পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদ বন্ধ রেখেছে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুককে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে এবং মসজিদের গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ।
কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস জানায়, শবে কদরের পবিত্র রাতে শ্রীনগরের কেন্দ্রীয় জামিয়া মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে এবং মসজিদের গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। একই সাথে মসজিদের প্রধান খতিব মীরওয়াইজ উমর ফারুককেও গৃহবন্দী করে রাখা হয়, যেন তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে না পারেন।
উল্লেখ্য, টানা সপ্তম বছরের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শবে কদরের রাতে শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদ বন্ধ রেখেছে এবং মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে। এর আগে গত শুক্রবারে জামিয়া মসজিদে জুমার নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
অল পার্টিজ হুরিয়াত কনফারেন্সের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট আব্দুল রশিদ মিনহাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় প্রশাসনের এই সংবেদনশীলহীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার মুসলমান, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রাতগুলোতে জামিয়া মসজিদে আসেন, তারা আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও ইবাদত থেকে বঞ্চিত হবেন। এটি কাশ্মীরি মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট হস্তক্ষেপ।
মীরওয়াইজ উমর ফারুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, “লাইলাতুল কদরের এই পবিত্র রাতগুলোতে যখন মসজিদগুলোতে দোয়া ও ইবাদতের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয় তখন কেন্দ্রীয় জামিয়া মসজিদ আবারও মুসল্লিদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। তারা আল্লাহর ঘরে ইবাদতকে ভয় পায়।”
পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, টানা সাত বছর ধরে শবে কদরের পবিত্র রাতে জামিয়া মসজিদের গেট বন্ধ এবং মীরওয়াইজ সাহেবকে গৃহবন্দী রাখা হচ্ছে। কাশ্মীরিরা ইবাদাতের মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তথ্যসূত্র
1. Shab-e-Qadr prayers not allowed at Jamia Masjid in Srinagar
– https://tinyurl.com/yn4ypppj


Comment