আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- ত্রয়োদশ পর্ব
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- ত্রয়োদশ পর্ব
সাহওয়া সালাফী আন্দোলন
গত শতাব্দীর শেষ দিকে এই ধারার সক্রিয়তা জোরদারভাবে প্রকাশ পায়। অল্প সময়ের ভেতর এদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। জিহাদ এবং মুজাহিদদের সাহায্যের পথে বাধা-বিপত্তি, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও গুজব ছড়ানোর মধ্য দিয়েই তাদের কার্যক্রম চলতে থাকে।
এই ধারা সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি মানহাজ ও শান্তিপূর্ণ পন্থা উদ্ভাবন করেছে। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান চালু, প্রচার মাধ্যম তৈরি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়, সমাজ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তাদের নিকট তুলে ধরা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই একটি বিপ্লব সৃষ্টি করা এই মানহাজের মূলকথা।
হারামাইনের ভূমিতে ব্যাপক সুযোগ সুবিধা থাকার কারণে জ্ঞানপিপাসু ছাত্রদের দৃষ্টিতে তা একটি কেন্দ্রীয় মর্যাদা লাভ করছে। আবার বিশ্ব মুসলিমের ক্বিবলা এই ভূমিতেই। তাই এই বৈশ্বিক আন্দোলনের প্রবক্তারা[1]—এই আন্দোলনের উৎপত্তিস্থল আরব উপদ্বীপ হোক কিংবা সুবিস্তৃত মুসলিম বিশ্বের যে জায়গাতেই হোক—সর্বোচ্চ নেতা ও পরিচালক বলে বিবেচিত হয়েছেন।
সাহওয়া সালাফী ধারার মানহাজ নিয়ে আলোচনা আরম্ভ করার পূর্বে আমরা চাই তাদের অতি ন্যাক্কারজনক বিভ্রান্তির কয়েকটি তুলে ধরতে । এগুলো প্রাথমিক স্তরের ছাত্রদের কাছেই বিভ্রান্তি হিসেবে সুস্পষ্ট। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন বিদগ্ধ মহলের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এ কাজটি করার উদ্দেশ্য হলো পাঠকের কাছে যেন এই সংশোধনমূলক আন্দোলনের প্রকৃত বাস্তবতা সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
এই পরাজিত আন্দোলনের বিভ্রান্তিগুলো সবচেয়ে সুস্পষ্টভাবে দেখা দিয়েছে ক্রুসেডার আমেরিকার কতিপয় বুদ্ধিজীবী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘আমরা কোন ভিত্তিতে লড়াই করি’ (علي اي اساس نقاتل؟) শিরোনামের একটি নিবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলনের কর্ণধারদের স্বাক্ষরিত উত্তরপত্রের মধ্য দিয়ে। শাইখ নাসির আল ফাহাদ (আল্লাহ তাঁকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করুন!) সমঝোতা, সহাবস্থান ও আপসকামিতামূলক অবমাননাকর এই উত্তরপত্রের ঘৃণিত দিকগুলো নিয়ে মুসলিমদের জন্য যথেষ্ট উপকারী আলোচনা করে গেছেন। তবুও আমরা প্রাসঙ্গিক সংযোজন হিসেবে ঐ উত্তরপত্রের সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর দু’টি বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই, যাতে অযৌক্তিক এই আন্দোলনের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে।
প্রথম বিষয়:
অভিন্ন অনুভব-অনুভূতি, মূল্যবোধ ও চিন্তাধারার ক্ষেত্রে দ্বীন ও মিল্লাতের (ধর্ম ও জাতি) শত্রুদের সাথে অংশগ্রহণ। শত্রুদের পাপ-পঙ্কিল রাষ্ট্রে যে ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে, তাতে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ[2]। তাওহীদবাদী উম্মাহকে এই ব্যাপারে বিক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট করে চিত্রায়ন। অথচ এই বরকতময় কর্মযজ্ঞ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে ভূপৃষ্ঠে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমস্ত পরিকল্পনা উলট-পালট করে দিয়েছে।
