়ান । একান্ত বাধ্য হয়েই পা চালাচ্ছে । নাফিসদের বাসায় যাওয়ার একদমই ইচ্ছা নেই তার । কিন্তু না গেলে ওদের জ্বালায় থাকতে পারবে না । তাই বাধ্য হয়েই যাওয়া ।

    ঢাকায় থাকে ওরা । চার বছর ধরে ঢাকায় সপরিবারে থাকছে । মসজিদে যাওয়া আসার সুবাদে পরিচয় হয়েছে এলাকার কিছু ধার্মিক ছেলের সাথে । সম্পর্কটা বেশ গাঢ় । এলাকার যে কোনো উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কাজে সবাই একসাথে অংশগ্রহণ করে । কিন্তু মাঝে মাঝে একটু আধটু পাগলামি করা এখনো বন্ধ করতে পারেনি । প্রতি কুরবানি ঈদে তারা সে কাজটিই করে । সেজন্যই আজ সবাই নাফিসদের বাসায় একত্রিত হচ্ছে । নাফিস বড়লোকের ছেলে । সাধারণত সব ভালো কাজেই স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় । এলাকার সবাই তাকে চেনে । ভালোও বাসে ।

    কলিংবেলে চাপ দিয়ে একপাশে সরে দাঁড়িয়ে আছে আয়ান । দরজা খুলতেই সালাম দিল সে । নাফিসের আব্বু ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে দিলেন ।
    - ও আয়ান, আসো আসো । তোমরা তো আমাকে আজকে বাসাতেই ব্যয়াম করাবে মনে হচ্ছে । হাসিমুখে কথাটা বললেন আনোয়ার সাহেব ।
    মুখে হাসি নিয়ে ভেতরে ঢুকল আয়ান । নাফিসের রুমে ঢুকে দেখে সবাই তার দিকে চেয়ে আছে । যেন মস্তবড় কোনো অপরাধ করে ফেলেছে সে । একবার সবার দিকে তাকিয়ে সোফার খালি জায়গাটায় বসে পড়ল সে । পরিবেশটা স্বাভাবিক করতে গলা খাকারি দিল ।
    - আচ্ছা ভাইলোগ, অবশেষে আয়ান সাহেবের শুভাগমন ঘটেছে । কথাটা বলে যেন আয়ানকে একটা খোঁচা দিল সাদমান ।
    - ওও, আসলে । আসলে আমি ভুলে গেছিলাম । মনে ছিল না । আয়ান যেন সাফাই গাইছে ।
    - হইছে আর বাহানা দিতে হবে না । সাদমান বলল ।
    - কী রে আয়ান, এবারও তোর মন খারাপ কেন ? প্রতি ঈদেই তোর হয়টা কী হ্যা ?? একটু রেগেই যেন কথাটা বলল তাহসিন ।
    - ও কিছু না । তোরা শুরু কর । আয়ানের মনমরা কন্ঠ ।
    - আচ্ছা শোন সবাই । নাফিস বলছে । অন্যান্য বারের মত এবারও আমরা এলাকার প্রত্যেক কুরবানির বাড়িতে যাব । গিয়ে কুরবানি সালামি নেব ।
    - অন্যান্য বার তো এই সালামির টাকা দিয়ে আমরা কোনো রেস্টুরেন্টে খেয়ে আসি । আশপাশের সব রেস্টুরেন্ট তো আমাদের ঘোরা শেষ । এবার কোনটা ?? নতুন কিছু ট্রাই করবি নাকি ?? সাকিব বলল ।
    - ঠিক বলেছিস । নাফিস বলছে । এবার না হয় ধানমন্ডির দিকে যাওয়া যাক । কী বলিস তোরা ??
    সবাই একবাক্যে মেনে নিল নাফিসের কথা । কিন্তু নাফিস খেয়াল করল আয়ানের মুখভার ভাবটা তখনো যায়নি । এখানে আসার পর দুই একবার হ্যা হু ছাড়া আর কিছুই বলেনি সে ।
    - নাফিস গলা খাকারি দিয়ে বলল । আচ্ছা শোন । আমরা এখন বের হব । আধা ঘন্টার মধ্যে সালামি তোলা শেষ করে সব টাকা আয়ানের কাছে জমা রাখব । তারপর ঈদের নামায পড়ে সবাই বাসায় চলে আসবি । এলাকার গরুগুলো জবাই করে ফ্রেশ হয়ে এগারোটার দিকে আমরা বের হব । কী বলিস তোরা ??
    আচ্ছা ঠিক আছে । বলে সবাই বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত হল ।
