Results 1 to 3 of 3
  1. #1
    Junior Member
    Join Date
    Jul 2015
    Posts
    5
    جزاك الله خيرا
    0
    0 Times جزاك الله خيرا in 0 Posts

    জিহাদ ও জ্ঞানার্জন

    জিহাদ ও জ্ঞানার্জনের মাঝে ভারসাম্য সাধন


    শাইখ আবু ইয়াহইয়া আল লিবি (রহ)


    আস-সাহাব মিডিয়া প্রকাশিত ভিডিও একটি শরয়ী কোর্সের সমাপনী বাক্য এর অনুবাদ

    لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ

    নিশ্চয়ই আমি রাসূলদের স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও (ন্যায়ের) মানদন্ড নাযিল করেছি, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। আমি আরো নাযিল করেছি লোহা, তাতে প্রচন্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু কল্যাণ রয়েছে। আর যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন, কে না দেখেও তাঁকে ও তাঁর রাসূলদেরকে সাহায্য করে। অবশ্যই আল্লাহ মহাশক্তিধর, মহাপরাক্রমশালী। [সূরা হাদীদ আয়াত ২৫]

    একটি শরয়ী কোর্সের সমাপনী বাক্য যা শাইখ আবু ইয়াহইয়া আল লিবি (আল্লাহ তার উপর রহম করুন) কর্তৃক মুজাহিদীনদের একটি সেন্টারে বিবৃত হয়েছিল।

    এই কোর্সে নিম্নোক্ত শিক্ষা পাওয়া যায়ঃ

    প্রথমঃ তাজওয়ীদের নিয়মাবলী

    দ্বিতীয়ঃ তাহারাত, সলাত ও সিয়ামের ফিকহ শিক্ষা

    তৃতীয়ঃ বুলুগুল মারাম থেকে কিতাবুল জামি শিক্ষা, তার সাথে এর চল্লিশটি হাদীস মুখস্থকরণ

    চতুর্থঃ নবীজীর জীবনী হতে বিভিন্ন শিক্ষা এবং শিক্ষামূলক উপদেশ

    পঞ্চমঃ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর কিতাব থেকে মুখস্থকৃত অংশ পুনরায় পাঠ


    সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যার অনুগ্রহে ভাল কাজসমূহ সম্পাদন করা সম্ভব হয়।
    এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এ পথের হিদায়াত দিয়েছেন এবং তিনি হিদায়াত না করলে আমরা সঠিক পথ পেতাম না।

    আজ, মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হিজরতের ১৪২৮ বছর পর জমাদিউস সানী মাসের ১২ তারিখ।

    আজ এই শরয়ী কোর্সের শেষ দিন এবং আমরা আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলা এর কাছে দুআ করি যাতে তিনি আমাদের দিনগুলোকে সংরক্ষণ করেন যাতে এগুলো সেই দিনে আমাদের কাজে আসতে পারে যেদিন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না, তবে সে ব্যতীত যে পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে উপনীত হয়।

    এবং যেমনটি আমি আপনাদের কোর্সের শুরুতে বলেছিলাম যে এরকম কোর্স মানুষের জীবনকালের অনুরূপ যেখানে একটি শুরু এবং একটি শেষ আছে। এবং তার সমাপ্তি নির্ভর করে তার জীবনকালের প্রচেষ্টার উপর। সুতরাং আমরা দেখতে পেয়েছি এই কোর্সে আমাদের প্রয়োজন হয়েছিল প্রচেষ্টা, অধ্যয়ন ও পুনঃ-অধ্যয়ন, যতক্ষন না ব্যক্তি জ্ঞানের সমুদ্র থেকে কিছু অর্জন করতে পারে যার অন্বেষণে সে অংশ নিয়েছিল।

    আর এটা আমাদের উপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর অনুগ্রহ যে তিনি আমাদের জন্য দুটি ইবাদতের সন্নিবেশন করেছেন জিহাদ ও জ্ঞান অর্জন। আর এটা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর অনুগ্রহ যে তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সবচেয়ে মহান ও সম্মানিত ইবাদতের সন্নিবেশন ঘটিয়েছেন এবং তিনি সবচেয়ে মহান, সবচেয়ে করুণাময়, সর্বাপেক্ষা উদার।

    জিহাদের ব্যাপারে, আমরা জানি যে এটি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তদুপরি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর কিতাবে এসেছে,

    لَّا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ

    বসে থাকা মুমিনগণ, যারা ওযরগ্রস্ত নয় এবং নিজেদের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীগণ এক সমান নয় [সূরা নিসা আয়াত ২৫]

    সুতরাং যে জিহাদের সাথে জ্ঞানার্জনের প্রচেষ্টার সমন্বয় করে, এমনকি কিছু দিনের জন্য হলেও, তবে সে জেনে রাখুক, এটি তার উপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর অনুগ্রহ।

    কেন?

