Announcement

Collapse
No announcement yet.

পবিত্রতার নাজাসাত ২

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পবিত্রতার নাজাসাত ২

    প্রথম পর্ব: https://dawahilallah.com/forum/মূল-ফোরাম/মানহায/214851


    এখন চিন্তার বিষয় হল, গণতন্ত্রের মহা ঋষি ও মনীষীদের বিরুদ্ধে মূলধারার আলেমদের অবস্থানের কারণ কি? বিভিন্ন বক্তব্য থেকে তাদের বিরোধিতার কিছু কারণ জানা যায় যেগুলোকে ২টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়।


    ১। নির্বাচন পদ্ধতির সমালোচনা

    সকল মানুষ সমান
    গণতন্ত্রে একজন রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে অশিক্ষিত ব্যক্তির ভোট আর একজন বিজ্ঞ মুজতাহিদ আলেমের ভোটের voting power সমান। উভয়ের ব্যালটের মূল্য ১টি ব্যালট। অর্থাৎ, আইজ্যাক আসিমভের ভাষায়,

    “my ignorance is just as good as your knowledge.”
    - “A CULT OF IGNORANCE”
    Democracy is two wolves and a lamb voting on what they are going to have for lunch,” - Benjamin Franklin

    আসলেও সমান?
    যদিও পুজিবাদী সমাজে টাকাই voting power, তর্কের খাতিরে আমরা স্বাভাবিক ও হস্তক্ষেপ মুক্ত অবস্থা কল্পনা করে নিচ্ছি।
    প্রথমত, নির্বাচনের ধারণা এই normative principle এর উপর প্রতিষ্ঠিত যে, সকল মানুষ সমান। আমাদের আলেম সমাজ সকল মানুষের moral worth বা spiritual equality স্বীকার করে। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সবাইকে সমান মনে করে না। বাস্তবেও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সকল মানুষ সমান নয়। কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কেউ মেধাবী, কেউ বোকা, কেউ শক্তিশালী, কেউ রোগা। সুতরাং নির্বাচনের ধারণা-ই একটি মিথ্যা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সাংঘর্ষিক পূর্বানুমানের উপর প্রতিষ্ঠিত।

    মানবিক বৈশিষ্ট্য বাস্তবতা ​ গণতন্ত্রের অনুমান দ্বন্দ্ব
    বুদ্ধিমত্তা IQ 70-130+ (পরিবর্তনশীল) ​ সকলের রাজনৈতিক জ্ঞান সমান
    শিক্ষা নিরক্ষর থেকে PhD সবাই রাষ্ট্রনীতি বোঝে
    অভিজ্ঞতা ১৮ বছর থেকে ৮০+ বয়স অপ্রাসঙ্গিক
    নৈতিকতা সৎ থেকে অপরাধী সবাই সৎ



    বিমূর্ত সংখ্যা বনাম মানব সত্ত্বা

    দ্বিতীয়ত, সব মানুষ যদি সমান-ই হয়ে থাকে, তাহলে অধিকাংশের মত কেন সংখ্যালঘুদের মতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবে? একাকী একজন মাত্র ব্যক্তির ভোট কেন সংখ্যার কারণে পরিত্যাক্ত হবে?

    Five men are in a room. Because three men take one view and two another, have the three men any moral right to enforce their view on the other two men? What magical power comes over the three men that because they are one more in number than the two men, therefore they suddenly become possessors of the minds and bodies of these others? As long as they were two to two, so long we supposed each man remained master of his own mind and body; but from the moment that another man, acting Heaven only knows from what motives, has joined himself to one party or the other, that party has become straightaway possessed of the souls and bodies of the other party. Was there ever such a degrading and indefensible superstition?”
    Auberon Herbert, The Right and Wrong of Compulsion by the State