    - শোন, শোন সবাই । সাদমানের ডাকে সবাই ওর দিকে তাকাল । নাফিস, তোরাও তো কুরবানি দিচ্ছিস । তাই সবার আগে আংকেলকে দিয়েই শুরু করা যাক । সবাই সাদমানের কথায় হো হো করে হেসে উঠল ।
    - ঠিক আছে । চল । আব্বুকে বলি । নাফিস বলল । তবে আব্বুকে পটানোর দায়িত্ব কিন্তু শাহরিয়ারের । ও তো এক মুহূর্তেই যে কাউকে দাওয়াত দিয়ে মসজিদে আনতে বেশ পটু । তো এখানে তোর কিছু জালওয়া দেখা দেখি ।
    - ওকে বয়েজ । ঠিক আছে চল । শাহরিয়ারের গদগদ কন্ঠে সবাই হেসে ফেলল ।
    পাঁচজনের দল গিয়ে উপস্থিত হল আনোয়ার সাহেবের রুমে ।
    - আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল । কেমন আছেন? শরীর স্বাস্থ্য কেমন ? মনটা কেমন ?? শাহরিয়ারের কথার ফুলঝুরি শুরু হল ।
    - ওয়া আলাইকুমুস সালাম । ভালোই তো ছিলাম এতক্ষণ । তুমি একসাথে যতগুলো প্রশ্ন করেছ, তার উত্তর দিতে দিতে তো মনে হয় অসুস্থ হয়ে যাব । হাসি মুখে বললেন নাফিসের বাবা ।
    - আঙ্কেল কোনো সমস্যা নেই । দানের নিয়তে আমাদেরকে কুরবানির সালামিটা দিয়ে দেন । তাহলে আর অসুস্থ হতে হবে না । হাদীসে আছে দান বিপদ দূর করে । তাহলে অসুস্থ হওয়ার আগেই আপনি অগ্রিম সুস্থতা পেয়ে যাবেন । আর তাছাড়া আমরা তো ছোট মানুষ । ছোটদের প্রতি হাদীসে অনুগ্রহ ও স্নেহ করতে বলা হয়েছে । সালামিটা দিয়ে আপনি সেই সওয়াবটাও পেয়ে যাবেন । এক ঢিলে দুই পাখি । কথাগুলো বলে থামল শাহরিয়ার ।
    - বাবা তুমি তো ভালোই বলতে পারো । এ জন্য মসজিদে তোমার আলোচনা শুনতে ভালোই লাগে । আমাকে আর পটাতে হবে না । বুঝতে পেরেছি । ঠিক আছে এই নাও পাঁচ হাজার । হাদিয়া ও ঈদের সালামি । ঈদ মোবারক ।
    - আপনাকেও অসংখ্য শুকরিয়া । ঈদ মোবারক । তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম ।
    - আচ্ছা তোমাদের সাথে আরেকজন আছে না ? আয়ান ? সে কোথায় ?
    - আঙ্কেল এই তো আমি । মুখভার করা চেহারা নিয়ে পেছন থেকে সামনে এগিয়ে আসল আয়ান ।
    - তোমার মন খারাপ মনে হচ্ছে । বাসায় ঢোকার সময়ই তোমাকে দেখে বুঝতে পেরেছি । কী হয়েছে ?
    - বাবা ওর কথা বলো না । নাফিস বলছে । প্রত্যেক ঈদেই ওর মন খারাপ থাকে । কাউকেই কিছু বলে না । মনমরা হয়ে বাসায় পড়ে থাকে । সারাদিন একা একা থেকে পরদিন বের হয় ।
    - ওও আচ্ছা । ঠিক আছে তোমরা যাও । আর হ্যা সবার থেকে সালামি আর কত নিবে এবার নিজেরা সালামি দেওয়ার তো ব্যবস্থা করো ।
    - তাহসিন শাহরিয়ারকে খোঁচা দিয়ে বলল : কী রে কী বলছেন ?
    - আরে বিয়ে করার কথা বলছেন । শাহরিয়ার বলল ।
    - তা, আঙ্কেল, নাফিসকে তো তাহলে আগে এই সুযোগ করে দেওয়া উচিত আপনার । মুখ ফসকে যেন বলে ফেলল শাহরিয়ার ।
    - ইয়ে মানে । ওর তো এখনো পড়ালেখা করার ইচ্ছা আছে । শেষ করুক । তারপর । তোমাদের তো মনে হয় শেষ । তাই তোমাদের বলছি । একটু যেন লজ্জা পেলেন নাফিসের বাবা ।
    - আচ্ছা আঙ্কেল চেষ্টা করব । বলে হাসতে হাসতে সবাই বের হয়ে আসল ।
    - কী রে নাফিস তোর আব্বু তো তোকে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে শিক্ষিত মানব বানাতে চায় । বলেই হেসে উঠল সবাই ।


    দুই.

