Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ - ত্রিংশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ - ত্রিংশ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- ত্রিংশ পর্ব



    ৩) পৃথিবীতে নির্যাতিতদের ওপর থেকে নির্যাতন-নিপীড়ন দূর করার জন্য...

    জিহাদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নির্যাতিত নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠী যাদের কোনো সাহায্যকারী অথবা অভিভাবক নেই, তাদের ওপর থেকে নির্যাতন-নিপীড়ন দূর করা। আমরা সেসব দুর্বলদের কথা বলছি, প্রতিটি যুগে প্রতিটি স্থানে তাগুতগোষ্ঠী যাদেরকে নিজেদের দাসত্বের বন্ধনে আটকে রাখে। মুজাহিদীন ব্যতীত আর কারা আছে, যারা মজলুমদের ওপর নেমে আসা অন্যায় শাস্তির খড়গ আর দুর্যোগের মোকাবেলা করে?

    আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

    وَمَا لَكُمْ لَا تُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلْوِلْدَٰنِ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ ٱلْقَرْيَةِ ٱلظَّالِمِ أَهْلُهَا وَٱجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَٱجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا ﴿النساء: ٧٥﴾

    “আর তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এই জালিম জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান করো। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অভিভাবক নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও”[1]

    ইমাম কুরতুবী উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, وَمَا لَكُمْ لَا تُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ -আর তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না?-এখানে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এই জিহাদ, কাফের মুশরিকদের হাত থেকে দুর্বলদেরকে নিষ্কৃতি দানের নিয়ামক। কাফের মুশরিকরা দুর্বলদের ওপর ন্যাক্কারজনক শাস্তির ভার চাপিয়ে থাকে। আর তাদেরকে দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। তাই আল্লাহ তা’আলা তাঁর কালিমাকে উচ্চকিত করার জন্য, তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য এবং তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে দুর্বল মু’মিনদেরকে রক্ষা করার জন্য জিহাদকে ওয়াজিব করেছেন, যদিও এতে প্রাণহানি রয়েছে। আর মুসলিম বন্দীদেরকে মুক্ত করা মুসলিম জামাতের ওপর ওয়াজিব। চাই সেটা লড়াই করে হোক কিংবা মুক্তিপণ দিয়ে। মুক্তিপণের বিষয়টি বিধিবদ্ধ হয়েছে; কারণ তা প্রাণের চাইতে তুচ্ছ। মালেক বলেন, 'মানুষদের ওপর ওয়াজিব, সমস্ত সম্পদ দিয়ে হলেও বন্দীদের মুক্তিপণ আদায় করা। এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। কারণ, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন-

    فُكُّوا الْعَانِيَ

    তোমরা বন্দি মুক্ত করো[2]

    ইবনে নুহাস রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনে আসাকির তালহা, ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে করিযের সূত্রে সংকলন করেন, তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, কাফেরদের হাত থেকে একজন মুসলিমকে আমি মুক্ত করব, এটা আরব উপত্যকার চেয়ে আমার কাছে বেশী প্রিয়।

    এইতো আমরা দেখতে পাই, খ্রিস্টানদের হাতে বন্দি এক মুসলিম নারীর আহ্বানে খলীফা মু‘তাসিম ৭০ হাজার সেনা সদস্যের একটি বাহিনী রওনা করিয়ে দিচ্ছেন! মুসলিম ওই নারীকে খ্রিস্টান এক পাষণ্ড চড় মেরেছিল। মুসলিম নারী তখন চিৎকার করে বলেছিলেন— 'কোথায় তুমি হে মু‘তাসিম?'

    হে নবীর উত্তরাধিকারী দাবিদাররা! তোমরা কোথায় আছো? আজ ক্রুসেডারদের কারাগারগুলো এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠ যুবকদের দিয়ে ভরে আছে। আর তোমরা আশ্চর্যরকম নিস্পৃহভাবে জিহাদকে হারাম বলে যাচ্ছ। আল্লাহর পথ থেকে তোমরা মানুষকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছ এই দ্বীনকে সাহায্য করতে আগ্রহী ইসলামের সৈনিকদেরকে তোমরা পেছন থেকে টেনে ধরছ তোমাদের কি ভয় হয় না, আকাশ থেকে যদি বিপদের বজ্র তোমাদের ওপর আছড়ে পড়ে? আল্লাহ তা’আলা যদি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদেরকে আযাব দেন! তোমরা কি আল্লাহর মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে ভয় করো না! দুর্ভোগ তোমাদের ! সময় ফুরোবার আগে তোমাদের বোধোদয় হোক! আল্লাহর কসম! এই জীবন তো অল্প কিছুদিন মাত্র, অতঃপর তোমাদেরকে বিদায় নিয়ে চলে যেতে হবে, আর তখন সব কিছুর যথার্থ প্রতিদান সামনে আসবে।


    ৪) আল্লাহর আযাব, তাঁর রাগ, ক্রোধ এবং প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ভয়ের কারণে...

