রাস্তায় নামাজ পড়লে কঠোর ব্যবস্থা, কিন্তু হিন্দু তীর্থযাত্রায় অনুমতি, হিন্দুত্ববাদী নেতাদের সুস্পষ্ট দ্বিচারিতা

রাস্তায় নামাজ পড়ার বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারতে উত্তরাখণ্ডের হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তার মতে, নামাজের স্থান কেবল মসজিদ ও ঈদগাহের মতো নির্ধারিত স্থানে হওয়া উচিত। সে সতর্ক করে বলেছে, রাস্তায় নামাজ আদায়ের মাধ্যমে কেউ যানজট বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২২ মে মুসলিম মিরর সংবাদমাধ্যমে নিউজটি তুলে ধরা হয়।
অপরদিকে চারধাম তীর্থযাত্রার নামে লক্ষ লক্ষ হিন্দু উত্তরাখণ্ডে আসে। এই সময় হিন্দু তীর্থযাত্রীদের রাস্তায় চলাচলে বাধা দেয় এমন কোনও ক্রিয়াকলাপ সহ্য করা হবে না বলে সে হুঁশিয়ারি জানিয়েছে।
এর আগে একই রূপ ইসলাম বিরোধী অবস্থান প্রকাশ করেছিল উত্তরপ্রদেশের হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং পশ্চিমবঙ্গের সদ্য শপথ নেওয়া হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাস্তায় নামাজ বনাম হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ
মুসলমান পুরুষরা সাধারণত মসজিদেই ফরজ নামাজ আদায় করে থাকে। তবে জুমা’র নামাজ, দুই ঈদের নামাজ কিংবা জানাযার নামাজের সময় মুসল্লিদের সংখ্যা বেশি হলে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে খুব অল্প সময়ের জন্য রাস্তায় নামাজ পড়ার প্রয়োজন পড়ে।
অপরদিকে সারাবছরই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শিরকি পূজার আয়োজন ও বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে। এই সকল উৎসবে তারা রাস্তার ধারে বা খোলা মাঠে পূজা মন্ডব স্থাপন করে। এছাড়া ধর্মীয় তীর্থযাত্রার নামে সারাবছর বিভিন্ন দিনে লক্ষ লক্ষ হিন্দু রাস্তায় নেমে আসে।
রথযাত্রা, দুর্গাপূজা বিসর্জন শোভাযাত্রা, জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা, রাম নবমী শোভাযাত্রা, চারধাম যাত্রা, কুম্ভ মেলা, গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রা, গঙ্গাসাগর মেলা প্রভৃতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী বছরের বিভিন্ন সময় সমবেত হয়, যা রাস্তাঘাটে ব্যাপক যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এছাড়া হিন্দুদের মন্দির, বিভিন্ন উৎসব ও তীর্থযাত্রায় উচ্চশব্দে গানবাদ্য বাজানো একটি স্বাভাবিক ব্যাপার, যা মারাত্মক শব্দ দূষণ ঘটায়। ফলস্বরূপ এই সকল শিরকি আয়োজন অসুস্থ, শিশু, বৃদ্ধ ও দুর্বলদের জন্য তীব্র ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অথচ ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার যান চলাচলে ব্যাঘাত হচ্ছে বলে কেবল রাস্তায় সাময়িক সময়ের জন্য নামাজ পড়ার মতো বিষয়কে টার্গেট করেছে। শব্দ দূষণের কারণে হিসেবে মাইকে আজান ও মাইক ব্যবহার করে অল্প সময়ের জন্য ফরজ নামাজ আদায় করাকে তারা শুধু লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
নামাজের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী নেতাদের এই কঠোর অবস্থান অবস্থান কেবল তাদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে বিশ্লেষকগণ।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/5n7ubuze



Comment