Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫৩ || গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন - চতুর্থ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫৩ || গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন - চতুর্থ পর্ব

    আল ফজর মিডিয়া পরিবেশিত
    গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ
    ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন – ।।
    –।।থেকে- চতুর্থ পর্ব


    মাওলানা ইদরিস কান্ধলভী রাহিমাহুল্লাহ

    কোন শাসন ব্যবস্থা ইসলামী হওয়ার জন্য শুধু শাসক মুসলমান হওয়াই যথেষ্ট না। বরং যতক্ষণ না শাসন ব্যসস্থা হিসেবে দেশের আইন ইসলামী না হবে। যেমন বর্তমানে গোত্রিয় শাসন, গণতন্ত্র, ও জাতিয়তাবাদ শাসনের চর্চা হচ্ছে। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থাকে ইসলামী বলা যাবে না। যে শাসন ব্যবস্থায় আল্লাহর ক্ষমতা এবং শরীয়তের আইনকে মেনে নেয় না বরং বলে, ক্ষমতা জনগণ ও শ্রশিকদের এবং রাষ্ট্রের আইন তাই হবে যা জনগণ নির্ধারণ করে........... এ ধরণের শাসন ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে কুফুরী শাসন ব্যবস্থা

    اِنِالْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِ (سورة یوسف ، ۴۰ )

    ۭوَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَآ اَنْزَلَ اللّٰهُ فَاُولٰىِٕكَ هُمُ الْكٰفِرُوْنَ ( سورة المائدة ، ۴۴ )

    اَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُوْنَ ۭوَمَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللّٰهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُّوْقِنُوْنَ ( سورة المائدة ، ۵۰ )

    সুতরাং যে ব্যক্তি বা দল শরীয়তের আইনের অনুসরণকে আবশ্যক মনে না করবে তার কুফুরীতে কী আর সন্দেহ বাকী থাকে! ঈমান হল মানার নাম আর কুফুর হল না মানার নাম”।

    সূত্র- মাওলানা ইদরিস কান্ধলভী রাহিমাহুল্লাহ কৃত আকায়েদে ইসলাম



    মুফতী মাহমুদ রাহিমাহুল্লাহ মেঙ্গুরা, সোয়াতের এক উকিলের প্রশ্নের উত্তরে

    আমরা গণতন্ত্রের উপর অভিশাপ করি। এতে তো দুই পুরুষের মাঝেও বিবাহকে বৈধ করে। যেমনটা বৃটেন এ ব্যপারে অধিকাংশের মতের ভিত্তিতে বিল পাশ করেছে”।

    সূত্র- ইসলামী খিলাফত- ১৭৭ পৃষ্ঠা




    মাওলানা মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী রহ

    ইসলামে কোথাও এ গণতন্ত্রের ভিত্তি নেই (সুতরাং এটা একটি কুফুরী শাসন ব্যবস্থা) আর কোন সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এতে কোন কল্যাণের আশা করতে পারে না।”

    সূত্র- ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়ার ২০ নং খন্ডের ৪১৫ নং পৃষ্ঠা

    হযরত শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী রাহিমাহুল্লাহ গণতন্ত্রের প্রতিহত স্বরূপ বলেন, সেখানে আইন-কানুনের মূল ভিত্তি দলিলের উপর নয় বরং সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর হয়। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর ফায়সালা হয়। সুতরাং সংখ্যাগরিষ্ঠের মত যদি কুরআন-হাদীসের বিরুদ্ধে হয় তাহলে তার উপরই ফায়সালা হবে। কুরআনে কারীম সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের অনুসরণকে ভ্রান্তির কারণ বলেছে, ،﴿وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَمَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ الآية[১] জ্ঞানী-গুনী, সৎ ও বুদ্ধিমান লোকের সংখ্যা কমই হয়ে থাকে। চার খলিফা রাযিআল্লাহু আনহুম হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন। তাঁরা এর বিপরীতে অন্য কোন পথই গ্রহণ করেন নি”।

    সূত্র- ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া খন্ড:৪ এর কিতাবুস সিয়াসাহ ওয়াল হিজরত, বাবে জমহুরী ও সিয়াসী তানযীমু কা বয়ান

    আজকাল গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য এটা যে, প্রত্যেক বালেগ পুরুষ-মহিলা, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, বোধসম্পন্ন, মেধাহীনের ভোট দেয়ার অধিকার আছে এবং তাদের অধিকাংশের ভোটের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করা হয়ে থাকে। ইসলামে এ ধরনের গণতন্ত্রের কোন ভিত্তি নেই। আর কোন জ্ঞানী লোকও এতে কোন কল্যাণের আশা করতে পারে না। বাস্তবতা হল, অধিকাংশ লোক অশিক্ষিত ও মুর্খ হয়ে থাকে। তারা এমন লোকদেরই ভোট দিবে যাদের দ্বারা তাদের স্বার্থ উদ্ধার হবে। আর এটা সুনিশ্চিত যে, তাদের স্বার্থে মন্দের ভাগই বেশি থাকে। তাহলে মন্দের অধিকারী কোন ব্যক্তিকে নেতা নির্বাচন করা কোন আকলের কথা হয়ে থাকে? এ দেশের অকল্যাণের কোথায় ঠিকানা হবে? যেখানের নেতা দলীল ও যোগ্যতা থেকে সরে চতুষ্পদ জন্তুতুল্য সাধারণ জনগনের সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর হয়ে থাকে”।

    (সূত্র-ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১)




