Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – পঞ্চদশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – পঞ্চদশ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- পঞ্চদশ পর্ব

    ৪. যুগে যুগে দাওয়াতের কাণ্ডারি, সমাজ প্রতিষ্ঠাতা ও জাতি সংস্কারকদের পথ পুষ্প শোভিত ছিল না। তাঁদের পথ মেশক আর আতরের ঘ্রাণে সুবাসিত ছিল না তাঁদের পথ ছিল রক্ত পিচ্ছিল। তা ছিল খুন রাঙ্গা পথ। রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পথে আমাকে যতটা কষ্ট দেয়া হয়েছে, তা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি।

    নবীজি যখন প্রথম ওহীপ্রাপ্ত হন তখন ওয়ারাকা ইবনে নওফেল নবীজিকে বলেছেন, এ পর্যন্ত যারাই আপনার ন্যায় পয়গাম নিয়ে এসেছেন, তাঁরাই শত্রুতার শিকার হয়েছেন।[1]

    সুতরাং, আমরা বুঝতে পারলাম, বিপদের মুখোমুখি হওয়া, শাস্তির সম্মুখীন হওয়া এবং শত্রুতার শিকার হওয়া এগুলো ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় চেষ্টারত ব্যক্তির নিষ্ঠা ও ইখলাস অনুপাতে হয়ে থাকে।

    যারা শান্তিপূর্ণ দাওয়াতের পথে এবং সংগঠন গড়ে তোলার মসৃণ পন্থায় সমাজ পরিবর্তন ও জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখেন, আমার মনে হয়, অতি সহজীকরণ ও আরাম-আয়েশের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা থেকে তারা এমনটা করেন। সেই সাথে বিপদ-আপদ ও কষ্ট মুজাহাদা এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা থেকেও তারা এমনটি করে থাকেন। আর এটাই হচ্ছে সাহওয়া সালাফী আন্দোলনের মূল কথা। বস্তুত, তারা এখনো এই দ্বীনের চাহিদা এবং নবীদের সরদার মুহাম্মাদ -এর সুন্নাহ বুঝতে পারেননি। তাই, আজও তারা নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হননি।

    ৫. এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ -এর দাওয়াত কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংশোধনের আহ্বান ছিল না। বর্তমান সাহওয়া সালাফীদের মতো জাহেলী সমাজব্যবস্থাকে অভ্যন্তরীণভাবে সংশোধন করার মাঝেই তিনি নিজ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেননি। নবীজির দাওয়াত ছিল জীবনের সকল দিক সম্পর্কিত এক বৈপ্লবিক আহ্বান। তাতে ছিল মুশরিক ও শিরকের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা। আল্লাহ ভিন্ন পূজনীয় অপর সকল বস্তুর ব্যাপারে নমনীয়তা বর্জন ও যুদ্ধের ঘোষণারাসূলুল্লাহ -এর মিশন ছিল ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ব্যাপারে আল্লাহর এই বাণীর প্রতিফলন


    إِنَّا بُرَآءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ ﴿الممتحنة: ٤﴾

    ‘তোমাদের এবং তোমরা আল্লাহ ভিন্ন যা কিছুর ইবাদাত করো তার ব্যাপারে আমরা দায়মুক্ত। আমরা তোমাদেরকে সর্বতোভাবে অস্বীকার করলাম। আমাদের ও তোমাদের মাঝে শত্রুতা এবং বিদ্বেষ সদা প্রতীয়মান; ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ তোমরা এক আল্লাহর ওপর ঈমান না আনো’ [2]

    ৬. পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অতীত ঘটনাবলী প্রমাণ করেছে, বিপ্লবের ক্ষেত্রে এভাবে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কার্যক্রম সফল হতে পারে নাবিশেষ করে সর্বগ্রাসী তাগুতি শাসনব্যবস্থার অধীনে।[3] মিশরের আর-রাইয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা এবং ইখওয়ানের কথা আমরা ভুলে যাইনি।

    পূর্বোক্ত আলোচনা ও বিশ্লেষণ থেকে জ্ঞানী, চক্ষুষ্মান, সুস্থ বিবেচনাবোধ সম্পন্ন ও সত্যাশ্রয়ী ব্যক্তি মাত্রই একথা অনুধাবন করতে পারবেন যে, বিপ্লবের ক্ষেত্রে সাহওয়া সালাফী মানহাজ মূলত রাসূলুল্লাহ -এর মানহাজের বিরোধী। তাদের মানহাজ নববী মানহাজের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক এবং নবীজির আনীত সত্যের পরিপন্থী।