    একটি ঘরে পাঁচজন লোক আছে। তিনজন এক দৃষ্টিভঙ্গির আর দুইজন অন্যরকম, তাহলে কি ওই তিনজনের কোনো নৈতিক অধিকার আছে বাকিদের উপর তাদের মত জোর করে আরোপিত করার? কী জাদুকরী শক্তি ওই তিনজনের ওপর কাজ করে যে, তিনজন হওয়ায় তারা হঠাৎ করে বাকি দুজনের মন আর শরীরের উপর আধিপত্য পেয়ে গেল? যতদিন তারা দুই জন বনাম দুই জন ছিল ততদিন আমরা ধরেছিলাম প্রত্যেকে নিজের মন ও শরীরের মালিক; কিন্তু যে মুহূর্ত থেকে একজন—আল্লাহ-ই জানেন কী উদ্দেশ্যে—যেকোন এক পক্ষের সঙ্গে যোগ দিল, সেই পক্ষ তৎক্ষণাৎ অন্য পক্ষের আত্মা ও শরীর দখলে নিয়ে ফেলল। এমন অবমাননাকর এবং অযোগ্য কুসংস্কার কি কখনও ছিল?
    - অবেরন হার্বার্ট

    নির্বোধের শাসন
    নির্বাচন পদ্ধতির ফলে অনেক অযৌক্তিক দাবি নিয়ে ভোট জোয়ার সৃষ্টি করা যায়। প্লেটোর রিপাবলিক থেকে একটি উদাহরণ দেয়া যায়। একজন মিষ্টি বিক্রেতা ও একজন ডাক্তার নির্বাচনে দাড়ালে মিষ্টি বিক্রেতা দাবি করবে যে, এই ডাক্তার তোমাদের মিষ্টি খেতে দেয় না, তিতা ওষুধ দেয়, মাঝেমাঝে দেহে কাটা ছেড়া করে, অনেক মানুষকে মেরেও ফেলে। এই অভিযোগের জবাবে ডাক্তার কি বলবে? সে ওষুধের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা বর্ণনা শুরু করলে কি জনগণ বুঝবে কেন প্যারাসিটামল তেতো হলেও ভাল? সাধারণ জনগণ কাকে ভোট দেবে?
    উত্তর: মিষ্টি বিক্রেতাকে, কারণ:
    1. জনগণ তাৎক্ষণিক সুখ চায়
    2. জটিল ব্যাখ্যা বোঝে না/বুঝতে চায় না
    3. মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সর্বদা আকর্ষণীয়
    প্লেটো এই একটি উদাহরণ দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, গণতন্ত্র হল বিজ্ঞান বিদ্বেষী কুসংস্কার । বাংলাদেশেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের মন ভোলানোর নজির আছে-
    ২০০৮ নির্বাচন:
    • আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি: "দিনবদলের সনদ" (Vision 2021)
      • প্রতিটি পরিবারে বিদ্যুৎ
      • দারিদ্র্য ২৫% থেকে ১৫%-এ
      • মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ
    • অন্যদিকে বিএনপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবসম্মত ও কম উচ্চাভিলাষী ছিল
    ফলাফল: আওয়ামী লীগ ২৩০/৩০০ আসন (landslide)
    ২০২৪ বাস্তবতা:
    • প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন: আংশিক
    • স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হল
    • "সুমিষ্ট প্রতিশ্রুতি" জনগণের ক্ষতির কারণ হল



    কোন কোন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র, যদি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো বলবে, Vox populi, vox deorum, জনগণের কণ্ঠস্বর-ই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর । যা আরও একটি পূর্বানুমান। অথচ আল্লাহর কালাম হল কুরআন মাজীদ। আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন যে, অধিকাংশের মত গ্রহণ করলে তারা আপনাকে গোমরাহ করে ফেলবে। ইয়র্কের কবি এলকুইন বলেছিলেন,

    the riotousness of the crowd is always very close to madness.
    জনগণের ন্যায়পরায়ণতা উন্মত্ততার নিকটবর্তী ।
    এটা সুশীল সমাজও স্বীকার করে; একারনে জনতা কোন অঘটন ঘটালে 'মব মব' বলে চিতকার শুরু করে।


    জনতার পরোক্ষ শাসন
    এতক্ষণ প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। অনেকে এই সমস্যা এড়াতে পরোক্ষ গণতন্ত্রের প্রস্তাব করতে পারেন।
    এর তাত্ত্বিক দাবি হল-
    জনগণ → নির্বাচিত প্রতিনিধি → আইন/নীতি → জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়ন

    সমস্যা হল, অসংখ্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ক্ষমতা মুষ্টিমেয় কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির মধ্যে হাত বদল হয়। Robert Michels (1911) তার Political Parties বইয়ে প্রমাণ করেন:

