পশ্চিমবঙ্গে ১২ বছর বয়সী মুসলিম বালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা, অভিযুক্ত হিন্দুদের আটকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত বারুইপুর অঞ্চলে এক মুসলিম বালিকাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে এক দল হিন্দু। নৃশংস এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিবারের অভিযোগ, ৪-৫ জন হিন্দু তাদের মেয়েকে অপহরণ করেছে। মেয়েটি একাধিক ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে, এরপর তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বালিকা টি খাবার কিনতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানায়, ঘটনার দিন রাত ৮ টার পর থেকে মেয়েটির আর খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ তারা থানায় যোগাযোগ করে, কিন্তু পুলিশ তাদের অভিযোগে গুরুত্ব দেয়নি।
পরবর্তীতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তারা দোষীকে চিহ্নিত করে। পরদিন (৫ জুলাই) সকালে সূর্যপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে মেয়েটির বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
স্থানীয় ঐ বাসিন্দা আরও জানায়, এক অভিযুক্ত নিজেই থানায় তার দোষ স্বীকার করেছে। তাকে সাথে নিয়েই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে লাশ উদ্ধার করেছে। কিন্তু পুলিশ তখনও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা অপরাধীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। অপরাধীদের পলায়নের পেছনে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে বাসিন্দারা।
অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা জানায়, ‘শান্তনু মণ্ডল প্রথমে স্থানীয়দের ঐ পুকুরের নিকটে যেতে বাধা দিচ্ছিল, এছাড়া সে আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা করছিল। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তখন রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল স্থানীয়রা।’
তদন্ত প্রতিবেদনের পর ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে । তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধর্ষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেনি। জনরোষের মুখে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিক রিপোর্ট সম্পর্কে আর কোনও মন্তব্য করে নি।
বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক অভিযুক্ত নিহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া বাসিন্দাদের বিক্ষোভের পর ৩ অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। ক্রমবর্ধমান জনবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলের আশেপাশে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করেছে প্রশাসন।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম বাসিন্দাগণ। তারা বলেছেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী শুভেন্দু অধিকারী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলিমদের ক্রমশ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ট্রিট করছে সরকার। হিন্দু যুবকরা মুসলিম নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে। আর এই নৃশংসতার ন্যায় বিচার চাইতে সংঘবদ্ধ হলে উল্টো মুসলিমদের বাধাগ্রস্ত করছে পুলিশ।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3wwm4vd2
2. https://tinyurl.com/4vkr7szt



Comment