আবাবিল প্রকাশন মিডিয়া পরিবেশিত
ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।মাওলানা আসেম ওমররহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–একবিংশ পর্ব
ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।মাওলানা আসেম ওমররহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–একবিংশ পর্ব
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে থেকে একনিষ্ঠভাবে শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য চেষ্টা করা
যদি এ কথা বলা হয় যে, যারা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামী নিযাম ও জীবনব্যবস্থার জন্য তৎপর, তারা তো মুখলিস। এজন্য কি তারা প্রতিদান পাবে?
এমন মনে করা নফসের ধোঁকা এবং শয়তানী অপকর্মকে তাদের সামনে সৌন্দর্যমন্ডিত করে উপস্থাপন করা। যে কোনো কাজ যা ভালো উদ্দেশ্যে ইখলাস এবং বিশুদ্ধ নিয়তে করা হয়, আল্লাহর কাছে তা কবুল হয় । তাহলে কাফেরদের মূর্তি পূজার আমলকে কুফরি বলা হয়েছে কেনো? তারা তাদের ধারনা অনুযায়ী আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিমিত্তেই এসব মূর্তির পূজা করত । তারা বলত-
هَؤُلاَءِ شُفَعَاءُ عِنْدَ الله
মূর্তিগুলো আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করে। [সূরা ইউনুস: ১৮]
তারা আরো বলত
مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَىٰ
আমরা তো কেবল এই মূর্তিগুলো এজন্য পূজা করি যে, এ মূর্তিগুলো আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যশীল বানিয়ে দিবে। [সূরা যুমার : ৩]
এরা তো এ মূর্তিগুলোকে এ কারণেই পূজা করত যে, এরা মূর্তিগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যশীল হয়ে যাবে । কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের আমলকে কুফর বলেছেন।
একটা বিষয় খুব ভালো করে বুঝে নিবেন যে, কোনো আমলকে ততক্ষণ পর্যন্ত উত্তম আমল বা নেককাজ বলা যায়না, যতক্ষণ না তার ভেতর দুটি জিনিস পাওয়া না যায়।
এক. আমলটি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হতে হবে।
দুই. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের তরিকা অনুযায়ী হতে হবে।
এই জিনিস দুটি যদি কারো আমলের মধ্যে পাওয়া যায়, তবে তার সেই আমল উত্তম আমল বা নেক কাজ বিবেচিত হবে।
ফুযাইল বিন ইয়ায রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
العمل الحسن هو أخلصه . وأصوبه . قالوا : يا أبا علي ! ما أخلصه ‘ وأصوبه ؟ قال : إن العمل إذا كان خالصًا ولم يكن صوابًا لم يقبل ‘وإذا كان صوابًا ولم يكن خالصًا لم يقبل ‘ حتى يكون خالصًا صوابًا . والخالص ما كان الله ‘ والصواب ما كان على السنة.
নেক আমল হল যা ইখলাসওয়ালা হয় এবং সঠিক হয়। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, হে আবু আলী! ইখলাসওয়ালা এবং সঠিক আমল কোনটি? (ফুযাইল বিন ইয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বললেন, নিঃসন্দেহে আমল যদি খালেস হয় কিন্তু সঠিক না হয়, তা কবুল করা হয় না। আর যখন সঠিক হয় কিন্তু খালেস হয় না, সেটাও কবুল করা হয় না। খালেস আমল হল সেটা, যা শুধু আল্লাহর জন্য হয়। আর সঠিক আমল হল সেটা, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী হয়।[1]
প্রিয়তম নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেন-
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌ
কোন ব্যক্তি এমন আমল করল, যে ব্যাপারে আমার নির্দেশ নেই,তা কবুল করা হবে না।[2]
আর আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
وَقَدِمْنَا إِلَىٰ مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَّنثُورًا
আর তারা যে কাজ করেছে আমি সেদিকে অগ্রসর হব। অতঃপর তাকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব । [সূরা ফুরকান : ২৩]
হাফেয ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর তাফসীরে বলেন-
فكل عمل لايكون خالصا وعلى الشريعة المرضية فهو باطل...
