Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৪৫ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন হাফিযাহুল্লাহ ।। দ্বিতীয় পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৪৫ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন হাফিযাহুল্লাহ ।। দ্বিতীয় পর্ব

    বালাকোট মিডিয়া পরিবেশিত

    ইসলাম এবং গণতন্ত্রের বাস্তবতার বিষয়ে২০০৭ সালে কৃত শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) এর একটিঅত্যন্ত উপকারী আলোচনা

    ইসলাম ও গণতন্ত্র
    ।।শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (হাফিযাহুল্লাহ) ।।
    এর থেকেদ্বিতীয় পর্ব


    এদের মধ্যে আছেন অবশ্যই প্রথমত আবু বকর সিদ্দীক, এরপর উমর ইবনে খাত্তাব এবং উসমান ইবনে আফফান এবং আলী ইবনে তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুম। সর্বপ্রথম এই খুলাফায়ে রাশেদীন এবং অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরিবার, যার মধ্যে আছে তাঁর স্ত্রী আয়েশা এবং ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এবং তারা সবাই - যাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এবং এরপর ন্যায়নিষ্ঠ সাহাবীদের মধ্যে যারা আলেম, উদাহরণস্বরূপ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ, আবু হুরায়রা এবং আরো অনেক সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

    এরাই তাঁরা যাদের দৃষ্টান্তকে নবীজি আঁকড়ে ধরে রাখতে বলেছিলেন। যখনই আমরা মতপার্থক্য দেখবো, আমাদেরকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে। আমাদের খেয়াল-খুশির কাছে নয়, আমাদের মতামত, আমাদের কামনা অথবা আমাদের বুদ্ধিমত্তার কাছে নয়। বরং, যখনই কোনো বিষয়ে আমাদের মতভেদ হবে, আমাদেরকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে।

    সুতরাং ইসলামের মৌলিক কথা, ইসলামের একটি মৌল বৈশিষ্ট্য হলো আনুগত্য, আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ, আল্লাহ ও তাঁর আদেশের প্রতি বাধ্য থাকা। এটাই হচ্ছে ইসলামের অর্থের একটি মৌল পরিচয়। এজন্যই সবসময় মুমিনদের কথা একটাই, “আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।”

    সুতরাং এটাই হচ্ছে ইসলাম – আল্লাহ ও আল্লাহর আদেশের প্রতি আত্মসমর্পণ, আর আল্লাহর আদেশ নিয়েই গঠিত তাঁর শরীয়ত।

    আল্লাহ আমাদের যেসব আইন, আদেশ এবং নিষেধ দিয়েছেন সেগুলো সব নিয়েই শরীয়ত; হোক সেটা নামায পড়ার আদেশ ও নামায কিভাবে পড়তে হয় সেই বিধান, যাকাত দেবার আদেশ ও যাকাত কিভাবে দিতে হয় সেই বিধান, রোজা রাখার নির্দেশ ও রোজা কিভাবে রাখতে হয় সেই বিধান, হজ্জ্ব করবার আদেশ ও হজ্জ্ব কিভাবে করতে হয় সেই বিধান; সকল বিশ্বাসসমূহ যা আমাদেরকে ধারণ করতে হবে আল্লাহ, ফেরেশতাগণ, নবী-রাসূলগণ আলাইহিমিস সালাম, কিতাবসমূহ, তাকদীর এবং মৃত্যুর পরের জীবনের ব্যাপারে; সকল আইন-কানুন যেগুলো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে মেনে চলতে হবে, কোনটা হালাল এবং কোনটা হারাম – এটাই শরীয়ত, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আইনসমূহ। তালাক সংক্রান্ত আইন, পারিবারিক আইন, অপরাধ সম্পর্কিত আইন, আন্তর্জাতিক আইন – এভাবে সকল আইনসমূহ নিয়েই শরীয়ত গঠিত।

    সুতরাং ইসলাম আমাদেরকে যে শিক্ষা দেয় তার মূল এবং সারমর্ম হলো, আমাদের নিজেদেরকে আত্মসমর্পণ করতে হবে আল্লাহর আইনের কাছে। একজন মুসলমান বলতে এমন আত্মসমর্পণকারীকেই বুঝানো হয়ে থাকে।

    ইসলামের শিক্ষার সারমর্ম হলো, যদি কোনো মুসলমানকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় যেখানে অন্য কোনো লোক তাকে এমন আদেশ দিয়েছে যা আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে মুসলমান হলো সেই ব্যক্তি যে সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করবে। একজন মুসলমান বলতে যা বোঝায় এটাই হলো তার সারমর্ম – আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ।

    আমরা আমাদের পিতামাতা, আমাদের শিক্ষকমন্ডলী, আমাদের স্ত্রীগণ, আমাদের ছেলেমেয়ে, আমাদের কামনা-বাসনা, আমাদের শাসকবর্গ – বা অন্য যেই হোক না কেন; আমরা এদের সবার পূর্বে আল্লাহর আদেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করি।