    পাঠকের এই বিষয়ে আরও অধিক নিশ্চয়তা লাভ করা উচিৎ। সাহওয়া সালাফী আন্দোলনের বাস্তবতা আরো ভালোভাবে বোঝা উচিৎ। যে মানহাজের দিকে তারা আহ্বান করে তার প্রকৃতি আরো গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিৎ। যে মানহাজ প্রকৃত অর্থে জিহাদ ও মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর, যে মানহাজ দ্বীন ইসলামের শত্রুদের জন্য সুপেয় সুমিষ্ট ঝর্ণার মতো, তার অসারতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ না করে কীভাবে বসে থাকা যেতে পারে? আর সেই লক্ষ্যে আমরা এখানে তাদের কর্ণধার ও পরিচালকদের নিজেদের মুখে স্বীকার করা কিছু বিষয় উল্লেখ করব। তাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে তাদের বিভ্রান্তি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে কিন্তু তাদের নিজেদের মুখের কথা থেকে খুব সহজেই পাঠকের সামনে প্রতিভাত হয়ে উঠবে যে, দ্বীনের কত বুনিয়াদি বিষয় তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। ইসলামের স্বতঃসিদ্ধ কত মূলনীতি ও অকাট্য বিধিমালার ওপর তারা আঘাত হেনেছে। স্বজাতির বিরুদ্ধে গিয়ে ক্রুসেডার পাশ্চাত্যকে খুশি করার জন্য তাদেরকে কত কিছু করতে হয়েছে!

    তাদের অন্যতম প্রধান শাইখ ডক্টর সাফার আল হাওয়ালী, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের বরকতময় জিহাদের বীরদেরকে খাটো করে এবং তাঁদের এই মোবারক কাজের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে বিবিসির প্রতিনিধিদেরকে বলেন, যাদের ব্যাপারে বলা হয় যে, তারা এটি ঘটিয়েছে, তাদের আসলে কোনো আদর্শ নেই। পড়াশোনা তাদের কাছে মূল্যহীন। কারো কারো তো পড়াশোনা একেবারেই নেই এবং শরঈ ইলমের সঙ্গে মোটেও সম্পর্ক নেই। পক্ষান্তরে, এ কাজটি যদি কোনো আদর্শের জায়গা থেকে করা হতো, তবে এতে সকলের অংশগ্রহণ থাকত কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি। বরং এজাতীয় লোকদের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নিজস্ব...!

    ইরাকে জিহাদ ও মুজাহিদদের সাহায্য করতে মুসলিমদেরকে অনুৎসাহিত করেছেন তিনি। উক্কায পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তাকে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রশ্নের জবাবে তার প্রদত্ত বক্তব্য লক্ষ্য করুন

    প্রশ্নকারী: যুবকেরা ইরাকে যাচ্ছে। অথচ তারা সেখানকার কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের ব্যাপারে কিছুই জানে না। সেখানে তারা জিহাদের নামে এবং ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন প্রতিরোধের নামে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপে ঢুকে যাচ্ছে। এগুলো কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

    ডক্টর সাফার: সাধারণভাবেই এসব কাজ শরীয়ত সম্মত নয়। আমাকে যারা এমন প্রশ্ন করে, নিয়মিত আমি তাদেরকে এই উত্তরই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিই। এ বিষয়ের ওপর বহু দলীল প্রমাণ রয়েছে।

    প্রশ্নকারী: তার মানে আপনি ইরাকে যুবকদের গমনকে জায়েজ মনে করছেন না?

    ডক্টর সাফার: কিছুতেই নয়। কত শত লোক যে নিয়মিত এ বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসে! কখনো পিতারা পুত্রদেরকে নিয়ে আসে, আবার কখনো পুত্ররা পিতাদেরকে নিয়ে। সবাইকে আমি এমন কাজ করতে বারণ করে দিই।

    প্রশ্নকারী: পিতাদেরকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে আপনি কি জোর দিয়ে এই পরামর্শ দিতে চান যে, তাদের সন্তানরা নিখোঁজ হলে, তারা যেন অবশ্যই প্রশাসনকে এ বিষয়ে অবহিত করে?