    কারন আমাদের কেবল এজন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে আমরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর ইবাদত করতে পারি।

    আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন,

    وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

    আমি জ্বিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদত করবে। [সূরা যারিয়াত আয়াত ৫৬]

    এবং ইবাদত হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর পক্ষ থেকে দায়িত্ব, অন্য কথায়, আদেশ ও নিষেধ। আর এমন কোন ইবাদত নেই যার নিয়মাবলী একজন মুসলিমকে জানতে হয় না, তা এটি সালাত হোক অথবা সিয়াম অথবা হাজ্জ্ব অথবা জিহাদ।

    সুতরাং যদি আল্লাহ আপনার জন্য জ্ঞান আহরণের রাস্তা সহজ করে দেন, তাহলে জেনে রাখুন তিনি আপনার জন্য তাঁর ইবাদত করার রাস্তাও সহজ করে দিয়েছেন। কারন মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ইবাদত করা। সুতরাং যদি সে সঠিক বুঝ, জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি ও দলিলের আলোকে আল্লাহর ইবাদত না করে, তাহলে নিশ্চিতভাবে সে অজ্ঞতা ও মুর্খতার আলোকে আল্লাহর ইবাদত করবে, এবং আমরা আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চাই।

    সুতরাং এটি আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ, যে ব্যাপারে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে সর্বদা এটি ঘোষণা দেওয়া এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো যাতে তা আমাদের থেকে উঠিয়ে না নেওয়া হয়। এবং আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস জানি, অধিকাংশ মানুষ দুটি নিয়ামতের সঠিক ব্যবহার করতে পারে নাঃ স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।

    আপনারা আপনাদের পরিবার ও ভাইদের থেকে অনেক দূরে এই বাড়ীতে অথবা এই সেন্টারে অবস্থান করেছিলেন, একটি বিষয়ের জন্য আত্মনিয়োগ করেছিলেন, আর তা হলো জ্ঞান অর্জন। সুতরাং এটি আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য বিশাল অনুগ্রহ। যে অনুগ্রহে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আপনাদের ভূষিত করেছেন।

    সুতরাং জ্ঞান অর্জনের ইবাদত এবং জিহাদের ইবাদত, বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

    এটি প্রথম ব্যাপার।

    এই কোর্স থেকে আমরা যা শিখতে পারি, তা হলো অস্বীকৃতি, এ ব্যাপারে যে কিছু লোক জিহাদের ইবাদত ও জ্ঞান অর্জনের ইবাদতকে পৃথক করতে চেষ্টা করে, যেটি সত্য নয়। অর্থাৎ এই ধারণা যে জিহাদের সাথে কোন ইলম নেই যেটি ভুল। এবং এই ধারণা যে আলেম ও তালেবে ইলমরা জিহাদ করতে পারে না, এটিও ভুল।

    কেন?

    কারন আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে আমাদের সত্য জানিয়েছেনঃ

    وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا


    আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হত, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত। [সূরা নিসা ৮২]

    এগুলো কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর বাণী।

    সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কিতাবের আয়াতসমূহের মধ্যে কোন পরষ্পর বিরোধ নেই এবং এর নিয়মাবলীর মধ্যেও কোন অসঙ্গতি নেই। সুতরাং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আমাদেরকে যে ইবাদতের বিধান দিয়েছেন, সেখানেও কোন পরষ্পর বিরোধ নেই।

    সুতরাং এই ব্যাপারে কিছু লোক মিথ্যা উদ্ভাবন ও অতিরঞ্জন করতে চেষ্টা করে যে জিহাদ ও ইলম একত্রে খাপ খায় না যেটি ভুল। এবং আমাদের এখনকার কাজ এর উদাহরণ অথবা প্রমাণ। এটা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর অনুগ্রহে একটি প্রমাণ যে জিহাদের ময়দানেও জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।

    আর কতগুলো ফিকহ এর বিধান যার জিহাদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই, জিহাদের ময়দানে নাযিল হয়েছে। তার মধ্যে আছে তায়াম্মুমের আয়াত।

    কোথায় তায়াম্মুমের আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়েছিল?

