Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৩৯ || কুদসের মুক্তির পথ! ।। উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ || শেষ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৩৯ || কুদসের মুক্তির পথ! ।। উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ || শেষ পর্ব

    আন নাসর মিডিয়া পরিবেশিত
    কুদসের মুক্তির পথ!
    ।।উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ||
    এর থেকেশেষ পর্ব


    আমেরিকা অপরাজেয় নয়!


    আমরা এও জানিয়ে দিতে চাই যে, আমেরিকার দাসত্বকারী বাহিনী ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জিহাদ এবং স্বয়ং আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদ— এ দুটি পরস্পর বিপরীত বা বিরোধী নয়; বরং এ দুটি সমান্তরাল এবং একে অপরকে সুযোগ ও শক্তি প্রদানকারী। তাই যেখানেই জিহাদের সুযোগ দেখা যাবে, এসব দাসত্বকারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জিহাদের অগ্নি প্রজ্বলিত করা অপরিহার্য। এর ফলাফল ইনশাআল্লাহ্ বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের উপর সামরিক আঘাত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হিসেবে প্রকাশ পাবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমেরিকার গুরুত্ব এবং তাকে ক্ষতি পৌঁছানোর অপরিহার্যতা সর্বদা সামনে রাখতে হবে। কারণ, এই শাসক ও বাহিনীগুলো দাস ও হাতিয়ার মাত্র, অন্যদিকে আমেরিকা ইসরাঈলসহ সকলকে সুরক্ষা ও সমর্থন দিয়ে থাকে। এসব ব্যবস্থার কোনো একটি পতনও নির্ভর করে আমেরিকার পিছু হটার উপর— যার নমুনা সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে বিশ্ববাসী দেখেছে।

    আমেরিকার সামরিক শক্তি ও এর ব্যাপ্তি নিঃসন্দেহে বিশাল, তবে এ বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে— আল্লাহর ইচ্ছায় আমেরিকা কোনোভাবেই অপরাজেয় নয়! এর বার্ষিক সামরিক ব্যয় আটশো বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের মোট সামরিক খরচের ৪১%। কিন্তু এই শক্তিই আমেরিকার দুর্বলতাও হয়ে উঠতে পারে— বিশেষত এই কারণে যে, এটি প্রচলিত যুদ্ধে কার্যকর হলেও অপ্রচলিত যুদ্ধে সম্পূর্ণ অকার্যকর। আর মুজাহিদদের রণক্ষেত্র হলো এই অপ্রচলিত যুদ্ধ। এর মাধ্যমে আল্লাহ আমেরিকার ঔদ্ধত্য ভেঙে দিয়েছেন। তাই এই জিহাদের পথে যখন এর নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানো হবে, তখন মার্কিন অর্থনীতি উম্মতের জাগরণ ও এই জিহাদের কারণে দুর্বল হয়ে পড়বে। আর এমন হওয়া মোটেও অসম্ভব নয়; বরং আল্লাহর সাহায্য ও মুসলিম উম্মাহর জিহাদ ও দৃঢ়তার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ এটিই সংঘটিত হবে। ফলে এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার এই বিশাল সামরিক পরিকাঠামোই তার উপর বিপর্যয়কর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। ইনশাআল্লাহ, এটিই তার পতনের কারণ হবে এবং তখনই সেই সময় আসবে যখন ইসলামী বাহিনীর অগ্রগতিকে পৃথিবীর কোনো শক্তি আর ঠেকাতে পারবে না।

