আত্–তিবয়ান পাবলিকেশন্স পরিবেশিত
জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
[ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
–।।থেকে- চতুর্থ পর্ব
জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
[ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
–।।থেকে- চতুর্থ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়ঃ আল্লাহ্, মহিমান্বিত তাঁর সত্তা, তাক্বদিরের মাধ্যমে মু’মিনদের ওপর কাফিরদেরকে শক্তিশালী করেন
মু’মিনদের সাথে শত্রুতা পোষণ ও যুদ্ধ করার ব্যাপারে কাফিরদেরকে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা শারীয়াহর মাধ্যমে বা কোন নবীর যবান এর মাধ্যমে আদেশ পাঠাননি; এটি ‘তাকদীর দ্বারা নির্ধারিত’। তিনি বরং তাদেরকে আদেশ দিয়েছেন ইবাদত এবং আনুগত্যের। সুতরাং মু’মিনদের উপর কাফিরদের শক্তি অর্জন হলো ‘তাকদীর’ আর কাফিরদের উপর মু’মিনদের শক্তি অর্জন হলো ‘শরয়ী হুকুম’ এবং ‘তাকদীর’।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ
“আমি এভাবেই প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছিলাম অপরাধীদের মধ্য থেকে।”[[1]]
তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ
“এইরূপে আমি মানুষ ও জ্বীনের মধ্যে শয়তানদেরকে নবীদের শত্রু করেছি।”[[2]]
তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ أَكَابِرَ مُجْرِمِيهَا لِيَمْكُرُوا فِيهَا
“এইরূপে আমি প্রত্যেক জনপদে সেখানকার অপরাধী প্রধানদেরকে চক্রান্ত করার অবকাশ দিয়েছি।”[[3]]
উপরোক্ত তিনটি আয়াতেই আল্লাহ্, সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ
‘আমি … করেছি’ বা ‘আমি … দিয়েছি’ ….অর্থাৎ এগুলো তাকদীর দ্বারা নির্ধারিত।
যুগ, জাতি, নাবী রাসূল অনেক কিছু পাল্টালেও তাদের এই শত্রুতার ধরণ কখনোই পাল্টায়নি। আর একারণেই আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
مَا يُقَالُ لَكَ إِلا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِنْ قَبْلِكَ
“তোমার সম্বন্ধে তো তাই বলা হয় যা বলা হত তোমার পূর্ববর্তী রাসূলগণ সম্পর্কে।”[[4]]
এবং তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ
“এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তারা তাকে বলেছে, ‘তুমি তো এক যাদুকর না হয় উন্মাদ’। তারা কি একে অপরকে এই মন্ত্রণাই দিয়েছে (বংশানুক্রমে শিখিয়েছে)? বস্তুত তারা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।”[[5]]
তাদের এই শত্রুতার রয়েছে নানান রূপ: অন্তরের কুফরী (তাকযিব); আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا
“নিশ্চয় তোমার পূর্বে অনেক রাসূলকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল; কিন্তু তারা ধৈর্যধারণ করেন…”[[6]]
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ
“আমি এভাবেই প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছিলাম অপরাধীদের মধ্য থেকে।”[[1]]
তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ
“এইরূপে আমি মানুষ ও জ্বীনের মধ্যে শয়তানদেরকে নবীদের শত্রু করেছি।”[[2]]
তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ أَكَابِرَ مُجْرِمِيهَا لِيَمْكُرُوا فِيهَا
“এইরূপে আমি প্রত্যেক জনপদে সেখানকার অপরাধী প্রধানদেরকে চক্রান্ত করার অবকাশ দিয়েছি।”[[3]]
উপরোক্ত তিনটি আয়াতেই আল্লাহ্, সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ
‘আমি … করেছি’ বা ‘আমি … দিয়েছি’ ….অর্থাৎ এগুলো তাকদীর দ্বারা নির্ধারিত।
যুগ, জাতি, নাবী রাসূল অনেক কিছু পাল্টালেও তাদের এই শত্রুতার ধরণ কখনোই পাল্টায়নি। আর একারণেই আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
مَا يُقَالُ لَكَ إِلا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِنْ قَبْلِكَ
“তোমার সম্বন্ধে তো তাই বলা হয় যা বলা হত তোমার পূর্ববর্তী রাসূলগণ সম্পর্কে।”[[4]]
এবং তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ
“এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তারা তাকে বলেছে, ‘তুমি তো এক যাদুকর না হয় উন্মাদ’। তারা কি একে অপরকে এই মন্ত্রণাই দিয়েছে (বংশানুক্রমে শিখিয়েছে)? বস্তুত তারা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।”[[5]]
