আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- দ্বাবিংশ পর্ব
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- দ্বাবিংশ পর্ব
আমীরদের নির্দেশ শ্রবণ এবং আনুগত্য প্রদর্শন
তাওহীদবাদী হে ভাই আমার ! মুসলিমদের জামাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁদের অধীনে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পর সর্বোচ্চ লক্ষ্য পূরণের জন্য আরো কিছু জরুরী কাজ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সেসব করণীয় বিষয়ের মাঝে অন্যতম দু’টি বিষয় হচ্ছে আমীরদের নির্দেশ শ্রবণ করা এবং তাঁদের পূর্ণ আনুগত্য করা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নির্দেশে আসমান-জমিন প্রশ্নহীন আনুগত্য প্রদর্শন করেই অস্তিত্ব লাভ করেছে। এই জগতে সবকিছুই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নির্দেশ শ্রবণ করে এবং তাঁর আনুগত্য করে থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আসমান জমিনের সেই আনুগত্য প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন-
ثُمَّ ٱسْتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ وَهِىَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ٱئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَآ أَتَيْنَا طَآئِعِينَ ﴿فصلت: ١١﴾
‘অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম’।[1]
সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’আলা নিকৃষ্ট ইবলিসকে আদম আলাইহিস সালামের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে চেয়েছেন। আদম আলাইহিস সালামকে সম্মান ও মর্যাদা দান করে ইবলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদমকে সেজদা করতে। কিন্তু ইবলিশের অহংকার ও আত্মগরিমা আল্লাহর নির্দেশে আনুগত্য প্রদর্শন করতে তাকে বাধা দেয়। ইবলিশ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে। এতে চূড়ান্তভাবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আল্লাহর রহমত থেকে সে বিতাড়িত হয়। এবং চিরকালের জন্য অভিশপ্ত হয়।
কিন্তু বান্দাদেরকে পরীক্ষার এই অধ্যায় আল্লাহ এখানেই সমাপ্ত করেননি। বরং এর ক্রমধারা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’আলা পরীক্ষাস্বরূপ আদম আলাইহিস সালামকে একটি বৃক্ষের ফল খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু চিরশত্রু ইবলিশের প্ররোচনায় তার ছলচাতুরি বুঝতে না পেরে আদম আলাইহিস সালাম বৃক্ষের দিকে পা বাড়ান। সেই গাছের ফল খেয়ে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার কারণে আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। আর এখন বনী আদমকে পরীক্ষার এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
মানবতা যখন নিষ্পেষিত ছিল, অন্ধ জাহেলিয়াতের কাদায় যখন মনুষ্যত্ব গড়াগড়ি খাচ্ছিল, এমনই এক সময়ে মক্কা মুকাররমা উপকণ্ঠে ঐশী দীপ্তি চমকিয়ে উঠল। সেই দীপ্তি ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর অবতীর্ণ এমন আয়াতসমূহ, যা কেয়ামত দিবস পর্যন্ত তিলাওয়াত হতে থাকবে। ঐশী সেই দীপ্তি অবতীর্ণ হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে পূণ্যভূমি মদীনা-মুনাওয়ারাতে হিজরতের নির্দেশ দান করলেন। ঐশী জ্ঞান ভাণ্ডারের আলোকে সেখানে একটি মুসলিম সমাজের অভ্যুদয় ঘটল। জাহেলিয়াতের অন্ধকার হটিয়ে, মূর্খতার পর্দা ছিন্ন করে গোটা মানবতাকে মুক্তির রাজপথে নিয়ে আসতে মদীনায় একটি নতুন প্রজন্মের জয়যাত্রা আরম্ভ হল। নববী আদর্শে আলোকিত সেই সমাজে মানব জীবন যাতে স্বচ্ছন্দ গতি লাভ করে, তাই সমাজ ব্যবস্থাপনার জন্য বিধি-বিধান ও শরীয়ত একান্তই প্রয়োজন ছিল। অন্যদের কাছে মাথা নত করা এবং অন্য জাতির কাছে আত্মসমর্পণ করা আরব জাতির সহজাত প্রবণতার অনুকূল নয়। তাই সদ্যভূমিষ্ঠ এই সমাজের সদস্যরা অন্য কারো শ্রবণ ও আনুগত্যে রাজি ছিলেন না।
মহান আল্লাহ তা’আলা মানব চরিত্রের খুঁটিনাটি সম্পর্কে পূর্ব থেকেই সম্যক অবগত। তখন ঐশী বিধি-বিধান সংবলিত আসমানী ওহী অবতীর্ণ হওয়া ছিল সময়ের এক অপরিহার্য দাবি। সেসব বিধি-বিধানের মধ্যে ছিল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং উলুল আমরের[2] আদেশ-নিষেধ শোনা ও মানার নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং উলুল আমর ব্যক্তিবর্গের আনুগত্যে মাঝে এমন এক বন্ধন সাব্যস্ত করে দিয়েছেন, যা কখনোই ছিন্ন হবার নয়। যা সদাসর্বদা অটুট। অতএব, এটি খুবই জরুরি একটি বিষয়। শাসকবর্গের মাঝে সুস্পষ্ট কুফরী না দেখা পর্যন্ত এবং তাদের আদেশ পালন সাধ্যাতীত না হওয়া পর্যন্ত এ আনুগত্যের গণ্ডি থেকে কোনো মুসলিমের বের হবার সুযোগ নেই।
[1] সূরা ফুসসিলাত; ৪১: ১১
[2] উলামায়ে কেরাম ও শাসকবর্গ
Comment