যেই আমল ইখলাসপূর্ণ হবে না এবং আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী হবে না, তা বাতিল।
আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন-
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ خَاشِعَةٌ .عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ . تَصْلَىٰ نَارًا حَامِيَةً . تُسْقَىٰ مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ
সেদিন অনেক চেহারা হবে অবনত । কর্মক্লান্ত, পরিশ্রান্ত ৷ তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে । তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে। [সূরা গাশিয়া : ২-৫]
এই আয়াতের উদ্দেশ্য হল, পৃথিবীতে অনেক মানুষ এমন কাজ করে, যেগুলোকে তারা সাওয়াবের কাজ মনে করে। রাত-দিন তারা নিজেকে সেই কাজে ব্যতিব্যস্ত রাখে। কিন্তু তাদের সেই কাজ যেহেতু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পন্থায় হয় না, এজন্য তা আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হয় না।
সূরা কাহাফে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا . الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত' দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে! [সূরা কাহাফ : ১০৩]
এমনিভাবে সূরা নিসায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا
সুতরাং তখন কেমন হবে, যখন তাদের উপর কোন মুসীবত আসবে, সেই কারণে যা তাদের হাত পূর্বেই প্রেরণ করেছে? তারপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করা অবস্থায় তোমার কাছে আসবে যে, আমরা কল্যাণ ও সম্প্রীতি ভিন্ন অন্য কিছু চাইনি। [সূরা নিসা : ৬২]
ইমাম শওকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
(মোনাফেকরা বলত) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাদ দিয়ে ফয়সালার জন্য অন্যের নিকট যাওয়ার পিছনে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ভালো । খারাপ কোনো অভিপ্রায় ছিল না আমাদের । এখানে উভয় ঝগড়াকারীর মাঝে সমঝোতা করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতা করা নয় । (ফাতহুল কাদীর)
অনৈসলামিক পন্থায় ইসলামের বিজয় সম্ভব নয়
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
আর যে রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার জন্য হিদায়াত প্রকাশ পাওয়ার পর এবং মুমিনদের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাব যেদিকে সে ফিরে এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে। [সূরা নিসা : ১১৫]
আল্লামা ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর তাফসীরে বলেন-
ومن سلك غير طريق الشريعة التي جاء بها الرسول صلي الله عليه وسلم. فصار في شق
যে কোনো ব্যক্তিই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত শরীয়তের পথ ছেড়ে অন্য কোনো পথে চলবে, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতায় লিপ্ত হল।
অনইসলামী পথে ইসলাম কিভাবে আসতে পারে? তারা তো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ ছেড়ে দিয়ে তার বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে । আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতায় লিপ্ত হয়, ইহ-পরকালে কেউ কি তাকে সাফল্যমণ্ডিত করতে পারে? কবির ভাষায় এদের পরিণতি হল-
نہ خدا ہی ملا نہ وصال صنم
نہ ادھر کے رہے نہ ادھر کے رہے
না খোদাকে পেল না দেবতাকে ।
সে তো একুলও হারাল ওকুলও হারাল ।