তাদের এই শত্রুতার রয়েছে নানান রূপ: অন্তরের কুফরী (তাকযিব); আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا
“নিশ্চয় তোমার পূর্বে অনেক রাসূলকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল; কিন্তু তারা ধৈর্যধারণ করেন…”[[6]]
- ঠাট্টা (সুখরিয়াহ) এবং বিদ্রূপ (ইসতিহজা) করা; আল্লাহ্ তাবারাক ওয়া তা’আলা বলেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُوا مِنَ الَّذِينَ آَمَنُوا يَضْحَكُونَ
“যারা অপরাধী তারা তো মু’মিনদেরকে উপহাস করত।”[[7]]
“যারা অপরাধী তারা তো মু’মিনদেরকে উপহাস করত।”[[7]]
- এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আরও বলেনঃ
يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
“পরিতাপ বান্দাদের জন্য; তাদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে বিদ্রূপ করেছে।”[[8]]
“পরিতাপ বান্দাদের জন্য; তাদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে বিদ্রূপ করেছে।”[[8]]
- মু’মিনদেরকে পাগল (জুনুন) বলে অপবাদ দেয়া; আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَقَالُوا يَا أَيُّهَا الَّذِي نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ
“তারা বলে, ‘ওহে যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ।”[[9]]
“তারা বলে, ‘ওহে যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ।”[[9]]
- মু’মিনরা কর্তৃত্ব (হুকুম) ও ক্ষমতালোভী (রিয়াসাহ) বলে অপবাদ দেয়া, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آَبَاءَنَا وَتَكُونَ لَكُمَا الْكِبْرِيَاءُ فِي الْأَرْضِ
“তারা বলতে লাগলোঃ তুমি কি আমাদের নিকট এইজন্য এসেছ যে, আমাদেরকে সরিয়ে দাও সেই তরিকা থেকে, যাতে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের পেয়েছি, আর পৃথিবীতে তোমাদের দুইজনের আধিপত্য স্থাপিত হয়ে যায়?”[[10]]
“তারা বলতে লাগলোঃ তুমি কি আমাদের নিকট এইজন্য এসেছ যে, আমাদেরকে সরিয়ে দাও সেই তরিকা থেকে, যাতে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের পেয়েছি, আর পৃথিবীতে তোমাদের দুইজনের আধিপত্য স্থাপিত হয়ে যায়?”[[10]]
- মু’মিনদের ধর্মত্যাগ ও বিশৃঙ্খলা (ফাসাদ) সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত করা, আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُونِي أَقْتُلْ مُوسَى وَلْيَدْعُ رَبَّهُ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَ
“ফিরাউন বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার প্রতিপালকের শরণাপন্ন হোক। আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দ্বীনের পরিবর্তন ঘটাবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।”[[11]]
“ফিরাউন বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার প্রতিপালকের শরণাপন্ন হোক। আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দ্বীনের পরিবর্তন ঘটাবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।”[[11]]
- মু’মিনদের দারিদ্র ও অসহায়ত্বের সুযোগে গালমন্দ করা, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ
“তারা বললঃ আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব অথচ নিচু শ্রেণীর লোকেরা তোমার অনুসরণ করছে।”[[12]]
“তারা বললঃ আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব অথচ নিচু শ্রেণীর লোকেরা তোমার অনুসরণ করছে।”[[12]]
- তারা এটি করত যাতে অন্য মানুষেরা মু’মিনদের নিকটে না আসেঃ
قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آَمَنُوا أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌ مَقَامًا وَأَحْسَنُ نَدِيًّا
“…কাফিররা মু’মিনদের বলেঃ দু’দলের মধ্যে কোনটি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসেবে কোনটি উত্তম।”[[13]]
“…কাফিররা মু’মিনদের বলেঃ দু’দলের মধ্যে কোনটি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসেবে কোনটি উত্তম।”[[13]]
[1] সূরা ফুরকান ২৫:৩১
[2] সূরা আন’আম ৬:১১২
[3] সূরা আন’আম ৬:১১২
[4] সূরা ফুসসিলাত ৪১:৪৩
[5] সূরা যারিয়াত ৫১:৫২—৫৩
[6] সূরা আন’আম ৬:৩৪
[7] সূরা মুতাফ্ফিফীন ৮৩:২৯
[8] সূরা ইয়াসীন ৩৬:৩০
[9] সূরা ইয়াসীন ৩৬:৩০
[10] সূরা ইউনুস ১০:৭৮
[11] সূরা মু’মিন ৪০:২৬
[12] সূরা শূরা ২৬:১১১
[13] সূরা মারইয়াম ১৯:৭