    অতএব, আমাদের অবশ্যই এই সচেতনতা ও বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে যে:
    • মসজিদে আকসাকে মুক্ত করা এবং নিজের ভূখণ্ডে ইসলামের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি ব্যক্তির জন্য ফরযে আইন (ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক) চেষ্টা। আর এই চেষ্টা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন আমরা আল্লাহর পথে জিহাদকে নিজের উপর ফরয হিসেবে মনে করব এবং আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রামে একে মুখ্য ভূমিকা দেব। যদি আমাদের এই সংগ্রামে আল্লাহর পথে লড়াই তথা কিতালের অর্থে জিহাদ না থাকে, তাহলে তা উম্মাহর সমস্যার সমাধান তো করবেই না, বরং সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেবে। আর আল্লাহর কিতাবে ফরযে আইন জিহাদ ত্যাগ করার ব্যাপারে যে কঠোর সতর্কবার্তাগুলো রয়েছে— (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন) তা আমাদের ওপর সত্য প্রমাণিত হতে পারে।
    • আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ, বৈশ্বিক ব্যবস্থায় আমেরিকার হাতের অস্ত্র, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা, ইসরাঈলের রক্ষায় তার মূল ভূমিকা এবং ইসলামী শাসন কায়েমে যে বাধাসমূহ তৈরি হয়, সেই সমস্ত বাহিনী ও ব্যবস্থার ওপর আমেরিকার প্রভাব— এসব বোঝা এবং অন্যদের বোঝানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আমরা আমাদের শত্রুকে সঠিকভাবে বুঝতে পারি এবং সত্য ও মিথ্যার এই লড়াইয়ে চিন্তাগত ও সামরিকভাবে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারি।
    • আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে জিহাদের গুরুত্ব আমরা যেন নিজেরাও বুঝি এবং অন্যদেরও বুঝাতে পারি। আর যতটা সম্ভব এই জিহাদে আমরা যেন নিজেরা অংশগ্রহণ করি। সেই সাথে এই জিহাদে উম্মাহর যত বেশি স্তরের মানুষকে সম্ভব, সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করি। আমেরিকা এই যুদ্ধকে সংকুচিত ও সমাপ্ত করতে চায়, আর আমরা যেন এটিকে তার চেয়েও বেশি বিস্তৃত করার কাজ করি।
    • নিজেদের দেশের সেনাবাহিনী, শাসকগোষ্ঠী ও শাসন ব্যবস্থা যে মিথ্যা ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তারা কিভাবে উম্মতকে দাসত্বে আবদ্ধ করে রেখেছে— এই ভয়ংকর বাস্তবতা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। এরপর শরঈ ও বাস্তব প্রমাণের মাধ্যমে এদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও কিতাল (সশস্ত্র প্রতিরোধ)-এর ফরয হওয়াকে প্রমাণ করতে হবে। তবে এই লড়াইয়ে অবশ্যই এমন সব বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ভুল থেকে বিরত থাকতে হবে, যেগুলোর ফলে শয়তানে আকবর তথা বড় শয়তান বা উপনিবেশবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষা পায়। মনে রাখতে হবে, এই শয়তানকে নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এই শাসন ব্যবস্থাগুলোর পতন কঠিন।
    • মসজিদে আকসা ও গাজাবাসীদের সাহায্য ও সমর্থনের যে যুদ্ধ, সেটি কেমন হওয়া উচিত— এই বিষয়ে সচেতনতা বিস্তার অত্যন্ত জরুরি। বোঝাতে হবে, এই যুদ্ধ যেমন গাজা ও ফিলিস্তিনের ভেতরে চলছে, তেমনি ফিলিস্তিনের বাইরে থেকেও সমানভাবে এটি চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। ফিলিস্তিনি মুজাহিদগণ কেবল তখনই বিজয়ী হতে পারবেন, যখন ফিলিস্তিনের বাইরে থেকে উম্মতের পক্ষ থেকে সেই ইহুদীবাদী শয়তানের বিরুদ্ধে সফল জিহাদ পরিচালিত হবে, যে বড় শয়তান ইসরাঈলকে গাজাবাসীদের বিরুদ্ধে টিকিয়ে রেখেছে।
    • এই যুদ্ধ সামরিক ময়দানে অবশ্যই জরুরি এবং সামরিক যুদ্ধ থেকেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ফলাফল আসবে। কিন্তু সামরিক যুদ্ধ তখনই কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে, যখন চিন্তা ও দাওয়াহর (চেতনা ও আহ্বানের) ময়দানে এটিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করা হবে। শত্রুর সঠিক পরিচয়, তার ধোঁকা ও প্রতারণা, বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা ও তার দাজ্জালী পরিভাষা, স্লোগান ও ষড়যন্ত্রের প্রকৃত চিত্র, এরপর বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক, এই ব্যবস্থার অর্থনৈতিক কৌশল— এই সবকিছু আমরা যত স্পষ্টভাবে উম্মতের সামনে তুলে ধরতে পারব, ততই সামরিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার হবে এবং একই সাথে উম্মতের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও পুনর্গঠনেও অগ্রগতি হবে।

