ভারতের বিহারে রোজাদার মুসলিম নারীকে প্রস্রাব মিশ্রিত এলকোহল পান করিয়ে নিপীড়ন ও হত্যা, আসামীদের রক্ষার চেষ্টা করছে পুলিশ

ভারতে বিহার রাজ্যের মধুবনী জেলায় উগ্র হিন্দুদের নির্যাতনের মুখে প্রাণ হারিয়েছেন এক মুসলিম নারী।
ভুক্তভোগী মহিলার নাম রওশন খাতুন, তিনি বিহারের ঘোঘারডিহা ব্লকের আমহি গ্রামের বাসিন্দা। ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি স্থানীয় বিরোধের সূত্রধরে তিনি হিন্দু গ্রাম্য প্রধানের কাছে যাচ্ছিলেন। এমন সময় একদল উগ্র হিন্দু কর্তৃক তিনি হামলার শিকার হন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী রওশন খাতুন গুরুতর আহত হন, তাকে নিকটস্থ পাটনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, গত ১ মার্চ তিনি হাসপাতালে মারা যান।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়, তার সাথে পশুর মতো আচরণ করা হয়। এক আত্নীয় বলেন, সেদিন তিনি রোজা রেখেছিলেন, নিপীড়ন অসহ্য হয়ে উঠায় একপর্যায়ে তিনি পানি খেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা তাকে পানির পরিবর্তে প্রস্রাব মিশ্রিত অ্যালকোহল খেতে বাধ্য করে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এভাবেই চলছে, আমরা মুসলিম বলেই আমাদেরকে টার্গেট করা হচ্ছে।
স্বজনেরা আরও অভিযোগ করেন, রওশন খাতুনকে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা মারধর করা হয়েছিল। তাকে মাটিতে ফেলে লাথি, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এছাড়া বাড়ির প্রবেশদ্বারে বেঁধে রেখে জনসম্মুখে তাকে নিপীড়ন করা হয়েছে।
নিহত রওশন খাতুনের স্বামী জানান, রওশন খাতুন বারবার প্রাণভিক্ষা চাইলেও উপস্থিত কারও কাছ থেকে সাহায্য পায়নি। নিপীড়নের এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
অপরদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও খাতুনকে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তাকে ও তার স্বামীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ বিষয়টি বিচারবিহীনভাবে সমঝোতার জন্য ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদেরকে অর্থের লোভ দেখিয়ে মামলা তুলে নিতে জোর করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে বেশ কয়েকদিন চলে গেলেও পুলিশ কেবল মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, অন্যান্য অপরাধীরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাব বা রাজনৈতিক কারণে পুলিশ জড়িত আসামীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। অপরদিকে ভুক্তভোগীদের আর্থিক দুরবস্থা ও সামাজিক প্রভাব না থাকার কারণে মামলা কার্যক্রমে অবহেলা করছে পুলিশ।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/34jpkdby











Comment