ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–শেষ পর্ব
।।মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–শেষ পর্ব
কে কার জন্য যুদ্ধ করে
ঈমানদাররা শরীয়ত প্রবর্তনের (খেলাফত) জন্য যুদ্ধ করে । আর যারা এই শরীয়ত প্রবর্তনকে অস্বীকার করে অথবা বিরোধিতা করে, তারা শয়তানের পথে যুদ্ধ করে।
الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ ۖ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায়, আর যারা কুফরী করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল । [সূরা নিসা : ৭৬]
আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে যুদ্ধকারীদের স্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করে দিয়েছেন। যারা আল্লাহকে এক বিশ্বাস করে, তার নাযিলকৃত আইন ও সংবিধান সত্য স্বীকার করে, যেই মহান ব্যক্তিত্বের উপর এই আইন ও সংবিধান নাযিল করা হয়েছে, তার উপর ঈমান এনেছে, তবে এটা কি করে হতে পারে যে, তারা এগুলোর জন্য কিতাল করবে না? এর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাঁড়িয়ে যাওয়া ব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যুদ্ধ করবে না? সুতরাং যার অন্তরে ঈমান থাকবে, সে অবশ্যই আল্লাহর রাস্তায় কিতাল করবে। এমনিভাবে যারা আল্লাহর বিপরীতে অন্য কাউকে ইলাহ ও মা'বুদ মেনেছে, আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে অন্য আইন গ্রহণ করেছে, তারাও অবশ্যই তাগুতের ব্যবস্থার জন্য কিতাল করবে।
বিধায় বিশ্বে চলমান সন্ত্রাসের যুদ্ধে কারো কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে, যে যেই নিযাম ও ব্যবস্থা (দ্বীন) বিশ্বাস করে, মানে, সে তার জন্যই যুদ্ধ করছে। যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত এবং তার আনীত ব্যবস্থার উপর ঈমান এনেছে, এবং এর বিপরীত প্রতিটি শরীয়ত ও জীবনব্যবস্থাকে বাতিল মনে করে, তারা শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য কিতাল করছে। আর যারা শরীয়ত প্রবর্তন চায় না, খেলাফত ব্যবস্থা চায় না, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবস্থা প্রবর্তনে তাদের মৃত্যুদৃশ্য দেখতে পায়, তারা নিজেদের তৈরিকৃত জীবনব্যবস্থাকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করছে।
উভয় দলের (শরীয়ত প্রবর্তনের জন্য লড়াইকারী এবং শরীয়ত বিরোধী জীবনব্যবস্থার জন্য লড়াইকারী) ভাষণ বিবৃতি গভীর ভাবে পড়লে এই যুদ্ধ আরো সহজে বুঝে আসবে। অমুসলিম দেশ হোক কিংবা মুসলিম দেশ, উভয় দলের ভাষণ-আচরণ, দাবি-শ্লোগান এবং জীবন যাপন পদ্ধতি দেখে যে কোনো সুবিবেচক মানুষ অতি সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, কে কার জন্য যুদ্ধ করছে?
বাংলাদেশ হোক বা পাকিস্তান, আফগানিস্তান হোক বা ইরাক, সিরিয়া-ইয়ামান হোক বা মিশর এবং পশ্চিমা ইসলামী দেশ, يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ (আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকারী) এর শ্লোগান, দাবি এবং জীবন পদ্ধতি এক। يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ (তাগুতের পথে যুদ্ধকারী) এর শ্লোগান, দাবি এবং লাইফ স্টাইল সবার অভিন্ন।
সুতরাং এই যুদ্ধে কারা হক আর কারা বাতিল, এই বিতর্ক একেবারেই অনর্থক। সারা বিশ্বের তাগুতদের রক্ষিদেরও এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয় যে, এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী দল (মুজাহিদ) কি চায়? এদের সঙ্কল্প কি?