    উপর্যুক্ত আলোচনা ও পয়েন্টগুলোর মতো সমান গুরুত্বপূর্ণ অথবা আরো বেশি তাৎপর্যবহ পয়েন্ট হচ্ছে:

    আমরা যেন শক্তি-দুর্বলতা ও বিজয়-পরাজয়ের সকল বিষয়ে এমন ঈমান, দৃঢ় বিশ্বাস, তাওয়াক্কুল ও ভরসা অর্জন করি যা আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে চান।

    إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

    অর্থ: বিজয় তো কেবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।[সূরা আলে-ইমরান ০৩:১২৬]

    وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

    অর্থ: আল্লাহ যদি আপনাদের সাহায্য করেন, তবে কেউই আপনাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর যদি তিনি আপনাদেরকে ছেড়ে দেন, তবে তিনি ছাড়া কে আছে যে আপনাদের সাহায্য করবে? মুমিনদের উচিত একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করা।[সূরা আলে ইমরান ০৩:১৬০]

    অতএব, শক্তি ও সামর্থ্যের দুনিয়াবি মাপকাঠিকে এক পাশে সরিয়ে রাখতে হবে এবং একাগ্রচিত্তে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। যদি আমাদের রব আমাদের সাহায্য করেন, তবে দুনিয়ার কোনো শক্তিই আমাদেরকে নত করতে পারবে না। আমরা কারো শক্তির কাছে পরাজিত হবো না। কিন্তু আল্লাহ না করুন, যদি আমরা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করি, তবে আমাদের কাছে অনেক কিছু থাকা সত্ত্বেও আমরা ব্যর্থতা ও হতাশা থেকে রক্ষা পাবো না।

    অতএব, অন্তর ও দেহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সংযুক্ত হয়ে যেতে হবে এবং অন্যদেরকে সংযুক্ত করতে হবে। আমরা যেন আল্লাহর জন্য তাকওয়া অবলম্বন করি এবং সব ধরনের জুলুম থেকে বেঁচে থাকি।

    আল্লাহর অবাধ্য হয়ে আমরা ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য থেকে বঞ্চিত হতে পারি এবং এর পরিণাম গোটা সমাজ ও উম্মাহর উপরও পড়তে পারে।

    তাই গাজাবাসীদের সাহায্য করার প্রকৃত উপায় হলো— আমরা আল্লাহর অনুগত ও প্রিয়পাত্র হওয়ার চেষ্টা করবো, তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী হয়ে উঠবোআমাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু করে ভালোবাসা-ঘৃণা ও বন্ধুত্ব-শত্রুতার মানদণ্ড পর্যন্ত— সবকিছুই আল্লাহর পছন্দনীয় বিষয়ের অনুসারী হোক। এরপর আসে আল্লাহর পথে জিহাদ, আর এর আওতায় আসে মুসলিম উম্মাহর সকল শ্রেণির সাথে আচরণ— যোদ্ধা ও অযোদ্ধা উভয়ের সাথেই। তাই এসব ক্ষেত্রে আমরা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী হয়ে উঠবোএমনটি করলে তা থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হবে, অতঃপর তাঁর সাহায্য প্রাপ্তি ঘটবে, আর এর মাধ্যমে আল্লাহর অনুমতিক্রমে আমরা মসজিদে আকসাকে সাহায্য করতে সক্ষম হবো।

    আমাদের শেষ কথা: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

    *****





    আরও পড়ুন
    পঞ্চম পর্ব

  • #2
    আমেরিকা অপরাজেয় নয়!
    বছর ফুরিয়ে যাবে এতো রিসোর্স আছে https://gazwah.net সাইটে

    Comment

    Working...
    X