সাহওয়া সালাফী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় প্রবক্তা ডক্টর সফর আল হাওয়ালী এবং ডক্টর সালমান আল 'আওদাহ স্বাক্ষরিত সে উত্তরপত্রের কয়েকটি লাইন লক্ষ্য করুন:
“মুসলিম বিশ্বে এবং এর বাইরে অনেকের কাছেই সেপ্টেম্বরের আক্রমণগুলো মোটেই সমর্থনযোগ্য ছিল না। মূলনীতি, দৃষ্টিভঙ্গি, স্বার্থ, কল্যাণ এবং নীতি ও নৈতিকতা সংশ্লিষ্ট বিবিধ কারণে—যা ইসলাম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে— এই ঘটনার হোতাদেরকে আমরা সাধুবাদ জানাইনি।”
স্বাক্ষরকারীরা আরো জানান-পশ্চিমা বিশ্ব যদি ৯/১১-এর ঘটনাকে পাশ্চাত্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে, তবে এটাও অসম্ভব নয় যে, তাদের এমন অনুভূতির সাথে আমরা একাত্মতা ঘোষণা করব। এমনকি বৈশ্বিক নিরাপত্তার এই হুমকি মোকাবেলায় তাদের সাথে সহাবস্থান করব...।”
দ্বিতীয় বিষয়:
মুজাহিদদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ, তাঁদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, তাঁদের প্রতি নিন্দা প্রকাশ ও তাঁদের দুর্নাম রটনা। অপরদিকে, ক্রুসেডার মার্কিনিদের প্রতি সংহতি, সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা, তাদের সাথে শান্তি চুক্তি ও মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভিত্তিতে ইসলামের শত্রুদের কাতারে যোগদান, মুজাহিদদেরকে বর্বর, অপরাধী, অত্যাচারী রূপে চিত্রিত করা, এমনটা বলা যে, মুজাহিদদের মাঝে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বলে কিছুই নেই; মুজাহিদদের শক্তি নিঃশেষ করা ও তাঁদেরকে সমূলে বিনাশ করার কোন বিকল্প নেই...।
আল্লাহর কসম! উপরোক্ত বিষয়গুলো দ্বীন ইসলামের আল-ওয়ালা ওয়াল বারা-'র মত সুদৃঢ় স্তম্ভে আঘাত করেছে। এবং কুফর বিত তাগুত তথা তাগুতকে সর্বতোভাবে অস্বীকার ও সম্পূর্ণভাবে তাগুতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সুমহান আকীদার স্পষ্ট বিরোধিতা। এরসঙ্গে আরও রয়েছে পূণ্যভূমি ফিলিস্তিনে ইসরাইলের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরোক্ষ স্বীকারোক্তি।
উত্তরপত্রে স্বাক্ষরকারীরা বলে, “উদ্দেশ্য যদি হয় সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎপাটন করা, তবে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা নয় বরং ন্যায় সঙ্গত শান্তি আলোচনাই এর উপযুক্ত পন্থা। ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনের বাইরে এ পন্থার কথাই চিন্তা করছে সারা বিশ্ব। বর্তমানে পারিভাষিক যে অর্থে সন্ত্রাসবাদ প্রচলিত, তা প্রাণ ও সম্পদের ওপর অন্যায় আক্রমণের একটি প্রকার মাত্র। নিঃসন্দেহে এটা নৈতিক অবিচার হবে যে, এই অন্যায় আক্রমণের একটি প্রকার নিয়ে কথা বলা হবে, আর তার অন্যান্য প্রকার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখা হবে।”
উত্তরপত্রে আরো আছে- “বিশেষ অপরাধগুলোর দায়ভার অপরাধীদের একান্তই নিজস্ব। তাই, কখনো কেউ অন্যের অপরাধের দায়ভার নেবে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেন-
গত শতাব্দীর শেষ দিকে এই ধারার সক্রিয়তা জোরদারভাবে প্রকাশ পায়। অল্প সময়ের ভেতর এদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। জিহাদ এবং মুজাহিদদের সাহায্যের পথে বাধা-বিপত্তি, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও গুজব ছড়ানোর মধ্য দিয়েই তাদের কার্যক্রম চলতে থাকে।
এই ধারা সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি মানহাজ ও শান্তিপূর্ণ পন্থা উদ্ভাবন করেছে। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান চালু, প্রচার মাধ্যম তৈরি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়, সমাজ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তাদের নিকট তুলে ধরা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই একটি বিপ্লব সৃষ্টি করা এই মানহাজের মূলকথা।