    ডক্টর সাফার: অবশ্যই। আমি মনে করি, এমন ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। কারণ, অনেক সময় এভাবে তথ্য দেয়া হলে দেশ ত্যাগের আগেই তাদেরকে ধরে ফেলা সম্ভব হয়। আমার বিশ্বাস, পিতাদের জন্য নিজেদেরকে এবং সন্তানদেরকে রক্ষার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে সন্দেহ নেই যে এক্ষেত্রে দ্রুততা বাঞ্ছনীয়।

    মুজাহিদদেরকে সাহায্য করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কি ন্যাক্কারজনক প্রয়াস! মুসলিম মা-বোনদের সম্ভ্রম রক্ষার পথে অন্তরায় সৃষ্টির কি জঘন্য উপায়! হে আত্মশুদ্ধির স্তম্ভধারীরা, এ জাতীয় লোকদের এমন কর্মকাণ্ডের পর তাদের প্রতি কি কোনো ভক্তি থাকে? এতকিছুর পর তাদের কথাবার্তার প্রতি কি কোনো আগ্রহ থাকে?

    ইবনে হাযম রহিমাহুল্লাহ বলেন, কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে বারণ করা এবং মুসলিমদের পবিত্র ভূমি কাফেরদের নিকট হস্তান্তর করতে বলার গুনাহ এতটাই জঘন্য যে, কুফরীর পরে এমন গুনাহের চেয়ে জঘন্য কোন গুনাহ নেই

    পাঠক আরও দেখুন! মুসলিমদের সম্ভ্রম রক্ষায় চেষ্টারত তাওহীদবাদী ভাইদের ব্যাপার উত্থাপন করা হলে উপরোক্ত শাইখ ক্রুসেডারদের নেতা বুশের ঔদ্ধত্য, কঠোরতা আর ধৃষ্টতার জবাবে তাকে কিরূপে শান্তির বার্তা জানিয়েছেন এবং কতটা বিনয় প্রদর্শন করেছেন। শাইখ তার এক ভাষণে ক্রুসেডার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশকে সম্বোধন করে বলেন,

    হে প্রেসিডেন্ট! আমরা আপনার কল্যাণ কামনা করছি। আমরা আপনাকে সীমালংঘন থেকে বিরত থাকা এবং সংযম অবলম্বন করার ব্যাপারে আল্লাহর ভয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আপনি ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ধীরে সুস্থে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিন। আমরা নিঃসংকোচে ব্যক্ত করছি, আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি...!

    তাদের অপর একজন শীর্ষস্থানীয় শাইখ, ডক্টর সালমান আল-আওদাহ মুজাহিদদেরকে হুমকি দেন এবং তাঁদেরকে ধ্বংস করার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। কারণ মুজাহিদরা তার দৃষ্টিতে চরমপন্থী এমন একটি চক্র, যাদের অনিষ্ট থেকে মুসলিমদেরকে হেফাজত করা জরুরি। তিনি বলেন,

    ফিলিস্তিনে ইহুদি আগ্রাসন তাকদীরের লিখন। আর আমরা যে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব এটাও তাকদীরের লিখন। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা মুসলিমদের মাঝে কুসংস্কারের উপস্থিতি আবিষ্কার করেছি। আর এ সমস্ত কুসংস্কারকে সহীহ ও বিশুদ্ধ জ্ঞানের আলো দ্বারা মূলোচ্ছেদ করা আমাদের জন্য অদৃষ্টের লিখিত দায়িত্ব। আমাদের আরও দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বর্তমানে চরমপন্থা, উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও বোমাবাজির মত ব্যাপারগুলো ঘটছে। আর তাই এক্ষেত্রেও আমাদের জন্য তাকদীরের লিখিত দায়িত্ব হচ্ছে, নেতিবাচক এসব দিক ও বিষয়ের মোকাবেলা করা, এগুলোর বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং এগুলোর প্রতিকারের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।



