কুষ্টিয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ক্লাসরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ, রাতে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করল স্বজনরা

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে স্কুলের পিয়ন হামিদুল ইসলাম। এরপর ঘাতক পিয়ন ওই ছাত্রীকে স্কুলে আটকে রাখে। পরে রাত ৮ টায় ওই ছাত্রীর স্বজনরা স্কুল থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে পিয়ন হামিদুলের নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত ৮টার দিকে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে পিয়ন হামিদুলের কাছে মেয়েটির খোঁজ জানতে চান। এ সময় পিয়ন দাবি করে, বিদ্যালয়ে কেউ নেই এবং সে চাবি দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এরপরও পিয়ন চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় তার আচরণে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। সে বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে এবং হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে।
তথ্যসূত্র:
১। ক্লাসরুমে ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন বিদ্যালয়ের পিয়ন, অতঃপর…
– https://tinyurl.com/2m9muv8j




Comment