আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
কেমন ছিলেন তারা?!
।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- তৃতীয় পর্ব
কেমন ছিলো তাদের খোদাভীতি, দুনিয়া বিমুখতা ও তাকওয়া?
এক্ষেত্রেও তারা ছিলেন অনন্য। তাইতো আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রশংসা করে বলেন-
إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا
যখন তাদের সামনে রহমানের আয়াত সমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা কান্নারত অবস্থায় সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। [সুরা মারঈয়াম - ১৯:৫৮]
অন্তরে ঈমানের বিশালতার কারণে তারা প্রতিটি গুনাহকে অনেক ভয় করতেন। আমাদের মত নয়। আমরা তো আজ গুনাহের বিষয়টিকে হালকা করে ফেলেছি। আমরা বলি এটা সগীরা, এটা কবীরা। এটা ছিলকা, এটা মূল। এটা এক নব আবিষ্কৃত বিষয়, আমরা দ্বীনকে বিভিন্নভাবে ভাগ করে ফেলেছি।
আমরা বলি এটা মূল হুকুম, এটা প্রাসঙ্গিক। এই বিষয়টি আমরা আসলাফদের মাঝে পাইনি। তারা আল্লাহর প্রতিটা বিধানকে মহা গুরুত্বের সাথে দেখতেন। কোনটাকেই কোন দিক থেকে ছোট করে দেখতেন না। তারা আল্লাহর শাআইরকে সম্মান করতেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ
আর যে আল্লাহর শাআইরকে সম্মান করে, এটা তার অন্তরে তাকওয়া থাকার প্রমাণ।[সুরা হাজ্জ্ব - ২২:৩২]
وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ
আর যে, আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, এটা তার জন্য তার রবের কাছে অনেক উত্তম। [সুরা হাজ্জ্ব - ২২:৩০]
ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন- হযরত আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু তার যুগের মানুষকে সম্বোধন করে কিছু কথা বলেন। খেয়াল করুন, তিনি কাদেরকে সম্বোধন করছেন! তিনি তাবেয়ীদের সম্বোধন করে বলেছেন,
إنكم لتعملون أعمالاً هي أدق في أعينكم من الشعر، كنا نعدها على عهد رسول الله ﷺ من الموبقات
‘তোমরা বহু এমন (পাপ) কাজ করছ, সেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও সূক্ষ্ম (নগণ্য)। কিন্তু আমরা সেগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে “মুবিকাত” বিনাশকারী মহাপাপ বলে গণ্য করতাম।’ (সহীহ বুখারী-৬৪৯২)
আল্লাহু আকবার! তিনি সে যুগের মানুষকে এই কথা বলছেন। তিনি যদি আমাদের এই বর্তমান সময়টা দেখতেন! আমাদের কার্যক্রম দেখতেন!! মুসলিমরা আজ আল্লাহর শরীয়তকে বাস্তব জীবন থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। নিজেদেরকে হাকেম বানিয়ে নিয়েছে। পশ্চিমাদের আইন কানুন দ্বারা মুসলিমদের পরিচালিত করছে। যেই কানুন দুর্গন্ধময়, দুর্গন্ধময়, আল্লাহর কসম পচা দুর্গন্ধময়।
কেমন হতো, যদি আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু আজ আসতেন, আর এসে দেখতেন যে - মুসলিমদের উপর ক্রুসেডাররা আক্রমণ করছে, মুসলিম নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করছে। পবিত্র স্থানসমূহের মর্যাদাহানি করছে।
কেমন হতো যদি তিনি এসে দেখতেন যে, পশ্চিমা নোংরা কালচারে মুসলিমদের সমাজ ছেয়ে গেছে। অপবিত্র নাপাক মিডিয়া, অশ্লীল নেট মুসলিমদের ঘরে ঘরে হামলা দিয়েছে। দ্বীনদারী, চরিত্র এবং আকীদা সব বরবাদ করে দিচ্ছে। কি বলতেন, যদি আনাস বিন মালেক আমাদের মাঝে আসতেন আর দেখতেন, সুদি ব্যাংকগুলো গ্রামে গঞ্জে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। যে সকল ব্যাংক আল্লাহ এবং তার রাসূলের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত মুসলিমরা সেখানেই ছোটাছুটি করছে। যদি তিনি দেখতেন যে, মুসলিম নারীরা অশ্লীল পোশাক পরিধান করে রাস্তা ঘাট আর বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সর্বত্র অশ্লীলতা, বেহায়াপনা আর নির্লজ্জ ফটোশুটের আয়োজন চলছে। কি বলতেন তিনি যদি এই চিত্র দেখতেন?!
আমি ভাবি, আজ যদি আনাস বিন মালেক ধরাপৃষ্টে আসেন, আর মুসলিমদের জীবনাচরণ, চরিত্র, লেনদেন, আইন-আদালত আর রাস্তাঘাট দেখেন, তাহলে তিনি এক মিনিটও এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারবেন না। হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে, শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাবেন।
হে আমার বন্ধুগণ!
আমরা কি আল্লাহর নির্দেশের সম্মান রক্ষা করি? আল্লাহর শরীয়তের মর্যাদা রক্ষা করি?
“হুকুমের সম্মান করার দ্বারাই হাকেমের সম্মান প্রকাশ পায়”।
আমরা যদি আল্লাহর হুকুমের সম্মান রক্ষা করতে পারি, তাহলেই বুঝা যাবে, আমাদের দিলে আল্লাহর আযমত রয়েছে। কিন্তু আসলেই কি আমরা আল্লাহর হুকুম সমূহের সম্মান রক্ষা করতে পারছি?
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
مَّا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا
কি হলো তোমাদের তোমরা আল্লাহর (শ্রেষ্ঠত্বের পরোয়া করছো না) তথা তাঁর মর্যাদা রক্ষা করছো না। [সুরা নূহ - ৭১:১৩]
কেন আপনারা আল্লাহকে ভয় করছেন না? কেন আপনারা আল্লাহর হুকুমের তাযীম করছেন না? বর্তমানে মানুষ অমুক প্রেসিডেন্টের তাযীম করে। অমুক নেতার আযমত জানে এবং তার নির্দেশসমূহের সামনে মাথা নত করে। কিন্তু তারা আল্লাহর আযমত জানে না। গুনাহকে ভারী মনে করা, ভয়াবহ জানা - এটা ইমানের আলামত। এই অনুভূতি থেকেই তাওবার আগ্রহ পয়দা হয়। কান্না আসে। আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা জাগ্রত হয়। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দারা! আপনারা গুনাহের ভয়াবহতা বুঝার চেষ্টা করুন। রুহের মৃত্যু থেকে পানাহ চান।
Comment