    সেগুলো নাযিল হয়েছিল যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি যুদ্ধ থেকে ফিরছিলেন, তাই নয় কি? অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আমাদের এ ব্যাপারে অবগত করে বললেন,

    وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُوا كَافَّةً ۚ فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ


    আর মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা সকলে একসঙ্গে অভিযানে বের হবে। অতঃপর তাদের প্রতিটি দল থেকে কিছু লোক কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান আহরণ করতে পারে এবং আপন সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা (গুনাহ থেকে) বেঁচে থাকে। [সূরা তাওবাহ আয়াত ১২২]

    সুতরাং আল্লাহ জিহাদ ও জ্ঞান অর্জনকে একত্র করার মাধ্যমে আমাদের জন্য ইবাদতকে সহজ করে দিয়েছেন, আর এটা হলো আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলার অনুগ্রহের মধ্য থেকে অন্যতম। এটি হলো প্রথম বিষয় যেটি আপনাদের মাথায় রাখতে হবে।

    অপর বিষয়টি যেটি আমরা উল্লেখ করেছি যে জ্ঞান অর্জন এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের মাঝে কোন বিরোধ নেই। এবং অন্যান্য মুসলিমদের মত আমাদের, মুজাহিদ হিসেবে, দায়িত্ব হলো দ্বীনের বিধি-বিধান শিক্ষা করা। আর আমি দ্বীনের বিধি-বিধান বলতে কেবল জিহাদ সম্পর্কীয় বিধি-বিধান বোঝাচ্ছি না। না! আমাদের দায়িত্ব হলো সালাতের বিধান শেখা, তাহারাতের বিধান, সিয়ামের বিধান। প্রত্যেকটা ইবাদত যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল মুমিনদের দিয়েছেন এবং বাধ্যতামূলক করেছেন, মুজাহিদদের দায়িত্ব এর বিধান শেখা। কারন মুজাহিদরা এমন লোক না যারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর আইনের বাইরে থাকতে পারে। আর সে এমন লোক না যার উপর থেকে শরয়ী বাধ্যবাধকতা দূর হয়েছে। বরং সে অন্যান্য মুসলিমদের মতই একজন।

    সুতরাং আমরা যেমন জিহাদের ময়দানে জিহাদের বিধান, এর পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন শিক্ষা করি, তেমনি আমাদের কর্তব্য হলো অন্যান্য ইবাদতেরও বিধি-বিধান শিক্ষা করা।

    সুতরাং কী লাভ যদি একজন মুজাহিদ জিহাদ করে এবং আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে, কিন্তু সে জানে না কিভাবে সুন্দর করে ওযু করতে হয়, এবং সে জানে না কিভাবে সালাতকে সুন্দর করতে হয়, এবং সে জানে না কিভাবে সঠিক পদ্ধতিতে সিয়াম পালন করতে হয়?

    কী লাভ এতে?

    অর্থাৎ সে সঠিকভাবে জিহাদ করে এবং ভ্রান্ত ও ভুল পদ্ধতিতে সালাত ও অন্যান্য ইবাদত পালন করে।

    এটা সম্ভব নয়।

    সুতরাং এটা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর অনুগ্রহ যে তিনি আমাদের দ্বারা তাত্ত্বিকভাবে ও বাস্তব ক্ষেত্রেও প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে তাদের মাঝে কোন বিরোধ নেই। যেরকম আল্লাহর কিতাবে এর আয়াতসমূহের মাঝে কোন বৈপরীত্য নেই এবং এর বিধানসমূহের মাঝেও কোন বিরোধ নেই, তেমনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আমাদের যে ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন, তার মাঝেও কোন অসঙ্গতি নেই।

    বুঝতে পেরেছেন? ভালো।
    বাকি লিখাটি কমেন্টে

  2. #2
    Junior Member
    Join Date
    Jul 2015
    Posts
    5
    جزاك الله خيرا
    0
    0 Times جزاك الله خيرا in 0 Posts
    ...... নিচে ......
    Last edited by দুরন্ত পথিক; 07-02-2015 at 11:45 PM.