অনুরূপভাবে তাদেরকেও নিরাশ হতেই হবে যারা এই উম্মতকে জিহাদ থেকে বিরত রাখতে, কুফরির প্রতি অনুগত থাকতে এবং তাগুতের ব্যবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট থাকার পাঠ দিয়ে যাচ্ছে। এই উম্মত যেই জিহাদকে শহীদদের মাটি, সুসংবাদের ভূমি- আফগানিস্তান থেকে শিখেছিল, তা এখন অনেক স্তর অতিক্রম করে এমন স্তরে পৌঁছেছে যে, ইহুদী সুদখোরদের বানানো সুদি ব্যবস্থা মুজাহিদদের বন্দুক এবং আত্মোৎসর্গকারীদের আক্রমণে বুনিয়াদীভাবেই হুমকির মুখে।
অন্যদিকে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী জাগরণের যে ঢেউ শুরু হয়েছে, তাকে খেলাফতের চেয়ে নিচের কোনো রাষ্ট্র ব্যবস্থার দ্বারা ঠান্ডা করা যাবে না। এই উম্মতকে এখন ইবলিসের দাঁড় করানো ব্যবস্থা, দাজ্জালি শ্লোগান এবং অন্তসারশূন্য প্রতিশ্রুতির দ্বারা ভুলানো যাবে না। এই জাগরণের একমাত্র মনজিল খেলাফত... । হয় শরীয়ত না হয় শাহাদত... । খেলাফত পুনর্জীবিত হবেই হবে... ।
তাই হক্কানী ওলামায়ে কেরামের নিকট বিনীত দরখাস্ত, জিহাদের রাহনুমায়ীর জন্য, জিহাদকে শরীয়তের রেখাতে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য এবং খেলাফতকে সঠিকার্থে দাঁড় করানোর জন্য, তাদেরকে জিহাদের ময়দানে আসতে হবে। মুজাহিদদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, আল্লাহর ইচ্ছায় বিশ্ব কুফরি শক্তিগুলো বেশি দিন ময়দানে মুজাহিদদের মোকাবেলা করতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতের উপর রহম করবেন এবং সারা বিশ্বে কুফর লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে।
এমনিভাবে সাধারণ মুসলমানদেরকেও মুজাহিদদের পাশে দাড়ানো উচিত এবং শয়তানের আওয়াজ, মিডিয়ার দূষিত প্রোপাগাণ্ডা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে খেলাফত কায়েমের জন্য নিজেদের জান মাল এবং জবান- সবই ওয়াকফ করা উচিত। খেলাফত কায়েম করা মুজাহিদদের উপর যতটা ফরয, সমান ফরয প্রতিটি মুসলমানের উপরই। কিয়ামতের দিন এর ব্যাপারে সবাইকেই প্রশ্ন করা হবে। আর হক্কানী ওলামায়ে কেরামের সব চেয়ে বড় দায়িত্ব হল, খেলাফতের পক্ষে সাধারণ মানুষের মানসিকতা তৈরি করা, জনমত গড়ে তোলা এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার পথে যারা প্রতিবন্ধক, তাদের হুকুম স্পষ্টভাষায় বর্ণনা করা।
