বালাকোট মিডিয়া পরিবেশিত
ইসলাম এবং গণতন্ত্রের বাস্তবতার বিষয়ে২০০৭ সালে কৃত শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) এর একটি অত্যন্ত উপকারী আলোচনা
ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (হাফিযাহুল্লাহ)।।
এর থেকে –শেষ পর্ব
ইসলাম এবং গণতন্ত্রের বাস্তবতার বিষয়ে২০০৭ সালে কৃত শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) এর একটি অত্যন্ত উপকারী আলোচনা
ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (হাফিযাহুল্লাহ)।।
এর থেকে –শেষ পর্ব
আমাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত করতে হবে। আমি কতদিন এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবো? আমি খুব অল্প সময়ের জন্যই এ দুনিয়াতে এসেছি।
আমি এরকম বলি না এবং এখনোও বলছি না যে, ইসলাম ও বর্তমান সমাজ সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আধুনিক সমাজে অনেক কিছু আছে যেগুলো ইসলামের সাথে সম্পূর্ণরূপে সঙ্গতিপূর্ণ। আর আধুনিক সমাজে এমন অনেক কিছুই আছে যেগুলো মূলতঃ ইসলাম থেকেই এসেছে।
মজার বিষয় হলো পশ্চিমা বিশ্বের অনেক ভালো দিকের প্রতি দৃষ্টিপাত করে যখন আমরা ইতিহাসের দিকে তাকাই, আমরা দেখতে পাবো এই গুণগুলো পূর্বেই মুসলমানদের সমাজে বিদ্যমান ছিল। প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমারা এই গুণগুলো আমাদের থেকে নিয়েছিল, তারা এগুলো বাস্তবায়ন করেছে এবং আমরা এগুলো ছেড়ে দিয়েছি।
আমরা অনেক উদাহরণ দেখতে পাই। আপনি যদি বিভিন্ন লেখনী পড়েন, উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি ইসলামের প্রতি পর্যবেক্ষণকারী পশ্চিমাদের লেখনী পড়েন, তারা এসব লিখেছিল দেড়শ বছর আগে, তারা প্রশংসা করেছিল যে, কিভাবে ইসলাম সাম্প্রদায়িকতাকে বাতিল করেছিল, কিভাবে ইসলাম ধর্ম সকল সম্প্রদায় অথবা লোকদেরকে একই কাতারে এনেছিল।
আর এখন আমরা দেখছি, কে সাম্প্রদায়িকতার মূলোৎপাটনে নেতৃত্ব দিচ্ছে ও অগ্রসর হচ্ছে? আমেরিকা, ব্রিটেন - এইসব দেশসমূহ। তাদের নিজ দেশে তারা সাম্প্রদায়িকতা দূরীকরণে অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এই সাম্প্রদায়িকতা দূরীকরণ বিষয়টি তারা উদ্ভাবন করে নি। আমাদের ধর্মে এটা শত শত বছর ধরেই আছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এটি এমন জিনিস যেটি মুসলমানদের ছিল এবং আমরা তা হারিয়ে ফেলেছি। এরকম অনেক কিছুই আমাদের ছিল যদি আপনি আমাদের দ্বীনের প্রতি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন।
যেমন ইসলামে আপনার পটভূমি কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়, আপনি হতে পারেন ময়লা পরিষ্কারকারীর ছেলে অথবা কৃষক। অথবা আপনি হতে পারেন একজন জ্ঞানী ব্যক্তি, একজন ডাক্তার, কিংবা একজন ইঞ্জিনিয়ার,.....