হারামাইনের ভূমিতে ব্যাপক সুযোগ সুবিধা থাকার কারণে জ্ঞানপিপাসু ছাত্রদের দৃষ্টিতে তা একটি কেন্দ্রীয় মর্যাদা লাভ করছে। আবার বিশ্ব মুসলিমের ক্বিবলা এই ভূমিতেই। তাই এই বৈশ্বিক আন্দোলনের প্রবক্তারা[1]—এই আন্দোলনের উৎপত্তিস্থল আরব উপদ্বীপ হোক কিংবা সুবিস্তৃত মুসলিম বিশ্বের যে জায়গাতেই হোক—সর্বোচ্চ নেতা ও পরিচালক বলে বিবেচিত হয়েছেন।
সাহওয়া সালাফী ধারার মানহাজ নিয়ে আলোচনা আরম্ভ করার পূর্বে আমরা চাই তাদের অতি ন্যাক্কারজনক বিভ্রান্তির কয়েকটি তুলে ধরতে । এগুলো প্রাথমিক স্তরের ছাত্রদের কাছেই বিভ্রান্তি হিসেবে সুস্পষ্ট। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন বিদগ্ধ মহলের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এ কাজটি করার উদ্দেশ্য হলো পাঠকের কাছে যেন এই সংশোধনমূলক আন্দোলনের প্রকৃত বাস্তবতা সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
এই পরাজিত আন্দোলনের বিভ্রান্তিগুলো সবচেয়ে সুস্পষ্টভাবে দেখা দিয়েছে ক্রুসেডার আমেরিকার কতিপয় বুদ্ধিজীবী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘আমরা কোন ভিত্তিতে লড়াই করি’ (علي اي اساس نقاتل؟) শিরোনামের একটি নিবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলনের কর্ণধারদের স্বাক্ষরিত উত্তরপত্রের মধ্য দিয়ে। শাইখ নাসির আল ফাহাদ (আল্লাহ তাঁকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করুন!) সমঝোতা, সহাবস্থান ও আপসকামিতামূলক অবমাননাকর এই উত্তরপত্রের ঘৃণিত দিকগুলো নিয়ে মুসলিমদের জন্য যথেষ্ট উপকারী আলোচনা করে গেছেন। তবুও আমরা প্রাসঙ্গিক সংযোজন হিসেবে ঐ উত্তরপত্রের সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর দু’টি বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই, যাতে অযৌক্তিক এই আন্দোলনের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে।
প্রথম বিষয়:
অভিন্ন অনুভব-অনুভূতি, মূল্যবোধ ও চিন্তাধারার ক্ষেত্রে দ্বীন ও মিল্লাতের (ধর্ম ও জাতি) শত্রুদের সাথে অংশগ্রহণ। শত্রুদের পাপ-পঙ্কিল রাষ্ট্রে যে ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে, তাতে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ[2]। তাওহীদবাদী উম্মাহকে এই ব্যাপারে বিক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট করে চিত্রায়ন। অথচ এই বরকতময় কর্মযজ্ঞ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে ভূপৃষ্ঠে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমস্ত পরিকল্পনা উলট-পালট করে দিয়েছে।
সাহওয়া সালাফী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় প্রবক্তা ডক্টর সফর আল হাওয়ালী এবং ডক্টর সালমান আল 'আওদাহ স্বাক্ষরিত সে উত্তরপত্রের কয়েকটি লাইন লক্ষ্য করুন:
“মুসলিম বিশ্বে এবং এর বাইরে অনেকের কাছেই সেপ্টেম্বরের আক্রমণগুলো মোটেই সমর্থনযোগ্য ছিল না। মূলনীতি, দৃষ্টিভঙ্গি, স্বার্থ, কল্যাণ এবং নীতি ও নৈতিকতা সংশ্লিষ্ট বিবিধ কারণে—যা ইসলাম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে— এই ঘটনার হোতাদেরকে আমরা সাধুবাদ জানাইনি।”
স্বাক্ষরকারীরা আরো জানান-পশ্চিমা বিশ্ব যদি ৯/১১-এর ঘটনাকে পাশ্চাত্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে, তবে এটাও অসম্ভব নয় যে, তাদের এমন অনুভূতির সাথে আমরা একাত্মতা ঘোষণা করব। এমনকি বৈশ্বিক নিরাপত্তার এই হুমকি মোকাবেলায় তাদের সাথে সহাবস্থান করব...।”
দ্বিতীয় বিষয়:
মুজাহিদদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ, তাঁদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, তাঁদের প্রতি নিন্দা প্রকাশ ও তাঁদের দুর্নাম রটনা। অপরদিকে, ক্রুসেডার মার্কিনিদের প্রতি সংহতি, সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা, তাদের সাথে শান্তি চুক্তি ও মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভিত্তিতে ইসলামের শত্রুদের কাতারে যোগদান, মুজাহিদদেরকে বর্বর, অপরাধী, অত্যাচারী রূপে চিত্রিত করা, এমনটা বলা যে, মুজাহিদদের মাঝে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বলে কিছুই নেই; মুজাহিদদের শক্তি নিঃশেষ করা ও তাঁদেরকে সমূলে বিনাশ করার কোন বিকল্প নেই...।
আল্লাহর কসম! উপরোক্ত বিষয়গুলো দ্বীন ইসলামের আল-ওয়ালা ওয়াল বারা-'র মত সুদৃঢ় স্তম্ভে আঘাত করেছে। এবং কুফর বিত তাগুত তথা তাগুতকে সর্বতোভাবে অস্বীকার ও সম্পূর্ণভাবে তাগুতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সুমহান আকীদার স্পষ্ট বিরোধিতা। এরসঙ্গে আরও রয়েছে পূণ্যভূমি ফিলিস্তিনে ইসরাইলের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরোক্ষ স্বীকারোক্তি।
উত্তরপত্রে স্বাক্ষরকারীরা বলে, “উদ্দেশ্য যদি হয় সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎপাটন করা, তবে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা নয় বরং ন্যায় সঙ্গত শান্তি আলোচনাই এর উপযুক্ত পন্থা। ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনের বাইরে এ পন্থার কথাই চিন্তা করছে সারা বিশ্ব। বর্তমানে পারিভাষিক যে অর্থে সন্ত্রাসবাদ প্রচলিত, তা প্রাণ ও সম্পদের ওপর অন্যায় আক্রমণের একটি প্রকার মাত্র। নিঃসন্দেহে এটা নৈতিক অবিচার হবে যে, এই অন্যায় আক্রমণের একটি প্রকার নিয়ে কথা বলা হবে, আর তার অন্যান্য প্রকার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখা হবে।”
উত্তরপত্রে আরো আছে- “বিশেষ অপরাধগুলোর দায়ভার অপরাধীদের একান্তই নিজস্ব। তাই, কখনো কেউ অন্যের অপরাধের দায়ভার নেবে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেন-
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ﴿فاطر: ١٨﴾
‘কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না’। [3]
আমরা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করতে পারি যে, চিন্তাশীল ও বিদগ্ধ মহল এমন গভীর ও সুদূরপ্রসারি দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী, যা তাদেরকে কতিপয় লোকের স্বেচ্ছাচারিতার পেছনে চলার অনুমতি দেয় না। অথবা বাস্তবতার চাপ সহ্য করতে না পেরে এমন কোনো সহজ সমাধানের কথা চিন্তা করার বৈধতা দেয় না, যার মধ্যে নৈতিকতা ও মানবাধিকারের কোনো বালাই নেই। কখনো কখনো সামাজিক অবস্থা ব্যক্তিকে উদ্বেগ, অস্থিরতা, বঞ্চনা ও অমানবিক লড়াইয়ের ঘূর্ণাবর্তে নিক্ষেপ করে। মানুষ যখন স্থিতি খুঁজে না পায়, অস্থিরতা, কঠোরতা ও কাঠিন্যের পথে দীর্ঘ যাত্রায় যখন তারা ভেঙে পড়ে, তখনই তাদের মাথায় অনৈতিক কার্যকলাপের চিন্তা আসতে থাকে”।
স্বাক্ষরকারীরা আরো বলেন, “আমাদের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা সারাবিশ্বের জন্য একটা বড় সমস্যা। তবে এর প্রতিকারের উপযুক্ত বহুবিধ ব্যবস্থা আছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সন্ত্রাস চাই মুসলিমদের পক্ষ থেকে হোক কিংবা অমুসলিমদের পক্ষ থেকে—তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য দানে আমরা বরাবরই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ…।”