    মুসলমান হওয়া মানে হলো আল্লাহ সবার আগে। আর যদি আমরা আমাদের হৃদয় এবং আমাদের অন্তর দিয়ে কাউকে আল্লাহর সমান বলে গণ্য করি, তাহলে সেটা হয়ে যাবে শিরক। এটা একটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

    এটা এমন একটা অপরাধ যার ব্যাপারে আল্লাহ বলেন যে, তিনি যেকোনো গুনাহ নিজ ইচ্ছানুযায়ী ক্ষমা করবেন, কিন্তু তিনি ক্ষমা করবেন না শিরক অর্থাৎ কাউকে তাঁর প্রতিপক্ষ, অংশীদার ও সমকক্ষ স্থির করা।

    যে কেউই আল্লাহর সাথে শিরক করবে, যে কেউই আল্লাহর সাথে প্রতিপক্ষ, অংশীদার ও সমকক্ষ বানিয়ে নেবে, যে কেউই বিশ্বজগতের কোনো কিছুকে আল্লাহর সমপর্যায়ের মনে করবে, তাহলে অবশ্যই জান্নাত তার জন্য হারাম হয়ে যাবে এবং জাহান্নামের আগুন হবে তার চিরস্থায়ী বাসস্থান। কোরআন আমাদেরকে এই কথারই শিক্ষা দেয়।([1])

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়াত উল্লেখ করেছেন যার প্রতি আমাদের তীক্ষ্ণ মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিছু লোকদের সম্পর্কে বলেন, যারা আমাদের পূর্বে এসেছিল এবং এখনো রয়েছে, তারা হলো ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা - যারা তাদের আলেম ও ধর্মযাজকদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে রব বানিয়ে নিয়েছে।([2])

    সেখানে একজন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন যিনি আগে খ্রীষ্টান ছিলেন। তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তাদের উপাসনা করতাম না!” তিনি আগে খ্রীষ্টান ছিলেন, এবং তিনি মনে করছিলেন যে, খ্রীষ্টানরা তো তাদের আলেম ও ধর্মযাজকদের উদ্দেশ্যে সিজদা করতো না! তারা তো তাদের সামনে কাকুতি-মিনতি করতো না এবং তাদের কাছে প্রার্থনা করতো না এবং তাদের উপাসনা করতো না!

    কিন্তু নবীজি এরপর এই আয়াতের অর্থ ব্যাখ্যা করে দিলেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারা কি তোমাদের জন্য তা হালাল করে নি যা আল্লাহ হারাম করেছেন? আর তোমরা তা মেনে নিয়েছো।”

    “আর তারা কি তোমাদের জন্য তা হারাম করেনি যা আল্লাহ হালাল করেছেন? এবং তোমরা তা মেনে নিয়েছো।”

    “আবার, তারা কি তোমাদের জন্য সেসব জিনিস বৈধ করে নি যেগুলোকে আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন?”

    “এবং তারা কি তোমাদের জন্য সেসব জিনিস নিষিদ্ধ করেনি যেগুলোকে আল্লাহ বৈধ করেছেন?”

    সাহাবী বললেন, “হ্যাঁ। আমরা তো এগুলো করতাম।”

    এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটা ছিল তাদের প্রতি তোমাদের ইবাদত।”([3])

    সুতরাং নিঃসন্দেহে, যে কেউই আল্লাহর পাশাপাশি কাউকে আইন প্রণেতা হিসেবে মেনে নিবে, স্বীকার করে নিবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে তাদেরও আইন প্রণয়ন করার অধিকার আছে, তাহলে সে আল্লাহর সাথে তাদেরকে অংশীদার বানিয়ে নিলো। যে কেউই এটা বিশ্বাস করবে যে, কোনো ইমাম, কোনো মুফতি, কোনো মাওলানা, কোনো শাইখ অথবা কোনো মানুষ আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম করার অধিকার রাখে, অথবা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল করার অধিকার রাখে, তাহলে তারা ঠিক সেটাই করলো যেটা ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা করেছিল। তাহলে আপনি তাদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছেন এবং তাদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করেছেন এবং তাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে একটা প্রতিমা হিসেবে উপাসনা করছেন।

    আমি আপনাদেরকে বলতে চাই, আমার ভাই ও বোনেরা, যা ইমাম আবু হানিফা তার অনুসারীদেরকে বলেছিলেন এবং যা ইমাম শাফেঈ তার ছাত্রদেরকে বলেছিলেন, এবং যা ইমাম মালিক তার ছাত্রদেরকে বলেছিলেন এবং যা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল তার ছাত্রদেরকে বলেছিলেন, এই সকল মহান ইমামগণ বলেছিলেন, “আমাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করো না। আমি যেখান থেকে গ্রহণ করেছি, তোমরাও সেখান থেকে গ্রহণ করো; কোরআন এবং সুন্নাহ।”