    নামাযের জন্য মসজিদে এসে বসেছে পাঁচ বন্ধু । এক ফুট দূরত্ব রেখে সবাই জায়নামায বিছিয়ে বসেছে । খতীব সাহেব কুরবানির ইতিহাস আলোচনা করছেন । আয়ান মনযোগসহ শুনলেও কেমন যেন উসখুস করছে তার ভেতর । অজান্তেই চোখের কোণায় পানি জমছে । সে বারবার হাত দিয়ে মুছে ফেলছে । পাশে নাফিস বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে । বুঝতে পারছে না আয়ানের এত দুঃখ কিসের । আজ এই রহস্যের সমাধান করেই ছাড়বে সে । বয়ান শেষে নামায পড়ল ওরা । খুতবা শেষ করে এখন খতীব সাহেব মুনাজাতের জন্য হাত তুলেছেন । এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার, এমপি , মন্ত্রী সবার জন্য দোআ করছেন । দেশে করোনা পরিস্থিতি দূর করার জন্য দুআ করছেন । সবাই আবেগ নিয়ে দুআ করছে । আয়ান দু হাত তুলে কিছুই বলতে পারছে না । তার শুধু দু চোখ ভিজে আসছে । দরদর করে পানি ঝরছে চোখ দিয়ে । খুব কষ্টে মুখ চেপে আছে সে । মুখ খুললেই তার ভেতরের কষ্টগুলো চিৎকার আকারে বের হয়ে আসবে । সে চায় না এখন চিৎকার করে কেঁদে সবার সামনে বেকুব হতে । তাছাড়া এই আনন্দের দিনে এভাবে কাঁদলে লোকে কী বলবে । তাই নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছে সে । মুনাজাত শেষ করে ঠোঁট চেপে কান্না নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে কিছুক্ষণ বসে থাকল । আনমনে কী যেন ভাবছে । তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ইন্টারনেটে দেখা কিছু দুঃসহ ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য । কান্না থামিয়ে রাখতে পারছে না । ভাবছে , প্রতিটি আনন্দের সময়েই কেন তার এই বেদনার কথাগুলো মনে পড়ে ? প্রতি ঈদে সবাই যখন আনন্দ করে তখন সে বাইরেই বের হতে পারে না । তীব্র যন্ত্রণায় যেন কুকড়ে যায় । তার মনে চায় একাকি কোনো ঘরে বসে চিৎকার করে কাঁদতে । কিন্তু সে পারে না । ওর এক বন্ধু ছিল গ্রামের বাড়িতে । ওর বাবা ছিল না । প্রতি ঈদে সে মন খারাপ করে কবরস্থানে গিয়ে বাবার কবর দেখে আসত । সারাদিন ঘরে বসে বাবার অতীতের স্মৃতিগুলো মনে করার চেষ্টা করত । আনন্দের দিনগুলোতেই তার বাবার কথা মনে পড়ত আর সে কষ্টেই শেষ করত আনন্দের মুহূর্তগুলো । এভাবে এই কষ্টের স্মৃতিচারণের মাঝেই সে খুঁজে নিয়েছিল তার আনন্দ । আয়ান ভাবে , হয়ত তারও এমন কিছু হয়েছে । তাই আনন্দের দিনে কষ্ট পেতেই সে ভালবাসে ।
    - কী রে বসে আছিস কেন ? বের হবি না ? নাফিসের কথায় ভাবনায় ছেদ পড়ল আয়ানের ।
    মুখ ফিরিয়ে দেখে মসজিদ খালি । কেউ নেই । সবাই বের হয়ে গেছে । শুধু নাফিস, শাহরিয়ার, তাহসিন আর সাদমান তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে । আর সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে ।
    - ও হ্যা চল । বলেই জায়নামাযটা গুছিয়ে নিয়ে উঠে পড়ল আয়ান ।
    মসজিদের মূল ফটকে এসে নাফিস আয়ানের হাত ধরে থামাল ।
    - কী হল ? আয়ান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল ।
    - চার বছর ধরে তোর এই অবস্থা দেখছি । প্রতি ঈদেই তোর মন খারাপ থাকে । মনমরা হয়ে থাকিস তুই । এবার আমরা এটা জানবই । এটা বলতেই হবে এবার । নাফিসের দৃঢ় কন্ঠ ।
    - না তেমন কিছু না । দুর্বল ভাবে বলল আয়ান ।
    - নাফিস ঠিক বলেছে । তাহসিন তাল মেলালো । এবার বলতেই হবে আমাদের ।
    - আচ্ছা ঠিক আছে । বলব । একটু পরে । নাফিস ধরা গলায় বলল ।
    - ঠিক আছে । তোরা সবাই চল । আগে আমাদের বাসায় মিষ্টিমুখ হবে । তারপর একে একে তোদের সবার বাসায় । নাফিস বলল ।