প্রচলিত বিশ্বব্যবস্থা বিদ্যমান থাকাকালীন মুসলমানরা সুদ থেকে বাঁচতে পারবে না। এই ব্যবস্থায় না মুসলিম ব্যবসায়ী তার ব্যবসাকে বাঁচাতে পারবে, না কৃষক তার জমিন থেকে কোনো কিছু উপার্জন করতে সক্ষম হবে। ক্রমাগত বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে। ন্যায় বিচার অরোণ্যরোদন হবে। কুফরি ব্যবস্থা নিরাপত্তা দেয়ার সামর্থ্যই রাখে না। এই ব্যবস্থা মুসলমানদেরকে যদি কিছু দিতে সক্ষম হয়, তা হল আত্মহত্যা, গণকবর, জনবসতির ধ্বংসস্তূপ। এই উম্মতের কন্যাদেরকে ধরে নিয়ে ৮৬ বছর কাফেরদের কয়েদখানা বন্দিত্ব, তাও এক মিলিয়ন চল্লিশ কোটি মুসলমান বিদ্যমান থাকা অবস্থায়... । এই ব্যবস্থায় নির্লজ্জতা ব্যপকতর হয়, অশ্লীলতা ডালভাত...। রূপ-সৌন্দর্য সস্তা, আত্মসম্মানহীনতার জয়জয়কার...। এই ব্যবস্থা জুলুমকে আর্ট এবং শিল্প বানায়... । ঈমান বিক্রয়ের বিনিময়ে ক্ষমতা দেয়... । যে লজ্জা ও আত্মসম্মান উপহার দেয়, তাকে বিশ্ব এওয়ার্ডে ভূষিত করে... ।
তাই স্মরণ রাখবেন, এই যুদ্ধ হল জীবনব্যবস্থার যুদ্ধ। আমরাও এর উপর ঈমান রাখি যে, আমরা এবং সারা দুনিয়ার আমাদের সকল সাথী কারো সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য যুদ্ধ করে না। বরং আমাদের যুদ্ধের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর দুনিয়া আল্লাহর ব্যবস্থা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কুরআন বাস্তবায়িত হবে। আমরা এ কথাও দ্ব্যার্থহীনভাবে স্বীকার করছি যে, আমাদের দুশমনও (বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও তার জোট) তার উদ্দেশ্যে একদম পরিস্কার। তারাও এজন্য যুদ্ধ করছে যে, দুনিয়াতে এই ইবলিসের তৈরিকৃত গণতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থা, বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থা এবং তাগুতি লাইফ স্টাইল বাকি থাকুক। মানুষ আল্লাহর ইবাদতের পরিবর্তে ইবলিসের ইবাদত করুক। বিশ্বের কোনো প্রান্তেই এমনকি গুহা-জঙ্গল ও পাহাড়েও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হোক। কারন, এতেই যে এই ইবলিসি জীবনব্যবস্থার মৃত্যু ৷
তাই প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা আমার! এই যুদ্ধ কুফর এবং ইসলামের... । এই যুদ্ধ মুহাম্মাদী নিযাম এবং ইবলিসি মিশনের... এই যুদ্ধ হল লাইফ স্টাইলের... । জি হ্যাঁ, এই যুদ্ধ, লাইফ স্টাইল এবং জীবন পদ্ধতির যুদ্ধ... ।
বলুন, এই পৃথিবীকে কিভাবে চালানো হবে... বিচার ব্যবস্থা কেমন হবে... অর্থ ব্যবস্থা কেমন হবে... যার দ্বারা শুধু মুসলমানরাই নয় বরং গরীব কাফেররাও তাদের অধিকার পাবে...?
এগুলো কে ভালো বলতে পারে? তারা, যারা নাকি নিজের মাকেও ব্যক্তি স্বার্থে বিক্রি করে। যারা নিজের মেয়েদেরকে উপহার দিয়ে ইবলিসি মিশন সফল করে... । নাকি সেই সত্ত্বা, যিনি এই উম্মতের আনন্দের জন্য সব কষ্ট বুকে ধারণ করেছেন...। যিনি এই উম্মতকে সুখি করার জন্য সব ক্ষত অন্তরে লুকিয়ে রেখেছেন। আপনিই ফয়সালা করুন, ইবলিসের তৈরিকৃত জীবনব্যবস্থা অনুযায়ী চলে মানুষ সফলতার শীর্ষে পৌঁছতে পারবে নাকি আল্লাহ প্রদত্ত জীবনব্যবস্থা শরীয়ত প্রবর্তন করে?