    "Who says organization, says oligarchy."
    • সমস্যা: যেকোনো সংগঠন, এমনকি গণতান্ত্রিক দল, অবশ্যম্ভাবীভাবে অভিজাততন্ত্রে পরিণত হয়
    • কারণ: যেকোন জটিল সংগঠন পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি প্রয়োজন
    • ফলাফল: পার্টি্র নেতৃত্ব সাধারণ সদস্যদের থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়

    বাংলাদেশের উদাহরণ:
    আওয়ামী লীগ:
    • ১৯৪৯: গণতান্ত্রিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ
    • ১৯৭৫-১৯৮১: বঙ্গবন্ধু পরিবারকেন্দ্রিক
    • ১৯৮১-২০২৪: শেখ হাসিনার একক নেতৃত্ব
    বিএনপি:
    • ১৯৭৮: জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করে
    • ১৯৮১-বর্তমান: জিয়া পরিবারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ
    • দলীয় কাঠামো: পরিবার > ব্যবসায়ী গোষ্ঠী > সাধারণ কর্মী



    আবার এই দলগুলো বিভিন্ন আসনে তাদের পছন্দকৃত প্রার্থীকে মনোনীত করে। এসব প্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে জনগণের পছন্দকৃত না, দলের পছন্দকৃত। সে জনপ্রিয় একারনে দল তাকে মনোনীত করে নি; একারণে মনোনীত করেছে যে, সে যেভাবেই হোক বড় রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে সভাপতির মনোরঞ্জন করেছে। নির্বাচনের আগে আসন বরাদ্দের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের টাকা খাওয়ানোর ব্যাপারটি অনেকের অজানা।

    জনগণ → দলীয় মনোনয়ন বোর্ড → মনোনীত প্রার্থী → নির্বাচন → সংসদ সদস্য
    ↑ (আসল ক্ষমতা এখানে)


    দলীয় মনোনয়নের বাস্তবতা

    মানদণ্ড তাত্ত্বিক দাবি প্রকৃত বাস্তবতা প্রমাণ
    যোগ্যতা দলের প্রতি আনুগত্য, জনপ্রিয়তা টাকা + নেতার সাথে সম্পর্ক মনোনয়ন বাণিজ্য: ৫০ লক্ষ - ২ কোটি
    জবাবদিহিতা জনগণের কাছে দলীয় সভাপতির কাছে Whip ভঙ্গ = বহিষ্কার
    স্বাধীনতা সংসদে স্বাধীন মত দলীয় নির্দেশ অনুসরণ কতবার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা হয়?
    পরবর্তী নির্বাচন জনগণের রায় দলীয় মনোনয়নের উপর নির্ভর অনেক জনপ্রিয় MP মনোনয়ন পান না



    মোট কথা, এখানে জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়ন হয় না; রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নে জনগণের কোন ক্ষমতা থাকে না।

    It is not ‘the will of the people’, but the will of politicians – prompted by groups of professional lobbyists, interest groups and activists – that reigns in a democracy.”
    Frank Karsten and Karel Beckman, Beyond Democracy

    আবার ছোট দেশগুলোতে একাধিক রাজনৈতিক দল মিলে জোট গঠন করে, এতে করে আর জনগণের অভিপ্রায়ের প্রকৃত বাস্তবতা পাওয়া যায় না।



    জনতার শাসনের ধোঁকা

    মনে করুন, নির্বাচনে ৩ জন প্রার্থী দাড়িয়েছেন। তাদের মধ্যে ক ৩০%, খ ৩০% এবং গ ৪০% ভোট পেল। মানে গ বিজয়ী হল। একটু ভেবে দেখুন তো, এর মানে কি এই নয় যে, ৬০% মানুষ যাকে অপছন্দ করে সে ক্ষমতায় গেল? এটা কি জনতার শাসনের নমুনা?