    তিন.

    নাফিসদের গরু জবাই করে সবাই এখন নাফিসের রুমে বসে আছে । সবার দৃষ্টি আয়ানের দিকে । টেবিলে হরেক রকমের মিষ্টান্ন ।
    - এবার শুরু কর । নাফিস বলল ।
    - হ্যা । আচ্ছা । নিজেকে যেন ধাতস্থ করে নিল আয়ান । আসলে কোথা থেকে শুরু করব কিছু বুঝতে পারছি না ।
    - শুরু কর যে কোনো জায়গা থেকে । শাহরিয়ার বলল ।
    - আসলে প্রতি ঈদ আসলে আমার ভেতর চেপে রাখা কিছু কষ্ট জেগে ওঠে । সুখের সময় মানুষের মাঝে তার হারানো প্রিয়জনদের কথা খুব বেশি মনে হয় । যেমন যার পিতা নেই সে ঈদের দিনই দেখবি তার পিতাকে বেশি মনে করে । তেমনি আমার বিষয়টা । তবে আমার কথাগুলো শুনে হয়ত তোদের কাছে পাগলামি বা অতিরঞ্জন মনে হতে পারে । সে জন্য আমি দুঃখিত । এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি । এটা আমি শরঈ হুকুমও বলব না । আবার আনন্দ বাদ দিয়ে আনন্দের দিনকে বিষাদময় করে তুলতেও বলব না ।
    প্রতি ঈদে আমার পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মজলুম মুসলিমদের কথা খুব বেশি বেশি মনে পড়ে । এতটাই মনে পড়ে যে, নিজেকে ধরে রাখতে পারি না । অনলাইনে দেখা নির্যাতনের চিত্রগুলো চোখের সামনে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে । প্রতিটি নির্যাতন আমার হৃদয়কে বিষিয়ে তোলে । তাই নিজের অজান্তেই প্রতি ঈদে অনেক বেশিই কষ্ট পাই । এই দিনগুলোতেই আমার খুব কান্না আসে । মাঝে মাঝে চিৎকার করে কাঁদতে মন চায় ।
    আয়ান কথাগুলো বলছে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে । ওর চোখ থেকে ক্রমাগত অশ্রু ঝরছে । নিজেকে থামিয়ে রাখতে পারছে না । সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে মন্ত্রমুগ্ধের মত । সবার চোখেই যেন জোয়ার এসেছে ।
    আয়ান বলে চলেছে, আজ যখন নাফিসদের গরুটা জবাই করা হল তখন আমি ওখানে থাকতে পারিনি । কারণ এই দৃশ্য দেখে আমার হিন্দুস্তানের কথা মনে হয়েছে । আমরা কত সহজেই গরু কুরবানি দিতে পারছি । কিন্তু হিন্দে আমার ভাইদের গরু কুরবানির অপরাধে নিজেদের জানের কুরবানি দিতে হচ্ছে । আজ যখন মসজিদে দুআ হচ্ছিল তখন আমি খুব কেঁদেছি । জানিস কেন ?? কারণ খতীব সাহেব সবার জন্য দুআ করেছেন । কুফরী শাসনব্যবস্থার সাথে জড়িত কুফুরী আকিদা পোষণকারী ব্যক্তিরাও খতীব সাহেবের দুআ থেকে বঞ্চিত হয়নি । কিন্তু তিনি দুআতে সিরিয়া, ইয়ামান, জিনজিয়াং, আরাকান, কাশ্মির ও অন্যান্য ভূখন্ডের মুজাহিদ ও বন্দি তো দূরের কথা নির্যাতিত মুসলিম ভাই বোনদের কথা একটি বারও উল্লেখ করেননি । আচ্ছা বল তো, তারা কি আমাদের কেউই হয় না ?? তারা কি আমাদের একটু দুআও পেতে পারে না ??
    পৃথিবীর দেশে দেশে আমাদের কত হাজার হাজার মুসলিম ও মুজাহিদ ভাই বন্দি , আমি কীভাবে আনন্দ করতে পারি ? এই ঈদের দিনগুলো আসলেই আমার এই কষ্টগুলো তাজা হয়ে ওঠে । মনে হয় আমি যেন গাদ্দার হয়ে গেছি । নিজেকে মুনাফিক মনে হয় । এই মুহূর্তেও কাশ্মির, সিরিয়া বা জিনজিয়াংয়ে লাশের সারিতে কেউ হয়ত নিজের প্রিয়জনের লাশ খুঁজছে । বাংলাদেশের কারাগারে আমাদের কত আলেম, দাঈ ও মুজাহিদ ভাই নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে । তাদের পরিবারের ছোট্ট সোনামনিটি হয়ত দরজার আওয়াজ শুনে আব্বু আব্বু বলে দৌঁড়ে এসে আব্বুকে না পেয়ে কষ্টের বোঝা নিয়ে ছলছলে চোখে ফিরে গিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করছে : আব্বু কখন আসবে ??