আপনি যদি ইতিহাসের দিকে তাকান এবং অনুসন্ধান করেন যে, এই ধারণাটি কোথা থেকে এসেছে, যদি আমরা পশ্চিমাদের দিকে তাকাই, আমরা দেখতে পাবো যে, পশ্চিমাদের ছিল এমন এক অভিশপ্ত ব্যবস্থা, যা ছিল “ফিউডাল” ব্যবস্থা।
এই ব্যবস্থা অনুসারে আপনি যদি একজন পেজেন্ট হয়ে জন্মগ্রহণ করেন - যাকে বলা হতো সার্ফ (দাস বা গোলাম), তবে আপনি হয়ে যাবেন জমিদারের গোলাম বা দাস। আপনি একজন গোলাম বা দাস, যেহেতু গোলাম হয়ে জন্মেছেন এবং এভাবে আপনার বংশ চলতেই থাকবে। এভাবে যে বণিক তার পরবর্তীরাও সেই বণিক। আপনি যোদ্ধা তো এর পর আপনার পরিবার সেটাই ধারণ করলো। আপনি অভিজাত হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন, আপনার পরিবারে তা থেকে যাবে।
এভাবে সবকিছু শক্ত করে রূপ দেয়া হয়েছিল। একজন দাস কখনো একজন যোদ্ধা হতে পারতো না। কক্ষনো না। একইভাবে একজন যোদ্ধাও কখনো বণিক হতে পারতো না।
পৃথিবীতে কোন সমাজ ব্যবস্থা এরকম বিভেদকে স্বীকৃতি দেয় নি? কারা মানুষ ও পেশার মাঝে সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিয়েছে? ইসলাম। এটা ইসলাম থেকে এসেছে।
কোন সমাজব্যবস্থায় ন্যায়বিচার বিদ্যমান ছিল যেখানে আপনি সমাজের কোন শ্রেণী থেকে এসেছেন সেটি কোনো ভূমিকা রাখে না? আপনি একজন নেতা হতে পারেন, আপনি একজন উচ্চবংশীয় হতে পারেন, আপনি সমাজের যেকোনো অংশ থেকে হতে পারেন। কিন্তু কাজী বা বিচারক আপনাকে তার সামনে আনতে পারতো এবং আপনার বিচার করতে পারতো, এবং এটা অস্বাভাবিক ছিল না।
এটাই হলো ইসলাম। সাহাবীদের (রাঃ) জীবনী থেকে আমরা এরকম অনেক বিখ্যাত কাহিনী, অনেক বিখ্যাত ঘটনা পাই। আসলে আমরা অনুসন্ধান করলে মুসলমানদের ন্যায়বিচারের অনেক সত্য ঘটনা খুঁজে পাবো। এটা কোনো বিষয় ছিল না যে, আপনি কে অথবা সমাজের কোন অংশ থেকে উঠে এসেছেন। আপনারা সবাই একই আইনের অধীনস্থ।
এটি এমন একটি ধারণা যেটি আজ পশ্চিমাদের মাঝে দেখা যায়। এবং আমার মনে আছে আমার একজন বন্ধুর কথা, সে কিছুদিন আগে আমাকে ফোন করেছিল। এবং ডিক চেনি, সে আমেরিকার অন্যতম একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, হতে পারে সে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট, আমি পুরোপুরি নিশ্চিত না। আপনারা হয়তো জানেন যে, সম্প্রতি তাকে দুর্নীতির অভিযোগে কোর্টে নেওয়া হয়েছে। তো আমার বন্ধু আমাকে ফোন করেছিল এবং বলেছিল, “খবর দেখেছো নাকি? এই আমেরিকানদের অবস্থা দেখেছো? দুর্নীতির অভিযোগে ডিক চেনিকে কোর্টে নেওয়া হয়েছে!”
আমার এই বন্ধুটি দুবাই থাকে। আমি বলেছিলাম, “হ্যাঁ। এটা কি বিস্ময়কর!... না?!”
“ভাই, তোমরা কি দুবাইতে এরকম কিছু চিন্তা করতে পারো? যেখানে তোমাদের একজন প্রিন্স অথবা কোনো একজন নেতা একটি দুর্নীতি করেছে এবং তাকে এভাবে কোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে?”
এরপর সে লজ্জা পেলো... এরপর সে লজ্জা পেলো এবং আর কিছু বললো না...
ভাই ও বোনেরা, যদি আপনারা সত্যিই জানতে ও বুঝতে চান যে কেন আল্লাহ এই লোকদেরকে জমিনে ক্ষমতা দিয়েছেন এবং আমাদের থেকে ক্ষমতা চলে গেছে, তাহলে, এর কারণ হচ্ছে তারা এই সকল ন্যায়বিচারের মূলনীতির অনুসরণ করে (যা আমাদের ইসলামে পূর্বেই ছিল)।
তাদের অনেক খারাপ গুণ থাকলেও এটির (ন্যায়বিচার) প্রচলন আছে - যদিও আমার মনে হয় এটার পরিবর্তন হচ্ছে - কিন্তু তারপরও তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের ধারণাটির প্রচলন আছে। এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার।
কিন্তু আমাদের দিকে তাকিয়ে দেখুন। মুসলমানদের দেখুন, আমাদের ভূমিগুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন, দেখুন কিভাবে আমরা একে অপরের সাথে আচরণ করছি। আমরা এমনকি একে অপরের ব্যাপারে কথা বলতে জানি না, এমনকি আমরা জানি না কিভাবে একে অপরের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হয়।
আমরা দেখি যে, অমুক দলের অমুক তমুক দলের তমুকের সমালোচনা করছে! অথচ তার নিজের দল বা সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তি যদি এর চেয়েও জঘন্য কিছু করে, সে তার সমালোচনা করে না! শুধুমাত্র অন্য দলের হওয়ায় সে তার সমালোচনা করছে: “এহ! দেখেছো ওকে, সে এটা করছে এবং ওটা করছে।” কিন্তু নিজের দলের লোক হলে সে তার ব্যাপারে অন্ধ হয়ে থাকে। এটা কি ন্যায়বিচার? এটা কি ন্যায়বিচার??