  3. #3
    Junior Member
    Join Date
    Jul 2015
    Posts
    5
    جزاك الله خيرا
    0
    0 Times جزاك الله خيرا in 0 Posts
    বাকি অংশ

    তৃতীয় বিষয় যেটি আমি বলতে চাই তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, যারা এই কোর্সে অংশ নিয়েছিল এবং আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলা তার জন্য যা উন্মুক্ত করেছিল তা শিখেছিল, তার মানে এই নয় যে সে একজন ফকীহ, একজন মুফতী হয়ে গিয়েছে এবং সে ফতোয়া দেওয়া শুরু করবে হালাল, হারাম, এটা বৈধ।

    না!

    আমরা এখানে আল্লাহর আইন শিখতে বসেছিলাম যাতে আমরা সঠিকভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে পারি। ফতোয়া দিতে হলে এবং এই রায় দিতে হলে এটা হালাল এবং এটা হারাম এর পূর্বে একজন ব্যক্তিকে অনেকগুলো মরুভূমি পাড়ি দিতে হবে। এটা এক মাস, দুই মাস অথবা এক বছর কিংবা দুই বছরে সম্ভব নয়। ইমাম মালিক, এবং তিনি তো তিনিই, বলেন,

    আমি এ পর্যায়ে আসিনি [অর্থাৎ যাতে আমি ফতোয়া দিতে পারি] যতক্ষন না ৮০ জন আলেম সাক্ষ্য দিয়েছেন যে আমি ফতোয়া প্রদানের উপযুক্ত।

    ৮০ জন আলেম ইমাম মালিকের জন্য সাক্ষ্য দিয়েছিলেন; তারা বলেছিলেন, এখন তুমি ফতোয়া দিতে পারো।

    আমরা এখন কোথায়? কে আমাদের জন্য সাক্ষ্য দিবে যে তুমি ফতোয়া প্রদানের উপযুক্ত। এবং এক মাস, দুই মাস অথবা এক বছর, দুই বছর সময়ে।

    এবং আমাদের একজন হয়তবা ভালোভাবে সূরা ফাতিহা পড়তেই জানে না, এবং ফরজ ও মুবাহ এর মাঝে পার্থক্য করতে জানে না এবং হারাম ও মাকরূহ এর মাঝে পার্থক্য করতে জানে না সুতরাং আপনাদের আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলাকে ভয় করা উচিত।

    আমি এটা শুনতে চাই না যে আপনাদের কেউ এখান থেকে গিয়ে মজলিস তৈরী করে ফতোয়া দেওয়া শুরু করলেন, এটা হালাল এবং এটা হারাম। হ্যাঁ, আপনি বলতে পারেন যে আমি এটা পড়েছি, কিন্তু জটিল ও নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া; একজন আপনার কাছে ফতোয়া চাইতে এলো আর আপনি তাকে বলে দিলেন এটা হালাল এবং এটা হারাম এবং এটা মাকরূহ এটা গ্রহণযোগ্য না।

    এটা শরীয়তে বৈধ না এবং আমাদের চরিত্র ও শিক্ষাগ্রহণের জন্য ভালো হবে না। সুতরাং এই বিষয়ে দৃষ্টিপাত করুন এবং এই বিষয়ে আমি আপনাদের সবচেয়ে সচেতন দেখতে চাই।

    আপনারা এটা ভালোভাবে বুঝতে পারেছেন? ভালো।

    সুতরাং এই বিষয়গুলোর ব্যাপারেই আমি আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চেয়েছিলাম।

    অতঃপর, এরকম কোর্স থেকে আমরা যে বিষয়ে উপকৃত হতে পারি, যদিও তা অল্প হোক না কেন, তা হলো আলেমদের মর্যাদা ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানা।