ইচ্ছা করলে দু চোখ খুলে দেখে নিতে পারেন । আলজেরিয়া থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের অসংখ্য উপাখ্যান ছড়িয়ে আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের পথ পাশ কেটে যারা ইসলামী বিপ্লব আনতে চেয়েছে, তারা কি পেয়েছে? আলজেরিয়ার পর এখন মিশরের বিভীষিকাময় ট্রাজেডিও আমাদের সামনে রয়েছে । সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দেশে কোনো কোনো শক্তি ইসলামের নামে ক্ষমতা লাভ করেছে । কিন্তু ইসলাম এখনো গণতন্ত্রের পার্লামেন্টের মুহতাজ । ইসলাম অনুমোদন করার জন্য আগে যেভাবে দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিতে হত, হোঁচট খেতে হত, বিপ্লব ঘটার পরও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত পার্লামেন্টের অনুমোদনের মুহতাজ হয়ে আছে । সুতরাং মনে রাখতে হবে যে, নামসর্বস্ব ধর্মীয় কোনো দলের ক্ষমতা পাওয়ার নাম ইসলামী বিপ্লব নয়। ইসলামী বিপ্লবের নজির দেখতে হলে আফগানিস্তানের তালেবানদের নেযাম দেখে নিন।
ইবনে জারীর তাবারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াতের তাফসীরে বলেন-
يتبع غير سبيل المؤمنين . يقول : ويتبع طريقا غير طريق اهل التصديق. ويسلك منها جًا غير منهاجًا غيرمنهاجهم.وذلك هو كفر بالله. لأن الكفر بالله ورسوله غيرسبيل المؤمنين وغير منهاجهم
আর ঈমানদারদের পথ ব্যতীত অন্য পথে চলা, তাদের মানহাজ ও পন্থা বাদ দিয়ে অন্য মানহাজ গ্রহণ করা, এটা আল্লাহর সাথে কুফরি করা । কারণ আল্লাহ এবং তার রাসূলের সাথে কুফরি করা ঈমানদারদের পথ এবং তাদের মানহাজ নয়।[3]
এই গণতন্ত্র বাতিল হওয়ার জন্য এতটুকুই কি যথেষ্ট নয় যে, এটা সাহাবায়ে কেরামের পথ নয়? এলায়ে কালিমাতুল্লাহর জন্য এই পবিত্র জামাত কিতাল ফি সাবিলিল্লাহর পথ অবলম্বন করেছেন। আর গণতন্ত্র তো এই কিতাল ফি সাবিলিল্লাহকে হারাম বলে ।
نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّي এর মর্ম এবং গণতান্ত্রিকদের জন্য শিক্ষা
আল্লামা ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মর্ম ইহা বর্ণনা করেছেন যে-
কেউ যখন (শরীয়তের এই পথ বাদ দিয়ে) অন্য পথে চলে, আমি তাকে সেই পথেই পরিচালিত করি । তার অন্তরে এই পথকে মনোহর ও সৌন্দর্যমন্ডিত বানিয়ে দেই। প্রলুব্ধ করণার্থেই এমনটি করা হয়।
যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“অতএব, যারা এই কালেমাকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি এমন ধীরে ধীরে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতে পারবে না"। [সূরা কলম : 88]
আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন-
তারা যখন সন্দেহে পড়েছে,আল্লাহ তায়ালাও তাদের অন্তরে সন্দেহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন । [সুরা আস-সাফ : ৫]
কাযি সানাউল্লাহ পানিপথি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
أي نجعله في الدنيا واليا لما تولي من الضلال
তারা যেই ভ্রষ্টতা অবলম্বন করেছে, পৃথিবীতে আমি সেই ভ্রষ্টতাকেই তার মিত্র বানিয়ে দিয়েছি । [তাফসীরে যাযহারী, সূরা নিসা : ১১৫]
খেলাফত প্রতিষ্ঠা ছেড়ে এই কুফরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় লিপ্ত লোকদের গোমরাহী ও ভ্রষ্টতার এটাই কারণ, আল্লাহ তায়ালা যা এই আয়াতে বর্ণনা করেছেন । শয়তান তাদের কাছে গণতন্ত্রের এই পথকে এমন মনোহর ও সৌন্দর্যমন্ডিত করে উপস্থাপন করেছে যে, তারা এটাকে ত্যাগ করার কথা কল্পনাই করতে পারে না। যাদের অন্তরে সত্যের অনুসন্ধিৎসা রয়েছে, তারা এর ব্যতিক্রম ।