    কোন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীকে দল থেকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে দিলেও আবার একজন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীই ফেরত আসে যে কিনা অন্য কোন interest group বা সুবিধালোভী গোষ্ঠীর ইচ্ছা বাস্তবায়ন করে।

    হুইপ ব্যবস্থা (Party Whip System)

    বাংলাদেশ সংবিধান, ৭০ অনুচ্ছেদ: "কোন ব্যক্তি যদি... তার দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন বা ভোটদানে বিরত থাকেন...তাহলে তিনি সংসদে তাঁহার আসন হারাইবেন।"

    ফলাফল:

    পরিস্থিতি MP-র ভূমিকা নির্বাচকমণ্ডলীর ইচ্ছা দ্বন্দ্ব সমাধান যেভাবে হয়
    সরকার অন্যায় আইন প্রস্তাব করে দলীয় লাইনে ভোট বিরোধিতা চায় আছে দলকে মানতে হবে
    নির্বাচনী এলাকার স্বার্থ বনাম জাতীয় নীতি দলের সিদ্ধান্ত স্থানীয় স্বার্থ ​ আছে দলকে মানতে হবে
    সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত নীরব থাকা প্রতিবাদ চায় আছে দলকে মানতে হবে


    তাহলে MP জনগণের প্রতিনিধি, নাকি দলীয় সভাপতির সেবক?
    স্পষ্টতঃ সভাপতির সেবক।

    প্রমাণ:
    • ২০০৯-২০২৪: ১৫ বছরে কতবার আওয়ামী লীগ MP সরকারি বিলের বিরোধিতা করেছে?
    ০ বার
    • সকল বিল সর্বসম্মতিক্রমে পাস (উপস্থিত ২৯০/৩০০)


    দুর্নীতিবাজ নেতা যেন না আসে
    ইসলামী দলের নেতাদেরকেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে যে, তারা এই পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে এমন বিশ্বাস রাখে না, তারা শুধু সেকুলারদের কিছুটা দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

    "The leaders are lizards. The people hate the lizards and the lizards rule the people...if they didn’t vote for a lizard, the wrong lizard might get in.”
    - —DOUGLAS ADAMS, SO LONG, AND THANKS FOR ALL THE FISH

    দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব কেন আসে?
    ডগলাস এডামস গিরগিটি বলে অভিহিত করে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। নেতৃত্বের লোভে যদি কোন রাষ্ট্রব্যবস্থা আদৌ আক্রান্ত থেকে থাকে, তাহলে সেটা গণতন্ত্র। ক্ষমতালোভী, নার্সিসিস্ট, সোসিওপ্যাথ লোকগুলো ক্ষমতায় আসে। পোকা যেমন আলোর দিকে ধাবিত হয়, এই লোকগুলো তেমনি প্রার্থীত্ব পেতে মরিয়া হয়ে থাকে।

    All governments suffer a recurring problem: Power attracts pathological personalities. It is not that power corrupts but that it is magnetic to the corruptible.”
    - Frank Herbert, Chapterhouse: Dune
    "সমস্ত সরকার ব্যবস্থায় একটি সমস্যা পুনরাবৃত্তি করে: ক্ষমতা কিছু প্যাথোলজিকাল চরিত্রকে আকর্ষণ করে৷ এমন নয় যে ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত বানায় বরং ক্ষমতা দুর্নীতিবাজদের জন্য চৌম্বকীয় প্রকৃতির।"

    “. . . the selection of state rulers by means of popular elections makes it essentially impossible for harmless or decent persons to ever rise to the top. Presidents and prime ministers come into their position not owing to their status as natural aristocrats, as feudal kings once did...but as a result of their capacity as morally uninhibited demagogues. Hence, democracy virtually assures that only dangerous men will rise to the top of state government.”
    - Hans Hermann Hoppe, From Aristocracy to Monarchy to Democracy

    "নির্বাচনের জনপ্রিয় পদ্ধতি, নিরীহ বা ভদ্র ব্যক্তিদের পক্ষে ক্ষমতার শীর্ষে ওঠা বা ভোটে জেতা অসম্ভব করে তোলে। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীরা ক্ষমতায় আসেন সামন্ত রাজাদের মত প্রাকৃতিকভাবে অভিজাত হওয়ার কারনে নয়,...বরং নৈতিকভাবে অদম্য বক্তা হবার কারণে. অতএব, গণতন্ত্র কার্যত নিশ্চিত করে যে শুধুমাত্র বিপজ্জনক ব্যক্তিরা রাজ্য সরকারের শীর্ষে উঠতে পারবে।"