    “যদি তুমি দেখো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের কোনো কথা, কোনো হাদীস অথবা আয়াত আমার কথার বিপরীতে যায়, তবে আমার কথাকে প্রত্যাখান করো এবং আল্লাহর শিক্ষাকে গ্রহণ করো।”

    তাঁদের কাউকে এমন কোনো আসনে অধিষ্ঠিত করা যাবে না যেখানে আপনি মনে করবেন যে, তাঁদের কথা যেকোনো প্রশ্নের উর্ধ্বে, অথবা তাঁদের উক্তি গ্রহণের জন্য কোনো চিন্তা-ভাবনা ও জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। এটা কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বলেছেন তার সাথে মিলে? এই বিবেচনাটি থাকতে হবে।

    আমি একজন মানুষ। ইমাম মালিক, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহিমাহুমুল্লাহ - তাঁরাও মানুষ ছিলেন। আমরা সবাই ভুল করি। আমরা ভুলে যাই, আমাদের অনেক ত্রুটি হয়, আমরা মুখ ফসকে ভুল করে ফেলি। সুতরাং যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য আমাদেরকে সবসময় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরে যেতে হবে।
    আমি এটা বলছি না যে, আপনারা কেবল কোরআন ও হাদীস এর বই খুলবেন এবং ফতোয়া দেয়া শুরু করবেন। না! আমাদের অবশ্যই সবসময় আলেমদের প্রয়োজন আছে। এবং আমাদের অবশ্যই আলেমদের কথাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা আলেম নই। আমি একজন আলেম নই। আমি ইমাম আবু হানিফা অথবা ইমাম শাফেঈ অথবা ইমাম মালিকের মতো কোনো আলেম নই। আমি একজন মুফতি নই যে, ইজতিহাদ করতে পারবো। কিন্তু আমরা দেখতে পারি উলামাগণ কি বলেছেন এবং সেই কথাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা এবং অন্যান্য উলামাদের কথার সাথে তুলনা করতে পারি।

    ভাইয়েরা এবং বোনেরা, এই ব্যাপারে চিন্তা করুন। এই ব্যাপারে চিন্তা করুন।

    আজকাল যে বাইবেল আমাদের কাছে আছে, সেটা কি সেই তাওরাত যা আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালাম কে দিয়েছিলেন, এবং সেই ইনজীল যা আল্লাহ ঈসা আলাইহিস সালাম কে দিয়েছিলেন, সেই যাবুর যা আল্লাহ দাঊদ আলাইহিস সালাম কে দিয়েছিলেন? – এই বাইবেল কি সেই একই? হ্যাঁ অথবা না?

    না। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।

    সুতরাং, এটা কি সত্য নয় যে, এই বইগুলো পরিবর্তিত হয়েছে এবং বিকৃত হয়েছে এবং এগুলোর থেকে কিছু নেয়া হয়েছে এবং বাইরের কিছু এখানে প্রবেশ করানো হয়েছে? এই বইগুলোর ব্যাপারে এটা কি সত্য নয়?

    হ্যাঁ, সত্য। এখন বিশ্বাস করুন, যদি কারো নিজেদের ইমামদের এবং নিজেদের আলেমদের এবং নিজেদের ধর্মযাজকদের অন্ধভাবে অনুসরণ করার কোনো অজুহাত থাকতো, তাহলে সেটা হতো ইহুদী এবং খ্রীষ্টানরা। তারা বলতে পারতো, “দেখুন আমাদের ধর্মগ্রন্থ পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়ে গেছে। আমরা কিভাবে এমন গ্রন্থ বুঝতে পারবো যেটি বিকৃত হয়ে গেছে?”

    “সুতরাং আমরা আমাদের আলেম এবং ধর্মযাজকদের অন্ধ অনুসরণ করবো, কারণ আমাদের ধর্মগ্রন্থ বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

    সুতরাং, যদি কেউ অজুহাত খুঁজতে চায় তাহলে সে তা খুঁজে নিবে, কিন্তু আল্লাহ কি তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছেন? না। বরং আল্লাহ বলেছেন যে, তারা তাদের আলেম ও ধর্মযাজকদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে রব বানিয়ে নিয়েছে। নবীজি যার ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, এর মানে হলো আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল করে নেয়া।



    [1] সূরা নিসা, আয়াত: ১১৬
    [2] সূরা তাওবা, আয়াত: ৩১
    [3] এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, ইমাম তিরমিযী ও ইমাম ইবনে জারীর (রহিমাহুমুল্লাহ)। বিস্তারিত জানতে দেখুন তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা তাওবা এর ৩১ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা।




    আরও পড়ুন​
Working...
X