এমনকি সে ঐ দলের লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলবে অথবা তার উপর অপবাদ দিবে অথবা ঐ লোকের ব্যাপারে মিথ্যা কাহিনী রচনা করবে। এটা কি ন্যায়বিচার? আমরা এমনকি নিজেদের মাঝেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারি না!
এবং এগুলো হলো তথাকথিত ইসলামী দলের অবস্থা। তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কি?
আর আমরা আমাদের এই অবস্থা দেখে বিস্মিত হই! আর এরপর যদি আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচারকে গণতন্ত্রের অর্থ বানাই তাহলে চলবে না; কারণ এটা গণতন্ত্র না। এটা ইসলাম। আমাদের দ্বীন এটা আমাদেরকে শিখিয়েছে চৌদ্দশ বছর পূর্বে। এই বিষয়গুলো আমাদের উত্তরাধিকার, যা আমাদের দাবি করতে হবে।
এবং যদি আমরা কাফেরদের দেখে উপকৃত হই এবং লক্ষ্য করি তারা কি করছে এবং কিভাবে করছে, এবং আমরা মনে করি সেগুলোর থেকে আমরা উপকৃত হতে পারবো – তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। এতে কোনো সমস্যা নেই!
কিন্তু আমাদের কখনোই মনে করা উচিত না যে, এজন্য আমাদেরকে আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে ছাড় দিতে হবে! আমাদের কখনোই মনে করা উচিত না যে, আমদের দ্বীন পরিত্যাগ করতে হবে। আমরা কখনোও এমন চিন্তা করবো না যে, নিছক কোনো অ-ইসলামী ভাবাদর্শের সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য আমাদেরকে আমাদের সমগ্র দ্বীনকে পরিবর্তন করতে হবে!
আমি আপনাদেরকে এই সত্যটাই বলতে চাই, আমার ভাই ও বোনেরা! আমি আপনাদের কাছে প্রকৃত সত্যটা বলতে চাই, যা হচ্ছে: গণতন্ত্রের পতন ঘটছে! অনেক দেশে আপনি দেখতে পাবেন যে, গণতন্ত্র ব্যর্থ হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ধীরে ধীরে গণতন্ত্র ছেড়ে দিচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো গণতন্ত্র বলে কোনো কিছু আসলে নেই, এমনকি এর কোনো অস্তিত্বই নেই! পশ্চিমে যেটা আছে, আমার মতে সেটা হলো, গণতন্ত্রের নামে একটি বিভ্রম। এটা হচ্ছে গণতন্ত্রের নামে ধোঁকা।
তারা জনগণকে বিশ্বাস করাতে চায় যে, তাদের একটা মতামত বা বাছাই করবার অধিকার আছে, তারা চাইলে বিভিন্ন বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে; কিন্তু আসলে তারা কিছুই পরিবর্তন করতে পারে না। এক্ষেত্রে, পৃথিবীর মূল ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লোকদের হাতেই থেকে যায়।
তারা হলো বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ, তারা হলো বহুজাতিক কর্পোরেশনসমূহ, তারা হলো কিছু অভিজাত লোক যাদের হাতে ক্ষমতা ও অর্থ আছে, এবং তারা যেরূপ মূলনীতি চায় সেরূপ মূলনীতি অনুসারেই পৃথিবী চলে।
আপনার গার্লফ্রেন্ড অথবা বয়ফ্রেন্ড আছে নাকি নেই, আপনি সমকামী নাকি না, অথবা আপনি মাদকদ্রব্য সেবন করেন নাকি করেন না – এই সব দিয়ে তাদের কিছুই আসে যায় না।
প্রকৃতপক্ষে তারা এটাই চায়। কারণ আপনি যতই এসব পাপাচারে লিপ্ত হবেন, আপনার জীবন ততই দুঃসহ হয়ে উঠবে। আর আপনার জীবন যতই দুঃসহ হবে, ততই আপনার জীবনকে তৃপ্ত করার জন্য লাগবে ফ্যাশন, ছায়াছবি, পানীয়, সংগীত, এবং সকল ভোগ্য বস্তুসমূহ।
তারা আপনাকে দেখাতে চায় যে, জীবনকে তৃপ্ত করার জন্য এটা লাগবে, ওটা লাগবে, এটা নাও, ওটা নাও। দুর্দশাগ্রস্ত লোকেরাই ভোগে লিপ্ত হয়। সুতরাং এরূপ সমাজ তৈরি করে তাদের অনেক লাভ। তাই তারা সমাজটাকে সেভাবেই গড়তে চায়!