    আলেমরা হলো মধ্য দিবসের সূর্যের ন্যায়। যদি তারা থাকে তবে লোকেরা সঠিকভাবে জীবন যাপন করতে পারবে এবং স্বাভাবিকভাবে জীবন পরিচালনা করতে পারবে। যদি সূর্য ডুবে যায়, তাহলে কী হবে? লোকদের অবস্থা কী হবে? অন্ধকার নেমে আসবে। মুর্খতা, নির্বুদ্ধিতা, ভ্রষ্টতা, বিদআত এবং এরকম আরো ভ্রষ্টতার অন্ধকার। সুতরাং এসব কোর্সের মাধ্যমে আমরা আলেমদের মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারি।

    যদি আপনি এক মাস সময় ধরে কঠোর প্রচেষ্টা চালান, মুখস্থ করেন, বার বার পুনরাবৃত্তি করেন, অধ্যয়ন করেন, অস্পষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন এবং এরকম আরো কিছু, আপনি খুব সামান্য পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। তারপরও আপনি এতে সন্তুষ্ট যা আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলা আপনাকে দিয়েছেন। তাহলে ঐ আলেমের ব্যাপারে কী মত যিনি তার সারা জীবন জ্ঞান অর্জনে ও লোকদের শিক্ষা প্রদানে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, ধৈর্যের সাথে এর পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং এরকম আরো কিছু। এবং লোকদেরকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর দিকে আহবান করেছেন।

    এক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কোথায়?

    সুতরাং, আমরা আমাদের দারসগুলোকে মূর্খদের তর্কের স্থান বা আলেমদের সাথে প্রতিযোগিতার স্থান বানাতে চাইনা। আমরা শুধু মাত্র যা জানতে চাই, তা হচ্ছে, হক্বপন্থী আলেমদের মর্যাদা, যারা আল্লাহকে ভয় করেন, তাঁর (আল্লাহর) বাণী প্রচার করেন এবং তাঁকে (আল্লাহ) ব্যতীত কাউকে ভয় করেন না।

    আপনারা বুঝতে পেরেছেন?

    আপনাদের অবশ্যই এটি মনে রাখতে হবে।

    যদি আপনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ আলেমকে দেখতে পান যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল কে ভয় করে, তাহলে তার মর্যাদা সম্পর্কে জেনে নিবেন এবং মনে রাখবেন আপনি মাত্র এক মাস কিংবা দুই মাস ধৈর্যের সাথে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং আপনি বুঝতে পেরেছেন যে এজন্য কতটা ধৈর্য ও অবিচলতার প্রয়োজন হয় যাতে আপনি যে জ্ঞান অর্জন করেছেন তা ভুলে না যান। তাহলে সেই আলেমের কী অবস্থা যিনি সম্ভবতঃ তার সারা জীবন এই বিষয়ে ব্যয় করেছে? এর মাধ্যমে আপনি তাদের মর্যাদা সম্পর্কে বুঝতে পারলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে বুঝতে পারলেন এবং বুঝতে পারলেন তাদেরকে কী পরিমাণ সম্মান ও শ্রদ্ধা করা প্রয়োজন।

    এবং আলেমদের মর্যাদা এরূপ

    আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলা তার একত্বের ব্যাপারে নিজ সাক্ষ্যের সাথে তাদের সাক্ষ্যকে সংযুক্ত করেছেন, যা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষ্য।

    شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

    আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, আর ফেরেশতা ও জ্ঞানীগণও। তিনি ন্যায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা আল-ইমরান ১৮]

    সুতরাং আলেমদের কাজ অনেক মহৎ, যদিও তাদের পদস্খলন ঘটে, এবং যদিও তারা ভুল করে। কারন আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলা তার সৃষ্টি মানুষকে ভুল-ত্রুটিমুক্ত করে সৃষ্টি করেন নি। কে বলেছে যে মানুষদের ভুল হয় না? কে বলেছে যে মানুষ কখনো কামনার বশবর্তী হয় না, মাঝে মাঝে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় না?