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেন-

    إِلَّا تَنفِرُوا۟ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْـًٔا وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ ﴿التوبة: ٣٩﴾

    ‘যদি তোমরা বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান’ [3]

    শাইখ সাদী উক্ত আয়াতের তাফসীরে লিখেন, অতঃপর তিনি তাদেরকে বের না হওয়ার কারণে ধমক দিয়েছেন। তাই তিনি ইরশাদ করেছেন, ' إِلَّا تَنفِرُوا۟ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا -যদি তোমরা বের না হও, তবে তিনি তোমাদেরকে আযাব দেবেন।'- দুনিয়াতেও এবং আখিরাতেও। কারণ বের হতে বলা হলে বের না হওয়াটা এমন জঘন্য কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম, যেগুলোর কারণে কঠিন শাস্তি অবধারিত হয়ে যায় কারণ জিহাদে বের না হওয়ার মাঝে রয়েছে বহু রকম মারাত্মক ক্ষতি।

    বসে থাকা ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার অবাধ্যতা করেছে। আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে। সে আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যে অগ্রসর হয়নি। সে আল্লাহর কিতাব ও শরীয়তের প্রতিরক্ষা করেনি। আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের দায়িত্ব পালনকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। অথচ আল্লাহর শত্রুদল তাদেরকেই মূলোচ্ছেদ করে ফেলতে চাচ্ছিল তাদের দ্বীনকে মিটিয়ে দিতে চাচ্ছিল। বসে থাকা এ সমস্ত লোকদেরকে সাধারণত তারাই অনুসরণ করে যাদের ঈমান দুর্বল। শুধু বসে থাকাই নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা জিহাদের ফরজ দায়িত্ব পালনকারীদের মাঝে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’আলা কঠিন শাস্তির হুমকি দেয়াটাই স্বাভাবিক। তাইতো তিনি ইরশাদ করছেন, ' إِلَّا تَنفِرُوا۟ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْـًٔا -যদি তোমরা বের না হও তবে তিনি তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দেবেন, আর অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না'- কারণ তিনি তাঁর দ্বীনের সাহায্য করা এবং তাঁর কালিমাকে উচ্চকিত করার ব্যাপারে দায়িত্বশীল। তাই তোমরা আল্লাহর নির্দেশ পালন করো কিংবা তা পেছনে ছুঁড়ে মারো, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। -' وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ -আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান'- ইচ্ছা পূরণে কেউ তাঁকে দমাতে পারে না, আর কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারে না।

    শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তা’আলার ইরশাদ করেছেন—' إِلَّا تَنفِرُوا۟ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْـًٔا وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ -যদি তোমরা বের না হও তবে তিনি তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।'

    আযাব কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, আবার কখনো তাঁর বান্দাদের হাতে হয়ে থাকে। মানুষ যখন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ছেড়ে দেয়, তখন তিনি তাদেরকে এভাবে পরীক্ষায় ফেলেন যে, তাদের মাঝে পরস্পরে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দেন এমনকি এতে করে তাদের মাঝে ফিতনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়আর এমনটাই বাস্তবতা। কারণ, মানুষ যখন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ'য় মনোনিবেশ করে, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে একীভূত করে দেন। তাদের মাঝে সদ্ভাব সম্প্রীতি সৃষ্টি করে দেন। আর তাদের সকলকে তাঁর শত্রু এবং তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় দান করেন। আর যদি তারা আল্লাহর রাস্তায় বের না হয়, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে এভাবে আযাবে ফেলেন যে, তাদেরকে শতধা বিভক্ত করে দেন এবং তাদের এককে অন্যের ওপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করান।

    তিনি আরো বলেন, এটি প্রতি প্রজন্মের প্রতি ঐশী সম্বোধন। এতে তিনি ঘোষণা করছেন, যে ব্যক্তি নির্দেশিত জিহাদ থেকে বিরত থাকবে, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন আর তার স্থলে এমন কাউকে নিযুক্ত করবেন, যে জিহাদের দায়িত্ব পালন করবে। আর এমনটাই হলো বাস্তবতা।


    ৫) জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ জান্নাতের ফটকসমূহের মধ্যে একটি ফটক। জিহাদ এমন একটি মহৎ ইবাদাত , যার সমপর্যায়ের কোনো ইবাদাত নেই...

    মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

    لَّا يَسْتَوِى ٱلْقَٰعِدُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُو۟لِى ٱلضَّرَرِ وَٱلْمُجَٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلْمُجَٰهِدِينَ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ عَلَى ٱلْقَٰعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلًّا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلْحُسْنَىٰ وَفَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلْمُجَٰهِدِينَ عَلَى ٱلْقَٰعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿النساء: ٩٥﴾

    ‘গৃহে উপবিষ্ট মুসলিম-যাদের কোনো সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলিম যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে- এরা উভয়ে কখনো সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন বসে থাকা লোকদের তুলনায় এবং (জিহাদ তখনো ফরয না হওয়ায়) এদের প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন; (কিন্তু এটা ঠিক যে,) আল্লাহ তা’আলা ঘরে বসে থাকা লোকদের ওপর (সংগ্রামরত ময়দানের) মুজাহিদদের অনেক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।[4]