    [1] সহীহ বুখারী
    [2] সূরা আল- মুমতাহিনা; ৬০: ৪
    [3] মুরতাদ তাগুত , ক্রুসেডারদের গোলাম শাসকগোষ্ঠী যেকোনো সময় এসমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারে। মূলত এ সমস্ত কল্যাণ প্রতিষ্ঠানকে তাগুত ততক্ষণ সমর্থন করে যতক্ষণ তারা সরাসরি ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলে না, অথবা যতক্ষন তারা শাসকগোষ্ঠীর জন্য হুমকিতে পরিণত হয় না। দীর্ঘসময় ধরে, নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে কল্যাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর তাগুত এক রাতের মধ্যেই এসব প্রচেষ্টাকে স্তব্ধ করে দেবার সক্ষমতা রাখে। শাইখ আবু বাকর নাজী রাহিমাহুল্লাহ একে ‘নখ-দন্ত অপসারণ নীতি’ আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন,
    “এধরনের লোকেরা যখনই নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা মোটামুটি একটা অবস্থানে পৌছায়, তাগুত তার বাহিনি নিয়ে আসে আর কোন ঝামেলা আর উচ্চবাচ্য ছাড়াই ১০-১৫ বছরের ফসল কেটে নিয়ে যায়। এটাই যুগ যুগ ধরে তাওয়াগ্বিতের পলিসি – শত্রুর বিষদাত ভেঙ্গে দেয়ার পলিসি। নখদন্ত অপসারণের পলিসি। তারপর এই দলগুলো গভীর অন্ধকার চক্রে ঘুরপাক খেতে শুরু করে, আবারো তারা প্রথম ধাপে ফিরে যায়। আবার শুরু থেকে শুরু করে। আর অনেক সময় সেই সামর্থ্যও তাদের থাকে না।
    প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পদ্ধতির প্রচারকরা যাদেরকে “হঠকারী”, “মাথাগরম” ইত্যাদি বলে, তারা তাগুতের বিরুদ্ধে কিছু করুক আর না করুক, সময় আসলে তাগুত “বিষদাত ভেঙ্গে দেয়া”র পলিসি বাস্তবায়ন করবেই। এজন্য অন্য কোন কারণের দরকার নেই, দরকারমতো অজুহাত তাগুত তৈরি করে নেবে।
    এরকম অনেক উদাহরণ বিভিন্ন দেশ আর বিভিন্ন আন্দোলনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। তাগুতের কোন ক্ষতি করা ছাড়াই, তাগুতকে কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে দু’বার ভাবতে বাধ্য করা ছাড়াই, অনেক যুবক এসব সংগঠনের মানহাজের বলি হয়েছে। আর কিভাবেই বা এরা তাগুতের কোন ক্ষতি করবে, যখন তারা মহাবিশ্বের সার্বজনীন নিয়ম এবং শরীয়াহর নিয়ম অনুযায়ী এর জন্য প্রস্তুতই না? ইসলামী আন্দোলনগুলো এবং এগুলোর সবগুলোকে শাখাকে অকার্যকর করে দিতে প্রতি ১০-১৫ বছর পর পর তাগুত বিষদাত ভাঙ্গার পলিসি বাস্তবায়নে নামে। যাকে ইচ্ছা তাঁকে হত্যা করে, যাকে ইচ্ছা জেলে দেয়, মসজিদ আর মিম্বার থেকে দাওয়াতি ও দাতব্য কাজ বন্ধ করে দেয়। ধীরে ধীরে ইসলামি আন্দোলনের যে শক্তি ও প্রভাব গড়ে উঠেছিল – সেগুলো গুড়িয়ে দেয়, যাতে তার বিরুদ্ধে এই শক্তি ব্যবহার করা না যায়। তাগুত যখন এ পলিসি বাস্তবায়ন করে, এসব আন্দোলনের নেতারা তখন অবস্থা মেনে নেয়, আর এ অবস্থাকে পরীক্ষা নাম দিয়ে পরাজয়ের প্রতি আত্মসমর্পন করে।”
    বাংলাদেশে ইখওয়ানের মানহাজের অনুসারী জামাআতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা ইসলামী ব্যাংক, এবং মালাউন মোদী বিরোধী আন্দোলনের পর অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাযত ইসলামের নেতাকর্মীদের উপর তাগুত সরকারের ধরপাকড় ও মামলাবাজি থেকে ‘নখ-দন্ত অপসারণ’ নীতির উদাহরণ দেখা যায়।
    – সম্পাদক






    আরও পড়ুন
    চতু্র্দশ পর্ব
Working...
X