    নেতা selection process

    পর্যায় সৎ ব্যক্তি দুর্নীতিবাজ কারণ
    দলে যোগদান নীতিগত কারণে ক্ষমতার লোভে সৎরা প্রায়ই রাজনীতি এড়ায়
    দলীয় পদ মেধা + সততা টাকা + তোষামোদি সৎরা "দল করতে জানে না"​
    মনোনয়ন জনপ্রিয়তা টাকা (৫০ লাখ-২ কোটি) সৎদের টাকা নেই
    নির্বাচনী প্রচারণা সীমিত বাজেট অসীম বাজেট (কালো টাকা) ভোট কেনা
    জয়লাভ কঠিন সহজ অর্থবল + পেশীশক্তি



    চাঁদাবাজি ​
    তাছাড়া যেকোন রাজনৈতিক দলের ফিক্সড কস্ট থাকেঃ পার্টি অফিসের রুম ভাড়া, নাস্তার বিল, বিদ্যুৎ – পানির বিল, ফুল টাইম কর্মীদের বেতন ইত্যাদি; যা চাঁদাবাজি করে পুষিয়ে নেয়া হয়। দেশে রাজনৈতিক দল যত বেশি, চাঁদাবাজি তত বেশি।


    আমলাতন্ত্রের যৌক্তিকতা
    পাশাপাশি এসব কথিত প্রার্থীদের কেউ নির্বাচিত হলেও কোন পরিবর্তন আসে না। কারণ রাষ্ট্রের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত সব কাজ আমলাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, যারা কিনা নির্বাচিত না। এটাই iron law of oligarchy. তাছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য দক্ষ full time operator প্রয়োজন, wannabe রাজনীতিবিদ উপকারী নয়।




    গানিতিক সমস্যা

    গণতন্ত্র বলতে আমরা যা বুঝিঃ
    • ভোটাররা প্রার্থীর তালিকা থেকে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন করেন।
    • সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী জয়ী হন, এমনকি যদিও তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা (অর্থাৎ ৫০%-এর বেশি ভোট) নাও পান।
    • কোনো রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোট হয় না; এক দফাতেই বিজয়ী নির্ধারিত হয়।
    উদাহরণ: যদি পাঁচজন প্রার্থী থাকে এবং একজন ৩৫% ভোট পান, আর অন্যরা যথাক্রমে ৩০%, ২০%, ১০% এবং ৫% ভোট পান, তবে ৩৫% পাওয়া প্রার্থীই জয়ী হবেন—যদিও ৬৫% ভোটার তাকে পছন্দ করে না।


    এর ত্রুটিসমূহ-

    ক) সংখ্যালঘু শাসন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের অভাব
    • সমস্যা: এর ফলে প্রায়ই এমন প্রার্থী জয়ী হন যার প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নেই। বিরোধীদের ভোট একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ভাগ হয়ে গেলে মাত্র ২০-৩০% ভোট পেয়েও একজন প্রার্থী জিতে যেতে পারেন।
    • পরিণতি: সরকার বা প্রতিনিধিরা অধিকাংশ ভোটারের প্রকৃত পছন্দের প্রতিফলন ঘটাতে পারে না, যা এমন সব নীতির দিকে দেশকে পরিচালিত করে যা ব্যাপক জনসমর্থন পায় না। ফলে দেশব্যাপী অসন্তোষ দানা বাধে, বড় বড় আন্দোলন সংগঠিত হয়, যেসব আন্দোলনে ৭০-৮০ ভাগ মানুষের সমর্থন থাকে এবং ২০-৩০ ভাগ মানুষ সরকারের পক্ষে থাকে। এতে দেশ ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
    • পরিসংখ্যান: যুক্তরাজ্যের ২০১৫ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি মাত্র ৩৬.৯% ভোট পেয়ে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতেছিল। একইভাবে, কানাডার ২০১৫ সালের নির্বাচনে লিবারেল পার্টি ৩৯.৫% ভোট নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করেছিল।