    শাইখ সাদী উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেছেন,মু’মিনদের মাঝে যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করবে, আর যে ব্যক্তি এর জন্য বের হবে না, আর আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না, (তারা কখনো সমান হতে পারে না) এ আয়াতে জিহাদে বের হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। শরীয়ত সঙ্গত ওযর ছাড়া জিহাদ না করে বসে থাকা এবং অলসতা করার ব্যাপারে হুমকি দেয়া হয়েছে। সমস্যায় জর্জরিত ব্যক্তি যেমন অসুস্থ, অন্ধ, খোঁড়া, পাথেয় বিহীন ব্যক্তি ওযর ছাড়া বসে থাকা লোকদের স্তরে নয়। তবে সমস্যায় জর্জরিতদের মধ্যে কেউ যদি বসে থাকার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকে এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হলে আল্লাহর রাস্তায় বের হবে বলে নিয়্যত না করে, এ বিষয়ে যদি সে আত্মজিজ্ঞাসা না করে, তবে সেও ওযর ছাড়া বসে থাকা লোকদের মাঝে গণ্য হবে।

    অতঃপর আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্টভাবে বসে থাকা লোকদের চেয়ে মুজাহিদদের বিশেষ মর্যাদা প্রাপ্তি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরছেন। এখানে প্রথমে অস্পষ্টভাবে তাদের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এরপরে সুস্পষ্টভাবে বিশদ আকারে তাঁদের মর্যাদার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন রহমত প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, যা সর্বময় কল্যাণকে শামিল করে এবং সবরকম অনিষ্টকে প্রতিহত করে। সহীহাইনে বর্ণিত আছে যে রাসূলুল্লাহ বিশদভাবে অনেকগুলো মর্যাদার কথা বলেছেনতার মধ্যে একটি হচ্ছে, ‘জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে: প্রতি দুটি স্তরের মাঝে আসমান ও জমিনের ব্যবধান। এসব স্তরকে আল্লাহ মুজাহিদিন ফি সাবিলিল্লাহ্'র জন্য প্রস্তুত করেছেন।[5]

    সহীহ হাদীসে রয়েছে,

    جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يَعْدِلُ الْجِهَادَ؟ قَالَ : (( لاَ أجِدُهُ )) ثُمَّ قَالَ : (( هَلْ تَسْتَطِيعُ إِذَا خَرَجَ المُجَاهِدُ أنْ تَدْخُلَ مَسْجِدَكَ فَتقومَ وَلاَ تَفْتُرَ ، وَتَصُومَ وَلاَ تُفْطِرَ )) ؟ فَقَالَ : وَمَنْ يَسْتَطِيعُ ذَلِكَ ؟! .

    এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ -এর কাছে এসে বলল, ‘আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যা জিহাদের সমপর্যায়ের হবে’! নবীজি বললেন, আমি এমন কোন আমল পাইনা। তুমি কি পারবে যে, মুজাহিদ যখন বের হয় তখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করে অবিরামভাবে নামায আদায় করবে এবং অবিরত রোযা রেখে যাবে?” তখন লোকটি বলল, ‘কে আছে এটা পারবে’![6]

    অন্য হাদীসে এসেছে,

    « قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُؤْمِنٌ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ».

    বলা হলো হে আল্লাহর রাসূল! মানুষদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? তখন তিনি বললেন, এমন মু’মিন ব্যক্তি যে নিজের জান ও মাল দ্বারা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ করে”[7]

    তিনি আরো ইরশাদ করেন-

    «لَغَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا».

    আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল অথবা এক বিকাল দুনিয়া এবং দুনিয়ার মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর চেয়ে উত্তম।[8]

    শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, কিতাব ও সুন্নাহ'য় জিহাদের নির্দেশ এবং এর ফজিলতের আলোচনা অসংখ্য,অগণিত। মানুষের নফল ইবাদতের মধ্যে জিহাদ সর্বোত্তম। জিহাদ উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে হজ ও ওমরা, নফল নামায এবং নফল রোযা থেকে শ্রেষ্ঠ। কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এমনটাই দেখা যায়।

    জিহাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে জিহাদের মতো সওয়াব ও ফজিলত বর্ণিত হয়নি। পর্যবেক্ষণ করলে এটি সুস্পষ্ট হবে। এর কারণ হচ্ছে, জিহাদের উপকারিতা আল্লাহর দ্বীন ও দুনিয়াবী ক্ষেত্রে মুজাহিদ এবং অন্যান্য সবার লাভ হয়। জিহাদ সর্বপ্রকার গোপন ও প্রকাশ্য ইবাদতের মিলনক্ষেত্র।


    [1] সূরা আন-নিসা; ০৪: ৭৫
    [2] সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ২৮৮১
    [3] সূরা আত –তওবা; ০৯: ৩৯
    [4] সূরা আন-নিসা; ০৪: ৯৫
    [5] সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৬৩৭
    [6] সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ২৬৩৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪৯৭৭
    [7] সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৬৩৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৪৯৯৫
    [8] সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৬৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৪৯৮১



    আরও পড়ুন​
    ঊনত্রিংশ পর্ব
Working...
X