তাই আমি আসলে নিশ্চিত নই যে, তথাকথিত গণতন্ত্রের মাঝে আদৌ কোনো গণতন্ত্র আছে কিনা! যে জিনিসটা আমাকে এটা বুঝিয়েছে সেটা হলো,
সম্প্রতি ইংল্যান্ডে... শুধু ইংল্যান্ড না, বরং ইতালী এবং পুরো ইউরোপ জুড়ে ইরাকে যুদ্ধের বিপক্ষে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল; ইংল্যান্ডে এই যুদ্ধের বিপক্ষে পঁচিশ লক্ষ লোক জড়ো হয়েছিল।
ইতালীতে সংখ্যাটি ছিল পঞ্চাশ বা ষাট লক্ষ, এটা ছিল ইউরোপের ইতিহাসে আমাদের জানামতে সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ।
জরিপে প্রমাণিত হয়েছিল যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণই এই যুদ্ধের বিরূদ্ধে রয়েছে। কিন্তু তবুও তারা এগিয়ে গিয়েছিল এবং যুদ্ধ করেছিল। কোথায় গেলো সেই নীতি: “জনগণের থেকে, জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা?” কোথায় গেলো সেই নীতি যে, জনগণই ঠিক করবে আমরা কি করবো এবং কি করবো না?
আর এভাবেই আমরা অনেক দেশে এই ঘটনা দেখতে পাই। আমরা অনেক দেশে এই ঘটনা দেখতে পাই!
আমি ভারতীয় রাজনীতির ব্যাপারে খুব বেশী জানি না, কিন্তু আমার ধারণা খুব অল্প সংখ্যক লোকেরাই ঠিক করে যে, আসলে এই দেশে কি হবে।
স্বয়ং আমেরিকায় জর্জ বুশও এমনকি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ছিল না। বরং সে সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নিযুক্ত হয়েছিল! আসলে সে নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে ছিল। এবং তারা গণনা বন্ধ করে দেয়! ফ্লোরিডায় যা ঘটেছিল সেই বিখ্যাত ঘটনা কি সবার জানা নেই? আর প্রকৃতপক্ষে, তারা জর্জ বুশকে জেতানোর জন্য কারচুপি করেছিল! এটা কি ধরনের গণতন্ত্র?
সুতরাং আমরা সেই প্রসিদ্ধ উক্তিটিই সত্য পাই, “গণতন্ত্র হলো ভন্ডতন্ত্র।”
আর বাস্তবতা হলো, যখন আমরা এইসব তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অধিকাংশের দিকে তাকাই, আমরা কি দেখতে পাই? ঠিক এই ভন্ডামীই নজরে পড়ে।
আমি সেই দিনের আশায় আছি যেদিন মুসলমানেরা দুঃখ প্রকাশ ও কৈফিয়ত দেয়া ছেড়ে দিবে, এবং কৈফিয়তমূলক হওয়া ছেড়ে দিবে। কারণ তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের কাছে সবচেয়ে সুন্দর দ্বীন আছে যার কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, যার কোনো খাপ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই।
আমাদের কেবল যা লাগবে তা হলো, ইসলামের সত্যিকার আদর্শকে আঁকড়ে ধরা যেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করে দেখিয়ে গেছেন। এবং এভাবেই আবারও, আমার ভাই ও বোনেরা, আমরা হতে পারবো মানবজাতির জন্য একটি প্রজ্জ্বলিত আলোকবর্তিকা এবং অনুসরণীয় দিকনির্দেশিকা।
কিন্তু এটা কেবল তখনই হবে যখন আপনি আপনার জীবন পরিবর্তন করবেন। যখন আপনি এবং আমি, ভাই ও বোনেরা, যখন আমরা আল্লাহর আইনকে আমাদের জীবনে বাস্তবায়িত করবো, আল্লাহর শরীয়তকে আমাদের জীবনে বাস্তবায়িত করবো, যখন আমরা আল্লাহকে মেনে চলবো, যখন আমাদের দ্বারা প্রদর্শিত হবে উত্তম গুণাবলী – ভদ্রতা, দয়া, ভালোবাসা, সমবেদনা ও ন্যায়বিচার, এবং অবশ্যই সেই সাথে আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় আনুগত্য,
তখন আমরা দেখবো যে, যখন আমাদের হৃদয়ে থাকবে ইসলামী রাষ্ট্র, তখন আল্লাহ জমিনে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করে দিবেন।
আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুণ নবীজি, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীদের প্রতি।
আরও পড়ুন
তৃতীয় পর্ব