    খ) স্পয়লার ইফেক্ট (Spoiler Effect)
    • সমস্যা: যখন দুইয়ের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, ভোটাররা ভয় পান যে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে (প্রায়ই তৃতীয় পক্ষ বা স্বতন্ত্র) ভোট দিলে ভোট ভাগ হয়ে যাবে এবং তাদের অপছন্দের কোনো প্রধান প্রার্থী জিতে যাবে।
    • পরিণতি: ভোটাররা প্রায়ই তাদের প্রকৃত পছন্দ ত্যাগ করে প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে 'তুলনামূলক কম খারাপ' প্রার্থীকে "কৌশলগতভাবে" ভোট দেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে।
    • উদাহরণ: ২০০০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রালফ নাডারের (গ্রিন পার্টি) বিরুদ্ধে ফ্লোরিডায় আল গোরের (ডেমোক্র্যাট) ভোট নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার ফলে জর্জ ডব্লিউ বুশ (রিপাবলিকান) খুব সামান্য ব্যবধানে রাজ্যটি এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্সি জিতে নেন।

    আরেকটু লম্বা উদাহরণ দিচ্ছি-


    পরিস্থিতি ১: তিন প্রার্থী

    প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট %
    আলম আওয়ামী লীগ ৪০,০০০ ৪০%
    বাবু বিএনপি ৩৫,০০০ ৩৫%
    জসিম জামায়াত ২৫,০০০ ২৫%
    বিজয়ী আ.লীগের আলম - -

    পরিস্থিতি ২: জামায়াত নেই

    ধরা যাক, জামায়াতের ভোটারদের:
    • ৮০% = বিএনপিকে দ্বিতীয় পছন্দ করত
    • ২০% = আওয়ামী লীগকে

    প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট %
    আলম আওয়ামী লীগ ৪৫,০০০ (৪০k + ৫k) ৪৫%
    বাবু বিএনপি ৫৫,০০০ (৩৫k + ২০k) ৫৫%
    ফলাফল: জামায়াতের উপস্থিতি আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে দিল, যদিও ৬০% ভোটার তাদের বিরোধী!

    এটিই Spoiler Effect।


    গ) ডুভার্জারের নীতি: অনিবার্য দ্বিদলীয় ব্যবস্থা
    • সমস্যা: স্বাভাবিকভাবেই একটি দ্বিদলীয় ব্যবস্থা তৈরি হয়। সময়ের সাথে সাথে ছোট দলগুলো ছিটকে পড়ে কারণ ভোটার এবং অর্থদাতারা বুঝতে পারেন যে কেবল দুটি প্রধান দলেরই জেতার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা রয়েছে।
    • পরিণতি: রাজনৈতিক বৈচিত্র্য হ্রাস পায়। মূলধারার বাইরে থাকা ইস্যু এবং মতামতগুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।
    • উদাহরণ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের আধিপত্য চলছে। যুক্তরাজ্যে লিবারেল ডেমোক্র্যাট বা গ্রিন পার্টি উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন সত্ত্বেও আসন জিততে হিমশিম খায়। আমাদের দেশে আওয়ামীলীগ বনাম বিএনপি যুদ্ধ চলে শুধু মাত্র।

    ঘ) জেরি ম্যান্ডারিং এবং প্রতিনিধিত্বহীন ফলাফল
    • সমস্যা: 'জেরি ম্যান্ডারিং' বা কোনো নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করার সুযোগ থাকে।
    • পরিণতি: ক্ষমতায় থাকা দল তাদের সুবিধাকে পাকাপোক্ত করতে পারে। এর ফলে এমন ফলাফল হতে পারে যেখানে একটি দল কম ভোট পেয়েও বেশি আসন দখল করে।
    • পরিসংখ্যান: ২০১২ সালের মার্কিন হাউস নির্বাচনে, রিপাবলিকানরা মোট ভোটের ৪৭.৬% পেয়েও ৫৩% আসন জিতেছিল, যার প্রধান কারণ ছিল জেরি ম্যান্ডারিং।

    ঙ) অপচয় হওয়া ভোট এবং ভোটাধিকারহীনতা
    • সমস্যা: পরাজিত প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট (অথবা বিজয়ীর জয়ের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভোট) "অপচয়" হয়—এগুলো ফলাফলে কোনো ভূমিকা রাখে না।
    • পরিণতি: অনেক ভোটার মনে করেন তাদের ভোটের কোনো মূল্য নেই, যা ভোটারদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি করে।