প্রিয় ভাইয়েরা আমার! ধোঁকা খাবেন না, প্রতারিত হবেন না। মিডিয়ার কথা কানে তুলবেন না। আপনারা মুসলমান, আপনার জবান কেনো কুফরির পক্ষে চলবে? আপনার সহমর্মিতা কিভাবে ইবলিসি দাজ্জালি শক্তি পাবে? কিয়ামতের দিন কি জবাব দিবেন? কি করে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখোমুখি হবেন? রাসূল প্রেমিকদের কাতারে তাকে কিভাবে উঠানো হতে পারে, যে নাকি একটি কথার মাধ্যমে হলেও আমেরিকা অথবা এই তাগুতি গণতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থার জন্য যুদ্ধকারী শক্তির পক্ষে সহযোগিতা করে? ধোঁকা... প্রতারণা... প্রবঞ্চনা... গলাবাজি....। আল্লাহর দোহায় লাগে, এসব গলাবাজিতে কান দিবেন না....। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শেষ জামানায় শয়তানেরা মানুষের আকৃতিতে এসে ওয়াজ করবে, ভাষণ দিবে । সুতরাং তোমরা তাদের বংশ পরিচয় জেনে নিয়ো।
টিভিতে কারা চাপাবাজি করে? কেউ শিয়া, কেউ কাদিয়ানি, কেউ পারভেজি...। কেউ আধুনিক মুরতাদ (স্যেকুলার), কেউ যিন্দিক...। কেউ ইরানে পড়েছে, কেউ ইসরাইলে দুই বছরে কাটিয়ে এসেছে...। কেউ ডেনমার্কের দূতাবাস থেকে ফান্ড নেয়, কেউ আমেরিকায় গিয়ে ইহুদীদের সিজদা করে…। কারো পুত্র গ্রিন কার্ড নিয়ে আমেরিকায় কাফেরদের কুকুর ধোওয়ায়, কেউ আমেরিকা ও ব্রিটেনের ভিসার জন্য ‘মুসলিহাত’এর চাদর পরিধান করে হক বাতিলকে মুখে ও কলমে এলিয়ে ফেলতে চায়। কারো শিক্ষক ওহিদুদ্দিন খান, কেউ বা গামেদির খলিফা...। আল্লাহর দোহায়... ধোঁকা খাবেন না, এটা ঈমানের বিষয়... পরকালের ব্যাপার...। ওই দিন কেউ কোনো কাজে আসবে না, উপকারে আসবে না। পথভ্রষ্টরা পথভ্রষ্টকারীদেরকে গালমন্দ করবে, ধিক্কার দিবে, কিন্তু তা কোনোই কাজে আসবে না... । ওয়ায়েজিন, মুবাল্লিগীন, কায়েদীন... সবাই সেদিন ভোল পাল্টাবে...। সাফ সাফ বলে দিবে, আমরা তো তোমাদেরকে বিপথে নেইনি, তোমাদের ভেতরই তো ভেজাল ছিল, তোমাদের অন্তরেই তো খাদ ছিল।
প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা! অন্তরের খাদ ও ভেজাল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করুন। অন্তরের এই খাদ পরিস্কার করার উত্তম পদ্ধতি হল জিহাদ। অলসতা অনেক হয়েছে, আর বিলম্ব করবেন না...। নফসের এই ধোঁকায় পড়বেন না যে, ইমাম মাহদী আসলে জিহাদ করব। পবিত্র কুরআন এই বাহানাকেও অন্তরের খাদ বলেছে।
وَلَوْ أَرَادُوا الْخُرُوجَ لَأَعَدُّوا لَهُ عُدَّةً
তারা যদি সত্যি জিহাদে বের হওয়ার ইচ্ছা রাখত তবে কিছুটা হলেও তো প্রস্তুতি নিত। [সূরা তাওবা : ৪৬]
সুতরাং জিহাদের প্রস্তুতি তো নিন। এ সময়ের জিহাদের যে প্রস্তুতি এবং যে মাধ্যমে জিহাদ করা হচ্ছে, তার প্রস্ততি গ্রহণ প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয। ইমাম মাহদীর যুগে কি অস্ত্র হবে, আমরা তার যিম্মাদার নই। সে সম্পর্কে আমাদেরকে জিজ্ঞাসাও করা হবে না। আমাদেরকে এ কথাই জিজ্ঞাসা করা হবে যে, কি করে এসেছো। ঠিক আছে, আপনার কথাই মেনে নিলাম যে, ইমাম মাহদীর সময় তো ক্লাশিনকোভ থাকবে না... সুতরাং তা চালানো শিখে লাভ কি? তাহলে আমার প্রশ্ন তরবারি চালানো কি শিখেছেন? চার পাঁচ কিলো ওজনের তরবারি হাতে তুলে কতক্ষণ ঘুরাতে পারেন? এক হাতে তরবারি আর এক হাতে ঘোড়ার লাগাম ধরে কিভাবে যুদ্ধ করতে পারবেন? অগ্নিঝরা দুপুরে তপ্ত মরুভূমিতে কয়দিন পায়ে হাটতে পারবেন? কখনো বরফ ঢাকা পাহাড়ে থেকে দুশমনদের সাথে যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা কি রয়েছে? টিভির স্ক্রিন ছাড়া কখনো কি স্বচক্ষে রক্তে রঙিন রনাঙ্গণ দেখেছেন?