আমি সাহওয়া সালাফী আন্দোলনের প্রবক্তাদের উদ্দেশ্য আমাদের আহ্বান- 'আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন! সময় ফুরোবার আগেই হেদায়েতের পথে ফিরে আসুন! মুজাহিদদের চরিত্রে কালিমা লেপন করা থেকে নিজেদের জিহ্বাকে সংযত করুন! যে পথে আপনারা চলছেন তা কখনোই কল্যাণ বয়ে আনবে না। নিঃসন্দেহে আপনাদের এই পথচলা আগাগোড়া বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। বিভ্রান্তি বোঝার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আপনারা মুজাহিদদের অপবাদ দিচ্ছেন। বিষয়টা আপনাদের অজানা নয়। ইবনে হাজম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কুফরের পর ওই ব্যক্তির গুনাহের চেয়ে জঘন্য কোনো গুনাহ নেই, যে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে বারণ করে। এবং মুসলিমদের পবিত্র ভূমি তাদের কাছে হস্তান্তর করার কথা বলে।”
আমাদের উপরোক্ত বক্তব্যগুলোর মাধ্যমে আমরা সেসব আত্মশুদ্ধি প্রত্যাশী দলকে আহ্বান করছি, যারা এ জাতীয় ইসলাহী মুরব্বিদেরকে নিজেদের নেতা ও আদর্শ বলে ধরে নিয়েছে। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা যে অবিবেচনাপ্রসূত বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন, তা থেকে ফিরে আসুন। আপনারা শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহিমাহুল্লাহ'র নিম্নোক্ত উক্তিটি নিয়ে চিন্তা করুন, কারণ তাতে দ্বীনের মূলভিত্তি ও মুক্তির পথ মূর্ত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন,
“হে আমার ভাইয়েরা! অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করতে থাকুন। আপনারা আপনাদের দ্বীনের মূল ভিত্তি, প্রথম ও শেষ কথা, প্রধান ও চূড়ান্ত বিষয়—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-কে আঁকড়ে ধরুন। এর মর্ম অনুধাবন করতে চেষ্টা করুন। এই কালিমাকে এবং এই কালিমার ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণকারীদেরকে ভালোবাসুন। তাদেরকে ভাই মনে করুন, যদিও তারা দূরের কেউ হয়। অপরদিকে, তাগুতকে সর্বাত্মকভাবে অস্বীকার করুন। প্রত্যাখ্যান করুন। বর্জন করুন। তাগুতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করুন। তাগুতকে ঘৃণা করুন। যারা তাগুতকে ভালোবাসবে, তাগুতের পক্ষ নিয়ে বিবাদ করবে, তাগুতকে সর্বোতভাবে বর্জন না করবে, আপনারা তাদেরকেও ঘৃণা করুন। যারা বলবে, তাগুতের প্রশ্নে আমি নিরপেক্ষ, আল্লাহ তা’আলা তাগুতদের ব্যাপারে আমাকে দায়িত্ব দেননি, এমন মতের প্রবক্তারা প্রকারান্তরে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যাচার করছে। আল্লাহকে অপবাদ দিচ্ছে। কারণ, আল্লাহ তা’আলা তাদের ব্যাপারে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের অবকাশ রাখেননি। আল্লাহ তা’আলা তাগুতের প্রতি কুফরি করাকে, তাগুতের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করাকে ফরজ করেছেন, যদিও তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক থাকুক কিংবা পিতৃত্বের। তাই অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করুন! আর উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলুন। কারণ, এতে আপনারা এমন অবস্থায় নিজেদের রবের সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হবেন যে, ইতি পূর্বে তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুকে শরিক করেননি। হে আল্লাহ! আপনি ইসলামের ওপর আমাদেরকে মৃত্যু দান করুন এবং পুণ্যবানদের সঙ্গে আমাদেরকে মিলিত করুন”!
[1] যাদের শীর্ষে রয়েছেন ডক্টর সাফার আল হাওয়ালী, ডক্টর সালমান আল 'আওদা।
[2] এখানে ৯/১১ এর বরকতময় হামলার ব্যাপারে বলা হচ্ছে। -সম্পাদক
[3] সূরা ফাতির; 35: ১৮
[2] এখানে ৯/১১ এর বরকতময় হামলার ব্যাপারে বলা হচ্ছে। -সম্পাদক
[3] সূরা ফাতির; 35: ১৮
আরও পড়ুন
Comment