    চ) মেরুকরণ এবং নেতিবাচক প্রচারণা
    • সমস্যা: এই ব্যবস্থা নেতিবাচক প্রচারণাকে উৎসাহিত করে, কারণ দলগুলো গঠনমূলক নীতির চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণ করার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়।
    • পরিণতি: রাজনৈতিক আলোচনা আরও বিভক্ত ও সমাধানহীন হয়ে পড়ে। কে রাজাকার, কে চাদাবাজ, কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এসব নিয়েই আলোচনা চলে। দেশের প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয় না।

    বাস্তব প্রভাব
    • নীতি বিকৃতি: নির্বাচিত সরকারগুলো কেবল তাদের নিজস্ব 'ভোট ব্যাংক' বা সমর্থকদের খুশি করার নীতি গ্রহণ করতে পারে।
    • বহুদলীয় ব্যবস্থায় অস্থিরতা: বহু দল আছে এমন দেশে ঝুলন্ত সংসদ বা অস্থির সরকার তৈরি হতে পারে।

    ​​​​​​​
    ত্রুটি বর্ণনা বাংলাদেশী উদাহরণ পরিণাম
    Minority Rule ৩০-৪০% ভোটে জয় ২০১৪: আওয়ামী লীগ ৫% ভোটার উপস্থিতিতে ক্ষমতায় ৬০-৭০% জনগণ প্রতিনিধিত্বহীন
    Spoiler Effect তৃতীয় পক্ষ ভোট ভাগ করে জামায়াত না থাকলে বিএনপি জিততে পারত কৌশলগত ভোটদান বাধ্যতামূলক
    Duverger's Law শুধু দুটি দল টিকে থাকে আওয়ামী লীগ vs বিএনপি (৫০ বছর) রাজনৈতিক বৈচিত্র্য শূন্য
    Wasted Votes পরাজিত প্রার্থীর ভোট অর্থহীন প্রতি নির্বাচনে ৪০-৫০% ভোট "নষ্ট" ভোটারদের হতাশা
    Gerrymandering Constituency সীমানা পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত ক্ষমতাসীনদের সুবিধা



    কেনেথ অ্যারো

    বলা হয়ে থাকে, নির্বাচন হল জনগণের ইচ্ছা পরিমাপের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। গণিতবিদ কেনেথ অ্যারো তার অসম্ভাব্যতা উপপাদ্যের জন্য নোবেল পেয়েছিলেন। তিনি মূলত গাণিতিকভাবে দেখিয়েছিলেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম ৪টি শর্তের প্রতিটি উপস্থিত থাকা অসম্ভব। বরং তা কন্ডোরসেটের বিভ্রান্তি বা প্যারাডক্স সৃষ্টি করে।

    গণতন্ত্রপন্থিরা হয়তো অ্যারো-র সমালোচনার damage control হিসাবে আরও কিছু প্রস্তাবনা করবে। যেমনঃ ranked choice, algorithmic voting ইত্যাদি।

    এছাড়াও জামাআতের Proportional Representation বা pr পদ্ধতির প্রস্তাবনা এবং nid card এর পাশাপাশি voting card দেয়ার প্রতিশ্রুতি মূলত Weighted Voting Systems (wvs) এর রূপ। বিএনপি পন্থি কিছু আইনজীবীও ভোটাধিকার শুধু ৪০+ বয়স্কদের জন্য বৈধ করার পরামর্শ দিচ্ছে; উদ্দেশ্য যদিও আগের প্রজন্মের ভোটে জয় লাভ করা; কিন্তু এগুলো damage control অপশনগুলোর অন্যতম।​
    Last edited by Rakibul Hassan; 4 hours ago.

  • #2
    মাশাআল্লাহ, উভয় পর্বই পড়লাম।
    এর পরেও কারো যদি গণতন্ত্র নিয়ে সন্দেহ থাকে, তবে তারচেয়ে আর হতভাগা কেউ হতে পারে বলে মনে করি না।

    আল্লাহ্‌ তাআলা আপনার ইলম ও ফাহমে ভরপুর বারাকাহ দান করুন ভাইজান।
    জাযাকাল্লাহ খাইরান
    বছর ফুরিয়ে যাবে এতো রিসোর্স আছে https://gazwah.net সাইটে

    Comment

    Working...
    X