    আমাদের দ্বীন ইসলামের নিয়ম হলো ভালো কাজ মন্দ কাজকে দূর করে, এমনটা নয় যে মন্দ কাজ ভালো কাজকে দূর করতে পারে। একজন আলেম যে তার সারাজীবন ও সমগ্র প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে লোকদের আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর দিকে ডাকতে, তাদেরকে শিক্ষা প্রদানে ও সঠিক পথ নির্দেশে, এবং সে হয়ত এক-দুইটি ক্ষেত্রে ভুল করে ফেলল, আর আমরা তার অবমাননা করলাম ও গালি দিলাম এবং তার সকল ভালো কাজকে বাতিল প্রতিপন্ন করলাম।

    এটা শরা এর আচরণ নয়, এটা কামনা-বাসনার বশবর্তী আচরণ। আর আমরা কামনা-বাসনার বশীভুত লোক নই।

    اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ


    তোমরা ইনসাফ কর, তা তাকওয়ার নিকটতর। [সূরা মায়িদাহ আয়াত ৮]

    এটা শরা এর আচরণ।

    আপনারা কি তৃতীয় বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন?

    এবং চতুর্থ ও শেষ বিষয়টি হলো আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলা আপনাদের জন্য জ্ঞান অর্জনের এই দরজাটি উন্মোচন করেছেন, এবং আপনারা জ্ঞান অর্জনের স্বাদ আস্বাদন করছেন, এবং জ্ঞান অর্জনের পথে ধৈর্য ও আত্মনিয়োগের স্বাদ আস্বাদন করছেন; যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ আপনাদের জন্য এ দরজা খোলা রাখছেন, আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখুন এবং যেভাবে সম্ভব এই পথ অতিক্রম করুন।

    সুতরাং দিনের অথবা জীবনের একটা সময় নাশিদ শুনে ব্যয় করা যে নাশিদ অন্তরের খোরাকও হবে না, কোন কাজেও আসবে না; এর চেয়ে বরং লেকচার অথবা নসিহত শুনে সময় ব্যয় করুন। অথবা কোন ফতোয়ার ক্যাসেট শুনুন অথবা আপনার পড়া পুনরাবৃত্তি করুন অথবা আপনার কোন এক ভাইয়ের সাথে পড়ালেখা করুন। আর যদি অন্য কোন কোর্সের সুযোগ পান, তাহলে আল্লাহ ইচ্ছায় তাতে আত্মনিয়োগের চেষ্টা করুন। কারন জ্ঞান কেবল ধাপে ধাপেই আসবে এবং জ্ঞান একদিন অথবা একসাথে আসবার নয়।

    يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ

    তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। [সূরা মুজাদিলাহঃ আয়াত ১১]

    এবং শেষ বিষয়টি হলো, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর কাছে দুআ করা, যাতে তিনি আপনাদের যা দিয়েছেন তাতে বারাকাহ দান করেন।

    শুধু মুখস্থ রাখা অথবা অনেক বই পড়ার নামই জ্ঞান নয়। কারন আপনি এমন অনেককে পাবেন যে এনসাইক্লোপিডিয়া অথবা কম্পিউটারের ন্যায়; আপনি তাকে যা জিজ্ঞেস করবেন সে জবাব দিবে কিন্তু আল্লাহ তার এই জ্ঞানে বারাকাহ দান করেন নি। অপরদিকে আপনি এমন লোক পাবেন, তার জ্ঞান অল্প হলেও তা বিনম্রতায় পরিপূর্ণ; সে জ্ঞানের সাথে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর প্রতি একনিষ্ঠতা ও বিনম্রতার সমন্বয় সাধন করেছে এবং সে আল্লাহর কাছে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দুআ করে।

    আমরা আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলার কাছে দুআ করি যাতে তিনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা শোনে এবং যথাসম্ভব মান্য করে। এবং আমরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর কাছে দুআ করি যাতে তিনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের জ্ঞান তাদের কাজে আসে। এবং আমরা আল্লাহর কাছে কথা ও কাজের ফিতনাহ থেকে আশ্রয় চাই।

    প্রকৃতপক্ষে তিনি সব শোনেন এবং আমাদের অত্যন্ত নিকটবর্তী।

    এখন আমরা হাদীসের পুনঃ-পাঠ শুরু করবো। ইন শা আল্লাহ আমরা ডান দিক থেকে শুরু করবো এবং তারপর আমরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর কিতাবের তিলাওয়াত শুনবো।


    [প্রবন্ধের সমাপ্তি]

Similar Threads

  1. Replies: 2
    Last Post: 06-06-2019, 04:52 PM
  2. Replies: 3
    Last Post: 10-01-2015, 04:22 PM

Posting Permissions

  • You may not post new threads
  • You may not post replies
  • You may not post attachments
  • You may not edit your posts
  •