    সেই মায়েরা তাদের কী উত্তর দিচ্ছেন তা আর কল্পনা করতে পারি না । এত শক্তি আমাকে আল্লাহ দেননি । এত সব কষ্ট বুকে রেখে আমি মুখে হাসি ফোটাতে পারি না । এটা অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের আনন্দের দিন । আমাদের আনন্দ করা উচিত । কিন্তু আমার অপারগতা যে আমি অনেক কষ্ট করেও তা পারছি না । এজন্য আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ।
    - সবাই চোখ মুছছে । কিন্তু এই অশ্রু তো থামবার নয় । কেউ কিছু বলতে পারছে না । একটি আবদ্ধ কক্ষে কিছু যুবকের দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ ।
    আয়ান আবার বলল, আমি জানি অনেকের কাছে এটা বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে । মুসলিম উম্মাহ নির্যাতিত বলে কি সবসময় মুখ ভার করে রাখতে হবে ? এমন প্রশ্নও হয়ত তোদের ভেতর আসছে । কিন্তু আমার উদ্দেশ্য এটা না । আমি বলছি না , সবসময় মুখ ভার করে বিষণ্ন হয়ে ঘরবন্ধি হয়ে থাকতে । বলছি না, আনন্দপ্রকাশ থেকে বিরত থাকতে । আমি এসব কিছুই বলছি না । আমি শুধু আমার অপারগতা আর কষ্টটুকু তোদের সাথে শেয়ার করলাম । এটা কোনো আদেশও না যে, সবার আমার মত হতে হবে । তাই এমন কিছু মনে করবি না ।
    যাই হোক । তোদের সবাইকে রক্তিম ঈদের শুভেচ্ছা । তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম ।
    - আবারও নীরবতা । কেউ কিছু বলতে পারছে না ।
    - আচ্ছা আমাদের সালামি কত উঠেছে, আয়ান ? নাফিস বলল ।
    - এই তো প্রায় বিশ হাজার ।
    - আমরা এখন থেকে আমাদের সালামির টাকা দিয়ে কোনো রেস্টুরেন্টে খাব না । নাফিস ধরা গলায় বলে চলেছে । আমাদের প্রতি ঈদের সালামি আমরা দেশের বাইরে মুজাহিদদের জন্য দান করে দিব । আমাদের পাঠানো টাকা দিয়ে একটি বুলেটও যদি কিনে শত্রুর বুক ঝাঝরা করার জন্য ব্যবহার হয় তবেই আমাদের স্বার্থকতা । তাছাড়া মুজাহিদিনের জন্য আমরা এখন থেকে পুরো এলাকায় আলাদাভাবে দাওয়াতী ক্যাম্পেইন করব । ডোনেশন সংগ্রহ করব এবং প্রতি ঈদে তা আমরা মুজাহিদিনদের নিকট পাঠাব । ইনশাআল্লাহ । তোদের কারো কোনো দ্বিমত আছে ??
    - এই কাজে আবার দ্বিমত থাকবে কেন ?? আমরা সবাই রাজি । শাহরিয়ার বলল ।
    হ্যা হ্যা আমরা সবাই রাজি । সকলেই স্বমস্বরে বলে উঠল ।
    - তো চল এই বিশ হাজার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করি । নাফিস বলছে । ইমারাতে ইসলামিয়্যা তো তিনদিনের যুদ্ধ বিরতি দিয়েছে । আমরা এই টাকাটা পাঠাব । দুআ করব, যুদ্ধবিরতির পর প্রথম আক্রমণের প্রথম বুলেটটি যেন আমাদের পাঠানো টাকায় কেনা হয় ।
    আয়ানের চোখের অশ্রু এখনো থামেনি । তার চোখে এখনো পানি । কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না এই অশ্রু কি নতুন আনন্দের না পুরনো দুঃখের ??