গণতন্ত্রের পতাকা উত্তোলন করা হারাম
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
وَمَنْ قَاتَلَ تَحْتَ رَايَةٍ عِمِّيَّةٍ يَغْضَبُ لِعَصَبَةٍ أَوْ يَدْعُو إلَي عَصَبَةٍ أَوْ يَنْصُرُ عَصَبَةً فَقُتِلَ فَقِتْلَةٌ جَاهِلِيَّةٌ
যে ব্যাক্তি মুখ থুবড়ে পড়া পতাকার (অর্থাৎ যার হাকিকতই মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়) অধীনে কিতাল করল, কোনো গোঁড়ামির কারনে ক্রোধান্বিত হল অথবা কোনো সাম্প্রদায়িকতার দিকে মানুষকে আহ্বান করল অথবা সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কাউকে সাহায্য করল এবং (এ কাজগুলো করতে গিয়ে) মারা গেল, তার মৃত্যু হল জাহেলিয়াতের মৃত্যু ।[4]
দারুল উলুম দেওবন্দের মুফতীয়ে আযম মুফতী মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘ফতওয়ায়ে মাহমুদিয়া’য় 7451 নাম্বার প্রশ্নের উত্তরে বলেন, )প্রশ্নটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত) :
হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পতাকা ছিল ইসলামকে বুলন্দ করার জন্য এবং কুফরকে পরাজিত করার জন্য । আপনার নির্বাচনেও কি এটাই উদ্দেশ্য? এসব দলগুলোর পারস্পারিরক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি ইসলাম ও কুফরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতই? তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ পতাকাকে ইসলামী পতাকা এবং অন্যের পতাকাকে কুফরি পতাকা সাব্যস্ত করবে? (আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পানাহ দিন)। আর প্রচলিত এই নির্বাচন কি ইসলামী শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী হচ্ছে? এখানে কি ইসলামী আহকাম ও এবং শরয়ী হুদুদের পক্ষপাতিত্ব (রেআয়াত) করা হচ্ছে? পরস্পরের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনা, অবমাননা, মিথ্যা, পরনিন্দা, উপহাস, অপবাদ আরোপ... এমন কোনো ঘৃণ্য অস্ত্র নেই, যা ব্যবহার করা হয় না। অনেক সময় তাকফীর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এরপরও ইসলামী পতাকার অধীনে এগুলো করা এবং প্রত্যেকের নিজ নিজ পতাকাকে ইসলামী পতাকা বলা অত্যন্ত দোষণীয় এবং ইসলামকে কলঙ্কিত করা ।
[1] جهود علماء الحنفية في ابطال عقائد القبورية : الفصل الرابع : في جهود علماء الحنفية في تعريف العبادة وبيان اركانها. وأنوعها. شرط صحتها. وبطال عقيدة القبورية في ذلك كله . المبحث الثالث : في اركان العبادة. وأنوعها. شرط صحتها عند علماء الحنفية.وردهم علي القبورية في ذلك كله.المطلب الثالث :في صحة شروط العبادة . أبو عبد الله شمس الدين بن محمد أشرف قيصر الأفغاني (المتوفي:1420 ه)
[2] الصحيح لمسلم : الجزء9 .كتاب الأقضية. باب نقضالاحكام الباطلة ورد محدثات الأمور
[3] جامع البيان في تأويل القران : الجز 9 . محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الأملي. أبو جعفر الطبري
[4] الصحيح المسلم: الجز 9 .كتاب الامارة. باب وجوب الملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال وتحريم الخروج علي الطاعة ومفارقة الجما عة
[2] الصحيح لمسلم : الجزء9 .كتاب الأقضية. باب نقضالاحكام الباطلة ورد محدثات الأمور
[3] جامع البيان في تأويل القران : الجز 9 . محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الأملي. أبو جعفر الطبري
[4] الصحيح المسلم: الجز 9 .كتاب الامارة. باب وجوب الملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال وتحريم الخروج علي الطاعة ومفارقة الجما عة