হে এক আল্লাহ বিশ্বাসীরা! কথাগুলো আসলে এমনই । যাদেরকে জিহাদ করতে হয় তারা এ কথা চিন্তা করে না যে আগামীকাল ক্লাশিনকোভ থাকবে কি থাকবে না। তারা শুধু এটা দেখে যে, তাদের রব আজ কি হুকুম করেছেন। তাদের উপর কি ফরয করেছেন। ব্যাস, তারা শুধু নিজেদের জীবন কিতালের রাস্তায় আল্লাহর নিকট বিক্রি করে দেন। জান্নাতের বিনিময়ে... জান্নাতের দৃশ্য এবং প্রিয়তম প্রভুর দর্শনের আশায়... মহান রবের সাক্ষাতের ব্যাকুল আগ্রহে... মালিকের সাথে ব্যবসা করে... লাভজনক ব্যবসা... যে ব্যবসায় কোনো প্রকার লস নেই... বড় লাভবান ব্যবসা। আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য...আল্লাহর দুশমনদের ব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য…বিলম্ব করো না... । উভয় জগতের বাদশা যেন আবার রাগ করে ঘোষণা না করেন-
إِنَّكُمْ رَضِيتُم بِالْقُعُودِ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَاقْعُدُوا مَعَ الْخَالِفِينَ
নিশ্চয় তোমরা প্রথমবার বসে থাকাই পছন্দ করেছ, সুতরাং তোমরা বসে থাকো পেছনে (বসে) থাকা লোকদের সাথে। (সূরা তওবা : ৮৩)
কারো বসে থাকায় আল্লাহর জিহাদের কোনো ক্ষতি হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা কারোই মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং ওঠো, হে উম্মতে মুহাম্মাদীর নওজোয়ানরা ওঠো...! যেই নবীর ভালোবাসার দাবি কর, তার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য বেরিয়ে আসো...। এর মোকাবেলায় দাঁড়ানো ব্যবস্থার রক্ষীরা তাদের ব্যবস্থাকে বাঁচানোর জন্য সর্বত্র লড়াই করে যাচ্ছে। তারা সবাই জোট বেঁধেছে…ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং তারাও, যারা মুখে মুখে নবীজির কালেমা পড়ে কিন্তু অন্তর... তাদের জীবন... নবীজির দুশমনদের সঙ্গে রয়েছে...। এরাও শয়তানের ব্যবস্থা রক্ষা করার জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার শপথ করেছে...।
প্রিয়, তোমরাও তোমাদের প্রিয়তম নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিযাম ও জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার শপথ কর...। বিশ্ব জুড়ে একটাই শ্লোগান উচ্চকিত কর.... হয় শরীয়ত, না হয় শাহাদত... হয় শরীয়ত, না হয় শরীয়ত। প্রিয়, সফলতার পথ এটাই ।
ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
اللهم صلي على سيدنا محمد و على اله صلاة أنت لها اهل وهولها اهل
সমাপ্ত