    বি:দ্র: লেখাটির চরিত্রগুলো কাল্পনিক । আবেগ ও কষ্টের চিত্রটি বাস্তব । পরিচিত এক ভাইয়ের জীবন থেকে নেওয়া । আল্লাহ তাআলা আমাদের এই কষ্টের ঈদগুলো আনন্দের ঈদ দ্বারা দ্রুত পরিবর্তন করে দিন । সেদিনই হবে আমাদের আনন্দের ঈদ যে ঈদে উম্মাহর সিংহরা থাকবেন মুক্ত স্বাধীন । ইসলামের হারানো ভূখন্ডগুলোতে আবার উড়বে কালিমা খচিত পতাকা । উম্মাহর প্রতিটি সদস্য যেদিন মুক্ত স্বাধীনভাবে শ্বাস নিবে আল্লাহর যমীনে । ততদিন পর্যন্ত .......
    তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম । ওয়া আ'আদাল্লাহু ইলাইনাল খিলাফাহ ।
    Last edited by fatihul hind; 2 Days Ago at 07:27 PM.
    لن تركع أمة قائدها محمد (صلى الله عليه و سلم)

  2. The Following 8 Users Say جزاك الله خيرا to fatihul hind For This Useful Post:

    কালো পতাকাবাহী (1 Day Ago),মারজান (1 Day Ago),মো:মাহদি (1 Day Ago),abu mosa (1 Day Ago),Afif Abrar (1 Day Ago),alihasan (1 Day Ago),Bara ibn Malik (2 Days Ago),nu'aim (6 Hours Ago)

  3. #2
    Senior Member কালো পতাকাবাহী's Avatar
    Join Date
    Dec 2018
    Location
    تحت السماء
    Posts
    824
    جزاك الله خيرا
    7,457
    2,184 Times جزاك الله خيرا in 687 Posts
    আহ!
    বন্দি,মজলুম মুজাহিদ উম্মাহ'র কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন ভাই।
    আল্লাহ তাআলা বন্দি মুজাহিদ ভাইদের উত্তম মুক্তিকে ত্বরান্বিত করুন ও মজলুম উম্মাহ'র সাহায্যে আমাদের কবুল করুন, আমীন ইয়া রাব্বাশ-শুহাদায়ি ওয়াল মুজাহিদীন!
    বিবেক দিয়ে কোরআনকে নয়,
    কোরআন দিয়ে বিবেক চালাতে চাই।

  4. The Following 4 Users Say جزاك الله خيرا to কালো পতাকাবাহী For This Useful Post:

    মারজান (1 Day Ago),মো:মাহদি (21 Hours Ago),abu mosa (1 Day Ago),alihasan (1 Day Ago)

  5. #3
    Junior Member
    Join Date
    Aug 2019
    Posts
    53
    جزاك الله خيرا
    93
    204 Times جزاك الله خيرا in 50 Posts
    মাশাআল্লাহ, অনেক সুন্দর হয়েছে ভাই।
    আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে মজলুম উম্মাহর উপর জুলুমের প্রতিশোধ নেওয়ার তাওফিক দান করুন।আমীন

  6. The Following 4 Users Say جزاك الله خيرا to alihasan For This Useful Post:

    কালো পতাকাবাহী (18 Hours Ago),মারজান (1 Day Ago),মো:মাহদি (21 Hours Ago),abu mosa (1 Day Ago)

Similar Threads

  1. Replies: 4
    Last Post: 02-22-2020, 10:31 AM
  2. Replies: 0
    Last Post: 03-17-2019, 10:46 AM
  3. Replies: 2
    Last Post: 01-10-2019, 06:50 AM
  4. Replies: 7
    Last Post: 12-02-2017, 07:50 AM
  5. Replies: 6
    Last Post: 09-24-2016, 04:28 PM

Posting Permissions

  • You may not post new threads
  • You may not post replies
  • You may not post attachments
  • You may not edit your posts
  •