    মুফতীয়ে আজম পাকিস্তান মাওলানা মুফতী রশীদ আহমেদ রাহিমাহুল্লাহ


    ইসলামে পশ্চিমা গনতন্ত্রের কোন স্থান নাই। কেননা এতে বিভিন্ন দলমতে বিভক্ত হওয়া আবশ্যক। অথচ আল কুরআনে এবিষয়টাকে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

    وَٱعْتَصِمُوا۟بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًاوَلَاتَفَرَّقُوا۟ ۚ(آل عمران : آیت১০৩)۔

    অনুবাদ: তোমরা সকলে মিলে আল্লাহ তায়ালার রশ্মিকে আকঁড়ে ধরো , বিভিন্ন দলমতে বিভক্ত হয়ে যেও না।

    গনতন্ত্রে অধিকাংশের রায়ের মাধ্যমে ফায়সালা করা হয়, অথচ আল কুরআনে এবিষয়টি থেকে আল্লাহ রাসূলকে কঠোর ভাবে বারণ করেছেন।

    وَإِنتُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّـهِ(الانعام: آیت১১৬)۔

    অনুবাদ: যদি আপনি যমিনের অধিকাংশের কথামত চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। (সূরা আল-আনআম, ১১৬)

    ইউরোপ থেকে আমদানীকৃত স্বভাব বিরোধী গনতন্ত্রে যার ভাগে ভোট বেশি পড়বে সেই ক্ষমতা লাভ করবে। অন্যরা ব্যর্থ হবে।

    যেমন মনে করুন, ২জন প্রার্থী ভোটে দাঁড়াল একজন জ্ঞানী আলেম, আরেকজন মুর্খ ফাসেক।

    প্রথমজনকে সকল আলেম ও অন্যান্য ভাল লোকেরা ভোট দিল, ফলে সে ৫০ ভোট পেল, অন্যদিকে মুর্খ ফাসেককে অন্যান্য কাফের ও ফাসেকরা ভোট দিল, ফলে সে ৫১ ভোট পেল। সুতরাং গনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী মুর্খ ফাসেকই এলাকার নেতা নির্বাচিত হবে। এলাকায় তার প্রভাবই চলবে পক্ষান্তরে আলেমের কোন ক্ষমতা থাকবে না কারো উপর প্রভাব খাটানোর। কেননা সে ১ ভোটের কারণে পাশ হয় নাই।

    এসমস্ত অনৈতিক কার্যকলাপ, নোংরা ব্যবস্থাপনা পশ্চিমা গনতন্ত্রের চাল। ইসলামে এ ধরনের কুফুরী ব্যবস্থাপনার কোন স্বীকৃতি দেয় না।

    সুতরাং পশ্চিমা গনতন্ত্রের পদ্ধতিতে কেয়ামত পর্যন্ত ইসলামী নেজাম কায়েম হবে না। একটি প্রসিদ্ধ কথা হল:

    'الجنس یمیل الی الجنس'

    জাতি তার স্বজাতির দিকেই ধাবিত হয়.অর্থাৎ সব জায়গায় যেহেতু মুর্খ, ফাসেক, কাফেরের সংখ্যাই বেশি সুতরাং তারা তাদের মত লোকদেরকেই নির্বাচিত করবে। এটাই গণতন্ত্রের চিরাচরিত ফলাফল।

    পক্ষান্তরে ইসলামে রয়েছে সুন্দর শূরা ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে আহলে হাল্লি ওয়াল আকদী তথা যারা ইসলামী সুচিন্তিত ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ এবং যে কোন কঠিন পরিস্থিতিতে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক উপস্থিত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন ব্যক্তিরা পরামর্শ করে একজনকে আমীর নির্বাচন করবে। যেমনটা হযরত উমর ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শহিদ হওয়ার পূর্বে ৬ সদস্যের আহলে হাল্লি ওয়াল আকদীর এক শূরা বানিয়েছিলেন।

    যারা ঐক্যমতে হযরত উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে খলিফা বানিয়েছিলেন।

    ইসলামের এই সুন্দরতম ব্যবস্থাপনায় শুধু মানুয়ের মাথা গণনা করা হয় না বরং মাথার সাথে ব্যক্তির যোগ্যতাকেই বিবেচনা করা হয়।এজন্য ইসলামে একজন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির মতামত কোটি নির্বোধের মতামত থেকে শ্রেয় গন্য করা হয়।

    যেমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। কারো সাথে পরামর্শ ব্যতিতই হযরত উমর ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে পরবর্তী খলিফা ঘোষণা করেছেন। উনার একব্যক্তির নির্বাচন করাটাই কত শক্তিশালী ও পাহাড়ের চাইতেও ভারী ছিল। (মোটকথা, ইসলাম শুধু সংখ্যাধিক্যতা প্রবক্তা নয়।)”

    গণতন্ত্র কে মাশওয়ারার মতই যারা মনে করে তারা এ কথাও বলতে শুরু করেছে যে ইসলাম মূলত গণতন্ত্রই।”কথাটা যতটুকু সহজ, বিষয়টা ততটুকু সহজ না। প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পিছনে আলাদা একটি মতাদর্শ কাজ করছে। যা দ্বীনে ইসলামের সাথে পরিপূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাই উভয়টি এক সাথে এককদমও চলতে পারে না। এজন্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতাদর্শীদের সেকুলারিজমের বিশ্বাসী হওয়া আবশ্যক।

    সূত্র- আহসানুল ফাতওয়া, জিলদ ৬, ২৪ থেকে ২৬ পৃষ্ঠা এবং আহসানুল ফতওয়া, জিলদ ৬, ৯৪ পৃষ্ঠা






    ​আরও পড়ুন
Working...
X